অবক্ষয়ের আমি

পলাশ প্রধান
কবিতা
Bengali
অবক্ষয়ের আমি

অবক্ষয়ের আমি

অবক্ষয়ের এই যে আমি
ক্ষয়ে যাচ্ছি রোজ
সত্যি করে বলতো তুই
আমার রাখিস খোঁজ?
দিব্যিই আছিস সুখেই বেশ
ফেসবুকেতে দেখি
বেকারত্বের এই যে আমি
রাত্রি জেগে থাকি।
একাকীত্ব ভাগ করে নিই
রাতের চাঁদ তারায়
তখন তুই প্রেম সোহাগে
স্বামীর আদরবাসায়।
আমি আজও সিগারেট টেনে
তোরই কথা ভাবি
আমার কথা পড়বে তোর মনে
সেদিন দুঃখ ভীষন পাবি।
বিষন্নতায় কবিতা লিখি আজও
স্তবকে ভরে ভোরের স্নিগ্ধতা
শব্দ সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি নদী পাহাড়
হাত ধরে এই নির্জনতা।

 

বৃষ্টি নামে

এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল বাইরে….
ঝাপসা জানলার কাঁচ
আগের মতো বৃষ্টিতে ভিজি না আর…
এখন ঠান্ডার লাগার ধাঁচ।
তখন তোর আর আমার ক্লাস ইলেভেন….
প্রথম দেখা কেমিষ্ট্রি টিউশানে
একদিন এমনই এক তুমুল বৃষ্টির দিনে….
তোকে প্রপোজ স্কুল ক্যাটিনে।
মনে আছে তোর সেসব কথা?….
নাকি ভুলেই গেছিস সব
তোকে নিয়েই প্রথম লেখা …….
তোকে নিয়েই ছিল যত অনুভব।
এখনও আইসক্রিম চকললেট ভালোবাসিস?
এখনও সেই লাল রং?
এখনও তেমন বেনুনী আছে? খোপা বাঁধিস?
এখনও শুনিস স্যাড সং?
বৃষ্টি পড়লে জানিস মনে পড়ে তোকে খুব
তুই বলেছিলি ভুলে যেতে, পারিনি
যতবার তোকে ভুলে যেতে চাই ততবার বৃষ্টি নামে
কবিতা লিখি, তোকে ভুলিনি।।
সেই যা গেলি তারপর আর কোনো যোগাযোগ নেই
ফেসবুকে খুঁজেছি তোকে
শুনেছি বিয়ে করেছিস কলেজ পাশের পর
চাকরীওয়ালা স্বামী বিদেশে থাকে?
এখনও তোর পাহাড় ভালো লাগে? ঘুরতে যাস?
বর ছুটি পেলে?
এখনও তেমন ওড়ানি মাথায় দিয়ে ছাদে যাস?
ভিজতে বৃষ্টি পড়লে?
জানিস বৃষ্টি পড়লে আমার তোকে খুব মনে পড়ে,
তুই বলেছিলি ভুলে যেতে, পারিনি
যতবার তোকে ভুলে যেতে চাই ততবার বৃষ্টি নামে
কবিতা লিখি, তোকে ভুলিনি।।

চোরাবালি

গভীরতা মেপে চোরাবালি
আহ্নিকগতি পাল্টে ফেলি।
চাঁদের আড়ালে সূর্য লুকাই
জ্বলছি পুড়ছি হচ্ছি ছাই।
স্বপ্নগুলো লাশ হয়ে ফিরে
জোনাকি জ্বলে জাতিস্মরে।
বেড়ে যাওয়া জীবন ক্রমশ জটিল
ছায়াপথে খুঁজি হারানো অন্তমিল।
মুখোশ খুলে সবাই কেমন পাল্টে যায়
ভালোবাসা শব্দেরা লিখে রাখি কবিতায়।
রাতের গভীরে দীর্ঘশ্বাসে স্বপ্নের মুখাগ্নি
মহাকালের মহাকাব্যে শয়তানের ভবিষৎবাণী।

 

এসো গাছ লাগাই

রৌদ্রস্নাত তপ্ত দুপুর আগুন ঝরায়
হাসফাস প্রান অবিরত ঘাম বাঁচাই দায়
এসো হাত ধরি সকলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞায়
ঢাকবো এ ধরনি সবুজের শীতল ছায়ায়।
এসো বন্ধু লাগাই গাছ সবারে করো আহ্বান
ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়ে বাঁচাবো এ প্রান।
আমরাই পারি এনে দিতে আরাম বিকেল
বইবে আবার স্বস্তির শীতল হাওয়া মিঠেল।
পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকুক সবুজের সারি
গাছে গাছে পাখিরা গড়ে তুলুক তাদের বাড়ি
শুধু কবিতায় নয় সত্যি হোক এমন দৃশ্যরূপ
এসো লেগে পড়ি সময় যে আর নেই বেশি খুব।
ঐ দেখো ধ্বংস অদূরেই আছে দাঁড়িয়ে কাছে
এই বর্ষায় প্রকৃতি সেজে উঠুক সবুজ গাছে।

পলাশ প্রধান। কবি। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরে। পড়াশুনা রসায়নে স্নাতক।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

ফেরা

ফেরা

ফেরা অনেক দিন আসিনি তোমার চোখের কোণে, বুকের পাশে, নিঃশ্বাসের চারপাশে। ভেবো না আমি পথ…..