অবসেশন

সৈয়দ মাহমুদ
গল্প
Bengali
অবসেশন

ভোর না হতেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। রাতে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীরাকে নিয়ে লেখা কবিতা গুলো পড়ার পর থেকে আমার কিশোর মনটা নীরার প্রতি গভীর আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এখন পৌষের শীত, টিনের চালে গাছের পাতা বেয়ে কুয়াশার টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। শীতের কাপড় গায়ে জড়িয়ে নিঃশব্দে দরজা খুলে খালি পায়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়ীর বাইরে পা রাখতেই বিশাল মাঠ – দূর্বা ঘাসে ঢাকা। নরম ঘাসের আগায় জমে থাকা শিশিরের উপর আলতো পায়ে হাঁটছি- কী অদ্ভুত শিহরণ জাগছে! হাঁটতে হাঁটতে অন্য পাড়ায় চলে এসেছি। একটা বাগানে অসংখ্য গাছ, শিউলী গাছটার তলায় ঝরে আছে অজস্র শিউলী, যেন ফুলের চাঁদর বিছানো। অঞ্জলী ভরে তুলে ঘ্রাণ নিচ্ছি, হঠাৎ মনে হলো কেউ একজন বলছে,“ফুল গুলো আমায় দেবে?” চমকে উঠে চারিদিকে তাকাই, কোথাও কেউ নেই! কিন্তু আমিতো শুনেছি। আচ্ছা, নীরার কন্ঠ কি এমন ছিল? নীরাই কি লুকিয়ে আমার সাথে দুষ্টুমি করছে – এমনটা ভাবতে আমার ভীষণ ভাল লাগছে। দিনভর আমি এক রকম ঘোরের মধ্যে কাটালাম। আরও দুটো দিন কেটে গেল। স্বাভাবিক হতে পারছিনা, কি এক অস্থিরতা আমার ভেতরে কাজ করছে। মাঝে মাঝে শিহরণ অনুভব করছি। ভীষণ জানতে ইচ্ছে করছে সত্যি কেউ কি সেদিন আমায় প্রশ্ন করেছিল-কে সেই বালিকা? যে-ই হোক না কেন তাকে নীরা ভাবতেই আমার ভীষণ ভাল লাগছে।

তিনদিন পর ঠিক একই সময়ে সেই শিউলী তলায় যাই – যদি নীরার দেখা পাই। আধো অন্ধকার, নির্জন বাগান, মনে হয় এখানে কোথাও নীরা আছে। দুমুঠো ভরে শিউলী তুলে নিই- ঘ্রাণ নিতে থাকি বার বার, ধীরে ধীরে চারিদিকে তাকাই, কোথাও কেউ নেই। আমি অপেক্ষায় থাকি, কিন্তু নীরার কন্ঠ শোনা হয়না। চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে চলে আসি, কিছুই ভাল লাগেনা। আমি কি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছি? কেন এমন হচ্ছে! অনিদ্রা আমার সাথী হয়ে যায়। রাত ভর জেগে থাকি – নীরার কথা ভাবি, কেন দেখা পেলাম না? মনে মনে ভাবি আবারো যাব, যতদিন না নীরার সাথে দেখা হয় আমি প্রতিদিন যাবো।

শিল্পী: রিয়া দাস

আমার নিত্য আসা যাওয়ার মাঝে একদিন হঠাৎ নীরা আসে। না, তাকে আমি দেখি না, কন্ঠস্বর শুনি, “প্রতিদিন এখানে আসো কেন?” আমার শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়, আমি শিহরিত হই। ধীরে ধীরে চারিদিকে তাকাই- কোথাও কেউ নেই । তবে কি নীরা আসেনি, তবে কি এসবই আমার মনের ভুল ভাবনা! আমি অদৃশ্যের পানে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিই, “তুমি কে? আমি তোমাকে দেখতে চাই।” আমার কথাগুলো বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে আমারই কাছে। কিছুক্ষণ পরে ক্ষীণ কন্ঠে উত্তর আসে, “আমাকে দেখতে চাও কেন?” এ প্রশ্নের উত্তর দেবার ক্ষমতা আমার নেই। আমি বলি, “আমি জানিনা, কিন্তু তোমাকে দেখতে চাই। “নীরা বলে, “আমাকে তো এখানে দেখতে পাবে না, পূর্ণিমা রাতে নদীর ওপাড়ে কাঁশবনের শেষ প্রান্তে বকুল গাছের নীচে যেও।” আমি বিশ্বজয়ের আনন্দ নিয়ে ফিরে আসি।

