অকালবোধনের গল্প

শাখাওয়াৎ নয়ন
গল্প
Bengali
অকালবোধনের গল্প

আশ্বিন মাস। বাংলার জনপদে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ শুভ বিজয়া দশমী। পুবাকাশে ডিমের কুসুমের মতো লাল সূর্যটা আস্তে আস্তে চোখ মেলছে। মোহন গাঙ্গুলী আড়িয়াল খাঁ নদে কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে স্নানকরার আগে চোখ বন্ধ করে সূর্যকে প্রণাম করছেন আর মন্ত্র পাঠ করছেন, ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম।

মন্ত্রপাঠ শেষে দুই কানের মধ্যে আঙুল দিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থাতেই পরপর তিনটি ডুব দিলেন। ডুব দিয়ে উঠে চোখ খুলেই কেমন জানি অন্যমনস্ক হয়ে পড়লেন। তিনি ভাবছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গাপূজাটা ভালোভাবেই করা যাচ্ছে। প্রায় সবাই সাহায্য-সহযোগিতা করছে। দেশের অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন সমস্যা হলেও আহমেদপুরে তেমন কোনো সমস্যা নেই। ভগবানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতায় নদীর জলে ভেজা চোখও তাঁর চোখের জলে ঝাপসা হয়ে আসছে।

স্নান শেষে এক ঘটি জল হাতে তিনি বাড়িতে ফিরছেন আর মনে মনে বলছেন, “হে বিশ্বনিয়ামক, তোমারই শক্তিবলে সুখে-দুঃখে ভক্তিকার্র্য করিয়াছি। তোমার নিকট অমোঘ আশীব্বাদ প্রার্থনা করিতেছি। হে বিশ্বগুরু, আরো শক্তি দাও, জ্ঞান দাও, বিবেক দাও, ধৈর্র্য দাও, তোমার প্রদত্ত শক্তিবলে যেন সত্যপ্রভা দিবানিশি হৃদয়ে জাগরূক থাকে। অকপট হৃদয় নির্ভার প্রাণে যেন পবিত্র আর্যধর্র্মতত্ত্ব ব্যক্ত করিতে পারি।

বাড়িতে এসে তিনি তুলসী ও অশ্বত্থ বৃক্ষমূলে জল ঢেলে প্রণাম করলেন।কারণ, তুলসী বৃক্ষমূলে জল ঢালা মানে কৃষ্ণপদে ভক্তি আর অশ্বত্থে মহাদেব বিষ্ণু। এই পুণ্যবৃক্ষদ্বয়কে প্রণাম না করে তিনি কোনো কাজই শুরু করেন না। তিনি পুরোহিত, ব্রাহ্মণ। দ্রুত তৈরি হয়ে স্ত্রী সাবেত্রী এবং কন্যা গায়ত্রীকে নিয়ে পূজাম-পে চলে গেলেন। মা দুর্গার সামনে শুদ্ধ আসনে বসে ডান হাতের মধ্যমার সাহায্যে জল দিয়ে একটি ত্রিকোণ আঁকলেন। তার উপর একটি ফুল দিয়ে জোড়হাত করে মন্ত্র পাঠ করতে শুরু করলেন।

এদিকে আজ সকাল সকালই অনেকে এসে গঙ্গাজল ও সিঁদুর তিলকের জন্য অপেক্ষা করছেন। মোহন গাঙ্গুলি মন্ত্র পাঠ করে একে একে সবার মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে, কপালে সিঁদুরের তিলক এঁকে দিচ্ছেন। গত কয়েকটা দিন একনাগাড়ে চলছে চন্ডীপাঠ আর ভক্তদের কীর্তনবন্দনা।আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দলে দলে মানুষ এসে শ্রদ্ধা আর ভক্তির মধ্য দিয়ে প্রার্থনা করছেন। অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা দুর্গোতিনাশিনী মা দুর্গার পায়ে অঞ্জলি দিচ্ছেন। দেবীর বন্দনায় আজ পূজাম-পে কেবলই বিষাদের ছায়া। আনন্দের পুজোয় আজ অনেকেই কাঁদছেন। যদিও গতকালের পরিবেশটা ছিল একেবারেই অন্য রকম। কারণ শাস্ত্রে আছে, নবমী তিথিতে রাবণবধের পর শ্রীরামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। শাপলা, শালুক ও নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ, ঘি দিয়ে যজ্ঞ করা হয়েছে। কিন্তু আজ শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের ভক্তরা নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি মা দুর্গার বিদায়বেলায় চলছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি ও ঢাকের বাজনার সঙ্গে ধুনচি নৃত্য।

