উষ্ণতার জন্য

আশিস ভৌমিক
কবিতা
Bengali
উষ্ণতার জন্য

উষ্ণতার জন্য

শীতের ভোরে মেঘলা আকাশ তোমায় কাছে পাওয়া
সবুর করনা ঘড়ির কাঁটা এতো কিসের তাড়া ।
প্রিয়া আমার রাত সোহাগী জড়িয়ে অলস্ ঘুমে
থাক না থেমে আর কিছুক্ষণ আমার বুকের ওমে ।
ডুব দিয়ে মন ফিনিক্স পাখি পুড়ুক দেহের আঁচে
সময় আজি হার মেনে যাক আমার প্রিয়ার কাছে ।
বৃষ্টি ঝরে জানলা বেয়ে দরজাটা হাট করে
থমকে থাকা সময় এখন শঙ্খ লাগা ভোরে ।

 

চকোর

পারবে কি তুমি আসতে মধ্য রাতে
উদোম পৃথিবী জানায় আমন্ত্রণ
যোছনা ঢালা রুপোলি আলোর স্রোতে
মুছে যায় লাজ রঙ ।

পারবে কি তুমি সাড়া দিতে নিশি ডাকে
বিষন্ন তারারা মিটিমিটি চেয়ে রয়
পুরনো পথের ধুলি ঝরে যায় অভিসারে
চাঁদ ভেজা রাতে পাথরেও কথা কয় ।

পারবে কি তুমি আসতে জোৎস্না স্নানে
আদিম পৃথিবী জানায় আহ্বান
সিসে ঢালা পথ গাছেদের ছায়া নেয় বুকে
সন্ন্যাসী মুখ চন্দন চন্দন ।

 

স্বয়ম্বরা

বসন্ত চলে গেছে বহুদিন
ক্রুশবিদ্ধ পেরেক এখন অনেক আলগা ।
বাড়ির মজবুত কড়িকাঠের দিকে চেয়ে
নিশ্চয় আর দৃষ্টি বিভ্রম আসে না !
এখন তো অনায়াসে শরীর ছেড়ে উড়ে আসতে পারো !
আমি বহু যত্নে তুলে রেখেছি সকালের রোদ
দু’মুঠো রোদ নিয়ে যেও ।
তোমার অজান্তে চাঁদের আলো অপেক্ষা করে বারান্দায়
অদৃশ্য হাত পর্দা টানে জানলায়
আর কতদিন সরিয়ে রাখবে নিজেকে !
বাড়ির ছায়া দীর্ঘ হতে হতে ডুবে যায় অন্ধকারে
আকাশে ম্লান চাঁদ ঘুমোতে যাবার আগে
নির্নিমেষ চোখে তাকিয়ে থাকে ।
কবে জোৎস্না মেখে তুমি স্বয়ম্বরা হবে ?

 

প্রিয়তমাসু

মেয়েরা বাইরে বেরোলেই হয়ে যায় পরী
অথচ পুরুষ ভালবাসে বাঁধানো ঘাটে পুষ্করিণীর টলটলে জল
যেখানে স্বপ্নের ঘরবাড়ি ।
মেয়েরা বাইরে বেরোলেই আকাশে বিছানা পাতে
অথচ পুরুষ সাজিয়ে রাখে ভালোবাসার দেওয়াল পঞ্জি
তাতে কত’না লাল দাগ ।
মেয়েরা বাইরে বেরোলেই নির্ঝরিণী
বুনো ফুলের গন্ধ
অথচ পুরুষ তাকে সাজায় পরিপাটি করে ।
মেয়েরা বাইরে বেরোলেই বিশ্বরূপ
অজন্তার গুহাচিত্র খসে পড়ে তার পায়
ক্ষতগুলো নিমেষে বিলীন ।

আশিস ভৌমিক। কবি ও শিক্ষক।  জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ; ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক। শিক্ষকতার ফাঁকে ফাঁকে সাহিত্য চর্চা। প্রকাশিত বই: 'কবিতা জন্ম' (কাব্যগ্রন্থ)।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