দু’দিন পরে পূর্নিমা । দুটো দিন নয়, মনে হয় দু’হাজার বছর অতিক্রান্ত হলো। ভরা পূর্নিমা রাতে বেরিয়ে সোজা উত্তরে হাঁটতে শুরু করলাম-যেন পৃথিবীর দ্রূততম মানব আমি, নীরা যে আমার প্রতীক্ষায় আছে। নদীর উপর সরু ব্রীজটা পার হয়ে ডানে বাঁক নিলাম। দূরে ঝাউবন চোখে পড়লো, সেটাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলাম মেঠোপথে, সামনে বিশাল খোলা প্রান্তর, উপরে ভরা পূর্ণিমার চাঁদ। কোথাও কোন শব্দ নেই। দু’একটা রাতচোরা কিংবা ডাহুকের ডাক-কিছুই না। আমি হাঁটছি জ্যোৎস্নায়, আমার ছায়া আমার সাথী, নীরা কি আমার সাথে আছে!
হঠাৎ সামনে চোখে পড়ে দিগন্ত জোড়া সাদা কাঁশবন ফুলে ফুলে সাদা, উপরে জ্যোৎস্না হাসে, তার হাসির ঝলকে কাঁশবনের ফুলগুলো দোল খায়। একি কোন মায়ার খেলা নাকি প্রকৃতি। প্রকৃতি তাহলে এমনও হয়! মুগ্ধতায় আমার হৃদস্পন্দন থেমে যায়। জ্যোৎস্নার বৃষ্টি শুরু হয়, আমার সমস্ত শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে আলোর বৃষ্টি। জ্যোৎস্নায় অবগাহন শব্দটি তাহলে মিথ্যে নয়। অপরিসীম মুগ্ধতার মাঝে যুক্ত হয় ভিন্ন এক অনুসঙ্গ। আমি বকুলের ঘ্রাণ পাই। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে সেই ঘ্রাণ। দিগন্ত ছোঁয়া কাঁশবন, জ্যোৎস্নার ঝিলিক আর বকুলের ঘ্রাণ এই ত্রিমাত্রিক মুগ্ধতায় আমি হাঁপিয়ে উঠি। চলার গতি মন্থর হয়। কিন্তু নীরা তো অপেক্ষায় থাকবে বলেছে । নীরা, তুমি এ কোন মুগ্ধতা দিলে আমায়! আমার সকল ইন্দ্রিয় দিয়ে আমি এই মুগ্ধতার ছবি মনের গহীনে এঁকে রাখি।

বকুলের ঘ্রাণ অনুসরণ করে আমি আবারও দ্রুত হাঁটতে থাকি। ঐ তো বকুল গাছটা, আমি দ্রুত পা চালাই। ঘ্রাণ আরও তীব্রতর হয়। গাছের নীচে একটি আবছা ছায়া চোখে পড়ে। নিশ্চয়ই নীরা। দুরত্ব কমতে থাকে, ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে তার অবয়ব। এক ভয়ংকর সুন্দরী বালিকা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। তার ঠোঁটের কোনের এক চিলতে হাসিতে ঝরছে জ্যোৎস্না। কী মায়াবী চাহনী!  গোটা পৃথিবী যেন এই চাহনীর কাছে নিমিষেই অবনত মস্তক হয়ে যায়। নীরার শরীর থেকে যে সুগন্ধী বেরুচ্ছে তার সাথে বকুলের ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার হয়ে কী এক মাদকতায় ভাসিয়ে দিয়েছে সমগ্র চরাচর। মানবী কিংবা প্রকৃতির সুন্দরের যতগুলো উপমা আছে সবগুলোকে আমি নীরার পাশে স্থাপন করি একে একে, কিন্তু নীরার কাছে সবকিছু ম্লান হয়ে যায়। নীরা তার আপন সৌন্দর্যে অপ্রতিদ্বন্দী। আমার সমস্ত শরীর শিউরে ওঠে – রোমাঞ্চিত হই। কাঁপা কন্ঠে জানতে চাই, “কে তুমি?” নীরা বলে “আমি নীরা, তুমি যা ভেবেছ আমি সেই নীরা।” আমি বলি, “সেতো কবিতার নীরা – নিতান্তই বালিকা।” হেসে ওঠে নীরা, যেন এক ঝলক বিজলী চমকায়, বলে, “আমি সেই কবিতার নীরা, নিতান্তই বালিকা, তুমিও নিতান্তই বালক।” দুজনে হেসে ফেলি। নীরা বলে, “এই জায়গাটা তোমার কেমন লাগছে?” আমি বলি, “এই নিসর্গ আমাকে মাতাল করেছে নীরা, আমার মনের ক্যানভাসে অন্য কোন সুন্দরের ছবি আর কখনো স্থান পাবেনা, তোমাকে ধন্যবাদ এখানে আনার জন্য।” নীরা বলে, “ আমাকে একবার দেখতে চেয়েছিলে তাই এখানে নিয়ে এলাম, এবার আমাকে যেতে হবে।” আমার মাথায় যেন বাজ পড়লো। কি বলে নীরা-যেতে হবে! আমি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছি, নীরার মুখটা কিছুটা নিস্প্রভ হয়। আমি মরিয়া হয়ে বলি, “ নীরা তোমাকে একবার ছুঁয়ে দেখব।” নীরা বলে, “স্থির হয়ে দুহাত সামনে বাড়াও।” আমি তাই করি। নীরা তার কোমল দু’হাত আমার হাতের উপর রাখে। মুগ্ধতায় আমার দু’চোখ বুজে আসে, কয়েক মুহূর্তের জন্য সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। কিন্তু আমার সমগ্র সত্ত্বা জুড়ে নীরার যে স্পর্শ তা আমাকে সচেতন করে তোলে। আমি জাগ্রত হই। চোখ খুলে তাকাই। নীরা আমার সামনে নেই, আমার দু’হাত প্রসারিত, সেখানে নীরার স্পর্শ অনুভব করছি তখনও। এই হাত ছুঁয়েছে নীরার হাত। আমি চিৎকার করে বলি “এই হাত ছুঁয়েছে নীরার হাত।” নির্জন প্রান্তরে আমার কথা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে আকাশে বাতাসে। আবারো বলি, আবারো বলি। প্রতিধ্বনি শুনতে শুনতে বকুল গাছটার তলায় বসে পড়ি।

