ঈর্ষার নীলোৎপল

অনসূয়া যূথিকা
গল্প
Bengali
ঈর্ষার নীলোৎপল

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: লেখাটি ১৮+ বয়সী পাঠকদের উদ্দেশে লিখিত। অনাগ্রহীরা লেখাটি এঁড়িয়ে যেতে পারেন। 

আজ সমীর বাসাতেই ছিল, আর ঘরে থাকলে যা হয় বউয়ের সঙ্গে খুনসুটি চলছিল। বাদ ছিল না অল্পস্বল্প শরীরী খেলাও। প্রচন্ড রকম পরিচ্ছন্নতা বাতিক আছে জেনির, জানে সমীর। ভোরে উঠে রাতের সব শরীরী খেলার চিহ্ন ধুয়ে ফেলে জেনি, আস্নানে। নিজেকে ধুয়ে মুছে আনকোরা শাড়িতে জড়িয়ে কোনক্রমে বেরিয়ে আসে বাথরুম থেকে শোবার ঘরে। কিন্তু জেনি জানে তাকে তাড়া করছে কয়েকজোড়া চোখ। তিন বেডের এই ফ্ল্যাটে দুটো ওয়াশরুম বটে কিন্তু বাড়ির বাসিন্দা বড় কম না। সমীরের সঙ্গে আগে থেকেই এই ফ্ল্যাটে ছিল তার এক বিবাহিত  বন্ধু বিপুল ও তার স্ত্রী পুতুল আর তাদের এক বাচ্চা থাকে এখানে৷ তাদের অতিথি মেহমান আত্মীয়রা রোজই দরবেঁধে আসে যায়, লোক বড় কম না এই আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে।

একেক দিন স্নান সেরে বেরিয়েই পুতুলের সামনে পড়ে জেনি, প্রচন্ড ঘৃণা আর আক্রোশ দেখে সে পুতুলের সমস্ত অবয়ব জুড়ে! নিজের শ্বশুরবাড়ির কারু সঙ্গে এখনো পরিচয় ঘটে নাই তার, জানে না নতুন বউয়ের সাথে এরকম আচরণ করে কীনা কোন পরিবার কিন্তু পুতুল তো জেনির শ্বাশুড়ি না। সমীরের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে পুতুল জেনির জা, বয়সেও কাছাকাছি কিন্তু তার এই মুরুব্বি সুলভ কড়া আচরণের মানে বোঝেনা জেনি।

এ বাসায় আসার পর থেকেই জেনির উপরে একটা কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুতুল তার সব গৃহস্থালি কাজেই অহেতুক হস্তক্ষেপ করে। জেনি খুব যে গৃহকর্মে পারদর্শী তা না কিন্তু একেবারে অপটুও না। তবুও পুতুল একটানা তম্বি করে চলে, কখন জেনি রান্না করবে কখন কী কাজ করবে।  সেদিন  তো সে বলেই বসলো, তোমার কি রোজ সকালেই ফরজ গোসল করা লাগে?  কেন রাতে করতে পারো না গোসল?  বাড়ি ভর্তি লোকের সামনে এই এতো লম্বা চুল খুলে ঘুরবা এখন, লজ্জা করে না তোমার!? লোককে জানাতে খুব ইচ্ছা করে নাকি যে তুমি রাতভর কী কান্ড ঘটাইছো? স্তম্ভিত জেনি কোনক্রমে কান্না চেপে নিজের ঘরে ফিরতে পেরেছিল!

দুই বন্ধু একসাথে থাকবে বলেই এই তিনবেডের ফ্ল্যাট নেয়া হয়েছিল বছর পাঁচেক আগে বিপুলের বিয়ের পরপরই৷ কিন্তু বিপুলের ইনকাম কম, একটা দৈনিক পত্রিকায় বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে সে, বেতন তেমন আহামরি কিছু না। তাই এই ফ্ল্যাটের ভাড়ার বেশিরভাগটা দেয় সমীর। তাছাড়া  পুরো ফ্ল্যাটে সমীরের নিজেরই কেনা নানান রকম  আসবাবে ভরা৷ এমনকি বিপুল   দম্পত্তির নিজস্ব বেডরুম, গেস্টরুমের আসবাবও সমীরেরই৷এতোদিন এই ফ্লাটের একচ্ছত্র কর্ত্রী ছিল পুতুল, এপার্টমেন্টের আর সব প্রতিবেশীদের কাছেও তার বড় কদর। লোকে পুতুলেেে সাজানো সংসার দেখতে আসে, প্রশংসা করে। তাছাড়া মিডিয়া জগতের অনেক নামী স্টারের খবর জানতে পারে তারা পুতুলের কাছে। দামি ট্রেন্ডি আসবাবে সাজানো এতো  বড় ফ্লাটের    জন্য প্রতিবেশী ভাবীদের কাছে পুতুলের আলাদা একটা সম্মান তো আছেই।

বিপুল আর পুতুল তাই জেনির এ বাসায় আসা বা থাকা সহ্য করতে পারে না একদমই।

ডাইনিং স্পেসের সাথে লাগোয়া একটা ঘর বরাদ্দ ছিল সমীরের জন্য আগে থেকেই। এপার্টমেন্টের আর সব ভাড়াটেরা জানতো বিপুলই আসল ভাড়াটে, সমীর তার ভাই তাই ওদের সংসারে থেকে ব্যবসা করে। এইরুমের পাশের কমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয় সমীরকে এবং  জেনিকেও। আগে সমীর প্রতি বেলা বাইরে খেতো বলে রান্নার ঝামেলা ছিল না। এক আধদিনের জন্য সখ করে রান্না করলে তারা সবাই মিলে খেতো। কিন্তু জেনি আসবার পরে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। রোজকার রান্না করবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় কখন পুতুল মানে সমীরের সেই বন্ধু পত্নীর রান্না শেষ হবে। তারপরে সে রান্নাঘরে গিয়ে নিজের কাজ সারতে পারবে৷

আজও স্নান সেরে বেরিয়ে পুতুলের   সামনে পড়ে জেনি। বাথরুমে রাখা পুতুলের বালতি মগ সব ভালো করে ধুয়ে রেখেছে কীনা ব্যবহারের পরে জানতে চায় সে। ফের বলে, নিজের গোসলের জন্য বালতি মগ কিনতে পারো না নবাবজাদি?  বিয়ের সময় বাপ মা কি কিচ্ছু দেয় নাই নাকি?  কেমন ফকিন্নির ঘরের মেয়ে তুমি?

