একটি প্রভাবিত মৃত্যু অথবা সেঁকা প্রেমের নটেগাছ

তাপস গুপ্ত
কবিতা
Bengali
একটি প্রভাবিত মৃত্যু অথবা সেঁকা প্রেমের নটেগাছ

উপসংহার

দিন দিন নোংরা হচ্ছি
সময় সময় পতিত আরো?
অস্থি র পিঞ্জরাপোলে
অস্থির পশু কে জানে স্থির বলি চায়
অস্বচ্ছ বিভাজিকায়,

বিষ্ঠা কেন,
একটু মুতেও তো ত্যাগ আনা যায়,

মারাত্মক সব ভুল করায়
তাপসের জুড়ি মেলা ভার
জামারবোতাম ছিঁড়েছে অছিলায়
তপস্যা নিরীহ গুহ্য জায়গায়
বুঝেছে সাধন ইড়া পিঙ্গলায়,

তবু চোখ গুলো ইতি উতি
নরমুন্ড জাল ফুটো,ঘিলু চায় বুঝে নিতে
সহজ যেন মাগনা মতো,
পথ জুড়ে সব বেকার ক্যাচাল, ফ্যাকরা বাধায়
ক্যাওরা বাওয়াল,

স্পষ্ট রেখায় সরল ছবি
সাদা কালোয় বিভাজ্য দেহলী
মাইরি দিল ও দিমাগে দিলে ভরে
অহিফেন মাধুরী নিত্য,
ঘুপচি ঠেকে রোল ক্যামেরা
নুন চাটে দেয়াল ছায়া চিত্র।

উপসংহার পায় সুতরাং না টেনে
বৈরাগ্য ধুলায় শুয়ে শ্মশানে
আড়ষ্টতাহীন আয়াসে যতবার পেয়েছে তোমায়
দিব্যি গেলেছে, পেয়েছে আর গুলিয়েছে
ভাজক আর ভাজ্যে,
কপালজোরে ভাগ শেষ আর
কম্পাসে শ্মশানবৃত্ত

তুমি তখন সুক্তি খোলে
রক্ত ফোঁটায় মুক্ত

(ঋণ: অহিফেন মাধুরী ইত্যাদি ইত্যাদি একটি বাংলা উপন্যাস থেকে নেওয়া…. মল মূত্র আমার …মার্জনা)

 

একটি প্রভাবিত মৃত্যু অথবা সেঁকা প্রেমের নটেগাছ

কাদা ঘাম ছিটিয়ে দিলাম প্রেমিকার বুকে
এবার তবে তোমায় তুমি বলা যায়
বাহুল্য নির্বিশেষে সেই প্রেমিকা হলে,

লবণ আয়ুক্ত ঘাম অথচ কর্দমে কলঙ্কে বিয়োজন
সব কিছুই সাজানো গ্রহণ গ্রাস আয়োজন,
কোনো এক সতর্ক অবসরে
মৃত্যু অথবা প্রেম আসে অক্লেশে
কচুরি পানার মতন সবুজ আহ্বানে,
গৃহডোবা মন জানে বাজ উত্তর স্তব্ধতা ব্রহ্মে নিরাকারে
সে শুধু আমারেই করে ধনী মূর্ত সাকারে,
কালসিটে পড়া মানুষ গুলো গ্রীন ওয়াল জুড়ে
নড়ে চড়ে পোড়াআত্মার মত নাটকীয় আস্ফালনে,
ঝলমলে নীলিম কালো মেঘে হতে চায় ড্রামাটিক
যবনিকা টানে পতন ইচ্ছুক হয়ত আকস্মিক,
দ্বিধা জড়তায় মৃত্যু প্রত্যাগমন অভিমুখ পিতৃ ভূমে
আদিম কণ্টকাকীর্ণ হাঁটা ঝোপঝাড় বরফ ভেঙে!

দরজা টা তেমনি বন্ধ তালা
ভারী মন নিয়ে দেখছি তখন,
আচ্ছন্ন আত্মা বরফ পেরেকে বিদ্ধ যখন তখন
এক অথবা একক ঝরা পাতা ঝগড়ুটে হয়ে যদি
ফুৎকারে সবুজ আদর দিত ওষ্ঠ লেপে
স্বস্তি পতন মার্জিন মেপে,
ইচ্ছে গুলো চালশে মেরে কেনো যে ঘুমোয়
শীত রাত্রি কিংবা দুপুর গড়ানো অবেলা কুয়াশায়,

যাই হোক তুমি আছো জীর্ণ শরীর পত্রে
কর্কশ পাতার রুক্ষ শিরায় নিয়তি নির্ধারিত
মাটি নয় এসো পায়ের পাতায়
হাঁটু কোমর ভেঙে জঙ্ঘায়
করতলে বন্দী রেখায়,

নিয়তি আবশ্যিক এখন হাতের রেখায়
শানিত ছুরিকায় দৃঢ় ক্ষত আরো
ক্ষত দগ দগে রেখায় রচিত ভাগ্য তোমার
না হে নারী,
বিবশ তুমি আমারই উদ্বাহু কল্পনায়!