নীরার কন্ঠ ভেসে আসে, “বালক এবার বাড়ী ফিরে যাও।” সহসা আমার বাড়ির কথা মনে পড়ে যায়। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াই। মাথাটা কেমন যেন ভারী মনে হয়। নীরা আমাকে মাতাল বানিয়েছে যেন। নীরার স্পর্শ, তার শরীরের গন্ধ, বকুলের ঘ্রাণ সাথে করে সাদা কাঁশ ফুলের দোলা দেখতে দেখতে, ঝাউবনের পাশ দিয়ে মেঠো পথ বেয়ে হালকা কুয়াশা ঢাকা মাঝরাতে জ্যোৎস্নায় ভিজে ভিজে ভরা পূর্নিমায় ক্লান্ত পায়ে আমি বাড়ীর পথে পা বাড়াই।

(দুই)

বাড়ীর পথে পা বাড়ালেও সে রাতে আমি বাড়ী ফিরতে পারিনি। কুয়াশা ঢাকা চাঁদের আলোয় মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে কোথায় চলে গেছি বলতে পারিনা। কখনো কাঁশবন কখনো ঝাউবন ঘুরে ঘুরে একই পথে বার বার মাতালের মতো শুধু এলোমেলো হেঁটেছি, বাড়ীর পথ খুঁজে পাইনি। মাতাল করা জ্যোৎস্না আমায় পথ ভুলিয়ে দিল। অথচ সে যখন অদৃশ্য হতে চলেছে তখন আমি ঝাউবন পেরিয়ে নদীর উপর ব্রীজটা দেখতে পেলাম। বাড়ী ফিরতে প্রায় সকাল হলো। নিঃশব্দে দরজাটা খুলতে চেষ্টা করলেও খুট করে একটা আওয়াজ হলো। “খোকা ফিরলি?” আমার মায়ের আদুরে কন্ঠ। যেন তার ছেলে প্রতিদিনের মতো প্রাতঃভ্রমণ শেষে সুবোধ বালকের মতো বাড়ী ফিরলো। উত্তর দিতে পেরেছিলাম কিনা মনে নেই। কাটা কলা গাছের মতো বিছানায় আছড়ে পড়েছিলাম-এটুকু মনে আছে। কপালে মায়ের হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গে,“রাতে ঘুমোসনি?” চোখ খুলে দেখি বেলা অনেক হয়েছে। কিন্তু আমি বিছানা ছাড়তে পারছিনা। রাতের সমস্ত ঘটনা আমার জগৎটাকে এলোমেলো করে দেয়। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবনার মাঝে ডুবতে ডুবতে আমার দিন কেটে যায়। নীরা কি সেখানে এসেছিল- নাকি সবই আমার অবচেতন মনের কল্পনা? না এলে নীরার হাতের স্পর্শ কী করে পেলাম! এইতো এখনো আমার দুহাতে নীরার স্পর্শ থেকে থেকে আলতো ছুঁয়ে যাচ্ছে।

