অধরা 

তপনকান্তি মুখার্জি
কবিতা
Bengali
অধরা 

প্রেম ও দ্রোহ 

 

চোখে চোখ পড়লে খিদে বেড়ে যায়,

নির্বাক সুতোয় গাঁথা পড়ে মন,

ঠিকানা স্থির হয়ে চলা শুরু অবিরাম।

 

প্রতিদিন একটু একটু করে আবেগ ফুরোয়,

হেমন্তের রোদ ঢলে পশ্চিমে।

ওষ্ঠ হয় তরবারি, দিন আগুন আগুন।

শরীর খোঁড়া শেষ, মন খোঁড়াও।

 

বসন্ত আসে, ফোটে না আর পলাশ-শিমুল।

বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে নৌকোবদল হয়,

শূন্যস্থানে শুধুই স্মৃতি।

প্রেম আর অপ্রেমের মাঝে জমে থাকা ব্যথা

ছাই হয় সিগন্যাল পেরিয়ে।

বেরিয়ে যায় শব্দেরা অনন্ত শিকারে।

 

অধরা 

 

বিছানায় নিরামিষ শংখের দাগ লেগে এখনও।

জ্যোৎস্না সরে গেছে কখন।

সস্তায় কেনা স্বপ্নগুলোও হারিয়ে গেছে

দিনের গভীরে।

 

যে এসেছিল মাংসের গন্ধ বুকে নিয়ে

সে আজ চাঁদ হবে অন্য কোথাও, অন্য আকাশে।

নাব্যতা মাপতে মাপতেই কেটেছে সারারাত,

লগিঠেলা হয়নি।

 

সত্যির ভান করে হৃদয় খুঁড়তে গেছি,

ছিটকে পালিয়েছে আসন্ন সংগম।

মদের বোতলের পাশে শুয়ে নিষ্কর্মা সময়।

 

ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে বলতে পারি,

ছায়াশরীরের কাছে জ্যোৎস্না ধরতে

যতবার পেতেছি হাত,

ততবারই ডিগবাজি নেতাদের মতো।

 

সব কান্না কি ছুঁতে পারে হৃদয়?

 

 

হৃদিকথা 

 

অন্ধকারে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছি নিজে,

ঠিক আমাজনের মতো।

এতো আলো একসাথে দেখিনি কখনও।

আবার পরক্ষণেই নিকষ কালো অন্ধকার,

বিশ্বাস হারালে যা হয়।

ঝড়ের

সামনে পড়ে প্রেমিকার নীল খাম-

আত্মসমর্পণ নাকি আত্মসমর্থন?

মনে জ্বলছে দাউদাউ আগুন,

পর ঝড়, অভিমান, আক্ষেপ।

হাতে তুলে নি খাম,

জন্ম আর মৃত্যুর ব্যবধানে দাঁড়িয়ে আমি।

 

আবহবিকার 

 

আঁচলের গন্ধটা এখনও নাকে লেগে,

রাত গড়ালেই ভেসে আসে ভুরভুর।

যতো দিন যায় ততো নতুন হয়ে উঠছে গন্ধঘ্রাণ।

আগে নাকে আসতো, এখন কানেও বাজে।

প্রতি রাতে আমি কান পেতে থাকি।

তৃষ্ণার মোহ নিদ্রাহীন করে তুলছে আমাকে,

মাঝে মাঝে বিছানায় উঠে বসে গন্ধকে বলি,

‘ ঋতুরাগ সাঙ্গ হলে, এসো লুডো খেলি ‘।

গন্ধ শব্দ করে খসখস, খসখস।

দূরে কোনও বাড়ি থেকে ভেসে আসে আকাশবাণী,

এতো রাতে কে শোনে?

আঁচল আর রেডিও একসাথে মিলে রহস্য সৃষ্টি করে

যৌনগন্ধ ছড়িয়ে।

আমিও কি একদিন গন্ধ হয়ে যাব?

 

 

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তৃষ্ণা

প্রাচীন সভ্যতা নিমগাছের ডালে বসে থাকা কাকের কন্ঠস্বর চিরে বেরিয়ে আসছে বুভুক্ষু পৃথিবীর আর্তনাদ মহেঞ্জোদাড়ো…..