উদাসী নীরবতা

শ্বেতা সরকার
কবিতা
Bengali
উদাসী নীরবতা

কথা ছিলো

কথা ছিলো, বই মেলায় দেখা করবে তুমি,
বসন্তের ছোঁয়া লাগা ছোট পত্রিকার স্টলে।
কিছু কিনবো আর দেখবো ছুঁয়ে কিছু,
ঝালমুড়ি বকবক আর নোনতা বাদাম ভাজা,
পাশাপাশি মন ভরাবো সান্ধ্য জলসায়।

কথা ছিলো, অনেক অনেক গান শোনাবে আমায়,
গান আর কবিতায় হবে জমাটি আড্ডা।
হৈ হৈ মজা আর খুনসুটি ঘন্টাখানেক,
ভুলে যাবো বিষন্ন দিনযাপন,
একমুঠো সুখ জমাবো মনের গহনে।

কথা ছিলো, হাঁসফাঁস বৈশাখী বিকেলে,
আসবে রাস্তার মোড়ে ছাতিম তলায়।
ঘাম মুছে তাকাবে ক্লান্ত চোখে,
তারপর জমিয়ে ফুচকা খাবো দুজনে,
কুঁচোনো লঙ্কার হুস্ হাস্ ঝালে।

কথা ছিলো, একদিন নদীর কাছে নিয়ে যাবে,
কাঁসাইয়ের চর ধরে হাঁটবো দুজনে।
নিঝুম সন্ধ্যা মাখবো গায়ে,
নদীর বাঁকে যেখানে ঝুপ করে সূয্যিটা ডুব দেবে,
আমরাও ডুব দেবো জড়ানো নীরবতায়।

কথা ছিলো, আঙুলে আঙুল জড়িয়ে জ্বালাবো মোম,
ক্যারলের সুরে মোমের আলোয় সান্তা হবে তুমি।
মায়বী কেবিনে উষ্ণ কফির ধোঁয়া,
কিছু কথা কিছু নীরবতা আগোছালো ছোঁয়ায়,
সান্তা হবে তুমি পৌষালী প্রেমে।
কথা ছিলো….. মনে আছে…..।

কথারা কবিতা হয়ে যায়

তুমি ছুঁয়ে দিলেই কথারা কবিতা হয়ে যায়।
ছোঁয়া না পেলে হয় ভীষণ অভিমানী।
চুপ করে বসে থাকে বোবা পুতুলের মতো,
গৃহকোণে একাকী নির্জনে
বসে থাকে অপেক্ষায়।
যদি মনে পড়ে অবসরে কখনো আমায়,
তবে শুধু ছুঁয়ে দিয়ে যেও,
তুমি ছুঁয়ে দিলেই কথারা কবিতা হয়ে যায়।
আর মায়াবী সোহাগে আমি হই খরস্রোতা।

উদাসী নীরবতা

মাঝে মাঝে বেশ লাগে তোমার উদাসী নীরবতা।
নিঃসঙ্গ প্রহর গুলোতে অপেক্ষার পরত জমতে জমতে,
নিঝুম সন্ধ্যা নামে শহরের বুকে।
আয়নার সামনে যত্নে চুল বাঁধি আমি,
কপালে আঁকি কাজল টিপ।
প্রিয় সুগন্ধে স্নিগ্ধ করি নিজেকে।
মুহূর্তরা উন্মুখ হয়
তোমার একটিবার ফিরে দেখার অপেক্ষায়।
ঘুম জড়িয়ে নামে মায়বী রাত।
ভীষণ ক্লান্ত তুমি ডুবে যাও ঘুমের অতলে।
তখনই ভীষণ ভালো লাগে তোমার উদাসী নীরবতা।
মনে হয় দুহাতে এলোমেলো করি
যত্নে জমানো হিসেবী শালীনতা।

 

গোপন রক্তক্ষরণ

জানি আজ ভাঙছে নদীতীর,
উথাল পাথাল হচ্ছে যত্ননীড়,
বাঁধ ভেঙে আজ ঢুকছে বন্যাজল,
বিঁধছে তোমায় অভিযোগের তীর।

এদিকে সব চলছে ঠিকঠাক,
সকাল থেকে সন্ধ্যা নামে যেমন,
হাসির আড়ালে বৃষ্টিভেজে চোখ,
অলিন্দে আজ গোপন রক্তক্ষরণ।

আমরা আছি বৃত্তঘেরা ছকে,
গণ্ডী টানে শতেক সমাজ বিধি,
ছকের বাঁধনে শরীর পড়ে বাঁধা,
যায় না বাঁধা মনের গতিবিধি।

শ্বেতা সরকার। জন্ম ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি। স্থান, বাবার কর্মস্থল টিকিয়াপাড়া রেল কোয়াটার, হাওড়া,বাংলা, ভারত। পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে হাওড়া নরসিংহ কলেজ থেকে বায়ো-সায়েন্সে স্নাতক। ছোট বেলা থেকেই নাচ,গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফিতে ছিল শখ। বিবাহসূত্রে খড়্গপুরের বাসিন্দা। আঞ্চলিক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..