অন্যরকম এক ভাল লাগায় উদ্বেলিত হয় আমার প্রতিটা প্রহর। নীরাকে খুঁজে পেতে মনের ভেতর এক রকম অস্থিরতা অনুভব করি। নীরা কি এই শহরে আছে? নীরা কি এক গাদা বই বুকে চেপে বেনী দুলিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়, নাকি আমার আসা যাওয়ার পথে বারান্দা কিংবা ছাদের উপর থেকে আমায় দেখে? চলতি পথে তেমন কাউকে মনে হলেই তাকিয়ে দেখি, নীরা কি? রেলগাড়ী জোরে সিটি দিয়ে যখন আমাকে অতিক্রম করে আমি তখন জানালায় তাকিয়ে দেখি-নীরা কি হাত নেড়ে চলে গেল? ধাবমান রেল গাড়ীটার পানে তাকিয়ে থাকি যতক্ষণ দৃষ্টির আড়াল না হয়। বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যায়, নীরা কি এভাবেই আমাকে ছেড়ে চলে যাবে কোনো এক দিন, আর আমি তার চলে যাওয়া পথের দিকে অনন্তকাল তাকিয়ে থাকব?

রোজ বিকেলে অস্থিরতা আমাকে গ্রাস করে। নদীর তীর ধরে হেঁটে চলে যাই বহুদূর, যেখানে এক দিনমজুর গাছ তলায় বসে প্রতিদিন বাঁশি বাজায়। নাম তার সোনা মিয়া। আমি মুগ্ধ হয়ে তার পাশে বসে একের পর এক সুর শুনে যাই। বাঁশির সুরে এত কান্না কেন? সোনা মিয়া তাড়া দেয়,“ ছোট মিয়া বাড়ী যান, সন্ধ্যা গত হইচে।” নীড়ে ফেরা পাখিদের মতো আমি বাড়ী ফিরি। কিন্তু পাখিরা তো কল-কাকলিতে মুখর হয়ে নীড়ে ফেরে, আর অমি এক বুক নিঃসঙ্গতা নিয়ে ফিরে আসি একা।

দিন ফুরোয়, রাতও ফুরিয়ে যায়। নির্ঘুম জেগে থাকা রাতে নীরাতে আকণ্ঠ নিমগ্ন আমি, সময় চলতে থাকে সময়ের পথে। একদিন সোনা মিয়াকে বলি,“আমার সাথে যাবে এক জায়গায়?” “কোথায়” সোনা মিয়া জানতে চায়। আমি বলি, “কাল পূর্ণিমা, সন্ধায় নদীর পারে ব্রীজটার কাছে এসো, বাঁশিটা সাথে নিও।” সোনা মিয়া সম্মতি দেয়। পরদিন সোনা মিয়াকে সাথে নিয়ে আমি সেই জায়গাটায় যাই। ঝাউ বনের পর খোলা প্রান্তর, তার পর কাঁশ বন শেষে বকুল তলা। পূর্ণিমার চাঁদটা জোছনা ছড়াচ্ছে কিন্তু সেদিনের সেই ঔজ্বলতা নেই কেন! কাঁশ বন দুলছে হাওয়ায়, বকুলের গন্ধ আছে কিন্তু নীরার শরীরের ঘ্রাণ পাই না। সোনা মিয়া অবাক হয়ে বলে,“ ছোট মিয়া তুমি এই জায়গায় আমারে আনলা কেন?” আমি বলি ,“তুমি বাঁশি বাজাও। সোনা মিয়া একের পর এক সুর তুলে যায়। সুরের মূর্ছ্নায় আমি ডুবে যাই অতলান্ত নীরা হীন নীরার সাগরে। বাঁশি কি সোনা মিয়া বাজায়-নাকি চৌরাশিয়া! সুরের এই মাতম আমার ভেতরে অদ্ভুত এক শিহরণ জাগায়। আমি সোনা মিয়ার পাশে শুয়ে পড়ি-জোছনায় নিবদ্ধ দৃষ্টি। ভেতরে তোলপাড় হচ্ছে, আমি আমাকে ভাংছি, ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করছি, তার পর অথৈ জলে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে চিৎকার করে নীরাকে ডাকছি-নীরা, তুমি কি আসবেনা? বাঁশি থামিয়ে সোনা মিয়া প্রশ্ন করে,“ছোট মিয়া, কারে ডাকেন?” আমি বলি,“ কিছু নয়।” আমার সুস্থতা নিয়ে হয়ত তার সন্দেহ জাগে, কপালে হাত ঠেকিয়ে উত্তাপ পরীক্ষা করে। তার পর ঈষৎ সন্দিগ্ধ হয়ে বলে,“চলেন বাড়ী যাই।” সুরের যাদুকরের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করবার ক্ষমতা আমার হয়না। আমি তাকে অনুসরণ করি, নীরাকে ফেলে যাবার কষ্ট বুকে চেপে আমাকে যেতে হয়। সোনা মিয়া আমাকে বাড়ী অব্দি এগিয়ে দিয়ে যায়।

