উমাপদ করের সাতটি কবিতা

উমাপদ কর
কবিতা
Bengali
উমাপদ করের সাতটি কবিতা

একটা আঁকা পুতুল সূর্যটা নিয়ে লোফালুফি করছে
একহাতে
পুতুলটি একটি মেয়ে আদলের
নরম হবে হয়তো হাত
পুড়ছে না
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই এবারে স্কিপিং
সারতে সারতে বলটা শূন্যেই ঝুলিয়ে রাখছে
সন্ধের সার্কাসে
উলটো পৃষ্ঠার মেয়েটিকে দেখে
মনে হচ্ছে সে-ও প্রস্তুত আছে…

২.

গ্রাফ পেপারের মুখোমুখি বসিয়ে দেওয়া হলো
এক স্প্রিং-দম-এ চলা পুতুলকে
কার্যত সে ড্রাম বাজায়
প্রতিটি শব্দ কণায় ভরে যাচ্ছিল গ্রাফের একেকটি বর্গ
বাজনা শেষ হয়ে গেলে
দেখা গেল একটা বেহালা
কিন্তু দম শেষ হয়ে যাওয়ায় ছড়টি
আঁকা হয়নি…

৩.

আদ্যিকালের একটা বদ্যি-পুতুলকে দেরাজ থেকে নামালে
সে হালের ব্যাটারিচালিতর ধারে কাছেই ঘেঁষে না
লজ্জায় কিংবা হয়তো তাক লেগে যায় তার,
এও সম্ভব!
মনে পড়ে যায় চল্লিশ বছর আগে আরেকটা মান্ধাতা পুতুল
তার কাছে কেন আসতেই চাইছিল না
তাইতে সে আবার ছিলো মহিলা…
একটু কি সাহস সঞ্চয় করে
যাবে নাকি বব-কাট নাচুনে সল্পবাসের কাছে
একবার ছুঁয়ে দেবে আঙুলটা… মোমটা…

 

৪.

পুতুলের রাজ-দরবারে সিংহাসন নিয়ে কোনো ক্যাচালই
লক্ষ্য করা গেল না
অথচ হিংসুটে পরশ্রীকাতর অতি-উৎসাহী সকলেই ছিল
ছিল পান থেকে চুন খসার গনতন্ত্রপ্রিয়তা
তবুও
কোনো হুল্লোড় বা দাবদাহ নেই
অবাক কাণ্ড!
আসলে রাজাবাবু সবার মুখে একটা আমলকি ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন
আর যে যার মতো তাই চুষে যাচ্ছিল…

৫.

পুতলিবাঈ এক পুতুলেরই নাম
শরীরে এই মুহূর্তের তরঙ্গটা
বহু কসরত করে মার কাছ থেকে শেখা
কিন্তু হাতের মুদ্রায় কাঞ্চন কাম কড়ি মাঙা
শত তালিমেও শেখা হলো না…
যখন মা হবে তখন কী শেখাবে তবে
ভাবতে ভাবতে প্রায়ই তাল কেটে যাচ্ছে
নেশা কেটে যাচ্ছে শরীর জননীর…

৬.

সাদা কাগজের সামনে অনেকক্ষণ পুতুলের কলম
থমকে ছিল
কিছুই হচ্ছে না ভেবে শেষে হিজিবিজি আর হযবরল
দেখা গেল দুই সখী-পুতুলের কড়ি খেলা
আর বাঁদর নাচের ডুগডুগি
যে শব্দ তুলছিল গ্রাফ-পেপারে তা পোস্তদানা
সখীরা থাকতে না পেরে কড়ি দিয়ে
গ্রাফ-পেপারে শঙ্খ এঁকে দিল
ডুগডুগি সমান্তরালে যায় তো
শঙ্খ-নাদ চলে লম্বে
পুতুলের কলম একটা যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলে…

 

৭.

পাগল পুতুল, পুতুল পাগলেরা বিশ্ব নিরিখে
নিজেদের বিন্দু ভাবতে শুরু করে
অজস্র বিন্দুতে ভরে ওঠে একতলীয় গ্রাফ পেপার
সরল রেখা হতে চায়, পারেনা—
বৃত্ত হতে আশ, মেটে না—
কোনো জ্যামিতিক বিন্যাস নিদেন, না তাও নয়—
র্যানডম মোশনে শুধু ঘুরতেই থাকে
এফোঁড় ওফোঁড়
আর এই বিশ্বের তাবৎ মানুষ
নিজেদের পুতুল পুতুল ভাবখানায় জোড়াতাপ্পি মারে
পাগল পুতুল, পুতুল পাগল ভাবে…
পাগল কি হতে পারে! পুতুল যেমন…

উমাপদ কর। জন্ম ১৯৫৫, স্থান বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ। বর্তমানে কলকাতাবাসী। পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারী ছিলেন। যৌথ সম্পাদনা: ‘শ্রাবস্তী’, কর্মী: ‘রৌরব’ ইত্যাদি লিটিল ম্যাগাজিন। অল্পদিনের জন্য হলেও একসময় পারফর্মিং আর্টের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। নাটক, থিয়েটার, আবৃত্তি, ভাবনাট্য, নৃত্যনাট্য। অংশগ্রহণ করতেন বিতর্ক,...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