আহিস্তা চল জিন্দেগী

শ্বেতা সরকার
ছোটগল্প
Bengali
আহিস্তা চল জিন্দেগী

 

কফির কাপে দু চুমুক দিয়ে আবার শুরু করলো শ্রী,

” এই হতচ্ছাড়া ভোঁদুসটার পাল্লায় পড়ে লাইফটাই শেষ হয়ে গেল মাইরি, না বোঝে প্রেম, না বোঝে প্যাশন, সারাক্ষণ খালি টাকার অ্যাম্বিশন, উফ মানুষ এতো খুঁত ধরতে পারে! খালি এটা হয়নি ওটা হয়নি, আরে আমি কি এতোটাই লেদুস নাকি? যত্তোসব। ”

সুযোগ বুঝে সৈকত ফুট কাটে,

“কে বলে তুই লেদুস, তুই তো একটা হ্যাদোস, তবে না চলার মত কিছু নয়। ”

” এ্যাই তুই থামবি। ”

ধমক খেলো সৈকত।

” ভারি আমার বন্ধুরে, যা না ওই ভোঁদুসটার সাথে গলা জড়িয়ে বসে থাকনা রে। ”

সৈকতকে ভ্যাঙায় শ্রী। হাসি চেপে সৈকত বলে,

” ওক্কে ওক্কে, থামলাম, কিন্তু আমি জড়াবো কেন, হোমো নই। ”

” তাহলে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করে বসে থাক, আমি মরছি নিজের জ্বালায় উনি আবার ঘি ঢালছেন। ”

শ্রী যে জ্বলছে সেটা দুপুরের ফোন শুনেই বুঝেছে। “ছটায় দেখা করিস ” বলেই কটাস করে ফোন কেটে দিয়েছিলো শ্রী। তখনই বুঝেছে সৈকত ঘন্টা খানেক বকবকানি শুনতে হবে তাকে। তাতে তার কোন আপত্তি নেই। বন্ধু হিসেবে এটুকু করা তার কর্তব্য। তার সাথে একটু মজা করে শ্রীর মুডটা একটু ভালো করার চেষ্টা করা।

” শালা দিমাগ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একা ঘরে সারাক্ষণ কাজ আর কাজ, তার ওপর ওই বিচ্ছু মেয়ে, তার সাথে খালি মেজাজ আর কপাল থাবড়ানো চলছে, খালি তার এই হয়ে গেলো ওই হয়ে গেলো, এ্যাত্তো ম্যানিয়াগ্রস্ত মালটা আমাকে কেন পছন্দ করলো সেটাই বুঝিনা।”

সৈকত ক্লাসে পড়া বলার মতো করে হাত তোলে।

” কি হলো কি বলবি? ”

” মানে আমি বলছি আই এগ্রিড, অমন একটা ল্যালব্যালে ম্যাদামারা মাল তোর মতন উড়োন তুবড়িকে কি করে পছন্দ করলো সেটা সত্যিই আমিও বুঝিনা।”

” আরে সেটাই তো বলছি।”

লাফিয়ে ওঠে শ্রী।

” মালটাকে বিয়ের আগে সব জায়গায় চক্কর কাটিয়েছি, আমি কি করি, কোথায় মিশি, কি পছন্দ করি, সব বলেছি, হতচ্ছাড়া পুরো বোবা ছিলো, একবারও বলেনি জীবনে রবীন্দ্রসংগীত শোনেনি, কবিতা পড়েনি, কোন কালচারাল পোগ্রামে যাওয়া তো দূরের কথা ওসব পছন্দসই করেনা! উফ আমি জাস্ট ভাবতে পারিনা! ”

একটু দম নিলো শ্রী। সৈকত নীরব শ্রোতা। শ্রীর বিয়ের পর থেকেই চলছে এইসব। সবই জানে সে। তবুও চুপ করে শুনে যায়। প্রেসারটা বের হওয়া দরকার। নইলে বিপদ হবে।

” আসলে আপদের তখন একটা রাঁধুনী দরকার ছিলো যে, তাই রাঁধুনী পেয়েছে দেখে বোবা ছিলো, তা বোবা ছিলো তো ছিলো। বিয়ের পরেও বোবা থাকলে ল্যাঠা চুকে যেত, আমি রাঁধতে পারিনা তা তো নয়, তা না সেই থেকে শুরু হয়েছে যত বকবকানি, মেজাজ, ঝগড়া, অশান্তি, যেগুলো আমি একদম সহ্য করতে পারিনা, যেন উনি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সংসারী বাকিরা সব মাথামোটা উড়োনচন্ডী, উফ মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে রে আমার।”

