অচেনা বৃষ্টি

রোকেয়া দীপা
কবিতা
Bengali
অচেনা বৃষ্টি

না চাইলেও

আমি না চাইলেও তুমি আমার অশ্রুর কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার বুকের ভিতর কষ্টের কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার অনুরাগের কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি দুরত্বের দেয়াল হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার হাসি নিলামের কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার পায়ের সুখের বেড়ি হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার হৃদয় ভাঙ্গার কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার বিষণ্ণতার কারণ হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার আঁধার রাতের ব্যাথার কারন হও।
আমি না চাইলেও তুমি আমার কষ্টের স্মৃতির এলবাম হও
আমি না চাইলেও তুমি আমার সাজানো বাগানের ঝরে যাওয়া গল্পরে কারণ হও।

 

প্রশ্ন

কোনো এক বৃষ্টির দিনে
ভেজা কামরাঙ্গা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে ,
প্রশ্ন করেছিলাম “ভালোবাসা কি?”

তুমি বলেছিলো,
সোনারঙ্গের বিকেল, কাশ ফুলের দোল ।
একফোঁটা শিশির বিন্দু, আর শিউলি ফুলের স্পর্শ।

কোনো এক সোনালী বিকেলে
তোমাকে প্রশ্ন করেছিলাম প্রেম কি?
তুমি বলেছিলে,

হাজার মানুষের ভিড়েও একটি মুখের জন্য প্রতীক্ষা।

মায়াবী এক রাতে
মনে প্রশ্ন এসেছিলো স্বপ্ন কি?
যা আমি ঘুমিয়ে দেখি নাকি যা আমি জেগে জেগে দেখি।

তুমি হেসে বলেছিলে ধুর বোকা জেগে কি কেউ স্বপ্ন দেখে বুঝি?
তোমাকে আমার দুচোখের ভাষা যদি বোঝাতে পারতাম
তবে তুমি দেখতে পেতে আমার জেগে দেখা স্বপ্নগুলো।

কোনো এক তুষারপাতের দিনে
খুব কাছের মানুষটি প্রশ্ন করেছিলো “কষ্ট কি?”

আমি বলেছিলাম,
“হৃদয় উজাড় করে সারাজীবন ভালোবেসে
তাকে একটিবারের জন্যও নিজের না বলতে পারাটা”

 

শিশিরবিন্দুর মতো

ঠিক জানিনা, আমি তোমার কতটা কাছের
শুধু জানি,
তোমাকে ভালোবাসি।
ঠিক জানিনা আমাকে তুমি কোনোদিন; কাছে ডাকবে কিনা!
শুধু জানি
তোমার ডাকের প্রতীক্ষায় আছি;
আজন্ম এই আমি!

ঠিক জানিনা আমার জন্য তোমার দুয়ার খুলবে কিনা
শুধু জানি
তোমার দুয়ার খুললেই আমাকে পাবে।
ঠিক জানিনা আমি তোমার
কাছের, ভালোবাসার নাকি দূরের আবছা মুখের মানুষ
শুধু জানি
আমার সারাজীবনের সুখের একটা মুখ;
অনাদিকাল থেকে শুধু তুমি!

ঠিক জানিনা…
আমি কি জলের স্রোতের মতো?
অথবা ঝরা শিউলির মতো?
নাকি হঠাৎ বৃষ্টিকণার মতো ঝরে পড়ি তোমার উপর?
শুধু জানি
তোমার স্পর্শ পাওয়ার জন্যই;
শত জন্মের অনন্ত প্রচেষ্টা আমার!

ঠিক জানিনা;
আর কতোটা ভালোবাসলে একদিন
জায়গা হবে আমার ঠিক হৃদয়ে তোমার!
শুধু জানি;
যেদিন তুমি আমাকে পরিপূর্ণ ভালোবাসবে
সেদিন পুনর্জন্ম হবে আমার,
আমি সেদিন এক অন্য আমি হবো
নতুন ভোরের প্রথম আলো হয়ে
শিশিরবিন্দুর মতো
শুধু তোমাকেই ছুঁয়ে রবো।

 

অচেনা বৃষ্টি

শীতের দেশের বৃষ্টি আমাকে
অস্থির করে তোলে।
আকাশভরা বৃষ্টি, কিন্তু
এই বৃষ্টিকে খুব অচেনা; কেমন গম্ভীর লাগে।
কষ্টে মুখটা অন্ধকার হয়ে আছে।
মৃত গাছের মতো পাতাহীন মনে হয়
বৃষ্টি আমাকে কাঁদায়, আমাকে উদ্বিগ্ন করে,
আমাকে আরো বেশি শীতল করে দেয়।
আমার চিন্তা আমাকে অতীতের স্বপ্নে নিয়ে যায়;
চিরচেনা বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকি আমি।
আমার দেশের বৃষ্টির মাতাল রিনিঝিনি শব্দ
যে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে দিতো মন-প্রাণ;
মাটির সেই ভেজা গন্ধ এখনো
বুকের ভেতর তুলে রেখেছি।
চোখ বন্ধ করলে এখনো যেন
তার ভেজা গন্ধ নাকে এসে লাগে।
মনে পড়ে যায় ছাদের কোনে বসে ভিজতাম
আর অপলক চোখে মুগধ হতাম
কামরাঙ্গা গাছের চিরচেনা সৌন্দর্যে।
কখনওবা চোখ পড়ত গাঢ় গোলাপিবর্ণা বাগানবিলাসে,
কী সুন্দর করে জড়িয়ে থাকতো
বাড়ির প্রধান ফটকে!
কখনওবা তন্বীর উচ্ছ্বাসে ভিজে নেচে বেড়াতাম সম্পূর্ণ ছাদজুড়ে’;
কখনো গরম চায়ের কাপে আদুরে চুমুকে হতো
অলিখিত প্রেমবিনিময় ,
আর দৃষ্টির সীমানা জুড়ে একটাই স্বপ্ন থাকত আমার….
তোমাকে নিয়ে অবাবিল বৃষ্টিস্নানের৷

রোকেয়া দীপা। কবি ও সাংবাদিক। জন্ম ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের ঢাকায়। বর্তমান নিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। পেশায় তিনি একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। বর্তমানে তিনি উত্তর আমেরিকা প্রথম আলোয় রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন। প্রকাশিত বই: 'জোনাকি পোকা' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৯)।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..