আত্মহত্যার বিজ্ঞাপন

মনোয়ারা স্মৃতি
কবিতা
Bengali
আত্মহত্যার বিজ্ঞাপন

অনিয়ম ঘটুক

এই অসময়ে একটা তুমুল তুফান উঠুক
সকল বিধান ভেঙেচুরে যাক এখানে,
নীরব সকল বিনাশিত নদী প্রমত্ত হোক এবার।

আজ খামোখাই সমুদ্র হয়ে ফুলেফেঁপে উঠে
প্রবল নাচুক গহীনের মায়া মোহনা,
এ আকাশটাও ভেঙেই পড়ুক নীলাভ জলের অতলে।

বিষন্নতার প্রেম পারিজাত এবার ফুটুক
কচুরিপানার উদ্যান হোক হৃদয়ে,
হিংসুটেদের চোখগুলো থেকে অঝোর ঝরুক প্রণয়।

মাদি ঘোড়াদের মতো অদম্য আস্ফালনেই
দাপিয়ে বেড়াক ঘুমন্ত সব মমতা,
অহৃদয়েরই অলিতে-গলিতে ক্লান্তি বিহীন ছুটুক।

ভীষণ গোপন অভিলাষ গান কন্ঠে উঠিয়ে
ঘরকুনো মন গাইতে থাকুক আরতি,
স্ব-প্রেমিকদের বেহায়ার মতো নিকটে টানুক প্রেমিকা।

একটুসখানি নিয়ম ভেঙেই ইচ্ছেগুলোতে
মহুয়া লাগুক তৃষ্ণা জাগুক ওঠোঁটে,
নির্বাসিত সে চাওয়ার পাখি পাখা মেলুক আদিগন্তে।

সকল কিছুই তোলপাড় করে ইস্পাত বিধি
উৎখাত হোক কিছু অনিয়ম ঘটুক,
নিয়ম যে বড় কঠোর শেকল ছকে বাঁধা এই জীবনে।

 

আত্মহত্যার বিজ্ঞাপন

এই শহরের ব্যস্ততম সড়কের বিলবোর্ডে
আত্মহত্যার বিজ্ঞাপন লিখতে পারিনি
আমার হাত চেপে ধরেছে পিতৃপুরুষের চক্রান্ত,
আমার প্রতিটি শব্দের জন্য দর হাঁকা হয়েছে
চড়ানো হয়েছে কোটি টাকার নিলামে।

মিডিয়াবাজদের টানাহ্যাঁচড়ায়
পাল্টে গেছে আমার জীবন ও জীবনের বৃত্তান্ত
কখনো আমি বারবনিতা কখনো শিকারী কিংবা
আমি ফলিত গনিতের মিমাংসার মতো স্পষ্ট,
উচ্ছিষ্টভোজী কিছু প্রাণী চেটেপুটে খায়
আমার মৃতদেহ।

এ শহর আমাকে চেনেনি
এই শহর চিনিয়েছে কেউ আমার হাত ধরে,
আমায়ও চিনেছে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে।
শামুকের খোলস ভাঙা আমি–
বেহাত হয়েছি পতিত জমির মতো আর
নেংটি ইঁদুর খেয়েছে আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে।

পৃথিবীর দীর্ঘতম জুয়াচুরিতে হেরে গেছি
জিতে গেছে সুশীল সমাজের সুবিধাবাদী চরিত্র,
এই শহরের বিশাল জনতার ভীড়ে
আমি আগন্তুক, অবাঞ্ছিত,অপাঙ্ক্তেয়।

আমাকে ছুঁয়ে জাত গেছে পুরুষের
তাই সিনথেটিক কেমিস্ট্রির অপেক্ষায় আমি
লাশকাটা ঘরের ডিটেকশন টেবিলে।
কংক্রিটের এই শহরের ব্যস্ততম সড়কের বিলবোর্ডে
আত্মহত্যার বিজ্ঞাপন লিখতে পারিনি তাই
নগ্নদেহে এঁকে গেছি এই শহরের বায়োগ্রাফি।

মনোয়ারা স্মৃতি। কবি। বাস করেন ঢাকা বিভাগের নরসিংদীতে। লিখছেন দীর্ঘদিন ধরেই। মূলত কবিতা লিখেন। কিন্তু গল্পতেও আগ্রহ রয়েছে তার।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