অন্যমনষ্ক সেই ছেলেটির জন্য

হিয়া মুখোপাধ্যায়
কবিতা
অন্যমনষ্ক সেই ছেলেটির জন্য

অন্যমনষ্ক সেই ছেলেটির জন্য… আমার অশান্তি যাকে স্পর্শ করতে পারে না আদৌ

 

এক.

‘এ বসন্তে তবে
বাধ্যতামূলক ভাবে
আমাদের দেখাশোনা হোক।’
এতবধি বলে আমি থামি
এবং
শান্ত পায়ে সরে আসি
চৌকাঠের দিকে।
অথচ
একান্নবর্তী শহরের
অবিমিশ্র প্রস্রাবরেখা
আমার থেকে তোমাকে
তোমার থেকে আমাকে
আলাদা করে দিচ্ছে
প্রতিনিয়ত।
উদ্ভট সব ব্লার্বে
ভরে ভরে উঠছে দেওয়াল।
শটগান মুখরিত সন্ধ্যে
ঘনঘন বেজে উঠছে
হাঁপানী রুগীর মত।
এতদসত্ত্বেও বুঝি দ্যাখা হবে?
ভাব-ভালোবাসা?
তুমি রোদের সাথে
কথা বলো।
তুমি ঘাসফুলের সাথে
কথা বলো।
আস্বস্ত করো।
লোকগান সাঙ্গ হয়।
কারা য্যানো এ সুযোগে
পা টিপে টিপে
শিশুহাসপাতালে ঢুকে পড়ে।
তুমি য্যানো কাকে দুএকবার
ডেকে উঠলে
অস্ফুটে…
তুমি য্যানো কাকে দুএকবার
ছেড়ে গেলে
শান্ত ভঙ্গীতে।
ফ্রীজফ্রেমে দাঁড়িয়ে সেইসব
উপকথাগুলি
আমি লক্ষ্য করি
আর
স্বপ্নাদেশের মত কোথাও
পিয়ানো বেজে ওঠে।
আমাদের মাথার ভিতরে
সারাদিন সারারাত ধরে
মিহি বৃষ্টির মত
কালচে পিয়ানো বেজে ওঠে।

 

দুই. 

‘আপনাদের এলাকায় কী প্রায়ই বৃষ্টি হয়?’
মেয়েটি প্রশ্ন করছে।
তোমাকে অনাবিল রকমের বিধ্বস্ত দেখছি
আর
একটা হিংসের গাছ
আমার পেটের মধ্যে
দারুণ রকমের ডালপালা ছড়াচ্ছে।
তুমি সেই গাছ বেয়ে অক্লেশে
আরো নীল আরো লালের শহরের দিকে উঠে গেলে
আর তোমার উঠে যাওয়ার নীচে
আমি আর সেই মেয়েটি
আপাতত
ধূসর বর্ণের একটা ব্রীজের বুকে দাঁড়িয়
শুধুই বৃষ্টিতে ভিজছি।

তিন.

যেভাবে
আশ্চর্য বনভূমে
আবহসঙ্গীতের মত
বেজে উঠছে
তুখোর ম্যান্ডোলিন,
বেজে উঠছে ব্যাথা ও বিবাহ,
সেভাবে
দুগ্ধমতে
তোমাকে চাইছি।
যেভাবে
নিপুণ বিকেল বেয়ে
ছাড়খাড় সন্ধ্যের দিকে
নিভে আসছে শান্ত আলো,
নিভে আসছে বাগানবিলাস,
সেভাবে
রন্ধ্রে রন্ধ্রে
তোমাকে চাইছি।
হাতেটানা রিকশার মত
শোকাতুর শীত।
জানলায় জানলায়
কেঁপে উঠছে
অলৌকিক রূপোলী পর্দা।
ঘোরতর রকমের দুর্যোগে
ভারী হয়ে আসছে চরাচর।
ঘ্রাণপ্রবণতা পুষে রাখছি।
আদিগন্ত লোভ পুষে রাখছি।
অতিথিনিবাসের মত
একক ভঙ্গীতে
অপেক্ষারত আমি
মরে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
আর আমার মফস্বল বেয়ে
অন্যমনষ্ক তুমি
হেঁটে যাচ্ছো
এমনভাবে
য্যানো কোত্থাও
কোনো অনুরণন নেই।
য্যানো কোত্থাও
কোনো তুষারপাত নেই।
য্যানো সত্যিসত্যিই
এইসব আকুল উপসর্গ
পেরিয়ে
গোলাপী বর্ণের কোনো ভোরে
নিজে থেকেই
আমি সেরে উঠবো।

হিয়া মুখোপাধ্যায়। লেখক ও বিজ্ঞান গবেষক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায়। প্যাশন সাহিত্য ও সিনেমা। বর্তমানে পদার্থ বিজ্ঞানে গবেষণারত।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

ফেরা

ফেরা

ফেরা অনেক দিন আসিনি তোমার চোখের কোণে, বুকের পাশে, নিঃশ্বাসের চারপাশে। ভেবো না আমি পথ…..