আমি সেই ভ্রূণ

মিলি দাস
কবিতা
Bengali
আমি সেই ভ্রূণ

আমি সেই ভ্রূণ

মনে পড়ে বাবা আমার কথা
চাঁদনী রাতে মেঘ ভেসে যায়
দুজনেই খুসমেজাজে,
নীলাঞ্জনা আজ কি হবে?
লাজুকমুখে একটু হেসে
তুমি না বড্ড বাজে।

সিঁড়িঘর থেকে মা নেমে আসে
তুমি ছিলে তার পিছে
উথাল পাথাল হৃদের মাঝে
কখন পাবে কাছে।

ফুলদানিতে রজনীগন্ধা,সঙ্গে গোলাপও ছিল,
রাতের পোশাকে সুগন্ধী ভাসে
শয়ন মাঝে গেল।
আষ্টে পিষ্টে বুকের মাঝে
চুমুতে ভরিয়ে দিলে,আদর করে পিঠের আঁচিল কামড়ে ধরেছিলে।
ভালোবাসাবাসী খুব কাছাকাছি
সূচ বিধবেনা মাঝে,
শুক্রাণু আর ডিম্বাণু মেলে
চুপি চুপি বেশ লাজে।
এক চিলতে জ্যোৎস্না আলো
ম্লান মুখে এসে পড়ে
থরথর চোখ নীলাঞ্জনা যাচ্ছ কেন সরে?
মায়ের চোখে ভুলের রেখা
বিপদ হলো কি!আবার যদি তৃতীয় আসে
ছি ছি ছি ছি!

তখন আমি ডিম্বাশয়ে রক্ত জমা প্রাণ
প্রাণের মধ্যে সুর গাইছে নতুনের জয়গান,
ভোরের আলো দেখা দিতেই সিদ্ধান্তের শুরু,
ভয়ে তখন বুকটি আমার করছে দুরু দুরু!
বাবা আমি বাঁচতে চাই প্লিজ আমায় বাঁচাও
মা গো আমি মরতে চাই না একটু আশা দাও।
ও বাবা শোনোনা হয়তো আমি
দুস্টু ছেলে হব, তবুও আমি নাম করবো,
তোমার গর্ব হব।

যদি বা হই মেয়ে সন্তান
চিন্তা করোনা বাবা
রাক্ষসী হয়ে থাকবো না আমি
পুঁজিতে দেবো না থাবা।

ও মা শোনো না
দেখছো ওদের হাতে দেখছি ছুরি কাঁচি,
আমার ভীষণ ভয় করছে থাকবো কাছাকাছি।
ওমা কিগো কোথাও যাবো না
তোমাদের কাছে থাকবো
তোমরা আমায় সৃষ্টি করেছো
আঁচল পেতে ঘুমোবো।

ওরা আমায় মেরে ফেলছে
প্রাণটা এখনো আছে
মরতে আমি চাইনা গো মা
থাকবো তোমার কাছে।
এত চিৎকার এত হাহাকার
শুনতে পেলেনা তোমরা?
এ পৃথিবীর সুখ ভোগ করা
আর এক জল্লাদ তোমরা।

হয়তো আমিও মানুষ হতাম
নয়তো কোনো অমানুষ
ভ্রূণ হত্যাকারীকে তোমরা
কি করে বল মানুষ?
আমি ওদের জল্লাদ বলি
শয়তান বলি মুখোশে
প্রেম ওদের যখন তখন
জানোয়ার হলো স্বভাবে।

 

বৃষ্টি নামবে

আজকে আবার বৃষ্টি নামবে,
দমকা হাওয়া সঙ্গে নিয়ে
পাল তুলে আর গর্জনেতে
বেশ খানিকটা বৃষ্টি হবেই
দেখে নিও।
গুমোট ভাবটা কাটছে বোধহয়
রুক্ষ্ম পাতা প্রাণ ও পাবে
মেঘলা আকাশ টলমল
তার বারিষ ধারায়।
জিয়ন কাঠির ছোঁয়ার জন্য
অপেক্ষা তে রামধনু রং,
বহুদিনের অভিমানে
জল থৈ থৈ মেঘলা আকাশ,
ভাটার বুকে ঢেউ উঠেছে
স্পষ্ট তা দেখতে পারছি
বৃষ্টি হবেই দেখে নিও,
খানিক বাদেই সমস্ত মেঘ
কোণের ঘরে জড় হয়ে
অঝোরধারায় বৃষ্টি নামবে
দেখে নিও
আজকে আবার বৃষ্টি নামবে।

 

নষ্ট হতে চাই

আমিই সেই পুরুষ
যে বারংবার নষ্ট হতে চেয়েছি
তারস্বরে বলছি-
হ্যা হ্যা আমিই সেই পুরুষ
যে নষ্ট হতে চাই।
আমার ভারতবর্ষে
এমন কোনো নারী জন্মেছে-
যে আমায় নষ্ট করবে?
যুগ যুগ ধরে
সারা পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে
রাজ্যজুড়ে ,দেশজুড়ে ,শহর জুড়ে
লক্ষ লক্ষ নারী নষ্ট হয়েছে ।
আমি পুরুষ আমিও নষ্ট হতে চাই
পারবে ,কেউ কি পারবে আমায়
এক বিন্দু নষ্ট করতে?
শরীরে ধর্ষিত হয়েছি বহুবার
আমার মনটাকে কলঙ্কিত করে
নষ্ট করে দেবে কেউ?
আমি যে ভীষণ নষ্ট হতে চাই
শরীরে নয় মনে।

 

কবিতায় মালা গাঁথা

আমি কখনো পদ্য লিখিনি
কত সুসভ্যতার আলোক থেকে
অন্ধকারের দেশে গেছি,
ভিক্ষের ঝুলি হাতে নিয়ে
ওদের কাছে বলেছিলেম-
শুনছো ….
আমায় একটা পদ্য দেবে কেউ
শুনছো নাকি ছোট্ট হলেও
আমায় একটা পদ্য দেবে কেউ?
নিঝুম দেশের নিঝুম গায়ে
কেউ শোনেনি কথা,
হঠাৎ যখন পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে যায়, লাঙ্গল হাতে সব চাষীরা দল বেঁধে যায়
খামার ক্ষেতে ধান ঝরছে শুনি
আধখানা সেই শীতলপাটি বুনি
তখন আমি বুঝতে পারি
ঘুমের ভেতর উথালপাথাল পদ্য খুঁজে ফিরি,কয়েক ধাপে নামবো বেয়ে সিঁড়ি
এজীবনে পদ্য হবেনা
কবিতার খোলা পাতা,
কবিতা দিয়েই জীবনের মালা গাঁথা।

মিলি দাস। কবি। জন্ম ও নিবাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের কলকাতা।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..