অভ্যাস

তপনকান্তি মুখার্জি
কবিতা
Bengali
অভ্যাস

অভ্যাস

বুঝতে পারিনি অভ্যাসটা কেমন করে রপ্ত হলো।
মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেখি,সবকিছু কেমন
সহ্য করার অভ্যাস জন্মে গেছে। যৌবনে
সারাদিনই ছিল সারাবেলা, এখন সারাদিনই
বেলাশেষের খেলা। মাথা গলাতে গেলেই
কাঁটাতারের আঁচড়। আধো জাগরণ আধো
তন্দ্রায় রাত ভাঙি, মাঝে মাঝে জানালা খুলে
আকাশের দিকে চেয়ে থাকি, পায়চারি করি-
সব সয়ে গেছে। শুধু আকাশে তারাদের
সংখ্যাবৃদ্ধির ব্যাপারটা এখনও সহ্য হলো না।
আমার তারা হওয়ার দিন আসন্ন কীনা ।

দুয়ে চন্দ্র

আকাশের চাঁদকে সাক্ষী রেখে ঘরের চাঁদকে বরণ করেছিলাম সাদরে। দুই চাঁদের লুকোচুরি খেলায় স্বর্গ নামতো ঘরে। একদিন রাহু গিলল আকাশের চাঁদ, নির্জন মাটির ঘরের চাঁদও হয়ে গেল চুরি। এখন বুকের ভিতর চাঁদকে ঘুম পাড়াই প্রতিরাতে। আকাশ থেকে চাঁদ সব দেখে। অভিমানের রং নিয়ে ঘরে ঘরে জ্যোৎস্না বিলিয়ে সে বাড়ি ফেরে। একরাশ হতাশা নিয়ে আমি জাগি, কান্না বুকে চাঁদ ঘুমোয় চাঁদবুড়ির কোলে। কষ্ট, বড়ো কষ্ট, জীবনের সব হিসেব মিলানো।

 

আগমন

জেলখানার পেটাঘড়িতে রাত বারোটার ঘন্টা বাজল। আমার মাথাতেও ঘন্টার পিটুনি। উপন্যাসের নায়ক- নায়িকাকে কিছুতেই ঠিকমতো কলমের ডগায় আনতে পারছি না। তারা কখনও ডুবে যাচ্ছে ঝরাপাতার নীচে, কখনও বা পরিণত হচ্ছে পাথরে। বৃষ্টি শেষ হয়ে আকাশে চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। কলম ফেলে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। মুখে সিগারেট নিয়ে ধরাতে যেতেই দেশলাইকাঠির আলোয় চোখে পড়ল, এক পুরুষ আর এক নারী আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। পাশের কৃষ্ণচূড়াগাছ থেকে দু- একটা পাতা ঝরে পড়ছে যুগলমূর্তির ওপর। আমি আর চাঁদ ছাড়া তৃতীয় কোনও সাক্ষী নেই। টেবিলে ফিরে এলাম। কলমের ডগায় নাচছে নায়ক- নায়িকা।

 

বন্ধ্যা

যে জীবন শুয়ে আছে শেষ ডাকের প্রতীক্ষায়, সেটা আসলে টুকরো টুকরো স্মৃতির কোলাজ। তার পরনে গোধূলির রোদ, গলায় বিষণ্ন ঘুঘুপাখি, চোখে ছানিপড়া অশ্রু। আলো হারিয়ে গেছে নীরবে, এখন শুধু অন্ধকারের খেলা। এ আঁধারের কোনও সীমারেখা নেই, প্রতীক্ষার কোনও প্রহর নেই। চোখ খুললে চোখ জ্বলে, চোখ গলে বৃষ্টি হয়ে। রোদ্দুর নেই, এ বৃষ্টি শুকাবে কোথায় ?

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তৃষ্ণা

প্রাচীন সভ্যতা নিমগাছের ডালে বসে থাকা কাকের কন্ঠস্বর চিরে বেরিয়ে আসছে বুভুক্ষু পৃথিবীর আর্তনাদ মহেঞ্জোদাড়ো…..