সংগীত অনুবাদ সিরিজ (১)

এলান মালাকার
অনুবাদ, কবিতা, সঙ্গীত
সংগীত অনুবাদ সিরিজ (১)

[ Sacrifice – Elton John ]

এমনই একটা মানবীয় লক্ষণ
যখন হাওয়া বয় বিপরীতে-
যখন তার বিলম্বের পূর্বাভাস
আর সুক্ষ চাতুরিতে
সংসারের ঘোরটেপে
প্রতিটি বিবাহিত পুরুষ-
মধুমাখা প্রলোভনের ডাকে
একখন্ড নিমজ্জিত ভুমিতে
শীতল শীতল প্রাণ ভ্রমর
তোমার কসাঘাতে ক্ষান্ত।

প্রেয়সী এমনটা ভালই মনে হয়
শুধু সময়টাকে পার করা,
এবং এটা কোন ত্যাগ নয়
খুব সহজ করে বলা।

দুটি প্রান বেঁচে আছে
সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতে
কিন্তু নেই কোন নৈবেদ্য
নেই প্রেমের অর্ঘ্য
এটা কোনমতেই আত্মত্যাগ নয় ।

পারস্পারিক মতানৈক্য
যেটা বাস্তবতার নিরিখেই
এরকম সংবেদনশীলতা
একজন মানুষকে
চূড়ান্ত সীমায় পৌছে দেয়।

অতঃপর আমরা পথভ্রষ্ট
এক বিন্দুও অনড়
প্রতি ফোঁটা চোখের জলের দিব্যি
যখন অহমিকা শুধু জ্বলে।

কোন বলিদান নয়
নয় কোন আত্মত্যাগ
কোন ত্যাগ তিতিক্ষা নয় আদৌ
নয় কোন প্রেমের অর্ঘ্য।

 

[ Lady- Kenny Rogers ]

তাপসী, আমি তোমার সুসজ্জিত অশ্বরোহী
যে তোমাকে ভালবাসে,
আমি এমনটাই যেমনটা তুমি চেয়েছো
এবং আমি তোমারই-
প্রিয়তমা, কতদিন কত ভাবেই না
আমি তোমাকে বলতে চেয়েছি,
আমি তোমাকে ভালবাসি।

তুমি আসলে আমার জীবনে আর
জড়িয়ে নিলে নিবিড় আলিঙ্গনে
ইচ্ছে হয় আমার দু’বাহুতে
তোমায় জড়িয়ে রাখি চিরকাল,
তুমি তো চলে গেলে আর আমি হলাম ছন্নছাড়া।
আমি যে তোমার ভালবাসায় নিমজ্জিত,
আহ! আমরা যে একীভূত প্রাণ-
তবুও আমার গানে তোমার ভরসা হলনা।

মনীষা, দীর্ঘকাল আমি ভেবেছি
আমি তোমাকে আর খুঁজে পাবনা,
তুমি আসলে আমার জীবনে
আর ভরিয়ে দিয়ে পূর্ণতায়।
প্রতিটি সকালে আমার স্বপ্ন জাগুক
তোমার মুখপানে চেয়ে
আর তোমার মৃদু ফিসফিসানি
আমার কানে কানে.
আমি দৃষ্টি মেলে দেখব তোমাকে,
শুধুই তোমাকে
আমাদের ভালবাসা অতুলনীয়
আর কিছুই নয় তুল্য
এবং তাই, সত্যি আমি
তোমাকে পাশে চেয়েছি সর্বদা।

সে অনেক দিনের প্রতীক্ষা
শুধু তোমার জন্য-
প্রিয়তমা, তোমার ভালবাসার
উষ্ণতাই শুধু চেয়েছি
আর আমার পাশে সর্বদা তোমাকে,
যেমনটা সাধ ছিল মনেমনে
আমার প্রিয়তমা,
কার্যত আমি এমনই কিছু
তোমায় বলতে চেয়েছি-
তুমি আমার জীবনের ভালবাসা,
তুমি আমার প্রিয়তমা।

 

[ Hello- Lionel Richie ]

একাকীত্বের মাঝে মনের গহীনে
তোমাকে নিয়ে আমার বসবাস,
আর স্বপ্নের মাঝে তোমার ঠোঁটে
আমার সহস্রবার চুম্বন।
কখনো বা দেখি তুমি আমার
উঠোন পেড়িয়ে যাচ্ছো,
শুনছো, আমি কি সেই নই যে-
তোমার পানে তাকিয়ে রয়েছে?