কোনক্রমে নিজের ঘরে ফিরে ত্রস্ত হয়ে  শাড়িটা গুছিয়ে পরতে চেষ্টা করে। সারা শরীর কাঁপছে থরথরিয়ে, বহু কষ্টে নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ আনে৷

মনে পড়ে যায় প্রথম যেদিন সমীর তাকে এই ফ্ল্যাটে নিয়ে আসলো, দরজা খুলেই পুতুল কেমন জ্বলুনি নিয়ে তাকে দেখছিল। জেনির সালামের জবাবটাও দেয় নাই। এমনকি জেনির আনা বাজার ফ্রিজে রাখার সময় প্রচন্ড বিরক্তি দেখিয়ে ছিল। একরকম ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিতে দিতে বলেছিল, ফ্রিজে হাত দিও না। আমি সব গুছিয়ে রাখছি!

সকালে নাস্তা বানানোর সুযোগ পায়না জেনি, যাহোক শুকনো কিছু বা পাউরুটি বিস্কুট খেয়ে সমীর বেরিয়ে যায়। আজ বাড়ি আছে সে, রান্নাঘর ফাঁকা দেখে জেনি এর মধ্যেই রান্না চড়িয়েছে, নিজের মনের মধ্যে চলতে থাকা ঝড় সামলাতে মন দেয় রান্নায়।

বারবার আসা যাওয়া করছে হেঁশেল আর শোবার ঘরে। সমীরের প্রচন্ড চায়ের ঝোঁক, সঙ্গে সে চেইনস্মোকারও বটে। চা চুলায় বসিয়ে এসে ঘরটা একটু গোছাবে বলে ভাবে কিন্তু তা আর হয়না। সমীরের আলিঙ্গনে ধরা দিতে হয় তাকে।

সমীর খুব ভালো করে জানে  জেনি বড় ভালো এই খেলাতে। অবশ্য জেনি নিজেই দাবি করে সে ভালো সাকার। সমীরের এই একটা বিষয় লাগেই লাগে, যতোই কেন না সঙ্গম চলুক  এর আগে যতোজনের সঙ্গে প্রেম করেছে তাদের সবার কাছ থেকেই সে এই দাবি আদায় করে ছেড়েছে কিন্তু জেনির মতো কেউ পারে নাই। প্রবল আশ্লেষে ডুবে যেতে থাকে তারা দুজনই।সমীরের পুরোটা শিশ্ন তখন জেনির দখলে, দখলের বদলে বলা যাবে জেনির মুখে। খুব মজাদার কোন চকোলেটের মতোই সে চুষসে সমস্ত শিশ্নটাতেই। পর্ণহাবের কোন পর্ণ স্টারের চাইতে রমণ কৌশল কম জানে না জেনি।

হঠাৎই পর্দা দুলে উঠে দরজার এবং সঙ্গে সঙ্গে একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠে, ভাবি ঘরের মধ্যে কি করেন এখন সকালবেলা! চায়ের জন্য পানি বসাইসেন কেন বাবুর দুধের পাতিলে!!  আপু আসলে রাগারাগি চেঁচামেচি করবে, চুলা থেকে পাতিল নামায়ে তারপরে ঘরে আইসা যা খুশি করেন। ছটফট করতে করতে নিজেকে সামলে নেয় জেনি, সমীর যেনো পুরাই বাহ্যজ্ঞান রহিত। কী ঘটলো তা যেন সে বুঝতে পারছেই না!!

কান্না চেপে জেনি ছুটে যায় রান্নাঘরে, পুতুল ফিরে এসে কী বলবে সেই চিন্তা করে ঘামতে ঘামতে ফের নিজের রুমে ফেরে।

একটু পরে আবার সেই মেয়ে, যে পুতুলের বোন সে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে জেনিকে ডাকে। বলে দ্রুত রান্না শেষ করতে নয়তো পুতুল রাগারাগি করবে। রান্না শেষ হতে হতে জেনি শোনে, পুতুল ফিরলো মেয়ে নিয়ে। বাড়তেই থাকে পুতুলের গজগজানি। অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছে জেনিকে নিজের ঘরে বসে। একবার এসে বলেও যায়, তোমার রান্না করা হলে আমার সব ডেগ ডেকচি ধুয়ে রান্নাঘর মুছে রাখবা। আর নিজের জন্য ডেকচি কিনতে পারো না?  আমার ভাতের হাঁড়ি ধরবা না, মাড় ফেলার ডেগে তোমার জন্য ভাত করবা!