প্রতিদিনই ভিন্নধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষেরা সনাতন ধর্মের মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে আসছেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বড় বড় রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের আগমন ও উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজাম-পে তিনজন করে আনসার সদস্য এবং দুজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো রকম ভিড় দেখলেই তাঁরা বাঁশিতে ফু দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সবাইকে প্রসাদ দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। সাবেত্রী রানী এবং গায়ত্রী সবাইকে প্রসাদ খাওয়াচ্ছেন। গায়ত্রী এখনো ছোট, মাত্র নাইনে পড়ে।মেয়েটা মায়ের চেয়েও বেশি রূপবতী হয়েছে। আজ সে লাল জমিনে সোনালি পাড়ের শাড়ি পরেছে। মেয়েটাকে কেন জানি মা দুর্গা দুর্গা লাগছে। পূজার ফাঁকে ফাঁকে মোহন গাঙ্গুলী নিজের মেয়েকেই বারবার দেখছেন। নিজের মেয়ের রূপ দেখেও যে মানুষ এত মুগ্ধ হতে পারে, সেটা তাঁর জানা ছিল না। এ এক ঐশ্বরিক মুগ্ধতা। বলে বোঝানো যাবে না।

সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে লোকসমাগম বাড়ছে। অন্যান্য বছর প্রায় প্রতিদিনই রাত নয়টা-দশটার দিকে একবার বিদ্যুৎ চলে যেত। ওই লোডশেডিংয়ের জন্যই ভিন্নধর্মের বখাটে ছেলেগুলো পূজাম-পে ঘোরাঘুরি করত। বসে থাকত। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে মেয়েদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। মেয়েদের চিৎকারে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠত। বিদ্যুৎ আসার সাথে সাথে বখাটেরা কেমন করে জানি ভূতের মতো নাই হয়ে যেত। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বেশ কিছু মেয়ের জামাকাপড় ছিঁড়ে একাকার।যারপরনাই অবস্থা। লজ্জায়, ব্যথায় কোনোমতে নতমুখে বাড়ি চলে যেত।

তবে এ বছর পূজা কমিটির পক্ষ থেকে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদেরকে ভালো পরিমাণ মাশোহারা দেয়া হয়েছে। ফলে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সভাপতি-সেক্রেটারিরা এ বছর পূজা কমিটিতে নাম লিখিয়েছেন। প্রায় সবাই আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “পূজায় কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না”। পাশাপাশি হিন্দু ছেলেদের মধ্যে যারা সাহসী ও চৌকস, তাদের নিয়ে একটি নিরাপত্তা রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছেলেগুলো বেশ তৎপর। সন্ধ্যা হলেই টর্চ ও রামদা নিয়ে প্রস্তুত থাকে। তাই এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকভাবে চলছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটেনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীরা বাণী দিয়েছেন। সবার কথা একটাই, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের প্রতিহত করা হবে”। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। তা ছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলোও এ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপ নির্মাণে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান ধর্মের প্রার্থনালয়ের থিম ব্যবহার করা হয়েছে।স্লোগান হিসেবে লেখা হয়েছে “অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ”।

পূজা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত নয়টায় প্রতিমা বিসর্জন এবং শান্তিজল গ্রহণ। অতঃপর পূজা সমাপন। সবকিছু সেভাবেই এগোচ্ছে।রাত সাড়ে আটটার একটু বেশি। প্রতিমা বিসর্জনের আর বেশি দেরি নেই। মোহন গাঙ্গুলী মন্ত্রের পর মন্ত্র পাঠ করছেন। সাবেত্রী রানী, গায়ত্রী আরো বেশি বেশি করে সবাইকে প্রসাদ দিচ্ছেন। কারণ, এ বছর সবকিছু ভালোয় ভালোয় হয়েছে। শত শত নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোর সবাই শেষবারের মতো একটু পর পর মা দুর্গার দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে।আরেকটু পরই মাকে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়া হবে। ভাবতেই বুকের মধ্যে কেমন জানি হু হু করে উঠছে।

হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পূজাম-পের চারদিকে হুড়োহুড়ি, দৌড়াদৌড়ি, ভয়ার্ত চিৎকার। এলোপাতাড়ি টানা-হেঁচড়া শুরু হয়ে গেছে। মেয়েরা যে যেদিকে পারছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করছে। মুহূর্তেই সবকিছু লণ্ডভন্ড। সাবেত্রী রানী পূজামণ্ডপের চৌকির নিচে, গায়ত্রী ড্রেনের মধ্যে। মোহন গাঙ্গুলী পুরোনো একটি শ্যাওড়াগাছের কোটরের মধ্যে ঢুকে মা দুর্গা ও ভগবানকে ডাকছেন। মনেপ্রাণে বারবার শুধু বলছেন, “দুর্গা মা রক্ষা করো। ভগবান রক্ষা করো। তুমি চাইলে মহাপরাক্রমশালী রাবণও বধ হয়। তুমিই তো দুর্গোতিনাশিনী”।নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছেলেরা অন্ধকারে কী করবে না করবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। যদিও কয়েকজন দুর্বৃত্তকে তারা কুপিয়েছে। কোপ খেয়েই সব পালিয়েছে।

চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাঝে মাঝে এলোপাতাড়ি টর্চের আলো।যেহেতু দুর্বৃত্তরা নেই, তাই ভয়ার্তরা আস্তে আস্তে একজন আরেকজনকে ফিসফিসিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেছে। সাবেত্রীসহ দু-একজন আড়াল থেকে বের হয়ে আপনজনদের খোঁজাখুঁজি করছে। সাবেত্রী তাঁর মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছে না। একটু পরই খবর এল এখানে নাকি বেশ কয়েকজন মুসলিম ছেলে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ আক্রমণ করার জন্য এদিকেই দৌড়ে আসছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ-আনসারের সদস্যরা কখন, কোথায় চলে গেছেন, তা কেউ বলতে পারছে না। হিন্দু ছেলেগুলো প্রাণভয়ে দিল দৌড়। যে যেদিকে পারছে আবার পালাচ্ছে।

এখন সবকিছুই অরক্ষিত। সবাই অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তরা স্বদলবলে এসেই পূজামণ্ডপে, বাড়িতে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট-খুনোখুনি শুরু করে দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভয়ংকর দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। একে একে সমস্ত পূজাম-পে হামলা করা হচ্ছে। নতুন শহর, পুরান বাজার, উকিলপাড়া, মাস্টার কলোনি, কলেজ রোড, বাসস্ট্যান্ড, সবখানে হামলা, ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ  করা হচ্ছে। মা দুর্গার সন্তানেরা কে বেঁচে আছে আর কে বেঁচে নেই, এখন দুর্গা মা ছাড়া আর কেউ তা জানে না।

ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভয়াল গভীর রাত। চারদিক নির্ঘুম। মানুষ তো দূরের কথা, নিশাচর প্রাণীও বের হতে সাহস পাচ্ছে না। খুবই ভীত, দ্বিধাগ্রস্ত।একবার মনে হচ্ছে পূজাম-পটি শূন্য। নিঃশব্দ। কোথাও কেউ নেই।আবার মনে হচ্ছে মোটেও শূন্য নয়। ভয়, বীভৎসতা ও নৃশংসতায় পরিপূর্ণ। কে বলবে, এখানেই শারদীয় দুর্গোৎসব হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জয়গান গাওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে আশপাশেই হয়তো অনেকে লুকিয়ে আছে। কেউ প্রাণভয়ে, কেউ অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।কিচ্ছু বোঝার উপায় নেই। শুধু কয়েকটি নির্ভীক শিয়াল-কুকুর পরস্পরকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া করছে। অন্ধকারের এই রাজ্য খুবই অচেনা। রহস্যময়। পরিস্থিতি ভয়ংকর। থমথমে।

গায়ত্রী ড্রেনের মধ্যে। মাথার উপর ড্রেনের ঢাকনায় ছোট্ট একটা ছিদ্র।সেই ছিদ্র দিয়ে কিছুই ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। শিয়ালগুলো ফাঁকে ফাঁকে কুটুর-কাটুর শব্দ করে কী যেন খাচ্ছে। কিন্তু কী খাচ্ছে? কী আর খাবে, হয়তো মানুষের রক্ত-মাংস-চোখই খাচ্ছে। অন্ধকারে গাঢ় কুয়াশায় জোনাকির আলো ফিকে লাগছে। মেঘে ঢাকা রাতের আকাশটা ক্ষণিকের জন্য একটুখানি চোখে পড়ল। দূর আকাশে নক্ষত্রের আলোও নেই। একটু পর পর হুতুম পেঁচার ডাকে বুকটা কেঁপে উঠছে। কুকুরগুলো কী দীর্ঘ করুণ সুরে কাঁদছে! কান্না তো নয় যেন মৃত্যুপুরির ডাক।

রাত কটা বাজে, কে জানে? গায়ত্রীর মা-বাবা বেঁচে আছেন কি না, সেটাও জানা যাচ্ছে না। তাঁরা তো  পূজামণ্ডপের কাছেই ছিলেন। কেন, কীভাবে এত বড় তা-ব ঘটে গেল, গায়ত্রী এর কিছুই বুঝতে পারল না।আশপাশে ব্যাঙ, তেলাপোকাদের আনাগোনা, দৌড়াদৌড়ি বাড়ছে। হঠাৎ মনে হচ্ছে কোলের মধ্যে ঠান্ডা কিছু একটা ঢুকছে। এত ঠান্ডা কেন? সাপ নয় তো? হ্যাঁ, সাপ। ব্যাঙ মুখে নিয়ে একটা সাপ ঢুকছে। ব্যাঙটা ছটফট করছে। পা দিয়ে আঁচড় দিচ্ছে। সাপটা ব্যাঙটাকে গিলছে আর কুণ্ডলী পাকাচ্ছে। গায়ত্রী ভয়ে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস চালাচ্ছে খুবই সাবধানে। সে ভাবছে, সাপটা যদি তাকে দংশন করে, তাহলে সে কী করবে? বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করবে? তাহলে কি কেউ তাকে বাঁচাতে আসবে? নাকি আরো ভয়ংকর কোনো ছোবল মারতে ছুটে আসবে। তার মন বলছে, “সাপে কামড় দিলে দিবে। সে কিছুই করবে না। এত দিন তো মানুষরূপী ভয়ংকর সাপের রাজ্যেই ছিল। এখন না হয় সাপ কোলে নিয়েই বসে থাকবে, একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায়”।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..