অপচয়

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়
কবিতা
Bengali
অপচয়

অপচয়

অসীমের কোলে খাঁ খাঁ করে শূন্যতা
বহতা সময় বয়ে চলে নিস্পৃহ
একদা কখনও যদি তবে কিন্তুরা
ভীষণ সীমিত বিবাদেই অহরহ

তুমি তো পথিক দরজায় কড়া নেড়ে
ঘরের ভেতর বড় জোর দাও উঁকি
বিদায়বাণীতে ভালো থেকো ভালো থেকো
নষ্ট হতে কি রইল কিছুই বাকি?

তুমি তো বাউল পথ আর প্রকৃতিকে
আকণ্ঠ্য পান করেই নির্বিকার
একতারাটিতে লুকোনো অনেক তার
প্রতিটি ছোঁয়ায় শতাধিক ঝংকার

পথের ধর্ম পথ তবে শেষ কথা
সহযাত্রীরা শুধুই বদলে যায়
বর্ষার দোষ নদীর শরীরে ঢেউ
নিজেরই কূল ভেঙে চলে অবেলায়

অথচ সময় খুব অসময় নয়
বসন্ত ছাড়া কোকিল ডাকছে সুরে
অসূয়া এবং অনসূয়া পাশাপাশি
ফসলের বীজ তবুও আস্তাকুঁড়ে…..

আরোগ্য

একটা সম্পর্ক কতবার বেহাত হতে পারে?
তুমি তো প্রথম থেকেই বারোয়ারি।
ক্ষণিক আবর্তে তবু আচ্ছন্নতা ছিল তীব্র..
পরিতাপ যা কিছু – নিজের বোকামিতে
অভিযোগ আর বাকি নেই..
আত্মপক্ষ সমর্থনে ফিরে তো আসবে না
যখন ছিলে তখনও সে চেষ্টা ছিল না এতটুকু,
ছিল শুধু অসঙ্গত জেদে অবিচলতা।

ভ্রমণবিলাসী আলোকচিত্রের মতো
হতাশা গ্নানির স্মৃতিগুলো
তবে সুখী সেজে বেঁচে থাক।
নিজের ক্ষতে নিজেই প্রলেপ লাগিয়ে
আমিও তো আরোগ্যকামী।

কবিতার ক্লাস ফেলে

ইন্দ্রপতনের ঘাত সুদূরপ্রসারী,
আমিও কেঁপেছি উঠে সেই অভিঘাতে —
যাদের প্রস্থান হয় নীরবে নিভৃতে,
আমি সেই উপেক্ষার একা অভিসারী।

পথ শিশু হয়ে যায় নাগরিক যিশু
তোমার মনন তাকে করেছে অমর।
রোদ মাখা বোবা চোখে চেয়ে থাকি আমি —
অমলকান্তির কাছে প্রশ্ন ছিল কিছু।

‘এনট্রপি’ তো বিশৃঙ্খলার পরিমাপ —
পড়ে ভালো বলেছিলে, সেটুকুই স্মৃতি!
নিজস্বীতে ধরা নেই কোনও স্বীকৃতি,
নিজস্ব সংগ্রহে রাখা শুধু উত্তাপ।

‘ক্ষণিক আবর্তে’ লিখে ফেলি কেউ গেলে,
মাত্রাবৃত্তে এখন আর মাত্রা ছাড়া নই।
তবুও কবির কাছে যাওয়া হল কই?
ক্ষণিক শূন্যতা ভরে চিতা নিভে এলে…

প্রতিফলন

দারুণ আরাম অথবা তুমুল ঘামে
জীবন প্রবাহ যখন যেখানে থামে
গাছের শাখায় পাখির মায়াবী রাত
সময়ের ফেরে কূজনে ভরা প্রভাত
অলস সময় যাপনের অভ্যেস
আবছা আলোয় আদুরে ঘুমের রেশ।
ঘুম আর শুধু ঘুম দিয়ে চোখ ছায়
কত কী করার স্বপ্নেরা ফিরে যায়
সময়ের দেহ নীল হয়ে যায় বিষে
উপশম চায় শুষ্ক ফাগুন মাসে
ভাঙতে ভাঙতে অবশেষ রোধ করা
আয়নায় আর বিবেক দেয় না ধরা …

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি ও গল্পকার। জন্ম ৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১, ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের কলকাতায়। লেখাপড়া বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স নিয়ে বিএসসি, বিএড, এমবিএ। চাকরিজীবনকে বেছে না নিয়ে তিনি পুরোপুরি লেখালিখিকেই বেছে নিয়েছেন। পদ্য ও গদ্য উভয় শাখাতেই বিশেষ সমীহ লাভ করেছেন।...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