আরো দাও আরো

সুপ্রীতি বর্মন
কবিতা
Bengali
আরো দাও আরো

পুরুষত্ব

পুরুষত্বের পাঁজরে লুকানো শীৎকার ছল,
ছারপোকা তোমার রন্ধ্রে গুঁতো মারে।
বশিষ্ঠের রি রি উচ্চৈস্বরে ঊরু ঝঙ্ঘায় মাদল বোলে
অরুন্ধুতীর কানা নক্ষত্র ভয়ে কুঁচকানো স্বভাবে মরো মরো
কালপুরুষের উঁচিয়ে তীর ধনুকের স্পর্ধাকাল।
লোমকূপে শিহরিত গুপ্ত রহস্য উপাখ্যানে
গলা টিপে ব্রহ্মানীর শেষ সংকট প্রসবের আগে
হস্তমৈথুন ধৌত আমি কুলাচারে উচ্চ বংশ সম্ভ্রান্ত।
অভিমানী সুতোর লাট সরু হাড় পিংলা সূঁচের পশ্চাদে পাকাপোক্ত ঠেক
উগরে দাঁতের বত্রিশ পাটি গোগ্রাসে কাঙালী ভোজন ছেঁড়া কাঁথা।
কোমরের ভাঁজে পঙ্গু সক্ষমতা এলোচুলের গিটের পর গিটে চোরনিদ্রা মুখ গুঁজে।
তোমার স্তনবিন্দু আমাপা সন্তান বাৎসল্য
আমার আটপৌরে শাড়ির কলকার কোলাজে।
মুখেই শুধু গৌরচন্দ্রিকা এলিফ্যান্টা গুহাচিত্র
নিষ্প্রদীপ সন্ধ্যায় এয়োস্ত্রীর খুনের টকটকে গোলাপ রক্ত আলতায় স্বামীর মঙ্গল কামনা।
রেসকোর্সের ময়দানে বেয়াদপি পুরুষ অশ্বে
পুরুষত্বের চানার কটমটিয়ে চর্ব্যন।
পাষানীর শিরোধার্য মূল্য বিনিময়ে
যৌন নৈবেদ্যের উপাচার মনে মনে একশত জলপানি।

আলিঙ্গন

ঝাউবনের অনিন্দ্যসুন্দর শীৎকারে বজ্রপতন ঝঞ্ঝা,
উরুর তটে প্রসারিত শীর্ণ কায়া দুধসাদা মুক্তোর খোঁজ।
ফেনিল উচ্ছ্বাস সমুদ্রের অন্তরে গহীন সাম্রাজ্যে,
আলিঙ্গন দুয়োরানীর আধখোলা বুক উষ্ণতার আবদার।।

চুরুট গন্ধে নিকোটিনের আসক্তি দুফোঁটা বাঁচা,
কৃষ্ণগহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে জঠর ক্ষুধা, উষ্ণ প্রসবন ধুঁকছে।
অক্সিজেনের অভাবে হাঁপর টানছে পাঁজরে, গামছায় ভগ্নাংশ ঘাম জড়িয়ে উফ কি অস্বস্তি গোঙায়, ফোঁপায়।।

তোমার আঁচলে মমতার আদরে শিশুর হাত ফেলে,
চোষা স্তনের বোঁটায় কলকল নদীর যৌবনের উদ্দাম বেগ,
নাভিমূলে আরোহন নীচে ভাঙাচোরা সাঁকো।
রুগ্ন তোমার কাঠামো, দিব্য পুরুষ সামলে যেও,
অসাবধানে পিছলে যাবে, আলিঙ্গনে অন্ধ চৌকাঠ।।

মৃত আগ্নেয়গিরি বাঁচার জন্য ছটফট, ক্লান্ত ঘুম।
ব্যাস্তানুপাতে শূন্যভার তোমার কাঁধে অর্পণ,
লক্ষ্মীছাড়া পা আটকে তোমার শৃঙ্খলে, কোটাল বাণ।
হুড়মুড়িয়ে গঙ্গাপ্রাপ্তি আদরে চাদর ভিজে।।

