অদৃশ্য পর্দা

জয়ন্তী কর্মকার
কবিতা
Bengali
অদৃশ্য পর্দা

উত্তরণ

দামামা বেজেছিল তোমার বুকেও,
তুমি বুঝতে দাওনি প্রিয়
এখনো পোড়া প্রেম গন্ধ ছড়ায়
মনে পরিচয় রেখে স্বকীয়।

নিজস্বতা হারিয়েছিল যেইদিন
খুঁজেছিলুম তারে দু’কূল উজাড় করে
চোরাবালিতে তারে ডুবিয়ে মেরেছ তুমি
এইভাবেই বোধহয় পুরোনো প্রেম মরে।

জোয়ার-ভাটার সময় পেরিয়েগেছে
সমুদ্র মিশেগেছে মোহনায় একদিন
আমার নতুন ঘরে আলতা ছাপ ফেলে দিয়েগেছে
তোমার পরকীয়া প্রেমের ঋণ।

এইভাবেই বোধহয় পুরোনো প্রেম মরে
এইভাবেই তল্লাশি চলে সরেজমিনে
আমি আর তুমি হারিয়ে গিয়েছি বহুকাল হল
শুধু পুরোনো স্মৃতির দাগ রয়ে যায়
হাতের শিরার এক কোণে।।

 

জাতিভেদ

রাংতায় মুড়ে নাও তবে জাতির চিহ্ন
জাতকে না হয় মিশিয়ে দাও
ধূলোর ঢিবিতে,
যে স্বজাতি গলা ফাটায়
পাশের বাড়ির ক্ষতিতে
তার ধর্মের মালা গেঁথে নাও তবে
নিজেদের হানাহানিতে।

 

উজবুক

এখনো কি শুকনো তারে
ভেজা কাপড়ের গন্ধ পাও,
এখনো কি বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে যায়
হড়হড়ে শ্যাওলার শুকনো বুক,
এখনো কি আমের ডালে
কাঠবেড়ালি ডাকতে আসে আমায়,
এখনো কি আগের মতোই ছাদের ধারে
দাঁড়িয়ে থাকো,
আমার উজবুক।

 

অদৃশ্য পর্দা

গোটাতে পারলে গুটিয়ে নাও
তীব্র ভালোবাসার চাদর
রঙ্গীন অপমান
স্থান দখল করেছে সেথায়
মেকি কার্পেট দিয়ে,
এককালে পড়ে থাকত যেখানে
স্বার্থহীন আবদারে
আদরের কাপড়।

নীলকণ্ঠ

স্কচের বোতলে আঙ্গুল চুবিয়ে চেখে দেখতে পারিনি কোনোদিন,
গলায় দিতে পারিনি কোনোদিন এই অজানা স্বাদের একটা ফোঁটাও।
নীলকণ্ঠ হয়ে আগেই পুড়িয়েছি গলাকে,
যত যন্ত্রণা সব গলা দিয়েই তো নামে!

নরম পানীয়তে চুমুক দিই তাই এখনো,
ঠাণ্ডা পানীয় শীতল করে গলার ঘা কে।

সময় ভেঙ্গে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়
যন্ত্রণার তাপে।
গুঁড়ো গুঁড়ো সময়কে নাড়াচাড়া করি,
বিস্মৃতির চামচ দিয়ে।
খুঁজে পাই এক কুচো দু’কুচো ভাঙ্গা ভাঙ্গা , জোড়া লাগানো,
তাপ্পি মারা কিছু স্মৃতি।

নরম পানীয়ের বুকে ভর দিয়ে,
ভুলে যাই খাবার চার্টের তালিকা।
ভুলে যাই দুপুরে বিয়ার আর রাত্রিতে স্কচ খাওয়ার অদম্য স্পৃহাকে।

আমি এখনো বরফ ভালোবাসি।
যেই বরফ পাহাড়ের গায়ে সাদা চাদর
পরিয়ে দেয়,
যার দু’কুচিতেই পাতলা শৌখিন
বিদেশী গ্লাসটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়
সন্ধের নেশায়,
যার এক টুকরো বদ রক্ত জমে যাওয়া কালশিটের যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে,
আমি সেই বরফকে ভালোবাসি।

গড়গড় করে লিখে চলি
আবোল তাবোল শব্দ।
ভাষারা খেই হারিয়ে ফেলে
জুড়িগাড়িতে চড়ে রূপকথার ঠিকানা
খুঁজতে গিয়ে,
পাতার পর পাতা ভিজে যায়
পানীয় গ্লাসের ঘামে,
কবিতারা গদ্যের আকার নেয়।

ছুটি দিয়েছি ক্লান্তির ঘামকে।
ছুটি দিতে পারিনি নরম পানীয় ভর্তি
ঠাণ্ডা গ্লাসকে,
যা টনসিলের ব্যথাকে বাড়িয়ে
আরাম দেয় আমায় রোজ,
আমার নীলকন্ঠকে,
যা অমরত্বের লোভে গিলেছিল
আমার ভালোবাসা অন্য কেউ আর
আমি তার মন্থনে বেরিয়ে আসা গরলকে।

ঠাণ্ডা গ্লাসটা শান্ত করে আজ‌ও
আমার নীলকণ্ঠকে।
ছুটি দিতে পারিনি কোনোদিন,
অদম্যকাল ছুটি দিতে পারবো না তাকে। নীলকণ্ঠের বড়ো প্রিয় ওই ঝাঁঝালো স্বাদটা।

জয়ন্তী কর্মকার। কবি ও অভিনয় শিল্পী। জন্মস্থান বাঁকুড়া। বেড়ে ওঠা বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা বাঁকুড়াতে পরে পশ্চিম মেদিনীপুরে। বর্তমানে স্থায়ী বসবাস কলকাতায়। কর্পোরেট সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার অ্যাঙ্কারিং এবং অভিনয় করে থাকেন। আবৃত্তি করতে ভালোবাসেন। নিয়মিত কবিতা,...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..