আমি নাই হয়ে যাবো

সারাজাত সৌম
কবিতা
Bengali
আমি নাই হয়ে যাবো

হরিণ শাবক

আমি জানি না—
আমি কি!

কোথায় যাবো এই সময়ে। একটি হরিণ শাবক—
আমার মাথার ভেতর যেন কচি ঘাস চিবাচ্ছে।

সে কোন মায়ের সন্তান—
আর কেইবা তার পিতা!

আমি জানি না—
আজ বসন্ত কিনা।

আজ কারা কোনদিকে ছুটে যাচ্ছে
কোন পাখিটির বুকে তীর ছুঁড়ছে
কে জানে? কে কার বুকের কাছে
মারা পড়বে— ছোট্ট সে বার্তা নিয়ে।

ওরা ভালোবাসার কথা বলবে—
ওরা ভালোবাসার ইশারা করবে—
ওরা আত্মার সাথে আত্মা মিলাবে—

জানি না ওরা কারা!

আমার ভেতর কারা কিচিরমিচির শব্দ করছে—
এই আমি বন— আমার নিবিড় উলঙ্গ পেট
তার উপর বসে থাকা ছোট্ট প্রজাপতি
সে কি জানে এইসব?

অথচ সে আমারই জন্ম-মৃত্যু—
তার পিছু নিয়েছে একদল বালক
তারা শীতের জন্য অপেক্ষা করছে।

দূরে—
দুটি পাহাড়—
সাদা মাটি দিয়ে গড়া
আর দুটি কালো গোলাপ
তারা সেই বুক ফুঁড়ে ফুটছে!

এখানে রাতের আকাশ—
আমি তাকে বন্ধু ভেবে চাইছি
সে মাটিতে নেমে আসুক—
ঠিক আমার হাতের মুঠোয়।

আমি তাকে আমার চোখ দান করে দেবো—
কেননা আমি এই জগতে যা দেখেছি
যাকে আমি ভয় পেয়েছি
এবং যাকে আমি উঁচু করে ধরেছি

সে আসমানের চেয়েও উঁচু—
স্বর্গ এবং নরক বিস্তৃত এক সুন্দর মুখ
তাকে কোনোদিন আলো ছুঁয়ে দেখেনি
এমনকি অন্ধকারও না

এই মানুষ — মানুষ তাকে পাগল করে তুলছে
সে এক বোতল মদ
সে এক পাগলের পোশাক
সে এক প্রেমের প্রলাপ

আমি তাকে দেখেছি—
আমার ভেতর

যেন ছোট্ট হরিণ শাবক—
ভয়ে ভয়ে ছুটছে আদিগন্ত বনের দিকে
বস্তুত ভালোবাসার তীর ছাড়া—
কেউ তাকে কোনোদিনও এমন আহত করেনি!

ফুল

যদি আমি জন্ম না নিতাম—
তবে কেমন করে তুমি সুন্দর হতে

আর কেইবা বলতো তোমাকে
ওই যে একটা কান মুচড়া ‘ধ’

বুড়ো, সারাজীবন কাসার মিস্ত্রি
বানিয়েছে এক আশ্চর্য ফুলদানি

যেন এই নিঃশ্বাস ভরা শব্দ তার
লহমায় নিজেকেই জন্ম দিতে থাকে

ভালোবাস কি তাকে?
ভালোবাস কি তাকে!

আহা, দূরে তুমি চকচক শূন্যদানি—

জানি, কোন এক বসন্তে এসে গাছ
ছায়ার মতো নুয়ে তোমাকে বলবে—

এই একটিমাত্র ফুলের লগ্ন ছাড়া আর
আমার জীবনে তেমন কিছুই ঘটেনি।

 

আমি নাই হয়ে যাবো

আমি নাই হয়ে যাবো—

তুমি বুঝবে—
আবহাওয়া বদলে গেছে!

কি চাইছো বলো?

এই আমার হাত—
আর কিছুই নেই এখানে
তোমার টিপগুলো তারার মতো
দূরে, অজস্র বাতাস হয়ে গেছে।

যখন একদল ফকির—
আল্লাহু আল্লাহু বলে মিলিয়ে যাবে
শহর থেকে অন্য শহরে!

আমি নাই হয়ে যাবো—

তুমি বুঝবে—
পথও বদলে গেছে!

কি বলবে বলো?

