ইলিশ কথা

চৈতালী ব্যানার্জী
কবিতা
Bengali
ইলিশ কথা

ইলিশ কথা

আকাশ কালো ঢাকলো মেঘে, পুবের হাওয়া বয়,
এমন দিনে এ মন আমার ঘরেতে না রয়!

শুরু হোলো ইলশেগুঁড়ি, সঙ্গে শীতল বায়
তার সঙ্গে ইলিশ ভাপা, মন করে হায় হায়!

রুপোলী এই শস্য যে গো মোদের বড়োই প্রিয়,
হরেক রকম স্বাদের পদে, পরশ জিভে দিও!

সর্ষেবাটা, ভাজা, এবং হালকা বেগুন ঝোল,
গরম ভাতের তেলে মাখা, বলো হরি বোল!

বর্ষা এলো ঝমঝমিয়ে সঙ্গে ইলিশ দই
টাপুর টুপুর জলের নূপুর নাচছে তাথৈ থৈ!

বাদলদিনের এই তো মজা খিচুড়িরই ভোজ,
তার সঙ্গে ইলিশ যে চাই, হোক না কেন রোজ!

ছন্দে তালে মিলিয়ে এবার ধরবো যে মল্লার
ইলিশ মাছের গন্ধে ম ম করবে ঘর দুয়ার!

আহা! আহা! মনের সুখে রুপোলী রং ভাববো
এবার তবে সাঙ্গ করি মধুর ইলিশ কাব্য!

 

ফালতু

পাড়ার মোড়ে আড্ডা মারি, অলস জীবন বয়
ছোটোখাটো কাজ কারবার, বলার মতো নয়!

চায়ের দোকান, ভাতের হোটেল, তুচ্ছ কিছু আরো,
সমাজ দেখে নীচু চোখেই, চাকরি তো নেই কারো!

হাসপাতালে ভীষণ আগুন, সবার চোখে ভয়!
আমরা ক’জন ঝাঁপিয়ে গেলাম..তা নাহলে হয়!

বিপদবাধার ঝুঁকি নিয়ে জীবন বাজি রেখে,
আনতে হবে বাঁচিয়ে ওদের মরণ গ্রাসের থেকে!

সামনে বাড়ির কৃতি ছেলে, মস্ত অফিসার,
ছোটবেলার খেলার সাথী, মেশে না সে আর!

অফিস টা তো যেতেই হবে, কি যে বাড়াবাড়ি,
কালো কাঁচে ঢাকা যে তার মস্ত বড়ো গাড়ি!

তফাৎ শুধুই চিন্তাধারায়, বন্দী বিবেক আজ
মানবতার গন্ডী পেরোয় আকাশছোঁয়ার কাজ!

শিক্ষা বিত্ত উচ্চপদের ওজন বেজায় ভারী,
মনের তাগিদ, স্বার্থ ভুলে এগিয়ে যেতে পারি!

পাইনা তবু মানুষ ব’লে সামান্য সম্মান,
ফালতু হয়েই বাঁচার লড়াই… এই সমাজের দান!

 

‌অসহায় কাব্য

জীবন চলবে নিজের নিয়মে তার,
আমরা মরবো নিষ্ফলা মাথা কুটে,
গড়বে স্বপ্ন , হবে কিছু ছারখার,
এভাবেই চলা অনির্দিষ্ট ছুটে!

সামনে থাকবে সুখের সোনার পথ….
আঁকবো দুচোখে স্বপ্নের কত ছবি,
পলকে ভাঙবে কল্পনা মনোরথ
এক নিমেষেই লন্ডভন্ড সবই!

পরিকল্পনা ইচ্ছেঘোড়ার লাগাম,
আমার হাতেই চিরকাল নয় থাকুক,
যদি জানা যেত সমস্তটাই আগাম!
চিত্রগুপ্ত হিসাব নাহয় রাখুক!

অবুঝ ভাবনা, বোবা চোখ ভাসে জলে,
জীবনের থেকে বড়ো গুরু কেউ নেই,
শিক্ষায় বাঁচি প্রতি ক্ষণে, প্রতি পলে,
ভাগ্য পাশার দান পড়ে সহজেই!

আসবে যাবেনা কারুর কিছুতে আর,
থাকলো কে পড়ে পিছনের সারিটায়,
যে যার মতন ভরে নেবে সংসার,
হারা জেতার এই অদ্ভুত বাজিটায়!

জীবনের এক আজব খামখেয়াল,
নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ
স্রোতে ভেসে চলা কর্মের বেড়াজাল,
লাভ লোকসান অঙ্ক কষছে মন!

হয়তো বা মাথা আকাশ ছাড়িয়ে যাবে,
কিম্বা থাকবে পরাজিতদের দলে,
কালের ঘন্টা যেই না শুনতে পাবে,
চলে যেতে হবে হাসিমুখে সব ফেলে!

 

নতুন ভাবনা

শহর থেকে একটু দূরে বাগান দিয়ে ঘেরা,
ওটা একটা বৃদ্ধাশ্রম — বয়স্কদের ডেরা!
বয়েস হলে শক্তি কমে – সেটাই স্বাভাবিক,
তাই বলে কি কমবে মজাও! এটা তো নয় ঠিক!

ওই বাড়িতে থাকেন যাঁরা, বয়েসে প্রবীন,
বাইরে খোলোস বৃদ্ধ, মনে ষোলোআনা নবীন !
অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে এখন এঁরা একা,
দূরে থাকা প্রিয়জনের পান না হয়তো দেখা!

ছেলে থাকে বিদেশে বা মেয়েরা বিবাহিতা,
কিম্বা সাথী ছেড়ে গেছেন, জীবন সমর্পিতা!
বেঁচে থাকার রসদ আছে, বন্ধু শুধু নাই,
সঙ্গীবিহীন একলা থাকা খাচ্ছে কুরে তাই!

মনের মতন বন্ধু স্বজন এইখানেতেই পাওয়া!
এক তুড়িতে উড়িয়ে দেওয়া মনখারাপী হাওয়া
সবাই মিলে চড়ুইভাতি, কিম্বা ঠাকুর দেখা,
কারুর মুখে ছাপ ফেলেনা অবসাদের রেখা!

বৃদ্ধ আবাস মানেই যেন দোষারোপ আর রাগ!
দায় দায়িত্ব কর্তব্যের যোগ আর গুণ ভাগ!
বস্তাপচা এই ধারণা বদলে ফেলো এবার…
দুঃখ শুধুই বাড়বে, হিসাব করলে দেবার নেবার!

আনন্দেতে আছেন এঁরা, একবয়সী সাথী,
খেলাধুলা, আড্ডা দেওয়া, বেজায় মাতামাতি!
পরিজনও নিশ্চিন্তে, হালকা মনের ভার,
পারস্পরিক বোঝাপড়ায় খুলছে নতুন দ্বার!

অনন্যোপায় সন্তানেরা বাধ্য হয়েই দূরে,
ইচ্ছে হলেও মা বাবাকে পাননা নিজের ঘরে
মনটা থাকে তাঁদের কাছেই, শরীর যোজন দূর,
স্বার্থপর সবাই তো নয়–ভাবনা করো দূর!

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