অসমাপ্ত পথগুলি

ইসরাত জাহান
কবিতা
Bengali
অসমাপ্ত পথগুলি

অসমাপ্ত পথগুলি

আমাকে ছেড়ে গেছ
সাতশ একান্ন বছর হলো,
সেটা কি আমার সশ্রম কারাদণ্ড নয়?
তোমাকে ভেবে আমার পথগুলির নাম হয়েছিল অসমাপ্ত!
নিজেকে দিয়েছিলাম সশ্রম কারাদণ্ড।
গোপনে অনশন করেছি রোজ,
হৃদয়কে বানিয়েছিলাম প্রতিবন্ধী শামুক।
সাতশ একান্ন বছরের কারাদণ্ড নির্বিকার চিত্তে মাথা পেতে নিয়ে পার করেছি।
তারপর,তুমি ফিরেছ।
বলেছ,
আমার মতো করে কেউ তোমায় ভালোবাসেনি।
ও তাই বুঝি??
কিন্তু আমার যে সশ্রম কারাদণ্ড শেষ হল!
এখন আমি ভাসা ভাসা
মেঘের শীতল পাটিতে
একাকি শয্যা পেতে বৃষ্টির
গান শুনব।
দেখব নয়নাভিরাম পৃথিবীর
সৌন্দর্য,
ফিরব শ্রাবণ নদীর সুখে।
তুমি নামক তোমার বুকে হলুদ নদীর তীরে,
শৈবাল হয়ে বাঁচতে ও আর স্বাদ জাগে না মনে।
এখন আমার প্রাণে সুখ খেলে মায়া মায়া খেলা।
বলতেই পারো!!
মায়া কি কাটানো যায়?
যায় না তো!
দরকার নেই তো মায়া কাটানোর;
মায়া থাক মায়ায় পড়ে,
আমিই এগোবো মায়া ছেড়ে।
জীবন যদি আমাকে কাঁদানোর
দেখায় হাজার কারণ,
জীবনকে দেব বুঝিয়ে খুব
হাসির জন্য আছে আমার
হাজার উপায় হাজার ভালোথাকা।
যে তোমার জন্য তোমায় ভেবে আমার পথগুলির নাম হলো অসমাপ্ত।
সেই তোমাকে আজ রেখে গেলাম
তোমায় করে সমাপ্ত।

ফেরালো যে আকাশের রঙ

খুব ভালোবেসেছি তাকে,
হতাশার কালো মেঘে যখন আমার আকাশ রঙ হারিয়ে বিবর্ণ!
তখন সে এসেছিল,
ফিরিয়েছিল আমার আকাশের
নিজস্ব রঙ।
তারপর একে একে আমার আকাশে আবার হেসেছিল সূর্য,
ঝলকে ঝলকে চাঁদ লজ্জা পেয়ে বলেছিল আমি আছিতো!
হাজার তারার বৃষ্টি নেমে নেচে ছিল মন নুপুরের ছন্দ তুলে।
আর যে আমার আকাশ
করল রঙিন,
মন করল তার মনে বিলীন,
সে রইলো কি আমার আকাশ জুড়ে?? আমার আকাশ রাঙিয়ে দিতে
যার এত আয়োজন, কত প্রয়োজন,
সে হারালো কোথায়?
কোন বহুদূরে?
কেনই বা হারালো সে?
আমাকে ভালোবেসে না নিজেকে মন্দবেসে?
তবু সে হারালে ও আমার আকাশ ফিরে পেল যে রঙ,
হারিয়ে গিয়ে ও তাই রয়ে গেল সে
চিরদিন চিরতরে।

 

বেলা শেষে

সূর্য নিভেছে কখন!
হারিয়েছে ঔজ্জ্বল্য রৌদ্র প্রখরতা,
ক্ষয়ে গেছে কত চিন্তা,কত রীতি,
কত চিহ্ন রেখা!
বদলে গেল জলঝিরি সে নদীর গতিপথ,
আমার মনে যার জন্ম।।
জোয়ার হল ভাঁটা,ভাঁটা হল জোয়ার,
জোয়ার ও গিয়েছে চলে
নদী হল চরপড়া বালুকা।
আমার হৃদয়ের ও বেলা বুঝি শেষ হয়ে!
অস্তরাগে সব আকাঙ্ক্ষার অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলে।
কে কবে এসেছিল!
কিংবা থেকেছিল;
অথবা চলে গিয়েছিল!
নক্ষত্র নয়তো আকাশের পথ ধরে।
ফুরিয়েছে সব লেনদেন
হারিয়েছে যত চেতন অবচেতন।
আমি তবুও আকাশ নক্ষত্রপুঞ্জি
পৃথিবীর পথে অস্থির হৃদয়ে খুঁজি
উড়ে উড়ে গাং শালিকের চোখে
এখনও আমার জলঝিরি নদীর হারানো গতিপথ,
হারানো সে জলঝিরি।

 

গল্পের মাঝখানে

মনে কি পড়ে আমাকে?
সকালের স্নিগ্ধ আলো
দরজা জানালার বাঁধ ভেঙে
তোমার চোখ ছুঁয়ে যায় যখন
দুষ্টু আহ্লাদে!!
ঘুম ঢুলঢুল চোখ চেয়ে থাকে কি
কল্পিত আমার মুখ পানে কল্লোলে?
কিংবা ঐ ঢেউ গোনা ঢেউয়ের তালে
জাহাজ ভাসে যখন একটু দুলে দুলে,
দূরের ঐ গাঙচিলের উড়তে থাকা
ডানায় ডানায় খোঁজ কি
আমার চুলের গন্ধ আলতো ভাবনার করিডোরে?
অথবা সন্ধ্যার আকাশে
যখন ফিকে হয় গোধূলির রঙ
নিয়ন আলোর রোশনাই লেগে,,
হাজার ঝাড়বাতি ধাঁধিয়ে চোখ
মন কি খোঁজে আমায়
বুকের বাঁ পাশে হৃদপিন্ডের ধুকপুকানিতে?
নাকি অযথা ই যখন রাতের আঁধার
বিদীর্ণ করে
কাঁকড়ারা দল বেঁধে সৈকতের বালি মাখে,,
শামুক খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে আসে একটু একটু করে
ভাব কি তখন?
তোমার খোলশ ছেড়ে
আমাকেই চোখের জলে?
জানি তো আমি সব প্রশ্নের উত্তর,,
জানি আমি তোমাকে ও।
আমাকে ভোলা যাবেনা কোনদিন!
যাবেই বা কি করে?
তোমার গল্পের শুরুতে নেই আমি
ছিলাম গল্পের মাঝখানে।
মাঝখানেই হারিয়েছি দুজন দুজনকে খুব করে।
হারিয়ে গিয়েও রয়ে যাব দুজন
তোমার আমার গল্পের শেষটা জুড়ে।

ইসরাত জাহান। কবি। জন্ম বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী। বর্তমান নিবাস ঢাকায়। তেরোবছর বয়স থেকে লেখালিখি শুরু। লেখা শুরু করেছিলেন দৈনিক বাংলার বাণীর মাধ্যমে। তারপর দৈনিক আজকের কাগজে নিয়মিত লেখালিখিতে ছিলেন। এরপর হঠাৎ করে বারোবছর লেখালিখি থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন। প্রকাশিত বই: 'তোমার...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..