এই আমার মুখ—
ভাষাহীন, ময়লা পাখিদের দখলে
তারা মাঠ থেকে শূন্যে চড়ে
দূরে, বেভুল একটি ফুল
যে তোমার নাম ধরে ফুটে।

তুমি বুঝবে—
এবং এটাই আমার ভাষা
তার পাপড়ি ঝরার সময়
দ্যাখো, গাছটি কিভাবে কেঁপে উঠে!

লটারি

কোত্থেকে এসেছি,
আমি জানি না—
জানতে চেয়োনা সবকিছুর মানে
ওই মুখ কঠিন সুন্দর
লটারির মতো
আমি খুঁজছি !
কোনো একটি সংখ্যা—
যেমন আমি ১
আর যদি তুমি মিলে যাও
আর যদি নাইবা মিলো
চারপাশ খণ্ডবিখণ্ড
কোথায় পরে থাকে পাখির ডানা
আর কোথায় থাকে তার কণ্ঠ ।
আমি ছিদ্রগুলো আটকে রেখেছি
ধ্বংস বা সৃষ্টির জন্য
আমি অপেক্ষা করি—
সমস্ত পথের শেষে
একটি আধুলির মতো আলো
দ্যাখি, সে ডুবতে থাকে
আবার সেই তো ভাসে
উজ্জ্বল তোমার মাথার কাছে
এর অর্থ সামাজিক—
এর অর্থ পাগলের—
দেখার সাথে অদেখা
একটি কথার ভেতর হাজার কথা!
তুমি সেলাই করে রাখো—
যদি প্রচণ্ড শীত লাগে
কিংবা উষ্ণ মাথার কাছে
বোবা ছবিগুলো
যে আর ফিরবে না
নিয়ত তোমার কাছে
যেন সাপের শব্দ—
যেন বাইনোকুলার—
একটি কাচের ওপাড়ে
আমার মৃদু ছবি
ঢেউ খেলানো শিশু
সে না বুঝে আগুন
না বুঝে পানি !
শুধু বাতাস আটকে যায়—
শুধু বাতাস বয়ে যায়—
উত্তরে এবং দক্ষিণে
পৃথিবী তোমাকে প্যাঁচিয়ে রাখে
যেমন অলঙ্কার জড়ানো শরীর
তুমি ক্রয় করে রেখে যাও
কোথাও না কোথাও—
এখানে ওখানে
তারপর তুমি চলে যাও
কিংবা ফিরে আসো
আমি অপেক্ষা করি
বারবার অপেক্ষা করি
এই আমার লটারি—
এই তোমার সংখ্যা—
সে এক জাদুকরী !

এই শীতে

কোথায় যেন মরে গেছি!

ওফ! ভেজা তোয়ালে—
শীতের ছোট্ট রাত
খটমটে খয়েরি খাট
কে আমি?

ভাবছি, অসংখ্য এলেবেলে কথার পাশে
যে ভাষা মেয়েমানুষেরা লুকিয়ে রাখে।

সেখানে বাগান, হাওয়া—
কিছু ফুল অন্ধ হবার পর
তারা একসাথে গাছ হয়
এক ডাল থেকে অন্য ডালের পাশে
শুয়ে বসে মরে যায় আলো!

যেন আমরা নষ্ট করে ফেলি
পাতার উপর সকল দাগ
এই ঋতু বৈচিত্র—
ঠোঁটের সকল অপরাধ

আর নোনা কিছু ছবি স্র্রষ্টার হাতে।

এমন কেউ যদি আসে বাতাসে
কাঁপতে কাঁপতে ছায়ার পাশে

তাকে আমার সন্ধান দিও
তাকে নিজের সন্ধান দিও
তাকে পাখির সন্ধান দিও

আর আমার মুখের বরাত।

এই শীতে—
সোনালু গাছের নিচে
হলুদ হলুদ ফুল

আমি তার শরীরে চুম্বন রেখে গেছি…

সারাজাত সৌম। কবি। জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টার, ময়মনসিংহ। পেশা, চাকরি। প্রকাশিত বই: 'একাই হাঁটছি পাগল' (কাব্যগ্রন্থ, জেব্রাক্রসিং; ২০১৮)

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

হাল

হাল

সুখানুভূতি সুখানুভূতি মেরে এনেছে।মাল খাওয়ার পরে। এদিকে টাল খাচ্ছে হাওয়া।উড়ে যাচ্ছে আমপাতা।ইমামবড়ার ভক্তিপূর্ণ আবহাওয়া। আমরা…..