আবার হাত তোলে সৈকত।

“না মানে মাথা ব্যথা করলে ম্যাসেজ করে দিচ্ছি আয়, রাতে ভালো ঘুম হবে, জানিস তো মেয়েরা বলে আমি ম্যাসেজে এক্সপার্ট। ”

ঠোঁট টিপে হাসে সৈকত। দুষ্টু ইঙ্গিতটা বুঝেও শ্রী বলে চলে,

” ঘুম হবে না ছাই, এই যে এতক্ষণ বাচ্চা সামলাচ্ছে যেই ঘরে ঢুকবো কিছু না কিছু নিয়ে ঠিক শুরু করবে, মঝরাত অবধি চলবে, কচু ঘুম হবে। ”

” তাহলে তো না এলেই পারতি, অযথা সুস্থ শরীর থুড়ি মনকে ব্যস্ত করে লাভ কি।”

“এ্যাই আমি কি ওর কেনা বাঁদি নাকিরে? আমি কি রান্না করা আর বাচ্চা সামলানোর জন্য জন্মেছি নাকি? ওর বাইরে বাইরে কাজ, একা ঘরে বাচ্চাটাকে দেখতে হবে বলে আমি কোন জব করতে পারিনা, তাই বলে কি আমার কোন পার্সোনাল লাইফ থাকবেনা ? একটু নিজের মত সময় কাটাতে ইচ্ছে করেনা? তাও যদি সবসময় প্রেম একেবারে উপচে পড়তো তবে নাহয় বুঝতাম, বিয়ের পর দিন থেকে মনে হয়েছে যেন পঞ্চাশ বছরের বুড়ো বুড়ি আমরা, সারাক্ষণ খ্যাচখ্যাচ করে যাচ্ছে, আচ্ছা বোরিং পার্সোনালিটি মাইরি, না পারে প্রেম করতে, না পারে ভালো করে কথা বলতে, না কোন বিষয়ে কোন ইন্টারেস্ট আছে, শালা একটু হিন্টস্ পেলে আমি বিয়ে ভেঙে দিতাম।”

” এই হয় বুঝলি, আমার মত ছেলে সামনে থাকতেও অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করলে এই হয়। ”

আবার টোকা মারে সৈকত। ভেংচে ওঠে শ্রী।

” আহারে, তুই তো আমার আর দিতির মধ্যে কাকে প্রোপোজ করবি তাই ঠিক করে উঠতে পারলিনা।”

” আমি কত নরম সরম ভালো ছেলে জানিস তো।, আমি কি তোদের দুজনের কাউকে দুঃখ দিতে পারি বল? তোরা নিজেদের মধ্যে কাশ্মীরের শান্তি চুক্তি করে নিতে পারতি।”

” ওলে বাবা লে, একেবারে কাকীমার দুদুভাতু ছেলেরে, নিজে কাউকে খুঁজে নে না, কিপটে মাল কোথাকার, আমাদের বিয়ে গুলো কব্জি ডুবিয়ে খেলো আর নিজের বিয়ের খাওয়ার বেলায় ডুগ্গি দিলো। ”

” এ্যাই এ্যাই বিয়ে গুলো কই, আমি তো তোর একটা মাত্র বিয়ে খেলাম রে, এসব খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একদম মিথ্যা বলিসনা, ঠাকুর পাপ দেবে।”

নির্বিকার মুখে সৈকত বলে।

“তাছাড়া তোকে আর দিতিকে দেখে আমার যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে মা, আমি বেশ আছি, অযথা ওই কাদায় পড়ে সুস্থ মনকে ব্যস্ত করা, তাছাড়া তখন বৌ নিয়েই থাকতে হবে, তোর আর দিতির বকবকানি শুনবে কে তখন? ”

” তাহলে আমার মাথা চাটিসনা, এই তো যা ঘন্টাখানেক সময়, ফিরে গিয়ে তো আবার ওই গোয়ালে, ভোঁদাটাকে কোন মেয়ে প্রপোজও করে না, করলে তার সাথে লটকে দিতাম।”

” লটকে দিতিস মানে? বর বেহাত করতিস? ”

” বেহাত হতে যাবে কেন, আমার মাথা ধরানো বন্ধ হতো।”