জেনি জানে এই ঘরের আসবাব সবই সমীরের। এমনকি রান্নাঘরের সমস্ত রকম হাঁড়িপাতিল, হাতা খুনতি, মায় শোকেস ভরা যেসব ক্রকারিজ তাও সমীরেরই কিন্তু তাতে জেনির কেনো কোন অধিকার নাই সে জানে না। কেন পুতুল তাকে ফ্রিজ থেকে কিছু বের করতে দেয় না কেন প্রতিবার প্রতিটা কাজের জন্য অনুমতি লাগে!  জানে না জেনি…

সারাদিনের এতো সব কান্ডের পরেও সময়ের  নিয়মে রাত নামে, সমীর অফিস সেরে বাড়ি ফেরে। সারাটাদিনের রোজকার গ্লানি আর অপমান ভুলতে চেষ্টা করে জেনি। সময়ের সাথে সাথে সেও মেতে উঠে শরীরী উন্মত্ততায় কিন্তু কোথাও যেনো তাল কেটে যায়। জেনি বোঝে তার রুমের বাইরে কারা যেনো ঘোরেফিরে, কারা যেন ফিসফিস করে!  রমনক্লান্ত জেনি ঘুমের কাছে আশ্রয় খোঁজে, রাতে কেন কে জানে ঘুম ভাঙে যায়। দেখে সমীর তো পাশে নাই!!  হয়তো ওয়াশরুমে গেছে সে, আসবে এখনি। ফের ঘুমোতে গিয়ে আচমকা যেন কী ভাবনায় ত্রস্তে উঠে ডায়নিঙ ছাড়িয়ে বাথরুম দেখে, নেই সেখানে। পাশের গেস্টরুমের দরজা খোলা, হালকা আলোয় বোঝে সমীর আর পুতুল মত্ত সেখানে আদিম খেলায়। দরজা খোলাবা কেউ দেখতে পারে সেই জ্ঞান নাই তাদের। এর আগে কয়েকদিন ঘরে সমীরকে না পেয়ে রুম ছেড়ে দরজার বাইরে তাকিয়ে  দেখে ডাইনিঙে কথা বলছে পুতুল আর সমীর ঘনিষ্ঠ হয়ে। কী এমন কথা বলছে তারা এই রাত দুটোর সময়  , তা শুনতে পায় না জেনি।  এখন আর বুঝতে বাকী থাকে না পুতুল কেন সহ্য করতে পারে না জেনিকে।

পরদিন এবং তারও পরের অনেকগুলো দিন অনাহারে অর্ধাহারে কাটে জেনির। পুতুল কিছুতে রান্নাঘর ছাড়ে না, রান্না বসাতে দেয়না জেনিকে। ঘন্টার পর ঘন্টা আলু কি ডাল বসিয়ে রাখে সিমারে। কখনো পেঁয়াজ ভাজতে বসিয়ে রেখে বন্ধ করে দেয় গ্যাস। কোনক্রমে রাতেই একটা তরকারি করে রাখার মতো সুযোগ দেওয়া হয় জেনিকে।

এক বিকেলে ভীষণ সাজগোজ করে বাইরে যাচ্ছিল পুতুল, বোন আর মেয়েকে নিয়ে দরজা বন্ধ করবার জন্য ডাকে সে জেনিকে। বাইরে না গিয়ে নিজের সাজ দেখিয়ে জেনিকে বলে, কেমন দামি ড্রেসটা আর সুন্দরও তাই না? আমি পরেছি বলেই এতো সুন্দর লাগছে ড্রেসটা। তোমার মতো ফকিন্নি টাইপের কাউকে এসব মানাবে না৷ কী দেখে যে সমীর তোমাকে তুলে আনলো বুঝি না বাপু!!

সময় কাটতে থাকে, কঠিন থেকে কঠিন হয় জেনির জীবন। এই ঘরে জেনি যেনো এক বন্দী পাখী। ফোনে নিজের পরিবার বা বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় বিপুল বা পুতুল এসে ধমকায়। কখনো বলে এতো এতো কথা কার সাথে বলো?  কখনো বলে, কোন ভদ্র মেয়ে ফোনে এতো কথা বলে না কারো সাথে। আবার কখনো ঘরের মধ্যে এসে কথা বলা অবস্হাতেই চেঁচিয়ে বলে, বন্ধ করো কথা বলা। এতো জোনে জোরে কাকে কি বলো?  কথা আস্তে বলেই কি নিস্তার পাওয়া যায়!  আড়ালে দাঁড়িয়ে শোনার চেষ্টা করে। না পারলে বলে, ফিসফিস করে আমাদের বদনাম করছো কার কাছে?  জেনি দেখে     তার সংসার এমনকি স্বামী নামের পুরুষটিও  পুতুলেরই অধিকারে। জেনির ব্যাগ আলমিরা ড্রয়ার থেকে টাকা আর টুকটাক গহনা চুরি হতে থাকে। দিনের পর দিন রাতের বাসি রান্নাই দুপুরে খেতে হয় জেনিকে।

সেদিন দুপুরে সমীর বাসায় খাবে বলে ফোনে জানালে জেনি চিংড়ি ভেজায়।  নিজের ঘরে বসে রান্নাঘর থেকে ক্রুদ্ধ হুঙ্কার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখে পুতুল প্রবল বিদ্রোহে যা তা বকছে। চিংড়ি নাকি পঁচে গেছেই এটা খাবার অযোগ্য। সমীরকে এইসব খাইয়ে সে মারতে চায়। জীবনে প্রথমবার জেনি পুতুলের কথা না শুনে রান্না চাপায়। সমীর এসে সেটা খেয়ে ফের বেরিয়ে যায়।

বিকেলে পুতুলের বানানো পিৎজা খেতে বারবার ডাকার পরেও জেনি যায় না বরং এক সময় জবাব দেয় সে খাবেনা তাকে যেন না ডাকা হয়।

জেনি তখনো জানতো না এর ফল কী মারাত্মক হবে। এরপরের যেদিন সমীর বাসায় ছিল পুতুল আর তার স্বামী বিপুল মিলে নালিশ করে সমীরের কাছে। জঘন্য সব কথা অবলীলায় বলে চলে তারা দুজন। জেনি জানতে পারে, নয় বছর ধরে পুতুল ছাড়া জীবন অচল ছিল নাকি সমীরের!   এখনো সমীরের কাছে পুতুলই জরুরী, জেনি না। তাহলে জেনিকে প্রেমের নাম করে এই ফ্লাটে এনে রাখার কী মানে!  শরীরের খেলার জন্য তো পুতুল ছিলোই বরাবর। দুই পুরুষের জন্য এই ফ্লাটে আর সব কিছুর মতো নারীরও অভাব নাই। বিপুলের পেশার সূত্রে নানান রকম নারী এই বাসায় আসে, চলে নানান রকম শরীরের আদিম খেলা। তবে কী শোবিজ আর মিডিয়া জগতের নারীর মৌতাত নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে এক ঘরোয়া নারী দরকার পড়লো তাদের?