তোমার চোখে আমার প্রতিচ্ছবি দেখি
তোমার হাসিতে আমার ইতিকথা,
তুমি আমার কাঙ্ক্ষিত রমণী,
তোমার জন্য আমার দু’বাহু প্রসারিত-
কারণ তুমি জানো কি বলার আছে
এবং তুমি এটাও জানো কি করার আছে
এবং আমিও বলতে চাই
আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি।

আমি দেখতে থাকি
তোমার চুলে আলোর ছটা
এবং আমি জানাতে চাই
তোমাকে নিয়ে আমার কতটা উদ্বেগ
মাঝে মাঝে মনে হয়
প্রাণটা আমার প্লাবিত বন্যার মত।
প্রেয়সী, আমি শুধু তোমার
কাছ থেকে জানতে চাই
কারণ আমি বিস্মিত তুমি কোথায় আছো
এবং আমি বিস্মিত তুমি এখন কি করছো !

তবে কি তুমি একাকীত্বের মাঝে অথবা
অন্য কারো ভালবাসায় নিমজ্জিত?
আমায় বলে দেও কি করে পাব তোমায়
আমি যে কোন পথই খুঁজে পাচ্ছিনা,
তবুও আমায় বলতে দেও আমি
তোমায় ভালবাসি আজও।

 

[ Titanic- Celine Dion ]

প্রতিটি রজনী বিনিদ্র স্বপনে
তোমার আবির্ভাব, তোমার স্পর্শ-
যেভাবে জানান দেয়, তুমি আছো
সহস্র মাইল সমুদ্র পথের দূরত্ব
আর তোমার আমার শত ব্যবধান
সবটুকু পথ পেড়িয়ে তুমি এসেছো,
তুমি এলে
কাছে কিংবা দূরে রও
আমার বিশ্বাস হৃদয় ডানা মেলবে,
মেলুক ডানা।

আবারো যখন তোমার দুয়ার হবে উন্মুক্ত
আর যেহেতু তুমি রয়েছো
হৃদয়ের মধ্যখানেই,
আমিও মেলবো ডানা ।
ভালবাসার আকাশে ছুঁয়ে দেব দুজনায়
এবং আবদ্ধ রব চিরকাল
এবং সেই আলিঙ্গন রবে আমৃত্যু।

সত্যিকারের ভালবাসাই ছিল,
যখন তোমায় ভালবেসেছিলাম
কালের সাক্ষী আমার সেই আলিঙ্গন,
আমৃত্যু আমাদের এক সাথেই পথ চলা
কাছে কিংবা দূরে রও।

আমার বিশ্বাস ভালবাসাটা অঙ্কুরিত হবে,
কোন একদিন।
আবারো যখন তোমার আবির্ভাব হবে
এবং তোমার ঔরস
যেহেতু আমার গর্ভে
আমাদের মিলিত আত্মার
পুনর্জন্ম হবে একদিন।
যেহেতু সে আসবে,
আমার আর কোন ভয় নেই
এবং আমি জানি সে আসবে,
সে আসবেই
আর এভাবেই আমাদের ভালবাসা
বেঁচে থাকবে চিরকাল
তোমার ভালবাসা লালিত হবে সযত্নে,
কথা দিলাম।

 

[ Hotel California – Eagles ]

অন্ধকারাচ্ছন্ন এক মরুভুমির পথে,
শীতল হাওয়ায় উড়ছে আমার কেশ,
ওদিকে কলিটাসের উষ্ণ সুবাস
বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে,
একটু সামনে এগোতেই,
মিটিমিটি আলো জ্বলতে দেখলাম।

আমার মাথাটা ভারি হয়ে এলো আর-
আমি চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলাম,
এ রাতের জন্য আমাকে থামতেই হলো।

সেখানে সে দরজার ওপাশটায় দাঁড়িয়ে ছিল,
আমি আগমনী ঘন্টা শুনতে পেলাম,
আমি মনে মনে ভাবছিলাম-
এটা হয়তো একটা স্বর্গোদ্যান
নতুবা নরকও হতে পারে,
অতঃপর সে একটি মোমবাতি
জ্বালিয়ে পথ দেখালো-
নিচের করিডোর থেকে
আমি কিছু কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম
আমার যেন মনে হলো তারা বলছে-
হোটেল ক্যালিফোর্নিয়াতে আপনাকে স্বাগতম!
এ এক মোহনীয় জগত,
অপূর্ব হাসি মুখ।

এখানে অনেক খালি রুম পড়ে রয়েছে
বছরের যে কোন সময়
তুমি জায়গা খুঁজে পাবে।
তার মনটা যেন মসলিনে জড়ানো,
সাথে মার্সেডিজের আভিজাত্যে মোড়ানো,
তাকে ঘিরে রয়েছে চমৎকার আর সুদর্শন বালকেরা,
যাদের সে বন্ধু বলে সম্বোধন করছে-
অপরূপ ভঙ্গিমায় তারা উঠোন জুড়ে নাচছে
আর গরমে মিষ্ট ঘাম ঝরাচ্ছে।
কিছু নৃত্য মনে রাখার মত,
কিছু হয়তো ভুলে যাব।