” সেকিরে, আর যদি সত্যিই হাবুডুবু খেয়ে তোকে আউট করতে চায়? ”

খিলখিলিয়ে হাসে শ্রী। ভারি মজা পেয়েছে সে।

” তাহলে তো সোনায় সোহাগা, আমাকে আইন আদালতের হ্যাপা পোহাতে হবেনা, যা করার ওই করবে, আমি সেরেফ সইটি মেরে দেবো বুঝলি? ”

হি হি করে হাসতে থাকে শ্রী।

“বুঝলাম বুঝলাম।”

বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ে সৈকত।

” তাছাড়া অতো লাট খাওয়ার দম নেই ভোঁদুসের, তবে কিনা ওই ফিলিং প্রেম প্রেম ব্যাপারটার মোহ কেউ কাটাতে পারেনা বুঝলি, ও যদি নিজে চ্যাট করে তাহলে আমাকে জ্বালাবেনা বুঝলি, আমি একটু শান্তিতে গান কবিতা গল্পের অডিও ভিডিও দেখতে পারি, পিডিএফ পড়তে পারি, নইলে তো আবার নেটে কার সাথে প্রেম করছি ভেবে অশান্তি করবে। ”

” বুঝলাম, কিন্তু এবার তোর বরকে হিংসে হচ্ছে মাইরি, তুই আমাকে বিয়ে করলে আমিও ওর মতো গাছেরও খেতাম আবার তলারও কুড়োতাম। ”

” আহারে কত্তো আফসোস, আমি তখন তোমাকে ল্যাম্পপোস্টে টাঙাতাম বুঝলে সোনা। ”

দিন যায়। হিমাদ্রির মেজাজ যেন আজকাল সপ্তমে চড়েছে। শ্রী আজকাল চুপ করে থাকাকেই উচিত বলে মনে করে। কিন্তু কান তো বন্ধ করা যায়না। শ্রী চুপ থাকলেও হিমাদ্রির বলা থামেনা। যখন তখন কিছু না কিছু কানে আসতেই থাকে। সত্যিই ভীষণ ক্লান্ত লাগে তার। যে মানুষ গুনের থেকে বেশী দোষ দেখে, প্রশংসার থেকে বেশী নিন্দা করতে পছন্দ করে, বর্তমানে সন্তুষ্ট হওয়ার থেকে অতীত ও ভবিষ্যত নিয়ে হাহুতাশ করতে বেশী ভালোবাসে, তার সাথে সম্পর্কটা নুন ছাড়া তরকারির মত হতে বাধ্য। শ্রী আজকাল সত্যিই পালানোর পথ খোঁজে। দিন দিন সম্পর্কটা বিষিয়ে যাচ্ছে। চুপ করে থেকেও শান্তি নেই। শ্রীর সত্যিই পাগল পাগল লাগে। হিমাদ্রি মনে করে কোন কিছু নিয়ে শ্রীকে ছোট করে যদি অন্যের প্রশংসা করা যায় তাহলে শ্রী তার ভালোবাসা পেতে হিমাদ্রির প্রতি আরও মনোযোগ দেবে। সে বোঝেনা ক্রমাগত তাচ্ছিল্য পেতে পেতে নিজেকে প্রকাশ করার ইচ্ছেটাই মানুষ হারিয়ে ফেলে। আসলে শ্রী বুঝে গেছে যত ভালো করেই সংসার করুক না কেন তার সমস্ত কাজেরই ত্রুটি ধরা হবে। যত ভালোবাসাই সে দেখাক তার সব ব্যবহারই সন্দেহের তালিকায় পড়বে। তাই নিজেকে প্রমাণ করার ইচ্ছেটা শ্রীর আর নেই। হিমাদ্রির শত বাঁকা কথাতেও সে পাথরের মত নির্বিকার থাকে।

