অপরাহ্ণ সুসমিতোর কবিতা

অপরাহ্ন সুসমিতো
কবিতা
Bengali
অপরাহ্ণ সুসমিতোর কবিতা

১.
এই খানে সদাগরী নোঙর উড়াল পাল ..আমি যারে ডাকি সে থাকে নূপুরের আড়াল
কাজলের কংকন চোখে সারাবেলা হাসির নোলক,এতো খুশি সে,নবনীতা ঢেউয়ের আড়িয়াল।
বিলের পাখি বুঝি টলটল চোখ সে,সবুজ জমিনের পাশে সারাদিন বাতাসের খলবল সে তো ডানার দাপট, ঐ ঐ সেই হরিয়াল।
সারারাত গাছগুলো রিনরিন দাঁড়ায়, তুহিনের দীপাবলী হাসে তারপাশে,দূরের নদী ডাকে ..শোনো প্রবাল প্রবাল
পায়ে হেঁটে সে যায়,গান গায় ধানী জমির ঘ্রাণে…যদি শিস পাখি ডাকে,তাকে বলো এইখানে আমি, সেই কবিয়াল।

২.
কয়েকটুকরা মাংসের জন্য লোকগুলো হন্যে হয়ে
নগরে ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে
কেউ বা ধীরে ধীরে কেউ হন্তদন্ত,কারো হাতে বিবর্ণ থালা
কেউ ভাবছে আজ আমিষের বন্যা বইবে তাদের ফুটো ব্যাগে।
কেউ দরোজায় কড়া নাড়ছে, কেউ বাড়ির মালকিনকে সকাতরে
মা ডেকে ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে,
পরিবারের কর্ত্রী আজ উদারপন্থী, মুক্তহস্ত।
সদর দরজা বন্ধ করছে না, তিনি মশগুল আছেন আজ মাংস বিতরণে
বেহেস্তি জিওর পড়েছেন আবার কাল রাতে
জেনেছেন মাংস বিলিয়ে তিনি পুণ্যাত্মা হবেন;
আচানক দরজায় দাঁড়ালেন এসে এক নিরামিষভোজী
গৃহকর্ত্রী মাংসের ডালা নিয়ে নিজেই এগিয়ে এলেন সহাস্যে
লোকটা মাংসের থলি নিল না,তিনি অবাক।
এ কেমন আমিষলোভী!
কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিষ্পৃহ লোকটা গুনগুনিয়ে গৃহকর্ত্রীকে বললেন;
: নিজেকে আজ বিলিয়ে দিতে চাই।
মদিনার মায় বাড়া বান্ধে মদিনা গাঁথে ফুল
ছেমড়ির বড় দেমাগ আছে সে করে চুলবুল
ধলা গরু হাম্বা ডাকে মাইয়া কয় জোয়ার আসুক
ঐ নদীর গাঙ্গে মরদ মেলা নায়ের গতর ভাসুক
অগো বাড়ি নাটক হইবে চেয়ারম্যান হইসে ভিলেন
সাহাদের বাড়ি বিয়া হইবে শাড়ি পরসে লিলেন
হাইঞ্জা বেলা চুঙ্গা লইয়া বেটা গেছইন মৌলইবাজার
বেটি ইগুর সখ হইসে আতখা মাইঞ্জা মারার
তারে আমি জিগার করি মাতো না কিতাল্লাগি
আয়রে আয় পিরিত করি গলায় গলায় লাগি।

৩.
মাইক্রো কবিতা

ক.
মেয়েটার আদি বাড়ি নোয়াখালী ছেলেটার রংপুর
সারাদিন ওরা টেক্সট করে রোদ লুকায় ভরদুপুর।

খ.
সারাদিন ওরা হাঁটে বাদাম খায় চুমুটুমু মাঝে মাঝে
এক মলাটে কবিতার চরণ ওরা প্রণয় ব্যাকুল সাজে।

গ.
সিলেটে মম বর্ষা প্রমোদ লালমনিরহাট আজ সবুজ টিয়ে
সাতক্ষীরায় আজ প্রণয় নূপুর, মাদারীপুরে কাল ঋতুর বিয়ে।