সাদা মেঘ ট্রাউজার ঘন ঘন চুমুর স্বীকারোক্তি,
নাসিকা রাঙানো ঘষটে যাওয়া একচিলতে সিঁদুর,
তোমাকে চাই শুধু তোমাকে, একপশলা বাসি হোক পুড়ানো খই আটচালার প্রাঙ্গনে, ভোররাতে।।

হাট করে খোলা জানলা গর্ভবতী হোক ভাঙাচোরা পংক্তি,
আমার সবটাই স্ফীত ইতিহাস অহম শিকলে বাঁধা।
শায়িত দীর্ঘ স্তুতিকাব্য কামশাস্ত্র প্রশস্তি লোকমুখে।
অস্থির শিল্পী আমাকে করো পদ্মাবতী,
তোমার শৈল্পিক ক্ষুধার স্পর্শে,
আজ তুমিই হও আমার প্রেমের ঐকান্তিক স্পর্ধায়,
আমার ভাস্কর।।

লিটল ম্যাগাজিন মেলা

লিটল ম্যাগাজিন পত্র পত্রিকার নব দিগন্তের উন্মেষ
সাহিত্যের জাগরণ ছায়াপথ খুঁড়ে আলিস্যি বয়ে চলা।
জনম দুঃখিনী কলম তোমায় কেউ বেচবে না।
নিশ্চিন্ত থাকো এই দিলাম আমি সংঘোষ পার্বণে প্রতিশ্রুতি।

ঠুনকো আধুনিকতা মুখচাপা গুহ্য অভ্যন্তরে
অন্ধকার কবে সে বিদিশার নেশা।
অন্যদিকে কাষ্ঠ লৌকিকতার ঘূণধরা সমাজ।
এবই ওবইয়ে নখের আঁচড়ে স্পষ্ট প্রতীয়মান তুমি।
আধুনিক ভব্য সভ্য সমাজের শিক্ষিত আটপৌরে বোলচাল।
স্টাইলে ভ্রমিল সুধা জিন্সে মুখ লুকানো হায় পুরুষাকার।
কিংবা আড়িঠেস লোক দেখানো মুগ্ধ পরম্পরা।
হাস্য কৌতুকে জড়াজড়ি আমি আর নই অবলা বঙ্গললনা।
সহাস্য পরপুরুষে বান্ধব জ্ঞানে আলিঙ্গনে
আজ আমি উচ্চশিক্ষিত আধুনিকা।
একপাশে সন্ততির হাত ধরে
অন্যপাশে অবলা গৃহবধূর সংকলন সম্পাদনা।
ভাবা যায় আর কি কি তুমি হতে পারো
আজকের সম্পূর্ণা।

কিংবা অথৈ কথকতা মঞ্চে ভাষণ, স্বরচিত কবিতা পাঠ।
তুমিই শ্রেষ্ঠ বুলি আউরিয়ে বাজাবে দ্রিমি দ্রিমি মাদলের বোল।
কিংবা উত্তরীয় দানে বিভা হাসি ওষ্ঠে অতিথিবরন।

সম্পাদকের হুটোপুটি কয়েকশো সন্ততি
একটু একটু প্রসব যন্ত্রনায় তাদের মুক্তি।
মাতৃগর্ভের চির অদাহ্য অন্ধকারের ক্ষণজন্মা পান্ডুলিপি।
পরিশেষে স্বনামধন্য সাহিত্যিকের পথ প্রদর্শনে
মোড়ক উন্মোচনে যেন কোন লেবাররুমে
ভূমিষ্ঠ সদ্যোজাতের স্নান।

নাম ধাম জানা নেই শুধু মুখচেনা
এমনি অনেকের উন্মুখ দৃষ্টিপাতের মূর্চ্ছণা
গঙ্গাপ্রাপ্তি আমার আগামী ভোরের সূচনা
প্রথম বইয়ের প্রকাশ।
পরে আমারো নেবে অটোগ্রাফ বইয়ের পাতায়
শিক্ষিতের তো চাই আরো নাম যশ কাঙাল কাঙাল।
তবুও নিদ্রাহীন ঘোরলাগা চোখে
লিখে যেতে থাকি পাতার পর পাতা
নিরস্ত্র সন্ন্যাস।
একদিন আমিও হবো লেখিকা
সাক্ষী থেকো তুমি লিটল ম্যাগাজিন মেলা।