সেদিন রাতে এবং তার পরের পর সব রাত এবং দিন বিভীষিকা নিয়ে আসে জেনির জন্য। যে পুরুষটিকে নিজের প্রেমিক জেনে ঘর ছেড়ে তারই হাত ধরেছিল জেনি জানতো না তার ভিতরেও এরকম পাষন্ড কোন জানোয়ার বাস করে। যে শরীরী খেলা তুমুল প্রেমের পরিণতি বলে জানা ছিল তা হয়ে গেলো বীভৎস যন্ত্রণার। রোজ রোজ এবং রোজ জেনি বাধ্য হয় সমীরের সঙ্গে রাতের পর রাত জেগে তার শিশ্ন মুখে নিয়ে চুষতেই। আর সমীর তা ভিডিও করতে থাকে নিজের সেলফোনে। নীল ছবির তারকাদের মতো পারফর্মেন্স দেখাতে হয় বাধ্য হয়ে এবং জেনিকে বারবার খেতে হয় বীর্যও। পেট মুচড়ে বমি উঠে এলেও নিস্তার পাওয়া যায় না বরং সপাটে চড় জুটে কপালে।    যখন যেভাবে যেখানে সমীর চাইবে তখনই সেক্স করতে হবে জেনিকে। তবে একে সেক্স বলা চলে কীনা সেটা গবেষণার বিষয়

ফরসা শরীর জুড়ে ফুটে ওঠে কালশিটের দাগ, চোখের নীচে ঘুমহীন রাতের ক্লান্তির কালির পোঁচও!   সমীরের আচরণ ক্রমশ একজন সেক্স ম্যানিয়াকের মতো ঠেকে জেনির কাছে। সমীর গাঁজা   খায় জানা ছিল না জেনির, দেখলো আরো বহু নেশার জগৎ। রাতের পর রাত নেটের হাজারো সুন্দরীদের উত্তেজক ছবি দেখে উত্তেজিত সমীরের সঙ্গে শরীরী খেলা খেলতে হবে জেনিকে।বাদ যায় না এমনকি জেনির বান্ধবী বা সমীরের ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা নারীদের ছবি দেখে তাদের শরীর সম্পর্কে বিকৃত ধারা বর্ননা। এবং নানান নারীর কেবল ছবি দেখে দেখে তাদের জন্য কামভাব জাগে সমীরের। কিন্তু লিঙ্গোত্থান ঘটেনা, বীর্যপাতও হয়না। একটা সময় জেনি জানলো যৌন উত্তেজক ড্রাগ ছাড়া সমীরের লিঙ্গোত্থান ঘটে না!  রোজই তার এই সব ওসুদ লাগে নয়তো কেবলই লিঙ্গ চোষাই সার। জেনির অর্গাজমের আশা দূর অস্ত বরং স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে থাকে। এরকম অবস্হায় জেনির নানার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সে একরকম পালিয়ে আসে নিজের বাড়িতে।

জেনি চলে যাবার পরে পুতুল একরকম হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। নিজের স্বামী এবং সমীর দুই পুরুষই ফের তাদের দুই বোনের হাতে চলে এসছে। নিজের বিজয় সেলিব্রেট করাটা তখন তার জন্য জরুরি। বিনোদন সাংবাদিক স্বামী তার, বড় বড় কানেকশন আছে তাই। নানান রকম ধান্দাবাজি চলে, করতে হয় ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য। নানান পার্টিতেও যেতে হয় সেজেগুজে। পুতুলের ভালো লাগে নানান পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়াতে। একেকজন কামকেলিতে একেক রকম পারদর্শী। কেবল সমীরের সঙ্গে এই হিসাবটা মেলেনা। সে আর যাই হোক কামকলায় পটু বলা যাবে না, বরং তাকে তার মতো করে হাতে রাখতে হচ্ছে পুতুলকে।

সপ্তাহের সবদিনই একরকম,ছুটির দিনটাও যদি তাইই হবে!!!বিকেল থেকেই বিপুল কে তাড়া দিতে থাকে রোদেলা, বাবা তৈরী হও কে শুনে মেয়ের ডাক।ফেসবুকের এমনি নেশা ,রাতদিন ডুবে থাকা কী এক নেশা।পুতুল  শেষে একরকম ঠেলেই উঠায়,বের হয় মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে।তবু আর সব দিনের মতোই মেসেন্জার যেন সিন্দাবাদের ভুতের মতোই ভর করে থাকে বিপুলের ঘাড়ে।ঘনঘন মেসেন্জার এ আছড়ে পড়ে ঢেউ,!!! পুতুল বোঝে স্বামী তার হ্যান্ডসাম তাছাড়া যে পেশায় সে আছে তাতে করে বহু নারী পায়ে পায়ে ঘুরছে বেড়ালের মতোই। স্বামী তো বটেই নিজের সৌন্দর্যের উপরেও প্রবল আস্হা তার।

