অন্তঃসারশূন্য

শ্রাবণী সিংহ
কবিতা
Bengali
অন্তঃসারশূন্য
জাফরির ভেতর

হয়তো এভাবেই
কুলকুচিতে ছুঁড়ে দেওয়া জল দ্রুত ছড়ায়, তত দ্রুত মরে যায় মাটিতে
আর বৃক্ষসমীপে
কিছু পাতা
নির্জন হারাকিরিতে
আমিও বসে আছি
জাফরির ভেতর..অন্ধকারও লুকিয়ে রাখতে চায় না
আমার হৃদয়

নুমাইশ নরম জড় করে গুচ্ছের গোলাপ …
প্রথম ফুটলো গাছের গায়ে


আকাশপ্রদীপ জ্বলছে বহিরঙ্গে শোক,
অন্তরঙ্গে আশার আলো নিয়ে

বিন্দু বিন্দু শহর ভাসবে  আলোতে
দীপাবলী উপলক্ষ্যে তাই, এ পাহাড়,ও পাহাড় জুড়ে
নকল শীতসন্ধ্যা।দস্তানায় পোষ মানায়
দুরত্ব যা অসুখের সৃষ্টি

কত আর  চলবে উৎসব এড়িয়ে মাড়িয়ে ।

অন্তঃসারশূন্য

খুব সুন্দরেরও সর্বনাশ আসে……
খুব ছোট্ট চিন্তার ফোকরের মধ্যেও ঢুকে পড়ে একরাশ কালো ধোঁয়া,
বিপজ্জনক
জুমের টংঘরে বসে ভাসমান বিলাপক

পূর্বোত্তর মেঘের মত
অন্তঃসারশূন্য
পরতে পরত খুলে
সব দেখিয়ে ফেলা।

প্রাপ্তমনস্ক জটিলতা বয়স বাড়িয়ে দেয় চানক্যনীতির

মেধা ও বিত্ত-
প্রাচুর্য না থাকলে সবটাই গুরুত্বহীন।

মৃত্যুঞ্জয়ী

মহাকালের আবেগ অঘ্রানী জল হয়ে নেমে বসে মাটির বুকে…
বীজপত্রে, প্রখর শিলায়।
অতঃপর
আলভেজা বাতাসের শনশন, আমাদের দৈনন্দিন  অপূর্ণতারা
থেকে যায় পর্ণমোচী শব্দে
অবক্ষয়ী পৃথিবীর ধুলোর আলপাটে, জলঘাস-স্রোতে
অক্লান্ত থেকে যায়
নিজেই  নিজেতে নিজের …নিষেকে

কুয়াশা-ভেজা নিয়নে 

শীত এলেও তো সেই ভাঙাচোরা,অমসৃণ…
ছায়া ছায়া দ্বিপ্রহর
দিনের আলোর কতটুকুই বা পড়ে থাকে?

জুবুথুবু ঘাস পাড়াগাঁয়ের, কুয়াশা-ভেজা নিয়নে রাত ছোট হয়ে আসে

ছবি আঁকে তিনকোণে
ত্র্যহস্পর্শের
ছবি নয় চিহ্ন ছাপ দূর্যোগের …
গৃহযুদ্ধ
হতাশা
লঘুচাপ
নেমে আসা সাগর বন্দরে
..
জল নয়,
ডাঙার জীবনে ফেরার ভয়

মাঝির চোখ সরু হয়ে আসে অববাহিকার মত।

শ্রাবণী সিংহ। কবি। জন্ম ও নিবাস উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..