 

মনুষ্যত্ব

চিতাভস্মের অস্থিচর্মসার নগন্য মানুষ নিজের ঢাক নিজে পেটো।
রক্তমাংসে কামাগ্নির রসস্রোতে লাঞ্ছিত লক্ষ্মীশ্রী দ্রৌপদীর বিবস্ত্র অঞ্চলে স্বৈরাচারী কুরুক্ষেত্র।
শ্লেটপাথরের পিঞ্জরে অপদার্থের আদ্যাক্ষর বাস্তবে শিঁড়দাড়াহীন হাতের পুতুল।
ঘুনপোকা গেরস্থালীর চালে শকুন বাছবিচার জাতিবৈষম্যে ছুঁইছুঁই বোধ।
ভঙ্গুর চৈতন্যে কাঁচের বাসনকোসন মেজে ঘষে শুদ্ধিকরণ এঁটো থালা।
সিংহাসনের উষ্ণগদি স্বার্থসিদ্ধি না তুমহারা না হামারা সিরফ মেরা।
দুমড়ে মুচড়ে করালগ্রাস সত্যের অগ্নিদ্দীপ্ত সূর্য
চাটুকারিতার উন্মেষে।
রংচটা ব্যস্ত ভিড়ে ঠায় কাকদশা ঝাঁকামুটো বহনে গর্দভ জঞ্জালে নাক সিটকিয়ে।
তর্জনী তুলে বাগাড়ম্বরিতা শুধু অভিযোগ তুমি তুমি, জাতীয় নেতা মূর্তির ভগ্নদশা।
ভাঙাচোয়াল দাঁতকপাটি খুলে মনুষ্যত্বের দৈন্যদশা পর্দার আড়ালে।
সম্মুখে শিয়রে সংক্রান্তি তবুও বৈভবের দেখনদারির অন্ধ দৌরাত্ম্য।
অপরের দূর্বলতায় শান দিয়ে খড়্গাঘাত ব্যঙ্গ উপহাসে কোনঠাসা।
অল্প বিদ্যে ভয়ংকরী শ্রেষ্ঠত্বে যেতে এখনো অনেক পথ বাকি।
ধর্মের কুকুর নিষ্ফল আড়ম্বরে ঢালো কলসী কলসী দুধ।
ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে উচ্ছিষ্ট অন্ন আস্তাকুঁড়ে নির্বাক মনুষ্যত্ব প্রেম বিবর্জিত।
লৌহকপাটে আবদ্ধ মুক্তমনন খড়খড়ি প্রমাদ গুনে জ্যোতিষীকে সমর্পন ভবিষ্যত।
ইতস্ততঃ সংকুচিত যদি শৃঙ্খলে মনুষ্যত্ব গান্ধীজির তিন বাদর নিজের চরকায় শুধু তেল।
কুসংস্কারের খোলসে আবদ্ধ বিষাক্ত সর্প নিষিদ্ধ পাঁচিলে।
ভগ্নাংশ সমীকরনে সন্দিহান অস্তিত্ব ইচ্ছে ছাড়া তুমি মৃত নদী।
উঁচু জ্বলন্ত উনুনের তিনমাথা ভাঁজ মধ্যরাত্রি ত্রিযামা দুঃস্বপ্ন তুমি।

 