জেনির মতো বোকা মেয়েটাকে কতো কান্ড করে তাড়াতে হলো তাকে৷  মনে মনে প্ল্যান করে পুতুল আজ রাতেই বাড়ি গিয়ে সমীরকে ধরবে, বেশ কিছু টাকা দরকার তার। সমীর অবশ্য বরাবরই তাদের টাকার একটা বড় উৎস হয়ে আছে। ফ্ল্যটের ভাড়া তো বটেই সার্ভিস চার্জ এমনকি পুতুলের রাশি রাশি শাড়ি গহনা কেনার টাকাও তো সেই দেয়। এরকম একটা পুরুষকে বাগে পেলে জীবনটা বেশ সহজ ভাবে তরে যায় আরকি। পুতুল তাই সমীরকে বশ রাখতে তার বোনকেও কাজে লাগায়।

মাঝে অবশ্য  পুতুল বুদ্ধি করে তার ননদকে এনে রেখেছিল বাসাতে। রূপসী ননদ তখন সমীরের উপরেও আরো  কিছু ভাগ বসিয়েছে বটে। এসবে কিছু এসে যায় না অবশ্য পুতুলের। বরং আখেরে এতো নারীর যোগান দিয়ে লাভের ফসল পুতুলের একাউন্টেই জমা পড়ে।

বিপুলের বন্ধু বা পেশার লোক বা অনেক আত্মীয়রাও এই বাসায় আসে, যারা জানার তারা জানে বোঝে পুতুলকে কিকরে পেতে হয়। সমীরও নিজের ব্যবসার জন্য পুতুলের সাহায্য পায়। কিন্তু ক্রমাগত নতুন নতুন নারীসঙ্গ করাটা সমীরের লীপ্সা না অসহায়তা। নতুন নারী শরীর ছাড়া সে সঙ্গম করতেই পারেনা, জানেনা এটা কি রকমের অসুখ তার। বারবার তো আর এসকর্টের কাছে যাওয়া যায় না। কতো বার তো এমনও হয়েছে   সে গেছে কোন ফ্লাটে কোন নারীর শরীর ভোগ করতে কিন্তু তার ইরেকশনই হয় নাই৷ দীর্ঘক্ষণ সাক করার পরেও যখন একই হাল তখন সেই পন্যা নারীর ভর্ৎসনা শুনে টাকা গুনে বের হয়ে আসতে হয়েছে। সমীর ভেবেছিল কোন ঘরোয়া মেয়ে বউ হয়ে এলে সমীরের প্রয়োজন মিটবে। ঘরের বউকে দিয়ে যেমন খুশি চাহিদা মেটানো যাবে। কিন্তু পুতুল যে জেনিকে সহ্য করতে পারবেনা বা জেনির কারণে পুতুল আলাদা বাসা নিতে চাইবে সেটা সমীরের প্লানে ছিল না। বা জেনিকে আনার আগে পুতুলের সাথে কথা বলে তাকে জানানোর দরকার সেটা বোঝে নাই সমীর। পরে জেনিকে সামলাতে জোরপ্রয়োগ করতে হচ্ছিল নয়তো কিছুতেই সে সাকিঙে রাজি হচ্ছিলো না।

বাইরে একটা রেস্টুরেন্টে খাবে ঠিক ছিল পুতুল বিপুলের। মেয়ে বায়না করলো সে আমেরিকান চপসোয়ে  খাবে।পুতুল অগত্যা একটা বার্গার চাইলো।মেয়োনেজ দেয়া বার্গার স্যান্ডউইচ গরম করে না কিন্তু বিপুল বললো গরম করতে। বাড়ি ফেরার সময় থেকে কেমন যেনো শরীরটা খারাপ লাগছিল পুতুলের।

রাত থেকেই শরীরটা আরো খারাপ করে হঠাৎ করেই পুতুলের।

মনটাও বড় দমে গেছে তার,  বিপুলের মেসেন্জারে দেখা তারই বান্ধবি সাঞ্জুর  মেসেজ যেন তাড়া করছে তাকে। দুজনে বিদেশ যাবার প্ল্যান করছে তারা! আর খরচ জোগাবেও  সেই সাঞ্জুই, বিপুলের এতো টাকা কই ।সাঞ্জু যাকে  পুতুলের কাজিন  বোন বলেইে জানে অনেকে। পুতুল বুঝতে পারে না হঠাৎই সাঞ্জু কেন বিপুলের জন্য এমন উতলা হলো!

ফোনে কখনোই কোন এ্যাপসলক দেয় না বিপুল। তাছাড়া কোন নায়িকা বা সহ নায়িকা বা ফিল্ম কি টেলিভিশনের কে তাকে কি টেক্সট করলো এসব লুকানোর কোন দায়ও নাই বিপুলের।     বরং সে এসব তাচ্ছিল্য ভরে পুতুলকেও দেখায়। আজ একটা মেসেজের টিং শুনে মেসেঞ্জার খুলে জানা হলো এক নতুন জগতের কথা!!  বিপুল, পুতুল ছাড়া যে কিচ্ছু বোঝে না সেই লিখেছে এমন সব টেক্সট!  স্ক্রল করে আরো আরো আরো উপরে দেখে সে!!  ভিডিও ক্লিপ অডিও ক্লিপে ভরা পুরো চ্যাটবক্স!  পুতুলের জানতে বাকী থাকে না বিপুলের কাজের নাম করে সাঞ্জুর সাথে কাটানো রাত দিনের রুটিন!  দেখতে দেখতে পুতুলের চোখ বিস্ফোরিত হতে থাকে!