রুদ্র বৈশাখ এলেই কৃষ্ণচূড়ার লালে লালে ছেয়ে যায় শহরতলীর বাঁধ। পুরো বেষ্টনী জুড়ে শুধুই কৃষ্ণচূড়া-আবির ছড়ানো লালের সমাহার। দূরন্ত বৈশাখ আর জৈষ্ঠের খরতাপের মধ্যে আমি অবিরাম হেঁটে যাই সেই বাঁধের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আর লালের মাঝে নীরাকে খুঁজে ফিরি। প্রতিটা ফুলেই লেগে আছে নীরার রক্তিম ঠোঁটের মৃদু হাসির ছোঁয়া। আমি মুগ্ধ হয়ে সে হাসি অনুসরণ করে নীরাকে খুঁজে ফিরি।

এভাবেই চলে যায় দিন-মাস-বছর। আমার কাছে কোন হিসেব নেই কতটা দিন অতিবাহিত হলো। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে সময় ঠিকই চলে যায়। আসে আষাঢ়ের মেঘ-শ্রাবণের ঢল। কোন কোন মাঝ রাতে খুব ঘন বৃষ্টি হয়। আমি তখন জানালা খুলে জলের পতন দেখি। অবিরল জল ধারার মাঝে নীরার রিনি ঝিনি নুপুরের শব্দ শুনি, জলের শব্দে নীরাকে খুঁজি অথচ কী আশ্চর্য নীরাতো আমার চোখের সামনেই বাগানের কদম গাছটার নীচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে! তার দুহাত আকাশের পানে, মুখ উচু করে বর্ষার জলে স্নানের পর স্নান করে চলেছে। এই জমাট অন্ধকারেও আমি স্পষ্ট দেখতে পাই নীরার শরীর শীতে কাঁপছে, ঠান্ডায় ওর গোলাপী ঠোঁট জোড়া কালো হয়ে গেছে, তবু তার জল থেকে উঠবার কোন তাড়া নেই। আমি শব্দ করে বলি,“ উঠে এসো নীরা নইলে নির্ঘাৎ জ্বর বাঁধিয়ে বসবে।” কিন্তু নীরা কর্নপাত করেনা, ওর মৃদু হাসিতে বার বার বিজলী চমকায়। দূরে কোথাও বাজ পড়ে, আমি নীরার জন্য আতঙ্কিত হই। বৃষ্টি থেমে গেলে নীরা আমার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে চলে যায়। আমি সারা রাত ঠায় দাড়িয়ে থাকি।

সময়ের চাকা বুঝি অনেক গড়িয়েছে। এ শহর ছেড়ে আমার চলে যাবার ডাক আসে। যেতে হবে ভিন্ন এক দূরের নগরে। কিন্তু নীরাকে ছেড়ে-এই চির চেনা প্রকৃতির শহর ছেড়ে আমি কী করে যাব? ভেতরটাকে আবার ভাংতে শুরু করি, ভেঙ্গে ভেঙ্গে চুরমার হই-যেতে তো হবেই। যাবার তারিখটা পিছিয়ে দেই, সামনে পূর্ণিমা-আমি কি নীরাকে না দেখেই চলে যাব! ভরা পূর্ণিমা রাতে নদীর উপর ব্রীজটা পার হয়ে ঝাউ বনের পাশ দিয়ে আমি এগিয়ে যাই। আকাশে ছেড়া ছেড়া শরতের সাদা মেঘ উড়ে যায়। চাঁদটা একবার মেঘের আড়ালে ঢেকে যায় আবার বেরিয়ে আসে-যেন আমার সাথে লুকোচুরি খেলছে নীরা। মেঠো পথ ধরে আমি সেই খেলা দেখতে দেখতে কাঁশ বনে চলে যাই। বকুল গাছটা নীরার স্মৃতি নিয়ে নিথর দাঁড়িয়ে আছে। থেকে থেকে মৃদু হাওয়া বইছে। বাতাসের সাথে আমার চিৎকার কিংবা বোবা কান্না ভেসে চলে বহুদূর,“আমি চলে যাচ্ছি নীরা, অপেক্ষায় থেকো-আমি আবার ফিরে আসবো, আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো।”