ঘ.
আমি ভাত খাই না, তুইও খাবি না। খাবি মুন্সিগঞ্জের রুটি
শোনো কাল নাটোর যাব,বনলতা পড়ব, আহা দুজনের ছুটি।

ঙ.
তিশা হেলিকপ্টারে কক্সবাজার যায়, মাথায় গামছা পরে থাকে ফারুকী
এবার পূজোতে কিচ্ছু দাওনি আমাকে, নেক্সট পূজোতে প্লিজ গ্যালাক্সী।

চ.
ছেলেটির লাস্ট নেম ভুঁইয়া,মেয়েটির সরদার । দুজনের অনেক নলেজ
শুধু পোস্টে লাইক গেম খেলে,ওরা দুজনেই প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ।

ছ.
মেয়েটি জামদানী পরে আবার সিগারেটও খায় । সে অনুপম নিরুপম বকুল
জামালপুর থেকে ট্রেনে উঠেই ঝুঁকে মোবাইল দেখে অবিকল ক্ষীরের পুতুল।

৪.
সে যদি নাচ ভুলে গিয়ে এলোমেলো করে মুদ্রা
সে যদি গানের বিভোরে কেটে দেয় লয় তাল
সে যদি কমলা খেতে খেতে ছুঁড়ে দেয় খোসা
সে যদি নায়াগ্রায় আমাকে ছুঁড়ে মারে
সে যদি আমাকে দেখে ভুলে যায় ম্যাজিক!
আমি যদি তাকে একাকী সিঁড়িঘরে দেই হানা
আমি যদি লিখি গদ্য পদ্য পাতার পর পাতা
আমি যদি শনিবার বাড়ি না ফিরি
আমি যদি হালিম খেতে খেতে তাকে লিখি চিঠি
আমি যদি তাকে দেখে ভুলে যাই ম্যাজিক!
ওকে যদি সামনে বসিয়ে নাক ঘষে দেয়া যেত
ওকে যদি বলা যেত চলো ক্রমাগত হাঁটি
ওকে যদি মনের পাসওয়ার্ড দেয়া যেত
ওকে যদি জলপাই বনে একাকী পাওয়া যেত
ওকে যদি বলি চলো সীমানার বাইরে দুজনে চলো।
আমরা যদি মাটিতে ঘুমাই দুজন
আমরা যদি ওদের ভোট না দেই
আমরা যদি বানাই গৃহবাসী ওম কোল
ঠিক আছে?
আমরা মেতে থাকি প্রণয় প্রবল।

৫.
তোর মাথার উপর আমি ছায়া ধরে রাখি,
রোদ ছায়ার উপর যেন হরিয়াল পাখি
ইশারা করে ওদের বলতেই পারি: ছায়া থেকে সরো ও বোধ।
তুই বলিস: এত বাধুক তোমার রোদ?
বাদামের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে কোণার দিকে তোর পড়ার ঘরে
তোর ছোটবোন যেন দূরে বসে নড়ে,
ঘাড় গুঁজে আকাশ-নামতা মুখস্থ করবি,ঝাঁড়-বাতিটায়
তীক্ষ্ণ চড়ুই বলবে; আজ আমি তোমাদের ছাদের অ্যান্টেনায়;
আজ লুডু হোক শুক্রবারে
তারপর দুজন নদী পাড়ে
আমি তোর জন্য নৌকা ভাড়া করি
টেলিভিশনের লোকজন ছুটে যাক না নদী ঘাটে,দেখুক প্রাণের ভ্রমণ;
নদীর শাখায় ছুটবে চরার্ত মানুষের দোলন দোলন,
তুই দেখিস আমাকে,আমি হয়ে যাবো বুদ্ধদেবের ছোকানু
ভাংতি টাকায় আমার পকেট ভরে যাবে দুপুর রেণু।
রোদে তামাটে হলে হলে অনার্য কবিতা বা তোর খালি গলার সুর
মখমলী পা তোর কোমল নূপুর
খবরদার মাঝিকে যদি ধাক্কা দিস.
শোন নিজেকে সাবধান করে নিস।
আমি শুধু তোকে ছায়া দেই ও পাখি
ঘুঘু ছই বাসা কই ,এই শোন ওখানেই থাকি।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