মেসেজ ইনবক্সে মেলে জেনির সঙ্গে বিপুলের চ্যাটিংও। দেখে কতোভাবে কতো রকমে জেনিকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের করতে চেয়েছে বিপুল। কতো ভাবে সমীরের আচরণ সম্পর্কে জানিয়ে, বিপুলের সঙ্গে সেক্স করতে সিডিউস করে গেছে একটানা।    খালি ঘরের সুযোগে কতোবার আসতে বলেছে বাসায়। সেই জেনি যাকে বিপুল চেয়েও পেলো না সেই যখন সমীরের সঙ্গে করে বাসায় আসলো তখন নিখুঁত অভিনয় করে গেছে বিপুল তাকে না চেনার!  আর ক্রমাগতই পুতুলকে বুঝিয়েছে জেনি একটা নোংরা বাজে মেয়ে। এর সাথে একঘরে বাস করা সম্ভব না। ভয় দেখাতেও ছাড়ে নাই সম্ভব অসম্ভব সকল পথে!!        বিপুল বলে গেছে, জেনির কারণে সমীর তাদের টাকা দেয়া বন্ধ করলে মেয়ের নামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের খরচ সে দিতে পারবেনা। তাছাড়া জেনি যদি ওদেরকে চলে যেতে বলে বা প্রতিবেশীদের বলে দেয় এই ঘর তাদের তখন কি ঘটবে!  সবার সামনে প্রেস্টিজের ফালুদা হয়ে যাবে একদম। সমীর আস্তে আস্তে জেনির হাতে চলে গেলে, পুতুলের সংসার ভেঙে যাবে তাসের ঘরের মতোই।

সমীর ঢাকার বাইরে গেছে কাজে, পুতুলের বোনও নিজের ধান্দায়৷ বাসায় কেবল তারা তিনজন ছিল, বিপুল গেস্টরুমে গিয়ে ঢোকে কাজ আছে বলে। পুতুল নিজের শরীরটার অচেনা আচরণে বিস্মিত হয়, আগের রান্না থেকে মেয়েকে খাইয়ে ঘুম পাড়ায় নিজে কিছু খেতে পারে না।

কয়েকবার নক করে বিপুলের দয়জায় কিন্তু সাড়া পায় না। বিপুলের আচরণও অন্য রকম লাগে আজ। বিপুলের জন্য নারী সংসর্গ নতুন কিছু না যেমন পুতুলও পুরুষ বদলাতে অভ্যস্ত। সমীরের সঙ্গে পুতুলের শারিরীক সম্পর্কের কথাও বিপুলের অজানা না। কিন্তু এসবে তাদের দুজনের জীবনে কখনো ছন্দপতন ঘটে নাই, তারা নিজেরা ঠিক থেকেছে। কিন্তু আজ যেনো সব অন্য রকম লাগে!

রাত থেকেই বারবার বমি হচ্ছিল, সকাল হতেই গা এলিয়ে পড়ে পুতুলের।অফিস যাবে বলে মেয়েকে আদর দিতে এসে বিপুল দেখেওছে সে  বমি করছে বিছানার পাশে রাখা বালতিতে কিন্তু কিছু বললো না। কাতর চোখে স্বামীর মুখে চেয়ে একবার আস্তে বলেছে,ডাক্তার ডাকবে একবার,,?আর পারছিনা। বিপুল কী যেন বলবে বলে তাকায়,

ঠিক তখনি টিঙ করে এলো একটা মেসেজ আর বিপুল ফের তাতে ব্যস্ত হয়ে ছুট লাগালো পাশের ঘরে।

দুপুর থেকে ব্যস্ত ছিল বিপুল সাঞ্জুর সাথে, গাজীপুরের একটা রিসোর্টে।  উন্মাতাল সময়ে স্বাভাবিক ভাবে সেলফোন অফ করে রেখেছিল বিপুল। পুতুল একটু অসুস্থ ছিল জানে সে কিন্তু এরকম সময় পুরানো জীবনসঙ্গিনীর জন্য ভাবনা করাটা বাড়তি বিলাসিতার নামান্তর মাত্র। সাঞ্জুর সাথে সময় কাটানো অবশ্যই আনন্দের তাছাড়া এটা কেবলমাত্র শরীরের বিষয় না একটা বড় প্রজেক্টের কাজ। দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ পাবে সে সাঞ্জুর মাধ্যমে তার চাহিদা তো মেটাতে হবেই।

সন্ধার পরে যখন ফোন অন করে বিপুল পর পর বহু মেসেজ আসতে দেখে বিরক্তি ধরে তার।না দেখেই ফোন সাইলেন্ট করে। জানে পুতুল বারবার ফোন করবে, মেসেজ করবে এখন৷ মেয়েটার স্বভাবই এমন, ন্যাগিং করার। যথেষ্ট বোঝে সে জানে বিপুলের পেশায় তাকে সন্তুষ্ট করতে হয় নানান জনকে। আজ নাহয় সাঞ্জুকে সন্তুষ্ট করতে একটু বেশি সময় দিতে হচ্ছে তাকে কিন্তু এই প্রজেক্টের জন্য যে টাকা পাবে সেটা তো পুতুলেরই হবে। কঠোর হয় বিপুল, ফোন সাইলেন্ট করে

ফের ডুবে যায় ফেসবুকের জগতে।

রাত নয়টা নাগাদ যখন হাসপাতাল থেকে ফোন আসে অফিসের ফোনে

তখনো সে জানেনা কি ঘটেছে। পত্রিকা অফিসে হাসপাতাল থেকে ফোন আসাটা তো রোজকার ঘটনা। সহকর্মীরাও নির্মোহ চোখে দেখে বিপুলকে। রিসেপশনিস্ট জানায় বিপুল ভাই চলে যান এখনই, কী কারণ গেলে জানবেন। জানিয়েন তখন

অফিস ভাঙা জ্যাম ঠেলে হাসপাতালে  পৌঁছে দেখে পুতুলের  মুখে কোন মালিন্য নাই!  সে জগতের সব রকম কূটকৌশল থেকে মুক্ত।