বাকযুদ্ধ

বাকযুদ্ধের নৈতিকতায় খণ্ডযুদ্ধ পিতা ও প্রজন্মে
পৌরুষের ঔরসে প্রসূত কন্যা মাথাচাড়া আস্কারায়
একাই একশো।
হস্তীরথে অহং এর ছত্র তবুও রাজন নিঃস্ব আত্মবিশ্বাসের অভাববোধে
অভীষ্ট বস্তু উপলব্ধির হেতু বাগবিতন্ডার চক্ররেল।।
স্নেহের সিক্ত ভূমির বক্ষবিভাজিকায়
ইসপার উসপার রেললাইন
সম্পর্কের খড়িদাগের টানাপোড়েনে পাশাপাশি সামঞ্জস্য।।
সাপের লেজের বেণী ধরে কুয়াশা ধন্ধে অস্তগামী মূল্যবোধ
যেন তেন প্রকারেণ লম্বা জিহ্বার মাজাঘষা
ভদ্রতার অশ্লীল দোহন।।
নিজ সিদ্ধি পূরণে দড়ি কষাকষি
অশ্রাব্য সম্পর্কের টোন।।
ছলাকলায় অস্ত্র বাকশক্তি
দুর্বিপাকে যেন জনক ছত্রপতি।।
জটিলতার মিতব্যয়ী জরায় দগ্ধ কোঁচড়
বাকচাতুর্যে খসালো আজ গাঁটের কড়ি।।

অকালপরিণামদর্শী ভবিতব্যে
জর্জরিত রোগে ক্লিষ্ট রতি।।
কস্তুরী মৃগ দুহিতা অনন্যোপায় হন্যে হয়ে দিশেহারা
আনরয়েডের পাপস্খলন হবে কি না হারাবে
সমাধানের অন্তিম সূত্র, মাথার উপর হাত পিতার।।
চুলচেরা পাল্টা ঘাত প্রতিঘাতে মধ্যপন্থী কাবাড়ির
তুখোড় স্রষ্টার প্রত্যুত্তর বাণ।।
মা সরস্বতী ধন্যার পদপৃষ্ঠে পুরুষঘটিত ঘ্রাণ
জিতেছে আজ বিনা অতিরিক্ত বাক্যব্যায়ে তর্কযুদ্ধে।।

বিন্দু বিন্দু সঞ্চয়ের থলি উপুড়
একঝটকায় উচ্ছন্নে।।
মুখখানি গোমড় ভাঙে হুতোম প্যাঁচার ক্রন্দনে।।
থপথপে গেরস্থালী কুনোব্যাঙ একটানা ফর্দ
বলে বেশ ভালোই তো ভুঁড়িতে হাত বুলিয়ে
এটা সেটা বোঝাবার মতন বুঝিয়ে দিতে পারলেই তো হলো তোর।।
কিন্তু অপারগ শনির দশা, না পায় মুক্তি গ্রহদোষে
শুকনো কথায় কি কখনো চিঁড়ে ভেজে।।
আষ্টেপৃষ্ঠে প্রজন্ম গোসাপের কামড়,,, শেষ মরণ কামড়।।
পরমপিতা গুরুব্রহ্ম পূর্বপুরুষ মেঘের বজ্রডাকে কেবল ছাড়।।
বাকি তো সম্মতি দিতে ব্যর্থ খরচের ভয়ে শুষ্ক কব্জি।।
শাঁখের করাত ছাড় ছাড়,,,,,, আনন্দ আশ্রমে গৃহযুদ্ধ (সমর)।।
তোমার না আমার স্বৈরাচারে
কাঁপন অস্তিত্বের মাটি।।

