আয়না নামক দ্বিতীয় কবিতা

ওয়াহিদার হোসেন
কবিতা
আয়না নামক দ্বিতীয় কবিতা

আখড়া

বিড়িও নিজের মতো আখড়া খুঁজে নেয়
ধোঁয়াকার হয়
ভাতের গন্ধ যখন আকাশে উড়ে যায়
ক্ষিদের আয়োজন

খোল করতাল বাজিয়ে

নদীতীরে মোহানা খুলেছে
তার পাশে

অগ্নিজ্বলে
ধিকি ধিকি সরে যায়
ধোঁয়া ওড়ে আসমান জমিন

সকালে পাথর বাটি
কুমির তুলেছে খালকেটে
এক নৌকো থেকে অন্য নৌকায়
আসা যাওয়ার গান

ভোরাই এখানে এসে চুপটি হয়েছে।

 

আয়না নামক দ্বিতীয় কবিতা

আয়নার থাকে অস্পষ্ট ইঙ্গিত
সে আমাকে প্রত্যেক বার উল্টো আচরণ ফিরিয়ে
দেয়
প্রেমিকের মতো
চুল আঁচড়ে নিই

কাকের বাসায় এসে বসে কোকিল
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে

প্রেমের নীরব ভাষা আছড়ে
পরে ব্যার্থ উপত্যকায়

 

মিথের ঘোড়া

সেন্টর আর মিথের যত ঘোড়া
থিতু হয়
বর্ষাফলক নিয়ে আশমানে দাঁড়ায়
অলৌকিক আদেশের অপেক্ষায়

মেলায় আসা মেয়েদের ঘামের ঘ্রাণ খুঁজে পাই
এমন সন্ধ্যায়

তানপ্রধান ছন্দে
জ্যোৎস্নায়

মনে পড়ে অনেকদিন আগে
কীত্তন শুনে ফিরেছি মধ্যরাতে

 

আখড়ায় তৃতীয় দিন,মধ্যরাতে 

খোল শুয়ে আছে পুরোনো
আখড়ায়

আগুন ফুটছে
জল গরম হচ্ছে
পাথর থেকে খুলে আসছে
চাঙড়

মাঝরাতে উনুন ঘিরে
খিদের উৎসব

টুনিবালবের ভেতর থেকে
ঝরে পড়ছে ঐশ্বরিক আলো

 

আখড়া থেকে ফেরার পর

ঘুম আসেনা

বান্ধবীর দোপাট্টার গন্ধে বিভোর হয়ে আছি

শেষরাত
কত পুরোনো কথা মনে পড়ছে

তোমাকে না পেয়েও কত পাওয়া হল

জীবন ফুরিয়ে এলো ব্রাদার

অথচ রাত শেষ হচ্ছে না আর

ওয়াহিদার হোসেন। কবি। জন্ম ১৯৮৬, ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের আলিপুরদুয়ার জেলার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি রাঙ্গালিবাজনায়। লেখাপড়া করেছেন ইংরেজি সাহিত্যে। পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষক। চাকরি করছেন ডুয়ার্সের এক প্রত্যন্ত চা বাগানের প্রাথমিক স্কুলে। প্রকাশিত বই: 'মধ্যরাতের দোজখ যাপন' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৩) এবং 'পরিন্দা' (কাব্যগ্রন্থ,...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