আমি দলপতিকে ডাকলাম, বললাম
প্লিজ আমার জন্য ওয়াইন আনুন।
তিনি বলে উঠলেন, উন্নিশ ঊনসত্তরের পর
থেকে আমাদের এখানে
এই বিষয়টি অনুপস্থিত।

এবং এখন অব্দি সেই কণ্ঠস্বর গুলি
দূর থেকে আহ্বান করে চলছে-
মাঝরাতে তুমি জেগে উঠবে আর
তুমি শুনতে পারবে সমবেত কণ্ঠস্বর
হোটেল ক্যালিফোর্নিয়াতে আপনাকে স্বাগতম!
এ এক মোহনীয় জগত,
সহাস্য মুখ পানে।

তারা হোটেল ক্যালিফোর্নিয়াকে
সঞ্জীবিত করে রেখেছে।
আমি বিমোহিত হলাম
আত্ম পক্ষ সমর্থন যোগ্য।
ছাদ আয়নায় সজ্জিত রয়েছে, আর
গোলাপী স্যাম্পেন বরফে ডুবানো।

অতঃপর সে বলল,
আমার সবাই এখানে কারাবাসি,
নিজেদের বানানো প্রকোষ্ঠে
এবং প্রধান কুঠরিতে
তার সমবেত হল ভোজের জন্য
সবার হাতে হাতে স্টিলের ছুরি।

যেন তারা আগুন্তকে
হত্যা করার জন্য প্রস্তুত
সর্বশেষ যা আমার মনে আছে-
আমি মুল ফটকের দিকে দৌড়ালাম
আমাকে পালানোর রাস্তা খুঁজে পেতে হবে
যেতে হবে সেখানে যেখান
থেকে আম এসেছিলাম।

স্থির হও, বলল নৈশ প্রহরী
আমরা প্রস্তুত স্বাগত জানাবার জন্য
তুমি হয়তো বিদায় নিতে পারো
যে কোন সময়
কিন্তু প্রস্থান কোন কালেই নয়।

 

[ Smooth Operator Sade ]

করিৎকর্মা।।

হয়তো সে কোন রমণীর সাথে হাসিতে লুটিয়ে পড়ছে
এবং একই সাথে তুলছে অন্য কারো হৃদয়ে ঝড়
চড়া দামে কিনে নিচ্ছে, নারীর কোমল বেদনা।

তার দখলে ভালবাসার সাতটি ভিন্ন ভাষা,
স্বর্ণকুমারী, হীরক রজনী এবং
রুবীর বিচ্ছুরণ,মহাশূন্যের উদাত্ত
হাত তার জন্যে,
আর যখন তাতে ছন্দ পতন হবে-
হীরকোজ্জল জীবনে,
প্রেমিক যুবক
ঠিক সেইক্ষণে সে সরে আসে
নুন্যতম লোকসান আর ফুর্তির আমেজে,
নাগরিক আলো আর বানিজ্যিক রাত্রিতে।

সুযোগ বুঝে সে ট্রামে উঠে পড়ে
যৌন সঙ্গিনীর হাত ধরে
যারা সংবেদনশীল কিংবা
শিক্ষানবিশ তাদের সুযোগটা কমই
যখন কিনা আবেগের প্রশ্রয় মেলেনা,
পরিসমাপ্তি নয় বরং
কোথাও শুরুর দেখা মেলে।
প্রশ্ন অবান্তর,
কারণ সে একজন করিৎকর্মা।

একুল থেকে ওকুলে,
লসঞ্জেলস থেকে সিকাগো,
পশ্চিমা পুরুষ-
উত্তর থেকে দক্ষিণে পেড়িয়ে,
কি-লারগো, বিক্রয়মুল্যে প্রেম
মুখোমুখি নিকেষ,
প্রতিটিই ক্লাসিক ঘটনা
যেন ছায়ার বাক্স আর দ্বৈত পদচারণ
মোকাবিলা নিষ্প্রয়োজন।

ভালবাসার তাবিজ কালো
সুতোয় বাঁধা আর
স্মৃতি গুলি গলিয়ে নিয়ে
সোনার ধাতুতে গড়া
তাঁর চোখ স্বর্গদূতদের মতো
কিন্তু তার হৃদয় ঠান্ডা
জানতে চাইবার প্রয়োজন নেই,
সে সুনিপুণ একজন
খেলোয়ারই বটে
এক দক্ষ কামুক যুবক।।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

ভূমিকাঃ কোভিড-১৯ বিশ্ববাসীকে নানান অভিজ্ঞতায় প্লাবিত করেছে। কেউ নিজে আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীহারিয়েছেন।…..