আত্মীয়তা

শুকনো আতাঁত ষড়যন্ত্রের কাঠপিঁপড়ে,
ধুঁকছে ক্লান্তিতে ভারী পদপৃষ্ঠ অনগ্রসর আগামী,
হাত পা ছুঁড়তে থাকা অসহায় ভ্রুন,
নির্ভরশীল পরকিয়া চুষে চুষে রক্তপান।
পিপাসার্ত জননী আগামী নিশিদিন,
কোলেপিঠে মাতৃদুগ্ধে পট পট খোলা চোখ,
মনির গর্ভগৃহে মস্তিষ্কের শেকড়ে জটা ধরা প্রশ্ন, কে আমি, কে আমার আপন কে পর।
কর্তব্যের হাঁড়িকাঠে বলি আত্মার সম্পর্ক,
আত্মীয়তা আজকে অনেকাংশে লোক দেখানো লৌকিকতা, সঠিক সময়ে নির্বিকার তোমার হাত,
অনিশ্চয়তায় গোঙর ধরা ঘ্যাঁন ঘ্যাঁন,
কেবল আমি,,,,,,,,,, শ্রেষ্ঠ আর কেউ নয়,
কেউ হতে পারে না,
জমির কম্পিত শ্রীখন্ডে স্বস্তিক আঁকতে,
কাঁপতে লেগেছে অপরাধের আত্মগ্লানিতে চীৎকার
নিঃশব্দ ক্রন্দনধ্বনি।
সাথ দেবার মরীচিকা নইলে অন্ধকার,
ছায়া দেবে ছেড়ে তোমায়, ফেলবে নিঃসঙ্গ যন্ত্রনার,
অন্তর্বতী শূন্যতায়,
প্রতিশোধ স্পৃহার ঘন ঘন উর্ধ্বগতি শুধু আমার চাই,
আমার একার ভোগ একার লালসা।
ধুন্ধুমার শিরোচ্ছেদে নিষ্পাপের রক্ত তরবারি,
উচ্চ অহংকারের দৌরাত্ম্যে অন্ধকারে লুকানো সূর্য মমতার ছায়া।সত্যি সত্যি পায় না কোন আপজনের হাত,
নিঃস্বার্থ কোজাগরী জৌলুস,
অভিশাপের গ্রহন কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
তোমার শোভা শুধু তুমি নগ্ন শুদ্ধ আত্মা,
তুমি খোঁজ চালাও ঘুরে দাঁড়াও,
বল আমার চাই অধিকার, প্রেম, প্রীতি ও ভালোবাসা।
নত নত নমন বিজয়া দশমীর পূন্যলগ্নে,
ফিরে আসবে আত্মীয়তা সত্যিকারের চরনে,
ঝুঁকাবে শিষ্ পাবো গঙ্গে শুদ্ধ মুক্তি,
আলিঙ্গনের উষ্ণতায় ফিরে দেখা মমতার আঁচল,
উমার বিসর্জনে দীঘির স্রোতে।
ফেলে যাওয়া আঁচলে ছোট নীড়,
আমার তোমার সেই এক চেনা জানা ঘর।

আরো দাও আরো

শুভ্র কাশের চামর দোলায়, হাওয়া খেতে ব্যস্ত সরসী, বলে আরো দাও আরো।
চামরের তলায় বড় বড় তাবেদারী জমিদার, অট্টালিকায় ঔপনাস্যিক, চাঁদোয়া এখন সবই,
পোকা মাকড়ের লালায় ভোগ্য সুখ, কথায় আছে তাই, তালপুকুরে ঘটি ডোবে না, সরসী আরো দাও আরো।
চামর দোলে দক্ষিনা হাতে তেলা চকচক পান্ডার হাতে, সামনে ঠুঁটো জগন্নাথ কিংবা মহামায়া।
জাগতিক ভোগ্যপন্যের সম্ভারে, ভক্ত নীরব দর্শক দূরে পিপাসিত প্রার্থনার আঙ্গিকে, কাছে পায় না ঠাঁই বলে আরো দাও আরো।
শতশত বিলবিলিয়ে অসুর শাবক, অন্ধভ্রম গান্ধারী স্বামী শোকে, চোখ থাকতেও অন্ধ রয়।
ছেলের দোষ দেখতে কানা, শাক দিয়ে মাছ ঢাকে,
চামর দুলছে সহাস্য জরোয়ার ঝাড়লন্ঠনের তলায়,
মন্দির প্রাঙ্গন, মহামায়া স্বয়ং।
অন্ধ প্রত্যাশা শুধু খড়কুঠো গুঁজে মাটির প্রতিমা,
বলে খালি বছরের পর বছর ঘুরে, জাগো মা জাগো,
আর নিজেরা সদা প্রতিবন্ধী রয়।

ভাইফোঁটা (গদ্যকবিতা)

চন্দনের ফোঁটায় স্নেহাশীষ দূর্বাঘাসে,
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা।
প্রতিশ্রুতির আঙ্গিকে মধুর মিলন,
এসো এসো কাছে এসো ভাই ও বোন একই বৃন্তে দুটি কুসুম।

