উড়ু চর্চা

মোস্তফা মহসীন
কবিতা
Bengali
উড়ু চর্চা

উড়ু চর্চা

পার্থিব বাসনা কী তাড়িয়েই দিলো নিষেধের অন্ধকার?
আমি ছাগল নিয়ে খোলা মাঠে ছুটতে থাকি…
আর বলি, শাপলা ও শালুকের দেশ জিন্দাবাদ
আমার মস্তক পরেছে গোধূলির অহংকার
আম্মা দরজায় দাঁড়িয়েই আছেন ডানপিঠে ছেলের অপেক্ষায়…ওই দিকে
শিশু নাসারন্ধ্রে লেগেছে জলার্দ্র সুখের বুনোট
সৃজন তরঙ্গে অবুঝ শিশু বুঝে না মাতৃশাসন;বুঝেছে বুনোফুল!

কী আছে রোমাঞ্চ পাপড়ির বর্ণে
গুল্মলতা আর সবুজ উজানে…কাঁটার সংঘাতে
জেনেছি পৃথিবীর সব প্রাণে রক্ত রঙই অভিন্ন লাল
প্রাণীসংঘ দোষে বেলা গেল সন্ধ্যা সমাগত মনের
নি:শ্বাসে দীর্ঘ হল বুঝি;-ঘাসের শহীদ মিনার?
পাখির উচ্ছ্বাসে ভেসে কেন যে মনে পড়ে: শিশুবেলার পুস্পপূজা! ভাবি বয়সের নিয়মে
অসঙ্গত পথ মাড়িয়ে ধীরে ধীরে কতোটা এগোল হে, যুবক হ্নদয়ের উড়ুউড়ু চর্চা?

দুই

একরোখা জিদ চূর্ণ চুর্ণ করে অনন্য হয়
জীবনকে টাকা ভাঙ্গার মতো কিছু
রুপালী কয়েনে ভাঙ্গার পর: ঝর্ণার মতো পাহাড় গড়িয়ে ফেলে দেয়া সব
সুখ হাতড়িয়ে
নীলাভ মেঘের দিকে উড়ে যাবে যে মুহুর্তটুকু;
তাকে গুণে গুণে!

নীলিমার স্তন থেকে
হাতড়ানো সুখ ফেলে চোখ ফেরাতে না ফেরাতেই ডাকে যাপিত জীবন
ঝিমমারা নিরঞ্জন!
ফিসফিস বলে; বেঁচে থাকবার মূল্য জমাতে খুঁজে নাও-
সাহসী রোদের কোনো এটিএম বুথ!
কাপড় ধোঁয়ার মতো নিজ থেকে মোচড়ায় শরীরের হাড়-মাংসগুলো
ভাবি মেরুদন্ড কি বেঁকে গেল, নাকি ছিলো কখনও?
প্রতারক রোদে এক ফেরারী শহর ডাকে
মফস্বলও আমার দুইপা টেনে ধরে এ ভূখন্ডের চিত্রমালা আঁকে…
তার মানে? কেউ যেতে না চাইলে চিহ্ন খোঁজার জন্য…
চিহ্নেরও তো কিছু কিছু লোপ চিহ্ন থাকে!

 

তিন

ব্যক্তিত্বের সুন্দর ঢেউ জাগিয়ে হারিয়ে গেল
সিলকি চুলের সে-ই সার্কাস…তাই দেখে হর্ষধ্বনিতে
বিয়ারের পানপাত্র উপচে পড়লো কি কিছু ছলাৎ!
চুমুক-আগুন? ব্লু মুন হোটেলে বসে বুঝলাম, সে মোর অচেনা গন্ধবণিক…
দৃশ্যে পুরোটা দৃশ্যমান না হলেও লটকে ছিলো
চতুস্কোণীয় ফ্রেমের ভেতর বহুদিন!

 

চার

ভ্রমণে তুমি ভ্রাম্যমাণ
বিশালতায় জড়াবে দেহ সরাতে পারো না কোমল আহবান
প্রত্যাগত বাতাসে লাগা প্রাণশক্তি পাহাড়চূড়া ডিঙ্গিয়ে
তোমার কাছে ভ্রমণ করে…আর তুমিও দেখো…কীরূপে;
শেষবিকেলে চুরি যাওয়া শূন্যতাও সদা বহুগামী।
যে সন্ধ্যায় প্রবল এক প্রতাপে তুমি সাঁতরে ফেলো তৃতীয় সমুদ্র
আত্মা পেয়ে যায় বিশেষ আলোকধারা;বলি তখন
সমুদ্রেও গুণগুনিয়ে ;-
তোমার পরে ভীড়েছিলো কি সপ্তসুরের একজনা?
ভ্রম ও কামে মানো অথবা না মানো;
ঝুপড়ি থেকে স্কাই স্ক্রাপার সব ঘরেই পূজিত দুধে-ধোয়ানো
শিবলিঙ্গ
প্রেমেও পাপে ঘনীভূত সে সন্ধ্যায়; তুমি শোনাও –
ভীমরতির গল্প কতো আগালে পরে
বুড়োদেরও প্রেক্ষাগৃহ পৌঁছে যায় আফ্রোদিতি’র জলসীমায়?

তাচ্ছিল্য ছড়াক যতো অশুভ
ভ্রমণকলা বলে, জগত সংসারটা : মায়া এবঙ রোমাঞ্চ!
সেমতে তুমি পুঞ্জিভূত মেঘে মিশাও আরোও হ্নদয়ের কস্তুরী
পক্ষিরাজে উড়ে শেখাও আলোর নাচ
যেটুকু ছবি পলকামুহুর্তেই মুক্তি।

 

পাঁচ

আমার কাছে এলেই তুমি, ডিপফ্রিজ থেকে বেরিয়ে আসা
একখন্ড ররফ; আর অন্যপাত্রে রাখলে
গলে গলে কি আবেশে হয়ে যাও তরল?

বহুবারই দেখা প্রিয়তর সিনেমার কোনো নন্দনদৃশ্যের মতো
চলতি বইমেলা থেকেই বেরিয়ে দেখি,
হুডখোলা রিকশায় তুমি অন্য কারো বাহুতে শহুরে ভদ্রতা
রূপে জড়িয়ে রাখা একগুচ্ছ সদ্য কেনা বইয়ে
প্রচ্ছদের জোনাকিটাকে হার মানাতে যেন একটু বেশি জ্যোতিষ্মতি!

ছিলো খয়েরি শীত সন্ধ্যা…
তোমার চেহারায় ছড়িয়ে পড়লো না এতটুকু কুয়াশা

আমাকে ভাবালো; শেষ প্রস্থানের দিকে হারিয়ে যাওয়া
তোমার গন্তব্য
আমাকে শাসালো; তোমারই নম্র ঠোঁট-মুখে বন্দী
এক হাসির প্রেতাত্মা।

আত্মরক্ষার্থে ঢাল হয়ে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকু তোমার আগেও
কেউ এড়াতে পারে নাই
নিঃসঙ্গতার সহিত বহুবছরের রেসলিং সমাপ্তিতে
এটাও আমি টের পেয়েছি; কাকে বলবো দায়?

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..