একদিন তর্পণে

অনুশ্রী তরফদার
কবিতা
Bengali
একদিন তর্পণে

একদিন তর্পণে

শহীদমিনারকে কেন্দ্রে রেখে আজ শতসহস্র মানবফুলেরা ফুটেছে, লাল, সাদা, কমলা সম্পূর্ণ রামধনু প্রাঙ্গনময়,
অক্ষর সাজিয়ে ভাষার মালা বুকে বয়ে নিয়ে সামিল আজকের শব্দযোদ্ধারা।

সাদা শাড়ি, মাথায় শিমুল, পলাশ, কুন্দ ও বেলফুলের মালা, ধুতি, পাজামা-পাঞ্জাবী নকসী কাঁথার উত্তরীয় কাঁধে ভাষাপুত্ররা পথে পায়ে পায়ে- প্রভাতের উষ্ণতার আদুরে শীত গায়ে মেখে।

কোরাসে “আমি বাংলায় গান গাই, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমার সোনার বাংলাদেশ আমি তোমায় ভালোবাসি, কানে কানে রবীঠাকুরের কথা হৃদয়ে পৌঁছে দেয় আবেগ।

একটাই দিন- ভীষণ রঙিন প্রাণবন্ত ঝলমলে রোদের স্পর্শে, কেটে যায় সকাল থেকে সাঁঝ, ভাষার ভালোবাসায়-
বছরের বাকি দিন সেটাও রঙিন, ঝকঝকে ভূবনায়ন, অতি আধুনিক জীবনের সোপান বেয়ে, তরতরে বেড়ে ওঠার তাগিদে মনটা ফেরারি, মাথায় তীব্র ঝাঁকুনি, বিলেতি চর্চার লোভ, গ্রাস করে বিবেকের সিন্দুক।

বরকত, রফিক, জব্বার, সালাম, নামী-অনামী ভাষাশহীদেরা স্মৃতিতর্পনে একদিন ঘরে ফেরে।

ঘর

একটা ঘরের ভেতরে ছোট ছোট অনেক ঘর, চারতক্তার ঘেরাটোপে বইয়ের ঘর, কাঠ, কাঁচ সমাবেশে কাপড়ের ঘর,
প্লাস্টিক, ফাইবার, প্লাইউড সব মিলে পুতুলের ঘর।
কংক্রিট পলেস্তারা মারবেল- ঝকঝকে হাঁড়ি পাতিল উনুনের ঘর, ভিন্নধর্মী বস্তুর মোড়কে দেয়ালে ঠেস দিয়ে ঠান্ডা ঘর, অত‍্যাধুনিকতার মডিউলার রান্নাঘর।

কোথাও মুলিবাঁশ টিন ঘেরা ল‍্যাপাপোছা সুখের ঘর, পোয়ালের ছাদ বা টালির খোলা সজ্জিত একচালা-দোচালার নীচে সাতমাথা সহবাসে নিরাপদ ঘর।

সব ঘর ভর্তি সব ঘর শূন্য,
ঘরের লালন-পালনে আলো অন্ধকার কেটে যায়, প্লাস্টার খসে, টিন ফুটো হয়, মাটি তোলে অঙ্গুরীমাল জীব।
রঙ চড়ে, টালি সরে, পুটিংয়ের তাপ্পি-
ফুটো ছাদ, নীচে গেরস্থালীর বাসন।

ঘর জোড়ে ঘর ভাঙে ঘর পোড়ে, তবুও ঘর টানে,
দিনের শেষে বা রবির আলিঙ্গনে।
ছেড়ে যেতে হবে সব ঘর ,
পুতুলনাচের আটপ্রহর।

অনুশ্রী তরফদার। কবি ও সম্পাদক। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের শিলিগুড়ি। দ্রোহকাল নামক ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..