আপন খেয়ালে

মৌসুমী ভৌমিক 
কবিতা
Bengali
আপন খেয়ালে

পাখি দম্পতি

পাখি গিয়েছিল কতদূর বনে
তা কারো নেই জানা।
ঠোঁটে ধরা লাল টুকটুকে ফল
তার চোখের আদলে।

এখানে জারুলের ডালে
গৃহিণী তার আটপোরে সংসারে
সারাদুপুর একা একা কাটিয়ে
বেজায় রাগ হয়।

ডানা ঝাপটে অভিযোগ করতে
সঙ্গী তার মানভাঙানি সুরে
প্রেম নিবেদন করে
মিশে যায় ভালোবাসায়।

আবারো এক তপ্ত দুপুরে
ওরা ফিরে যাবে সবুজ বনানী
ঘেরা অরণ্যের কোলে যেখানে
কোনো কোলাহল থাকবে না।

থাকবে শুধু নিরন্তর সুখে
জীবনে জীবন ছন্দময় করে
গাছের পাতায় পাতায় হাওয়ায়
বয়ে যাওয়া মৃদু কাঁপন।

আহ্!কী স্বাধীন চলাচল!
কী স্বাধীনতায় পাখিকূলের জীবন!

 

আপন খেয়ালে

গ্রীষ্মের ডাকে
ছোট ছোট রুপোলি ফুলগুলি ফুটেছিল,
হঠাৎ চোখ আটকে গেল।
মনে হল-
অনেকে জবাফুল তোলে,হাসনুহানা তোলে,
এ ফুল কি তোলে কেউ?

ফুলগাছের এক ডালে
দুটো শালিক সমানে ঠোঁট ঘষে যাচ্ছে।
কাছে-দূরে পাখা মেলে কবুতর,পাখির দল।
রূপোলি-বাবলা ফুলের মৃদুল গন্ধ পেলে
ওরা কি পারে না এসে থাকতে?ঝোপের মধ্যে,
পুলকে মৌমাছি মধু খেয়ে গুনগুন করে।

বরাবর রাস্তায়- এ সময়- জারুল-শিমুল দেখি।
তার সাথে ডানা মেলা কৃষ্ণচূড়া-কনকচূড়ার
মন মাতানো রং টেনে আনে।
পাশে ঝুরি নামা বট আলো মেখে দাঁড়িয়ে।
ব্যস্ত জীবনেরও মন ছোটে সেদিকে,
আলোর গতিতে।

পাশে,খুঁটিতে বাঁধা অসহায় চাহনির ছাগল-ভেড়া
জামগাছের ছায়ায় আর কতদিন কে জানে!
বহুদিন ধরে এ পথে চলেছি,
এই চেনা সারি সারি ইউক্যালিপটাস-বনপলাশ,
মিনজিরি-গামারি,আরও কত কি!
জানি,ওরা বুনো বন্ধ ঢেলে দেয় বাতাসে।

গাছের নিচে অসাধারণ ঠান্ডায়
পিঁপড়েরা,ধীর চঞ্চলতায় সারি বেঁধে যায়।
দূরে কোথায়- স্নিগ্ধ কোমলতায়- শিষ দেয়-
এক চেনা পাখি!
ও কি রুপোলি-বাবলা-একেশিয়া ফুলের ঘ্রাণ
এখনও পায়নি?শান্ত দৃষ্টি মেলি…।

জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। বেড়ে ওঠা, শিক্ষা সবই শহর শিলিগুড়িতে। উচ্চ মাধ‍্যমিক সরকারি স্কুলে ভূগোলের শিক্ষকরূপে কর্মরত। লেখালেখি কিশোর বয়স থেকেই। মূলত কবিতাই প্রথম পছন্দের। 'দ্রোহকাল অক্ষরে' সাহিত‍্য পত্রিকা এবং ' ড্যাস ' আন্তর্জাতিক ওয়েব ম্যাগাজিন সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

রাজ্য

রাজ্য

রাজ্য তোমার রাজ্যে ঘুরছি আজও অন্ধের স্বভাবে; লোকোত্তর বৃক্ষের নীচে বিশ্বাস খুঁজে বেড়াই ভালোলাগার অভাবে।…..