আত্মগোপন হতে শেষ অবধি

অজিতেশ নাগ
কবিতা
Bengali
আত্মগোপন হতে শেষ অবধি

আত্মগোপন

আমি আত্মগোপন করি সবকিছু সাধারনের পিছনে,
বিন্দু বিন্দু দিয়ে আঁকা প্রান্তের পিছনে,
প্রতিনিয়ত ঘুর্নায়মান চতুর্দোলা জেগে থাকে নানান হিসেব নিকেশে,
কখনো হারা, কখনো জিতে যাবার উন্মাদনা,
মেলার মাঠে গজিয়ে ওঠা ঘাসের পিছনে লুকোতে থাকি অনবরত,
একবিন্দুতে দাঁড়ালে অন্য কৌনিক দুরত্ব ইশারায় ডাকে আমায়,
সব বিন্দুকে এক জায়গায় আনা যাবে না; তাই,
লুকিয়ে ফেলছি নিজেকে ভয়াবহ জ্যোৎস্নার আড়ালে,
ছুঁতে পারছে না কোন বাস্তবতাই,
জগতের অনেক পোকামাকড়কেই তো দেখা যায়না দিনের আলোয়,
তারা থাকে রাতের চাঁদের নিচে।
আমিও একটা একটা বিন্দু সঞ্চয় করে তলিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারে;
আরো একটা অন্ধকারকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে।

ঘাম স্বপ্ন শিশির

কাল ভোররাতে একটা স্বপ্ন নেমে এল;
মেঘ ডিঙিয়ে রামধনু ছুঁয়ে বেনাঘাসের ওপরে।
আমি যতক্ষণে পৌঁছাই খিড়কির দরজা পেরিয়ে,
সকালের শিশির বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলেছে স্বপ্নের সাথে,
আমি বরাবরই দেরি করে ফেলি; হয় ঘুম, নয় দাঁতমাজা জীবন থেকে,
আমি হিংসেয় জ্বলে পুড়ে যাই; আর চেয়ে দেখি সতৃষ্ণ চোখে,
আমার ঘরোয়া শিশির আর মেঘ পেরোনো স্বপ্ন –
এক দারুন মিতালির গল্প বানায়; স্তম্ভিত চুম্বন।
অনেক ক্রোধ,
অনেক রাত জাগা,
অনেক আত্মসমালোচনা,
অনেক বৌঘাঁটা হাত,
অনেক বেদনা, পুরুষত্ব, ঘাম, শান্তি, স্বস্তি……
সব ভুলিয়ে দিতে শিশির মিশে যায় তুলোঘাসে;
স্বপ্ন মিশে যায় দূর্বামূলে।
আমার আর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাধ জাগে না।

প্রবৃত্তি

মানুষ বলতে আপনি কী বোঝেন?
মুখ, মাথা, পায়ের পাতা, আত্মদ্রোহিতা?
একবার মানুষের মুখে স্বতঃস্ফুর্ততা ডেকে আনুন,
চোখের জলে ঝাপসা করুন, উপহার দিন রুঢ় বাস্তব।
মানুষ বলতে জেনে নিন অব্যর্থ তীরন্দাজী,
নুন-ঘামে ভিজে আদিম যোনি ভেঙে নামান বৃষ্টি।
কথা হারিয়েছে ভাগ্যের বার্ধক্য, পথ শরীর হয় রক্তশীল।
মানুষ বলতে আপনি যা বোঝেন, কুকুর বলতেও কি তাই?
জানি বলবেন – না। তবু কেন জানি না;
কুকুর প্রবৃত্তি ঝলসে দেয় পুরুষ-নারী সম্পর্ক;
গড়ে নিজের মত করে এক এক বিচ্ছিন্ন প্রলুব্ধ সভ্যতা।

শেষ অবধি

শেষ অবধি সকাল হয়েই গেল,
এতক্ষণ তিস্তাপাড় উপুড় হয়ে শুয়েছিল,
চা-বাগানের এক একটা কুঁড়ি-পাতা ঝিমিয়ে ছিল,
বানারহাটের দিকে শেষ বাসটার চাকায় উড়েছিল দিনের শেষ ধুলো,
শেডট্রিগুলো মেলেছিল নির্বাক কথামালা,
ঝুমরি বস্তির সবকটা ঘর,
চাঁদের পাহাড় ঝাঁট দেওয়া সব ক’টা নরম নারী,
কাল শেষ রাতে হাড়িয়া সাক্ষী ছিল যে মাতনের,

আজ তারা সবাই জেগে উঠছে,
সবাই ফিরে আসতে চাইছে কমনীয় স্বাভাবিক ছন্দে,
আমি কিছুতেই আটকাতে পারছি না,
দু-হাত, সমগ্র শরীর বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিল।
ওরা জানে না,
সব কিছু স্বাভাবিক হলে… কী সুন্দর ভাবে ভোর হয়ে যাবে,
আর তুমিও সেই ভোরের জানলাপথে ধরে নেবে ঘরে ফেরার ট্রেন।

অজিতেশ নাগ। কবি ও ঔপন্যাসিক। জন্ম ভারতের উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। সাহিত্যের অন্দরমহলে ঘোরাঘুরি আজ প্রায় তিন দশক। সিগনেট, প্রতিভাসসহ মোট দশটি প্রকাশনী থেকে কবিতার বই আর তিনটি প্রকাশিত উপন্যাস। নিয়মিত লেখা দেশ, কৃত্তিবাস, রেওয়া, কবিতাআশ্রম, ভাষানগর ইত্যাদি বহু পত্রপত্রিকায়। সোপান সাহিত্য সম্মানসহ...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..