অন্ধকারের ভাষা

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতা
Bengali
অন্ধকারের ভাষা

অন্ধকারের ভাষা

জানলা দিয়ে অন্ধকার ঢুকে
সারা ঘর রঙ করে দিল
এতক্ষণ যারা অন্ধকার নিয়ে
হাওয়া গরম করার চেষ্টা করছিল
তারা গর্তের মুখে পঞ্চাশ শব্দে বক্তৃতা দিয়ে
তাদের পোশাক খুলে ফেলেছে
এখন তারা গর্তের রচনা লেখায় ব্যস্ত
দেখে কে বলবে এরাই একদিন
গতানুগতিক ইতিহাস বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর
বিভিন্ন গাছের ডাল থেকে, পাতা থেকে
এঁটেল মাটিতে হড়কে যাওয়ার মতো
হঠাৎ করে উদয় হলো কিছু পোকা
কালো কালো পোকা, যারা খুব ভোরে উঠেই
চড়া সুরে গলা ভেঁজে নিয়েছিল
খুব শক্ত পায়ে একটু একটু করে
এগিয়ে যাচ্ছিল অন্ধকারের দিকে
ঘরের দিকে তারা তাকায় নি একবারও
একনাগাড়ে তাদের যেন কেউ হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল
কিন্তু ওইটুকুই মাত্র আওয়াজ
নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা
খুব চেনা সুরের গানের মতো
কখনও আস্তে, কখনও জোরে
একটানা তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল
তাদের চোখ দেখে মনে হচ্ছিল
তারা যেন কিছু শুনতেই পায় নি
ঝড়ের মতো খুব জোরে হাওয়া দিতে
তারা খুব একচোট হেসে নিল
তাদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট হচ্ছিল
এযেন রাস্তারই প্রাথমিক কথাবার্তা
গর্তের মুখে রচনা লিখতে লিখতে
সবাই দেখছে পোকাগুলো
সামনে আরও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে
কেউ জানে না
অন্ধকারের ভাষা কখন বদল হবে
কিন্তু পোকাগুলো আমাদের চোখে ছোট হচ্ছিল।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