পরদিন সকালের ট্রেনটা আমাকে নিয়ে ছুটতে থাকে। নীরা কি জানালায় দাঁড়িয়ে আমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে? নীরার ডাগর কলো চোখের করুণ দৃষ্টি আমার পিঠে আছড়ে পড়ছে বার বার। আমি এই চলে যাওয়া সইতে পারছিনা নীরা। আমার দুচেখে প্লাবণ। যন্ত্রদানব আমার বুকের পাঁজর ভেঙ্গে চিৎকার করতে করতে ধু ধু প্রান্তর বেয়ে অবিরাম ছুটতে থাকে।

(তিন)

ইট কাঠের এই পোড়া শহর আমার ভাল লাগেনা-যেখানে প্রকৃতির কোন ছোঁয়া নেই। আমার স্মৃতির ভেতর কৃষ্ণচুড়ার লালের যে দোলা, কাঁশ ফুলের নরম ছোঁয়া কিংবা মাতাল করা বকুলের ঘ্রাণ-এসব আমি কোথায় পাবো? নীরা হীন এই শহর আমার কাছে ধুধু মরু প্রান্তরের মত মনে হতে থাকে। সন্ধ্যারাতেই লোড শেডিংটা শুরু হলো। অন্ধকারে সিঁড়ি হাতড়ে খোলা ছাদে উঠে যাই। এখন শ্রাবণ মাস, জোছনা বিলায়না আলো। জমাট মেঘের আড়ালে ক’টা মৃতপ্রায় নক্ষত্র জেগে আছে। আমার সুনীলের কবিতা মনে পড়ে যায়ঃ

কখনো কখনো আকাশের দিকে তাকালে চোখে পড়ে
নক্ষত্রের মৃত্যু
মনের মধ্যে একটা শিহরণ হয়
চোখ নেমে আসে ভূ-প্রকৃতির কাছে;
সেই সব মূহুর্তে, নীরা, মনে হয়
নশ্বরতার বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধে নেমে পড়ি
তোমার বাদামী মুষ্টিতে গুঁজে দেই স্বর্গের পতাকা
পৃথিবীময় ঘোষণা করে দিই, তোমার চিবুকে
ঐ অলৌকিক আলো
চিরকাল থমকে থাকবে!

খোলা ছাদটাতে শুয়ে থাকি, সময় গড়িয়ে যায়। নক্ষত্র গুলো ডুবে গেছে অনেক আগেই। ঘন মেঘের আচ্ছাদন তৈরি হয় ধীরে ধীরে, তার পর নেমে আসে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। আমি সেই জলধারার মধ্যে নিজেকে সঁপে দেই। এত জল- সেকি আমারই অশ্রুধারা!

কতগুলো বছর চলে গেল নীরাকে দেখিনা। নীরা কি এখনো আগের মতোই আছে নাকি নীরা এখন যুবতী নীরা অথবা নারী। নীরা এবং নারী কী চমৎকার অন্ত মিল দুটো শব্দে! নীরা নিশ্চয়ই এখন আর সেদিনের বালিকাটি নেই। সে হয়ত এখন এক পরিপূর্ণ নারী, যাকে সব কিছু লিখা যায়। হঠাৎ লিখবার কথা মাথায় আসে। প্রতি রাতেই আমি নীরাকে লিখতে বসে যাই। নীরার স্পর্শের অনুভুতির কথা লিখি, মুগ্ধতার কথা লিখি, তাকে ছেড়ে চলে আসার সীমাহীন কষ্টের কথা লিখি। আমার বোধের কথা-চেতনার কথা, সংগ্রাম মুখর উত্তাল দিনগুলোর কথা লিখতে লিখতে রাত ভোর হয়ে যায়। রাত জেগে কবিতা শোনার রোমাঞ্চের কথা-সংগীতের কথা, কোন কিছুই বাকী থাকেনা লেখায়। সব শেষে নীরাকে না দেখার কষ্টের কথা-জ্বলন্ত কাঠ হয়ে দগ্ধ হবার কথা লিখি। একগুচ্ছ চিঠি খামে ভরে উপরে লিখিঃ

নীরা

ঠিকানাঃ কাঁশ বনের শেষ প্রান্তের বকুল তলা।

আমি জানি এই চিঠি নীরা কোনো দিনও পাবে না, তার পরও আমার ভীষণ ভাল লাগে নীরাকে লিখেছি বলে, এই আনন্দেই কেটে যায় ক’টা দিন। একদিন ঘরে ফিরে ভীষণ অবাক হয়ে দেখি আমার টেবিলের উপরে একটা নীল খাম পড়ে আছে। কার চিঠি? এই তো খামের উপর আমার নাম লেখা। দুরু দরু বুকে সযত্নে খামটা খুলে পড়তে থাকিঃ
“সময় চলে গেছে অনেক কিন্তু তোমার স্পর্শ ভুলিনি, তোমার নিঃশ্বাসের শব্দ ভুলিনি, তোমার চলে যাওয়ার কষ্টের কথা ভুলিনি। বিস্মৃতির অতলান্তে নিজেকে ডুবিয়ে দিইনি বলে অথবা তুমি ডুবে যাওনি বলে, নীরার জন্য তোমার প্রতীক্ষা অনাদিকালের নয়। আমি আছি এ শহরেই।”