কনিষ্ঠ আঙুলে ধরা মৃত্যু
তর্জনী গ্রহণে নিষ্ঠা
বাকি তিন শুধু তোমায় গৃহীত
বুড়ো টিপ ছাপে প্রেম বা মৃত্যু স্বীকৃত,
এসো ছুঁই আমি বা তুমি
আচ্ছা একটু বদলে বাচ্যে এনে ভাব
শাস্ত্র বাঁচুক আগমে, শরীর বাহ্য
বস্তু স্ফটিক ইন্দ্র জালে, দাহ হীন সেই গাত্র।

 

১৫২৫

(স্থান: একদা চিন ও ভারত সংলগ্ন সিয়ান প্রদেশ)

জিমে যাওয়া হলো না
এখানেও কিছু করা হল না
ট্রেড মিল ঠিকানা বদলে এখন জঞ্জাল
লনে গিয়ে টাইম স্কিপিংটাও অন্তত
সর্ব সমক্ষ ভার্চুয়াল হয়েও নয়
আসল হল আসলে নিভৃত অন্তরাল

এসবই ভাবনার ঘুর্ণিক্ষণে
তিরিশ এম এম দুর থেকে অথবা নৈকট্যে
ভিজিয়ে দিচ্ছে তার মৌসুমী স্বাসবায়ু,
বাহিত সেই নিউরোন কৃত্রিম ভৌমিক আজ্ঞায়
কখন সেই বাঁ হাত ঘাড়ের তলায়
আলতো টানে তিরিশ কমে নাইন এম এম
এখন ভিজে আরো ভিজে তির তিরে ঠোঁটে
বুলেট বিদ্ধ হওয়া যায় নিশ্চিত কূহকে,

তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ধরে
কুষ্ঠরোগী চেটে পুটে নেয় জল হাইড্রেন খুলে,
চোখ পাতায় ধরা চোখ
শানিত চুরি নখ আচরণে উজবুক
নাজুক তবু লাজুক নম্রতায়
শীত চুঁইয়ে ধারা রক্তমেঘ,
ফালা ফালায় উদরে স্ফুরিত লিভার
মৃত্তিকা সাক্ষী গড়ায় কেমিকেল
পাকস্থলী অগ্ন্যাশয়,
অহৈতুকি প্রশ্নে অনুরক্ত অনুজ্বল আলোয়
ঘন নিশীথ কি কথা কয়
ভুল হলেও বা সন্দেহ করা ভালো
তবু সন্দেহ না করে ভুল করা সাংঘাতিক হয়!

সূত্র নির্দেশ: ১০০বছর অতিক্রান্ত। অভূতপূর্ব কল্পনাশক্তি ও প্রযুক্তির বিকাশে মানুষ কৃত্রিম রক্ত, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সহ বায় বীয় পরিমণ্ডল নির্মাণে সক্ষম হতে পেরেছে।দেশ বেড়ে মহাদেশ হয়েছে,অনেক সীমান্ত মুছে গেছে।যুদ্ধ ইত্যাদির লঘুতা প্রাপ্তি ঘটেছে। জ্ঞান বিজ্ঞান, ভাষা, শিল্প ইত্যাদি চর্চার প্রসার ঘটেছে। চীন রাশিয়া বাংলা ভাষায় চর্চা করছে, এদিকের মানুষেরা ওদের ভাষায়। চিকিৎসা কেন্দ্র, গবেষণাগার, সাহিত্য শিল্প, দর্শন, ভাষা, নন্দন তত্ত্ব একই ছাদের তলায় নিয়ে আসা হয়েছে।