ফোনের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে ছিলো রত্না। দুপুরেই নোটিফিকেশনটা দেখেছে সে। খুব বেশী কোন পুরোনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই তার। ফেসবুকেও কোন পুরোনো বন্ধু নেই। রত্না ভাবছে হিমাদ্রি কি করে তাকে খুঁজে পেল। তার প্রোফাইল লক করা আছে। প্রোফাইল পিক এ তার ছবিও নেই তবুও হিমাদ্রি বুঝলো কি করে এটা তার প্রোফাইল। হিমাদ্রির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটা দুপুরেই এসেছে। পুরোনো দিনগুলো ভেসে উঠছে চোখের সামনে। কলেজের ক্লাসে, কোচিনে, বন্ধুদের আড্ডায়, বাড়ি ফেরার রাস্তায় যে অপলক দৃষ্টি সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিলো সেই একই অপেক্ষায় যেন হিমাদ্রি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বসে আছে। সময় বদলেছে। দুজনের পরিবেশ পরিস্থিতিও বদলেছে। তবুও কেন জানিনা রত্নার খুব জানতে ইচ্ছে করত হিমাদ্রি কেমন আছে। আচ্ছা হিমাদ্রিও কি তাই ভাবে। নাকি শুধুই পুরোনো ব্যাচ দেখে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রিকোয়েস্টটা অ্যাকসেপ্ট করলো। অ্যাকসেপ্ট করার সাথে সাথেই মেসেঞ্জারে পিং হলো।

” কি রে, কেমন আছিস, অনেক দিন পর যোগাযোগ হলো। ”

রত্না বুঝলো হিমাদ্রি আগে থেকেই ম্যাসেজ টাইপ করে রেখেছে যাতে অ্যাকসেপ্ট করলেই সে দেখতে পায়।

বছর দুই আগে ফেসবুকে আসার পর থেকেই রত্নার প্রোফাইল অনেক খুঁজেছে হিমাদ্রি। পুরোনো অনেক বন্ধুর সাথে আবার যোগাযোগ হলেও রত্নার খোঁজ সে পায়নি। খুব জানতে ইচ্ছে করতো রত্না কেমন আছে। প্রথম প্রেম সযত্নে লালিত হয় হৃদয়ের গহন বাঁকে। মাঝেমাঝেই হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে সেই আরশি নগরে। আজ দুপুরেই হঠাৎ করে খুঁজে পেয়েছে প্রোফাইলটা। রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বারবার দেখেছে অ্যাকসেপ্ট করলো কিনা। এতো দেরী দেখে একবার ভাবতে শুরু করে ছিলো হয়তো অ্যাকসেপ্ট করবেনা। খানিক চাপা কষ্ট উঠে এসেছিলো গলার কাছে। রাতে নেট অন করতেই দেখলো রত্না অ্যাকসেপ্ট করেছে। খুশিতে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে শ্রীকে উদ্দেশ্য করে বললো,

” আমার জীবনের শেষ ইচ্ছে আজ পুরোন হলো, আর কোন আফশোশ নেই, কতদিন দেখার ইচ্ছে ছিলো গো, আজ ভগবান আমার ইচ্ছেটা শুনেছে, এতোদিনে রত্নার দেখা পেলাম, আহা।”

শ্রী প্রথমটা পাত্তা দেয়নি। ভেবেছিলো তাকে খোঁচানোর জন্য হিমাদ্রি যেমন বকবক করে তেমনই বকছে। কিন্তু রত্না নামটা শুনে চমকে উঠলো সে। রত্না মানে সেই মেয়েটা। হিমাদ্রির প্রেমে একটি মেয়েই হাবুডুবু খেয়েছে বলে সে জানে। তারপর যা হয় পরিবেশ পরিস্থিতিতে কানেকশন কাট। কিন্তু রত্নাকে নিয়ে হিমাদ্রিকে হাহূতাশ করতে শুনেছে অনেকবার। ওদিকে হিমাদ্রি শুনিয়ে শুনিয়ে বকেই চলেছে,

” বুঝলে ভগবান দেখলো এত করে চাইছি যখন তখন দিয়েই দিই, এতদিনে ঠিক খুঁজে পেলাম, কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেলো গো, সেই রত্না আর নেই, কেমন হয়ে গেছে। ”

শ্রী এবার সত্যিই খুশিতে মনে মনে হাসলো। যাক এতোদিনে ভোঁদুস ফাঁসলো। উঁহু বাওয়া পুরোনো পেরেম বলে কতা অত্তো সোজা নয়কো ভুলে যাওয়া। যদিও তার কোন দিনই বন্ধু বান্ধব নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। শ্রী বিশ্বাস করে বন্ধুদের সাথে খানিক বকবক করে না হ্যাজালে মানুষ পাগল হতে বাধ্য। হিমাদ্রির কোন বন্ধু নেই। হিমাদ্রি ফালতু আড্ডা পছন্দ করেনা। সবসময় শুধু কাজ আর হিসাব, হিসাব আর কাজ। শ্রী চেষ্টা করেছে তার মত করে। কিন্তু হিমাদ্রি কোনদিনই শ্রীকে বন্ধু ভাবতে পারেনি। স্বামী স্ত্রীর দূরত্ব বজায় রাখাকেই শ্রেয় মনে করেছে। শ্রী হাসি হাসি মুখে কাছে আসে।