মনের অবরোধ্য প্রাচীরে ধামাচাপা কবরে বোনের ফুঁপানি,
স্বামীর আর্থিক অক্ষমতা শ্বাসরোধ করে।
তবুও মধ্যবিত্তের বাজারের থলি মাছ, মাংস মিষ্টিতে ভরা চাই চাই, যতই হোক বাজার আক্রা।
বোনকে যে সাজিয়ে দিতেই হবে পঞ্চব্যঞ্জন।
বিদেশ বিভুঁই পড়ে থাকা ভাই আমার,
তোমার অভাবে তোলা থাক সযত্নে পরিপাটি চারদেওয়াল।

বাক্সবন্দী স্কাইপ শুধু দুরত্ব আজ হাতের মুঠোয়।
ভাইয়েরা তুলে নেয় রক্ষা বুকে আগলে রাখা,
কিন্তু ভিন্ন হয় কিয়দংশে চেনা জানা চিত্র সম্পত্তির লোভে।
মুখ ঝামটা মেরে মুখের উপর বলে,
আমার ফোঁটার দরকার নেইরে আর, লাগবেনা।
বোন চোখের জল লুকায় বুকে টুঁ শব্দটি না করে।
ভাইয়া চীৎকার করে অপবাদের ঝুড়ি চাপায় বোনের ঘাড়ে।
বলে তোর জন্য মা আমাদের ভাগের মা।
কার কাছে আগে যাবে পাবে প্রাধান্য সম্পত্তি।
বোন হয়েছে এখন ননদ তাই কিছু অংশে কুক্ষিগত বাপের বাড়ি, তাই বললে কি হয়, কবে থেকে জাঁকিয়ে বসতে চায় তোর বউ এই সংসারে,
যদিও চলে গেছে বিয়ে করে সে পরের ঘর।

আমার বোন তো কবে থেকেই কাছছাড়া সঙ্গে হাতছাড়া, নাগালের বাইরে স্বর্গের উজ্জ্বল জ্যোতি।
একসময় বাচ্ছা বেলায় বাক্সপেঁটরা গুছিয়ে দাদা ছুট দিতো, পরীক্ষা শেষে বোনের ঘরে, দিদির সেই চন্দন আমার কপালে টানতো দীর্ঘ সমৃদ্ধি দিদি,
নিতিস টেনে তোর আঁচলের তলে।
সেই হাত আর উঠবে না উপরে আমার ললাটে
তাই দীর্ঘ আফশোষের বলিরেখা।
আমারি খালি দিদি নেই।
কিন্তু বিশ্বব্রহ্মান্ড জুড়ে শাঁখের উলুধ্বনি ভাই বোনের যুগলবন্দী, আর আমার আজ চেনা শূন্যতায় হাতড়ায় তোমার মমতা।
কোথায় আছো দিদি, তোমার কথা তাই অতীতের স্মৃতি।
গুনগুন ঐকান্তিক অনুরননে ভাইয়ার তরে প্রার্থনা,
সমস্ত পৃথিবীর দিগন্তজোড়া রূপ আজ দাদার চোখে,
বোনের শ্যামল আদর পানপাতায় সুপারী,
বলছে দাদা একটা পান খাবি আমি সেজে দিচ্ছি তোকে।সত্যিকারের ভাই উঠে আসো ধরো শক্ত করে বোনের হাত,
বলো চোখে চোখ রেখে, এই পাগলী চিন্তা করছিস কেন,
আমি তো আছি,
সারাজীবন আগলে রাখবো তোকে আমার বুকে।

সুপ্রীতি বর্মন। কবি। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যে। লেখাপড়া করেছেন বাণিজ্যের ম্যানেজমেন্টে স্নাতক আর আর্থিক হিসাব সংরক্ষণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা। প্রকাশিত বই: 'হৃদয় সরসী' (কাব্যগ্রন্থ), 'সোহাগ প্রজাপতির ফুলশয্যা' (সম্পাদিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ)। 'চন্দ্রমুখী' সাহিত্য ব্লগজিনের সম্পাদনা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ওয়েবজিনে নিয়মিত লেখালিখি...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