কিছুক্ষণ আগেই সিয়ান অঞ্চল থেকে দুটি মানব পুতুল নিয়ে আসা হয়েছে।মানবী পুতুল টি তার সঙ্গী পুরুষ পুতুল টিকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় মারাত্মক ভাবে জখম করেছে। চিকিৎসা চলছে।উপস্থিত বিশেষজ্ঞ গণ দুজনের মগজ প্রকোষ্ঠে রক্ষিত চিপ টির রেকর্ডিং সিস্টেম অন করে শুনতে মনোযোগী হলেন।সব শুনে অ্যাপলায়েড সাহিত্য শাখার প্রধান ও মনোবিদ গণ যে সিদ্ধান্তে পৌঁছুলেন তা এই রকম:

ওই মুহূর্তে ছেলেটির হাইড্রেন খুলে কুষ্ঠ রুগীর জলখাওয়া ..এই লাইন টি প্রয়োগ করা উচিত হয়নি…ওখানে বলার ছিল তোমার ঠোঁটে আমি ঘাস হয়ে আছি সুরঞ্জনা..এই টাইপের কিছু…ডাটা রিড কিছু মিসটেক করেছে..ফলে মেয়েটির ডাটা রাইট অ্যাকসেস না পেয়ে ভায়োলেন্ট হয়ে ওঠে…

মেয়ে পুতুলটির নাম এলা…পুরুষটি কখনো অন্তু কখনও বা ইন্দ্র….এখানে রবীন্দ্রনাথ আর জীবনানন্দ আবশ্যিক বিষয়…
ঋণ: চার অধ্যায়

 

দাঁড়ে বসা বুধ কাক আর বৃশ্চিক রাশি

আচ্ছা,এই এখন এখানে
যদি আমি কিছু বলি মানে
মনের খোলস খুলে যদি কিছু বলা যায়
তাহলে কি দিয়ে দেবে সেই সব সান্ধ্য ভাষা
ফেসবুক স্ট্যাটাস আপলোডে?
তারপর ধারালো ঠোঁটের ওই সব চর্যায় চর্চাগীত
গোপন কথাটি আর রবে না গোপন রহিত!

নন্দন তোমার পছন্দের নয়,
এখানে সব দাঁড়ে বসা কাক,
তবুও ডাক,
জানিনা কোন নষ্ট বিনোদনে
আততায়ী আবেগ মরে আর মারে
বিড়ম্বিত বিজ্ঞাপনে,

আমি তো নই পক্ষী শ্রেণী বায়স্য
হয়ে আছি দানব গ্রহ ঘন ঘোর, জঠর রহস্য,
রক্ত চাপ যদি নাব্যতা দিতে পারে
যদি কফির পেয়ালায় চামচ পড়ে দ্বন্দ্ব বিপাকে,
তখন নক্ষত্র ভেঙে উল্কা পতন
অ্যাস্টরয়েড খন্ডে তাবিজ গ্রহণ
সেই আধি দৈবিক বা ভৌত
গ্রহণ ঘোর দশা কাটিয়ে
পছন্দের টিপে বেঁচে থাক পাথুরে কপাল আমার
নেতো ধোপানির সাদা থান এখানে
আছাড় সইবে বারবার
অথবা সাঁতারে আমি মৎস্য অবতার,
দেহিপদপল্লব মুদারম তব পায়
খুঁটে খাওয়া মরা সুখ মাস
রঙিন জাকুসি জলে তোমার
অস্মিতা কবোষ্ণতায়,
কতবার পুড়েছে ছাই বিনয় বিস্ময়,
পেডিকিওর অ্যারোমিকে
হায়রে অলাতচক্রে এবারও দুর্বিপাকে,

প্রতি বারই পড়েছো গ্রহ দোষে
শনির সাড়ে সাতি বৃশ্চিকে
অসহায় অধিপতি কাঁদে মঙ্গলে,
দৈত্য হৃদয় বাঁচায় ব্রহ্ম জিনোম
অবশিষ্ট দোষে অখণ্ড ত্রিপাদ
সীমাবদ্ধ ঈশ্বর,
ট্র্যাফিক জ্যামে ঘন নিবদ্ধ স্বপ্ন নিখাদ!

স্তম্ভিত মুহূর্তে চারুশীল সংকোচন
কিছুই তো কিছু নয় যদি না হয় উত্তরণ,
এই আকাশ আর মধ্য শহর ঘাস
প্রাণ পায় কি নির্ঝর পান্ডুর বিশ্বাস,

সেই যে কবির প্রতিকূল রাশি বলে
দৃষ্টির উজান ঠেলে
তুমি এলে
বিস্তৃত বিধুর পৃথিবীর মরুভূমি ফেলে,
পারদে বুধের অক্ষে
চেতনায় পান্না পাবে পাক্কা সবুজে।

তাপস গুপ্ত। কবি। জন্ম ও নিবাস ভারত।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