” আহা গো, সে বয়স হয়েছে তো কি হয়েছে, তোমাকে ভোলেনি বুঝলে, আমার থেকে বেশী ভালোবাসবে দেখো। ”

ঠোঁট টিপে হাসে শ্রী। হিমাদ্রি ছবি দেখিয়ে বলে,

” এই দ্যাখো, বলতো কোনটা, এটা ওদের চার বোনের ছবি, বলতো কোনটা। ”

শ্রী শুনেছিলো রত্না ছোট বোন। তাই ওই চার বোনের মধ্যে যাকে ছোট মনে হলো তার দিকে আঙুল তুললো।

” আরেহ্ ঠিক ধরেছো এটাই, তুমি বুঝলে কি করে? ”

“তুমিই বলেছিলে সবার ছোট, তাই যাকে ছোট মনে হলো তাকে দেখালাম, কিন্তু ওকে দেখে খুব দুঃখী দুঃখী মনে হচ্ছে, কথা বলো ওর সথে, ওরও বন্ধু দরকার। ”

সত্যিই রত্নার ছবি দেখে শ্রীর মনে হলো মেয়েটা তার মতোই কষ্টে আছে। মনের কষ্ট। প্রকাশ করতে না পারার কষ্ট। শ্রী ভীষণ রকম চাইছিলো সুজিত রত্নার সাথে কথা বলুক।

দিন সাতেক পর রাতে শ্রী চোখ বন্ধ করে হেডফোনে গুলজারের অডিও শুনছে। বারান্দায় ফুরফুরে হাওয়া বইছে। মেসেঞ্জারে সৈকত পিং করলো।

” কি রে, এতো রাতে জেগে যে, ভোঁদুস কিন্তু সারারাত চেঁচাবে।”

“হিহিহি আর চেঁচাবেনা, উনি এখন ওনার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে চ্যাট করছেন।”

” অ্যাঁ, সে কি রে! সত্যিই মালটাকে লটকে দিলি, যাহ্। ”

” হাহাহাহা, দিলাম তো, এখন শান্তিতে গুলজার শুনতে দে, জ্বালাস না। ”

” ওক্কে ওক্কে, তবে তুইও একটা পেরেম টেরেম করে ফ্যাল বুঝলি, কাজে দেবে। ”

” ওরে মরা, দিনের শেষে প্রেমটা তোর সাথেই তো করি, বুঝিসনা হাঁদুস। ”

” ওরে হতচ্ছাড়ি, এটাকে প্রেম বলেনারে, সান্ত্বনা পুরস্কার বলে রে শালা। ”

শ্রীর পেট ফেটে হাসি বেরোতে চায়। মালটা হেব্বী ক্ষেপেছে।তাতে অবশ্য কোন টেনশন নেই। কাল সকালে “ওলে বাবলে কাকীমার দুদুভাতু ছানার রাগ হয়েছে ” মার্কা একখানা ম্যাসেজ করলেই সব গলে জল হয়ে যাবে। হাসি চেপে শ্রী চোখ বন্ধ করে গুলজারে ডুব দেয়।

” আহিস্তা চল জিন্দেগী
আভি কাঁহি কর্জ চুকানা বাকি হ্যায়
কুছ দর্দ মিটানা বাকি হ্যায়
কুছ ফর্জ নিভানা বাকি হ্যায়…”

শ্বেতা সরকার। জন্ম ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি। স্থান, বাবার কর্মস্থল টিকিয়াপাড়া রেল কোয়াটার, হাওড়া,বাংলা, ভারত। পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে হাওড়া নরসিংহ কলেজ থেকে বায়ো-সায়েন্সে স্নাতক। ছোট বেলা থেকেই নাচ,গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফিতে ছিল শখ। বিবাহসূত্রে খড়্গপুরের বাসিন্দা। আঞ্চলিক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

বিভেদ

বিভেদ

অন্তরাদের ফ্ল্যাটের সামনে পাশের বাসায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ থাকে। ওদের বেলকনি আর অন্তরাদের বেলকনি প্রায়ই…..