নীরার চিঠি! নীরা এ শহরেই আছে, কবে এলো? আমার শরীর কেঁপে কেঁপে ওঠে, আমার বীণার তারে ঝংকার ওঠে। ফুল ভলিউমে ক্যাসেট প্লেয়ার ছেড়ে দিই, বেজে ওঠে রবীন্দ্র সংগীতঃ

মোর বীনা ওঠে কোন সুরে বাজি
কোন নব চঞ্চল ছন্দে
মম অন্তর কম্পিত আজি
নিখিলের হৃদয় স্পন্দে
আসে কোন তরুন অশান্ত
উড়ে বসনাঞ্চল প্রান্ত
আলোকের নৃত্যে বনান্ত
মুখরিত অধীর আনন্দে…

বিছানার পাশে বিশাল জানালাটা খুলে পুরো আকাশটা নিজের করে সারা রাত কাটিয়ে দেই। রবীন্দ্র সংগীত বেজেই চলে একের পর এক। গোটা পৃথিবী জানুক নীরা এসেছে এই শহরে-নীরার জন্য আমার প্রতীক্ষা অনাদিকালের নয়।

একদিন হঠাৎ নীরার কন্ঠস্বরে সচকিত হয়ে উঠি। মিছিলে আমারই শ্লোগানের জবাব দিচ্ছে নীরা! নীরা কি? ভাল করে দেখার চেষ্টা করি, ঐ তো নীরা আমার দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছে। নারীদের সারিতে অনেকের মাঝে মিশে আছে নীরা। সেখানে এগিয়ে যাওয়াটা শোভন নয় তাই নিজেকে সামলিয়ে রাখি। নীরাতো এসেছেই- ভয় কী আমার! তার পরও এতগুলো বছর পর নীরা এসে দূরত্ব বজায় রেখে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে তা মেনে নিতে আমার কষ্ট হয়। নীরা আমাকে শুনিয়ে বলে,“আগামী মিছিলে এসো, শ্লোগানে শ্লোগানে হবে কথোপকথন।”

এর পর থেকে নীরা প্রতিটা মিছিলে এসেছে, দূর থেকে দেখেছি। একুশের প্রভাত ফেরীতেও নীরা ছিল শহীদ মিনারে। বই মেলার ভীরে কিংবা বৈশাখের উৎসবে আমাকে দেখে নীরা শুধু দূর থেকে হাত নেড়েছে। কবিতা উৎসবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নীরাকে দেখেছি শ্রোতাদের মাঝে তন্ময় হয়ে কবিতা শুনতে। এ শহরেই নীরা এখন – এটা নীরারই শহর, আমার ভাবতে ভাল লাগে। ধীরে ধীরে আমি এই শহরটাকে ভালবাসতে শুরু করি।

পর পর তিনটি রাত আমি স্বপ্নে নীরাকে দেখলাম। একই স্বপ্ন পর পর তিন রাত। নীল শাড়িতে আবৃত নীরা সাগরের জলে, এলো চুল, নীল টিপ, হাওয়ায় উড়ছে আঁচল। ঢেউ এর তরঙ্গে দুলছে নীরা। দূর আকাশের নক্ষত্রগুলো তাকে ডাকছে-নীরা কি ঢেউয়ের উপর দিয়ে নির্ভয়ে হেটে চলে যাচ্ছে? ঘুম ভাঙ্গার পর ভিন্ন এক ভাললাগায়-মুগ্ধতায় ঘোর লেগে যায় আমার। আবার সাথে সাথেই মন খারাপ হয়ে যায়, এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করে-নীরা কি তবে চলে গেল? হঠাৎই মনে হলো নীরার চিঠি-সেও কি আমার অবচেতন মনেরই কল্পনা! হয়তবা তাই। এর পর নীরাকে আর কোথাও দেখা গেল না বহুদিন।

