অনুপম রায়ের কবিতা

অনুপম রায়
কবিতা
Bengali
অনুপম রায়ের কবিতা

হরিণ

নিরীহ দুপুর কাটে পাশের বাগানে
হরিণ এসে শুনে যায় ফ্ল্যামেঙ্কো স্কেচেস
সারা শরীরে দেখা দেয় বাদামী স্পর্শ,
স্পটগুলো উজ্জ্বল হয়।

অথচ ব্যর্থতা স্পষ্টতা চায়,
অলস সূর্য তার সৈন্যদের ঘুমোতে বলে
লেবু গাছের পাতায় পাতায়।
ভীতু হরিণ খেলা করে
গোটা পাড়া কৌতূহলে যায়,রিয়ারস্টলে বসে
মাথা উঁচু জানতে চায়
মাঝ দুপুরে হরিণ কেন?
হরিণ বোঝে না,
সে তো জানে না তাকে ঈশপের গল্পে ফিরতে হবে

বকের হাসি

বোতামের-ও ঘর থাকে,
যে ঘরে বোতাম থাকতে চায় না।
তাহলে তো জীবন মসৃণ,
সুখে থাকলেও কি ভূতে কিল মারতে আসে না?

আসলে সবাই প্রেম চায়
এতটাই উচ্চতায় অথবা নিঃশব্দে
যার ছায়া পড়বে না মাটিতে,
যা ঝড়ের হাওয়ার মতো সংযত।

তাই এ ঘর ও ঘর করে,
মানুষ আড়ষ্ট হতে থাকে,
একদিন দল বেঁধে তীর্থে যায়।
সেই পথে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা কিছু বক
তাদের দেখে বিচ্ছিরী ভাবে হাসে।
তীর্থযাত্রীদের দলা পাকানো মুখগুলো
ফ্যালফ্যাল করে থাকে অথচ
সেই হাসি থেকে রক্ষা করার কেউ থাকে না।

বড়শির মাছ

বড়শি দেখেনি যে মাছ
সে তো জীবন দেখেনি।
অশ্লীলতার কিছুই পড়েনি চোখে
শুধু নগ্নতাকেই ভয় পেয়ে গেলো।

চোখের সামনের জিনিস এড়িয়ে যাওয়া
এক ধরণের ঘুম।
ঘুমকে মৃত্যু ভাবতে পারি
যদি তাকে সহজে ভাঙা না যায়।

তাই বলি,
বড়শি দেখে নি যে কর্পোরেট
তাকে তুমি ঘুম থেকে জাগাও।

অনুপম রায়। গীতিকার, গায়ক ও সুরকার। জন্ম ও বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের কলকাতায়। তাঁর এই পরিচয় বাঙালি মাত্রই জানেন। অনুপম একান্তে কবিতাও লেখেন এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থ আছে। কাব্যচর্চার পাশাপাশি তিনি গদ্যচর্চাও করে থাকেন। প্রকাশিত বই: 'ছোঁয়াচে কলম' (কাব্যগ্রন্থ), 'মন ও মেজাজ'...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..