দিনের নিয়মে সময় কাটছিলো জেনিরও,  শোকের বাড়ি যেমন হয় আরকি। আত্মীয় পরিজন সকলে চল্লিশার  আয়োজনে ব্যস্ত। জেনির তেমন একটা কাজ নাই কিন্তু সকলের মাঝে থাকলে নিজের কষ্টটা কম মনে হয়। মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষত আজো তাজা, তাছাড়া সমীর কোন রকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করে নাই। সারাটা দিন একরকম করে কেটে গেলো, টুকটাক এ ও ফোন করছে।

বিকেল নাগাদ ফোনে এক বন্ধু জানালো, ফেবুতে ঢুকিস না কতোদিন?  বিপুলের পোস্ট দেখ, ওর বউ মারা গেছে। হাতে তেমন কাজ ছিল না কিন্তু শোকের বাড়িতে আর যা হোক ফেসবুক চালাবার মতো মানসিকতা সকলের থাকে না, জেনিরও নাই। সপ্তাহ খানেক পরে একদিন জেনি ফোন পায় সমীরের। জানতে পারে সমীর ওদের সাথে আর থাকে না। যখন পুতুল মারা যায় তখনও সে ঢাকার বাইরে ছিল। জেনির কাছে বহু রকম কথা সে জানায় ফিরতেও বলে। একসময় ফোন কেটে দিয়ে নম্বরটা ব্ল্যাকলিস্টে রাখে, ফেসবুকে লগইন করে বিপুলের টাইমলাইনে আসে। প্রফাইল এবং কভার ফটো হিসেবে মৃত পুতুলের ছবি দেখে চমকায়নি জেনি। কিছু মানুষের কাণ্ডজ্ঞান সম্পর্কে জানা থাকলে জীবনটা সহজ হয় এই শিক্ষাটা সে পেয়েছে।টাইমলাইন স্ক্রল করে করে দেখলো, পুতুল যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে তখনো বিপুল একের পর এক প্রেমকাতর  কবিতা   পোস্ট দিয়ে গেছে।

পুতুলের ফুড পয়জনিং হয়েছিল, মেয়োনেজ দেয়া খাবার ফের গরম করে কেন খেলো!?  এই অসুখটা মারাত্মক বটে কিন্তু প্রাণঘাতী নয় তো!  ট্রিটমেন্ট পেলে সেরে উঠতো দুদিনেই। পুতুলের বমি হচ্ছে বারবার বা ফুড পয়জনিঙের সব লক্ষণ সম্পর্কে  বিপুল জেনেও পাত্তা দেয় নাই। দিলে হয়তো মেয়েটা বাঁচতো, কে জানে কী ছিল তার ভাগ্যেে! নাকি বিপুল ইচ্ছা করে ইগনোর করে গেছে পুতুলকে? খুব সামান্য কিন্তু অব্যর্থ চালে সরালো পুতুলকে?

জেনির কথা!

গতকাল পুতুলের স্বামী বিপুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়লাম।সে লিখেছে যে, পুতুলের মৃত্যুর আগে তাদের মাঝে অস্হিরতা ছিল যার কারণে সম্পর্কে সৃস্টি হয়েছিল দূরত্ব। আশ্চর্য কান্ড!

জানলাম আমি চলে আসার পর ঘর সাজাতে  অনেক নতুন আসবাব কিনেছিল, আশ্চর্য!  মাত্র একটা মাসেই কতো কী ঘটে গেলো৷ পুতুল   তার স্বামীর আয় নিয়ে না ভেবেই  যেসব জিনিষ কিনেছে তার ইএমআই বা কিস্তি দিতে গিয়ে এখন তার স্বামী  কতটা নাজেহাল আর কতটা অসহায় বোধ করছে।

পোস্ট পড়ে ইস্তক ভাবছি, কালতক যে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত ছিল, একের পর এক মৃত দেহের ছবি পোস্ট করেছে। হাজার জনের সাথে তোলা পুতুলের ছবিতে আর ট্যাগ পোস্টে সয়লাব বিপুলের ফেসবুক ওয়াল! আর আজ সেই নিজের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। টাকা বড় সাংঘাতিক বস্তু বটে!!!

নিজের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক কতটা মেকি আর খেলো হলে কেউ এসব কথা পাবলিকের সামনে জানায়!

আমি গত কয়দিন খুব ভাবলাম, পুতুল  তো আমার কাছের কেউ নয়। তবে ওরকমভাবে মরবার আগে তার নিজের জীবনের এতো এতো গোপন কথা কেন আমার সামনে খুলে গেল?এসব তো আমার জানবার কথা ছিলনা। লোকে ইয়াবা খায় জানতাম কিন্তু আমার সামনে চলে এলো বিপুলের জীবনের এতো রহস্যময় ঘটনা! একটা ব্যর্থ প্রেম ততোধিক ব্যর্থ অকার্যকর একটা বিয়ে করে বিপুল পুতুল আর সমীরের বিকৃত যৌনজীবনের অভিজ্ঞতা কেন নিতে হলো আমাকে!

কেন পুতুল আমার সামনে নিজের সৌন্দর্য উৎকট ভাবে মেলে ধরার চেষ্টা করতো!!  কেন স্নান সেরে বেরিয়ে আসতো উদোম শরীরে! আমাকে ডেকে ডেকে বলতো দেখো জেনি আমার স্কিন কতো সুন্দর, ফিগারটা দারুণ না? কেন সমীরের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা আমাকে জানালো!  একদিন কথার ছলে জেনে নিতে চাইলো সমীর কতো গহনা কিনে দিয়েছে আমাকে?!