ক’দিন থেকেই আমার ভীষণ জলের কাছে যেতে ইচ্ছে করছে। হিসেব করে দেখি পূর্ণিমা আরও দুদিন পর। কিন্তু আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিনা। রাতের প্রথম প্রহরেই চলে যাই বুড়ীগঙ্গার তীরে-ভাড়াটে নৌকো খুঁজি। মাঝি জানতে চায়,“কোথায় যাবেন?” আমি বলি,“মাঝ দরিয়ায়।” সে আবার জানতে চায়,“কতক্ষণ থাকবেন?” আমি বলি যতক্ষণ ভাল লাগে।” সে রাজী হয়ে যায়। আমি নৌকায় উঠে বসি, ছৈ বিহীন খোলা নৌকা। মাঝ নদীতে ভাসছি। উপরে খোলা আকাশ-হাজারো নক্ষত্র আর পূর্ণিমার আগের চাঁদ। আমি নক্ষত্রের পানে তাকিয়ে শুয়ে পড়ি। মাঝিকে বলি,“তোমার নাম কী?” “হাশেম আলী স্যার।” “আচ্ছা হাশেম আলী তুমি কি গান গাইতে পার?” সে সংকোচে বলে,“না স্যার।” “তোমার কাছে বাঁশী আছে?” “না স্যার।” এবার হাশেম আলী আমাকে প্রশ্ন করে,“ স্যারের কি খুব মন খারাপ?” আমার মনের ভেতরে যে কোন মহাসাগরের উত্তাল তরঙ্গ তা তোমাকে কি করে বোঝাবো হাশেম আলী! আমি নিশ্চুপ থাকি।

আমার সোনা মিয়ার কথা মনে পড়ে যায়, সুরের যাদুকর সোনা মিয়া, একবার যদি এখানে তাকে পেতাম! সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায়-সোনা মিয়া আমাকে বাড়ী পৌঁছে দিয়েছিল। সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায়-নীরা আমাকে স্পর্শ করেছিল। সেই নিসর্গের কথা মনে পড়ে যায়- জোছনার বৃষ্টি, কাঁশ বনের দোলা, বকুলের গন্ধ, নীরার শরীরের ঘ্রাণ। ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে, শুধু মৃদু স্রোতের কুলু কূলু ধ্বনি শোনা যায়। চারিদিক নিস্তব্ধ। আচ্ছা, আমি কি দূরে কোথাও ভেসে যাব-নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে, অথবা আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে? যদি আর কখনো ফিরে না আসি! আমি বুঝতে পারি জীবনানন্দ দাশ আমাকে আচ্ছন্ন করে আছেনঃ

তোমার সৌন্দর্য চোখে নিয়ে আমি চ’লে যাবো পৃথিবী থেকে;
রূপ ছেনে তখনো হৃদয়ে কোনো আসে নাই ক্লান্তি-অবসাদ,
তখনো সবুজ এই পৃথিবীরে ভালো লাগে-ভালো লাগে চাঁদ
এই সূর্য নক্ষত্রেরা ডালপালা;-তখনো তোমারে কাছে ডেকে
মনে হয় যেন শান্ত মালয়ের সমূদ্রের পেল পাখি-
————————-

চ’লে যাবো তাই মুখ ঢেকে
তোমার সৌন্দর্য চোখে নিয়ে আমি চ’লে যাবো পৃথিবী থেকে।

আমার ভীষণ কষ্ট হতে থাকে – বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট দীর্ঘ আর্তনাদ হয়ে বেরিয়ে আসে। আমি কি সত্যিই দূরে কোথাও চলে যাচ্ছি! এর পর জীবনানন্দ কেন লিখলেনঃ

বেঁচে থেকে হয়ত হৃদয় ক্লান্ত হবে, তাই সব থেকে স’রে
যখন ঘুমাব আমি মাটি ঘাসে – সেইখানে একদিন এসে
হয়ত অজ্ঞানে তুমি মাথা নেড়ে বলিবে; ‘আমারে ভালবেসে
ব্যথা পেলে; আমি আজো ভাল আছি-তবুও গিয়েছে, আহা ঝ’রে
সেই প্রাণ’ – হয়ত ভাবিবে এই – তবু একবার চুপ ক’রে
ভেবে দেখো সে কী ছিল – একদিন পৃথিবীতে তোমার আবেশে
যখন আমার মন ভ’রে ছিল, মনে হত, চলিতেছি ভেসে
জ্যোৎস্নার নদীতে এক রাজহাঁস রুপোলী ঢেউয়ের পথ ধ’রে।

সৈয়দ মাহমুদ। কবি ও গল্পকার। উত্তর জনপদের এক ছোট শহর গাইবান্ধায় জন্ম মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে। ছোট বেলা থেকেই কিছুটা বোহেমিয়ান সৈয়দ মাহমুদ বেড়ে ওঠেন অনেকটা রক্ষণশীল পরিবারে। শৈশব থেকেই প্রকৃতি তাকে টানতো। বিরাণ প্রান্তরে, সারি সারি বৃক্ষের ছায়ায় হাঁটতে কিংবা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..