একটা টেবিল ও সন্ধ্যার প্রত্যাশা

কাকন রেজা
কবিতা
Bengali
একটা টেবিল ও সন্ধ্যার প্রত্যাশা

সব মনে রাখা

রাস্তার মোড়, ফাঁকা এক চায়ের দোকান
এক কাপ চা এবং
ধোঁয়ার ভেতর সমুখের দৃশ্য
ফিকে হওয়া জীবনের রঙ

চুপচাপ চুমুক, নেশাটা চায়ের
কিংবা শায়েরি ব্যর্থ শায়ের

চায়ের দোকান জানে, চেনা যত ভুল
উড়ে যেতে যেতে
দূরে যেতে যেতে
জানালো বিদায়, মেঘেদের চুল

রাস্তার মোড়, চায়ের দোকান, একা বসে থাকা
চায়ের কাপ, চুমুকের চা, সব মনে রাখা

বিবাগীদের কাব্য

গৃহীদের কোনো কবিতা থাকে না কিংবা শ্লোক
গৃহী খোঁজে কেবল আনন্দলোক

দেখো, ঘর হয়ে উঠতে নেই
যতটুকু ঘর হয়ে ওঠো, ততটা আশ্রয় হারাবেই

বরং বিবাগী হয়ে ওঠো, করো বৃক্ষপাঠ একা
আলো হও, অন্যকে দেখাও পথ, প্রার্থিত আলোর রেখা

সবারই গল্প থাকে, গল্পটা থাকতে হয়
এই যে আমি রয়েছি ব্যাকস্টেজে, স্টেজে তোমার অভিনয়

পাখিরা উড়ে যায়, পাখিরা পরিযায়ী বলে
নীড় ভুলে আসে উষ্ণতার খোঁজে দরকারী কৌশলে

গৃহের কথা বলো, ছাদ কি আশ্রয় দেয় তোমায়
আশ্রয় মূলত আকাশ, গৃহ থাকে কাব্যের উপমায়

মানুষেরা খুঁজে ফেরে হারানো নকশা, গৃহস্থ জানো যাকে
ঘর মানে গণ্ডিতে বাঁধা শরীর, হৃদয় পরিযায়ী হয়ে থাকে

একটা টেবিল ও সন্ধ্যার প্রত্যাশা

একটা টেবিল বসে থাকে, সন্ধ্যার প্রত্যাশায়
একটা চেয়ার অপেক্ষারত
এক কাপ কফি দীর্ঘশ্বাসের মতন ধোঁয়া ছাড়ে

কর্নিয়ায় মেঘ জমায় আকাশ, বৃষ্টি হবে জানি

বৃষ্টিটা ধরে এলেও বিষাদ কাটে না
ভিজে যাওয়া পথটা একা রয়ে যায়
যদি ফিরে পদব্রজে যে গিয়েছে দূরে

পথ বেয়ে অন্ধকার ফিরে আসে

জানা কথা, ভুলে যাওয়া পথ আর ধুলো
স্থির হয়ে যায়, পাথর যেমন
প্রতীক্ষায় ধুলো হয় যে পুনর্বার

অজানা নয়, ধুলো মাড়ায় না সে

অপূর্ণ অভিধান

কী লিখা ছিলো শেষ অধ্যায়ে, ফিরে এসে পড়া যাক
বইয়ের মতন খোলা বুক তাতে আকাশের দেখা পাক

মিথোলজি লিখে রাখে রাত, তারারা অক্ষর হয়ে জ্বলে
স্পর্শহীন সকল শ্লোক, বাক্যবিন্যাস থেকে যেতে বলে

তবুও সংশয়, অবিশ্বাস ধরে রাখে কোমল মন্ত্রের গান
থাকাটা স্থিতি, রেখে যাওয়া মানে এক অপূর্ণ অভিধান

কাকন রেজা। লেখক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। জন্ম ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ৬ মার্চ, বাংলাদেশে, ঢাকার উত্তর শাহজাহানপুরে। তারুণ্যের দিনগুলো পাড়ি দিয়েছেন লেখকের নিজ জেলাশহর শেরপুরে। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুর রেজ্জাক ছিলেন, একাধারে লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক। মা জাহানারা রেজ্জাক এক সময়ে ছিলেন...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