আলো নেই আলো দাও

মানস চক্রবর্ত্তী
কবিতা
Bengali
আলো নেই আলো দাও

 

আলো নেই আলো দাও

বুঝতে পারছো তোমায় মালা পরিয়ে দেবী সাজিয়ে এবার ভাসিয়ে দেবে
ওই দ্যাখো কেমন ক্ষেপে উঠছে শেষ জ্যোষ্ঠির আকাশ
তোমাকে এই যে পুজোটুজো তিলক চন্দন … এবার তোমার ঘাটের তরী বইবে
কে যে কোন ঘর থেকে উলু দিচ্ছে , কে যে কোন গাছে চিনে রাখছে বিশল্যকরণী
বার বার সেই শাঁখ বাজিয়ে বাজিয়ে বরণ করতে ছুটে যাচ্ছে তোমার অবয়ব
বিশ্বাস করো তোমার পায়ের তলায় চলা গুলো চলে যাচ্ছে দেখে
মন ক্যামোন কে মন থেকে ডাকছি

 

দুই.

অভিমান ভারি হলে খসে পড়ে
পড়ে তো
কিন্তু কোথায় যে গান বোঝে না সে
শুধু অনায়াসে সেবাদাসী বোঝে
কিকরে যে নিজের খেয়ালে তিলক আঁকে
চন্দন গড়িয়ে দেয় ঠিক যেখানে
অভিমান আস্পর্ধার মতো জেগে ওঠে
ওঠে জেগে জেগে

 

তিন.

যে গাছে দোয়েল বসেছিলো তার কাছেই ঝোলানো দেখি তারের খাঁচা
পাখি ধরা লোকটাকে খোঁজে দোয়েল আর শিষ দিয়ে দিয়ে তার ঘুম ভাঙায়
একটা নকল দোয়েল দাঁড়ে বসিয়ে আর একটা আস্ত পাকা পেঁপে সাজিয়ে সত্যি দোয়েলকে ঢুকিয়ে দ্যায় খাঁচার পেটে
দোয়েল শিষ দ্যায় আর পাখীধরা লোকটা কেঁদে ওঠে
দোয়েল কাঁদে আর পাখীধরা লোকটা হামা দিয়ে ঢুকে পড়তে চায় খাঁচায়
পাখীধরা লোকটা খাঁচার তার খুলতে খুলতে দোয়েলের কাছে যায় আর পাকা পেঁপেটার দু দিকে দু জন ঠুকরোয় … দোয়েল আর সে

 

চার.

কোথাও যায়নি কেউ
ঘাতকেরা শুধু নীল কৌপীন পড়ে
কিছুটা গিয়ে ফিরে আসে
জলের মধ্যে টুপটাপ গুলে গেলে
পর্যটন অস্থির

তখন আর চিরুণীর জন্যে তল্লাশী
টের পায়না কেউ ; অকারণে তিন বছর আগের
উড়ন্ত পায়রা দুটো ঝিমিয়ে পড়ে
নাগর ভ্রমণে

খাদের কাছে একটাই ধাক্কা চায়
শৈশবের আলো , জোনাকির মুখে
অন্ধকার চিরায়ত যেন

হাত বাড়ালেও আর
বৃষ্টি ছোঁয়না সবুজ শরীর

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..