তবে তার মৃত্যুর আগে তাদের সাথে যে সময়টা কাটালাম,তাতে একটা কথা জানলাম এই মানুষগুলো বড় অসুস্হ মানসিকতার! এদের জগৎ আর আমার জগৎ এক না। পুতুল ফুড পয়জনিঙের কারণে কষ্ট পেয়ে বিনা চীকিৎসায় মারা যায় যেদিন দুপুরে, ঘরে সে আর তার কন্যা ছিল কেবল। বিছানায় তার মৃত দেহ কতক্ষণ পড়ে ছিল জানেনা কেউ, পাশে বসে খেলছিল মেয়ে। সেলফোনে বারবার কল করে না পেয়ে বাসায় আসে পুতুলের বোন, বাইরের দরজা খোলা পেয়ে ঘরে এসে দেখে এই দৃশ্য। তখনো সে বোঝে নাই পুতুল মৃত, বাড়িওয়ালার সাহায্য নিয়ে কাছের হাসপাতালে নেয়া হলে জানতে পারে। মেয়ে যতোটা বলে তার থেকে ধারণা করা হয় তার রোগের, তাছাড়া পুতুলের সিভিয়ার এ্যাজমাও ছিল বহু পুরানো। কিন্তু তার মানসিক ভারসাম্য নস্ট হয়েছিল কবে কখন তার কেসহিস্ট্রি কেউ জানতে পারে নাই। প্রচন্ড কামুক, অসম্ভব রকম হিংস্রতা নিয়ে একটা মানুষ কিকরে আর কিভাবে বাঁচে!

মনোবিজ্ঞানের একটা টার্ম পড়তে হয়েছিল নিষ্কাম ঈর্ষার। কিকরে নীল নীল ঈর্ষার বিষে নীল হয়ে যায় মানুষের মানবিকতা!  যাকে ঈর্ষা করে আপনার কোন লাভ নাই যার ক্ষতি করার কোন মানে হয় না তবুও করাই লাগে সেই ঈর্ষার কী মানে!!  নাহ এটা নিষ্কাম ঈর্ষার বিষয় না, এ হলো প্ল্যান করে অপরের ক্ষতি করা। এই ঈর্ষার একটা কার্যকারণ সম্পর্ক আছে বটে। অনেক অনেক টাকা করার আর অজস্র জিনিস কেনার জন্য সহজ উপায় হিসেবে এরা বেছে নিয়েছিল অবাধ যৌনাচার, বিকৃত অজাচারকেই। পর্ণ মুভির জগতকে নামিয়ে এনেছিল নিজেদের দাম্পত্য জীবনেে কেবল না এটাই ছিল তাদের মূল পেশা এবং নেশাও। টাকা দরকার ছিল তাদের, অনেক, অঢেল, বেসুমার টাকা। তাহলেই কেনা যাবে শপিং মলে সাজানো রাশি রাশি দ্রব্য রাশি রাশি সুখ।

এদের দেখে জানা কথাই আবার জানলাম,লোকে সুখ বলতে বোঝে মেটিরিয়াল কমফোর্টকেই।

একটা ওটিজি কিংবা ডাবলডোর ফ্রিজ উইদ ন্যানো টেকনোলোজি। এরা ভাবে ঘরে একটা লেনোভো কি ম্যাকবুক বড় জরুরী। আইফোনের নতুন মডেল, একটা আনলেই বুঝি সুখ ধরা দেবে এসে, ঘুরবে পায়ে পায়ে।এরা তাই অপরের জীবন দুর্বিষহ করে নিজের জীবন সাজাতে চায়। জানে না, জীবন বড় বেশি রকম পলাতক। কখন যে কাকে ফাঁকি দিয়ে প্রাণবায়ু ফুড়ুৎ করে উড়াল দেবে কেউ জানে না। অপরকে কষ্ট দিয়ে অপরকে অন্যায়ভাবে আঘাত করে কেউ কখনো কোনদিন ভালো থাকতে পারে না।

এইসব হঠকারীরা জানেনা, ম্যাটেরিয়াল কমফোর্ট  কখনোই সুখ নিয়ে আসেনা। এসব জীবনের জন্য প্রয়োজন বটে যে ভাবে তার লাগবে। আর যে ভাবেনা তার ওসব ছাড়াও জীবন বেশ কেটেই যায়।

জীবনের চাহিদা আরো অনেক বেশি,যা পুতুল বা আরো যারা আছে তারই মতো এদের বোধের বাইরে।

পুতুলের পোশাকি নাম ছিল নিলোফার, মানে নীলোৎপল। নীল পদ্মের মতো অনিন্দ্য সুন্দরী নারীটি কেন কখন জর্জরিত হলো নীল ঈর্ষার বিষে, জানা হলো না।  সমাধীর অন্ধকারে বসত হলো তার, অপ্সরা নিন্দিত দেহকান্তি মিশে গেলো পঞ্চভূতে। আমার তবুও কেবলই তার নীলোৎপল সম নয়ন যুগলের কথা মনে পড়ে যায়, যা ছিল ঈর্ষায় আক্রান্ত।সংসার নামের সং সাজার সেইসব দিনগুলোতে যে চোখজোড়া আমাকে একতিল শান্তি পেতে দেয় নাই! কেন ঘুমের মধ্যেও আজো তাড়া করে ফেরে তারা আমাকে , ভুলতে পারি না।

হায় নীল পদ্ম!  আমায় এবার রেহাই দাও !

অনসূয়া যূথিকা। লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী। জন্ম ও নিবাস বাংলাদেশের ঢাকায়।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মায়াবাড়ি

মায়াবাড়ি

‘বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে…’ স্পষ্ট, চাবুকের হিসহিস শব্দের মতো কণ্ঠ! বাবুই চমকে তাকাল।…..