কবিতা-পাঁচে পঞ্চবাণ

ভজন দত্ত
কবিতা
Bengali
কবিতা-পাঁচে পঞ্চবাণ

ছানি কাটার কবিতা

জানি জানি,পেলেই পেড়ে পড়ে ফেলবেন জানি
শুধু পাওয়ার প্রতীক্ষা করে যারা,তারাই কি ডেয়ার!

তারাই কি ” ডিয়ার হানি”!

চাপ নিন, না নিতে পারলে
প্রেসারকুকারে ঢুকে পপকর্ণ হয়ে ফুটুন।

ফুট কলাইয়ের খোসা ছাড়িয়ে পাব্লিক
ভাই সব বিন্দাস হয়ে মুখে মুখে পুরে নিন আমূল

কবে থেকে ভুখা আছে গরুটি
এই বেলা রাখাল কেটে নিক ছানি

তারপর ভরভর পেটে চোখের ক্ষিদে পড়ে নিন
সময় থাকতে উদাস ছুরিতে
নিজ নিজ ছানিটি কেটে নিন…

 

হে বাঙ

হে বাঙ, মধ্যপদলোভী কর্মধারায়
ওষুধের বাক্সে চোখ রেখে
আদিকাণ্ড রামায়ণ টোকার সময় থেকে
চুষে চুষে খাওয়া একটা জ্বলন্ত সিগারেট
ফেলার জায়গা খুঁজছেন মাটিতে?

কোথায় ফেলবেন, হাওড়া!

এত গিজগিজানি ভীড় তবু তার বয়ে যাওয়া
গঙ্গাকে আর কত মইলি করবেন বস !

যারা চলমান স্বচ্ছতা প্রকল্পের ছবিটি তুলে রাখে
আর ফাঁক পেলেই ফাঁক করে তালে তালে
তবুও চিরন্তনী আপনার ফেলা ফেলা খেলা
মাইরি ফালাফালা করে দিচ্ছে
হে বাঙ, জামাপ্যান্টলুন পরেও
আপনাকে এত উলঙ্গ যায়নি তো দ্যাখা আগে…

 

ভারতছাড়ো পর্ব

ব্লা ব্লা বিজ্ঞাপনের বিরতিতে আপনার গালে যখন ব্লাস করে দেবে কোনো অর্ধনগ্ন যুবতী, তখনো, আপনি মাইরি হ্যাং, হ্যাং কেসেই টেসে আছেন

ওই যে আপনি, একদিন লিফটের অন্ধকার পেয়ে গুঁজে দিয়েছিলেন আগুন। বোঝেননি, কোথায় লাগবে, কোথায় রয়ে যাবে পোড়ারমুখী
ক্ষত, সেগুলির ক্লিপিং দেখতে দেখতে দেখতে পাব্লিক আপন আপন লিঙ্গদেহ ত্যাগ করে আগুনে পুড়ে শুদ্ধশীল হতে চেয়েছিল অথচ তারা তা পারেনি, তারা সহনশীল জয়েচ্ছু হয়ে গেছেন।

শুধু সহ্য করো, ভোগ করো আর জয় দেখলেই
জয় জয় বলে দুবাহু তুলে হাঁটু মুড়ে তোমাদের
সকল শ্রী উৎসর্গ করে

অন্ধকার পরিচয়পত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ো।

চলুক লাইভ, ভারতছাড়ো পর্ব…

 

শান্তিছবি

এই নষ্ট পৃথিবীতে নিখাদ ফেলে দেওয়া চুমুগুলো
জমিয়ে জমিয়ে পাহাড় করবে কেউ একদিন।
তার চূড়ায় উড়িয়ে দেবে ভলোবাসার লাল নিশান।

সেখানে পাখিরা শিস দিয়ে দিয়ে ঘুমন্তকে জাগাবে।

কেউ-কেউ স্বপ্ন থেকে জেগে ঘুম-ঘুম চোখে,

সেই সব চুমুতে চরম আদর দিয়ে,

পাখির পালকে গুঁজে দেবে।

পৃথিবীর ক্যানভাসে পাখি সব
জলপাই পাতা ঠোঁটে
পিকাসোর আঁকা শান্তিছবি হয়ে যাবে…

 

কবিতার জন্য

তুমি কি জানতে,তোমাকেও এভাবে
কেউ কোনোদিন কবিতা ঠুসে মারবে!

তুমিও বিরক্ত হবে সেসব পড়তে বুঝতে
বাহ! সাবাশ!দারুণ! আহা! চুমু! কেয়াবাত! উম্মা!

এসব বলতে বা লিখতে লিখতে
তুমিও একদিন ক্লান্ত হয়ে যাবে!
সেসবের পরোয়া না করে তবুও কেউ
তোমার ইনবক্সে কবিতা ঠুসে ঠুসে মারবে

সেই পাগলা বা পাগলিটাকে সামলানোর জন্য
সেসব আং বা বাং লেখা না পড়েই
তুমি কখনো দায়সারা গোছের
একটা ছোট,মাঝারি বা ইয়াব্বড়
কাঁচকলা তুলে ধরে লাই দেবে
কিংবা অন্তর থেকে না হলেও
কখনো কখনো একচোখ বন্ধ করা চুমুর স্টিকার উপহার দেবে বা নিছকই মনভোলানোর জন্য কখনো কখনো উড়িয়ে দেবে
হৃদয়চিহ্ণ হাজার হাজার

তুমি কি জানতে শুধুই কবিতার জন্য
তোমাকেও একদিন এসব করতে হবে…

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