কবি আমিনুল ইসলামের নারীভাবনা: প্রকৃত সত্তার অন্বেষণ

নাজিয়া ফেরদৌস
নারী, প্রবন্ধ
Bengali
কবি আমিনুল ইসলামের নারীভাবনা: প্রকৃত সত্তার অন্বেষণ

একবিংশ শতাব্দীর উৎকর্ষের যুগে ব্যতীক্রমী নারীসত্তার সন্ধান পাওয়া বিরল নয়, তবে সমগ্র নারীজাতির কথা বিবেচনায় আনলে এই পরিসংখ্যানের ত্রুটি সহজেই অনুমেয়। ক্ষুদ্র পরিসারে পরিবারে এবং বৃহৎ পরিসরে সমাজে তথা দেশে নারীদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং উপযুক্ততা বিচার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাব্যিক উত্তরাধুনিকতা নারীর উপস্থাপনাতে এনেছে ভিন্নতা। যাঁরা নারীর প্রথাগত রূপের বিপরীতে লুপ্তপ্রায় স্বনির্ভর সামর্থপুষ্ট নারীর কল্পনা করেন তাদের কবিতায় নতুন প্রাণস্পন্দনে জীবন্ত হয়ে উঠে নারী। কবি আমিনুল ইসলামের কাব্য সাধনায় পাথেয় হয়েছে এমনি  নারী সত্তার উদ্বোধন। তার কবিতায় ভাষা পেয়েছে ব্যতীক্রমী এবং প্রকৃত নারীরূপ যা লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে একতাল ব্যঙ্গ করে চলেছে নারীর আধুনিক রূপান্তরকে।

‘নারী’ শব্দটির পেছনে কার্যকরী পুরুষতন্ত্র এই সত্তাটিকে কেবল ব্যবহার করছে নিজের প্রয়োজনে। কাব্যে, উপন্যাসে নারী হয়েছে বিনোদনের কেন্দ্র। কখনো সাহিত্যিকগণ তাদের প্রতি দেখিয়েছেন সহমর্মিতা কখনোবা তাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন বিশ্বের সম্মুখে। কিন্তু যেভাবেই হোক প্রকৃত নারীসত্তার রূপ উন্মোচনে সচেষ্ট নন কেউই। নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিবেচনা করেই সমাজ খুশি থাকতে চায়। তাদের দেহলালিত্য হয় বিনোদনের খোরাক। হারিয়ে যায় নারীর প্রকৃত স্বর। এই বিষয়গুলোকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে মনোগত করেছেন কবি আমিনুল ইসলাম। তার কবিতায় নারীর উপস্থাপন ব্যতিক্রমী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তিনি প্রচলিত সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারীকে মূল্যায়ন করেন নি। ভোগ্যপণ্য হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র একক সত্তা হিসেবে তাঁর কবিতায় নারীর প্রকাশ ঘটেছে। তিনি তুলে ধরেছেন নারীর প্রকৃত সত্তার পরিচয় । ‘সোনাভান’, ‘যে তুমি’, ‘নারী অথবা বৃক্ষ’, ‘পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি’, ‘মাছিতন্ত্র’, ‘সখিনার সুন্দরী হওয়ার গল্প’, ‘অদ্ভুত ঐশ্বর্যের পরশে’, ‘মুকুটহীনা’ ইত্যাদি কবিতা তাঁর নারী ভাবনার স্পষ্ট স্বাক্ষর বহন করে।

কবি আমিনুল ইসলামের কবিতার উপস্থাপন শৈলী সম্পূর্ণ ব্যতীক্রমী হওয়ায় তাঁর নারীবিষয়ক চিন্তা চেতনার উপস্থাপনাও ভিন্নমাত্রায় চালিত। কবি নারীকে দেখেছেন নতুন দৃষ্টিতে। নারীর রূপ বলতে তিনি বোঝেন ইতিহাসের রাণী সোনাভানের মত বলিষ্ঠ, দীর্ঘদেহী, শক্তিশালী, আত্মতেজে বলীয়ান, দীপ্ত কোন স্ত্রী চরিত্র যে কারো মুখাপেক্ষী নয়, পুরুষের সামনে নত নয়, নয় পরনির্ভরশীল। বর্তমানে রঙিন আলোর ঝলকানিতে হৃতসত্তা এই সোনাভান। তার কোন তেজ নেই। অশ্বারোহী হানিফা আজ তাকে দেখে বিস্মিত নয় বরং তাকে খোলাবাজারে, উন্মুক্ত মাঠে প্রদর্শনে আগ্রহী। আজ সোনাভান বলিষ্ঠ নয়, সমাজ হরণ করেছে তার তেজ, তার শক্তি বিলীন হয়েছে চিকন কোমর আর মাপা দেহে। নিজেকে রক্ষা করতে যে সোনাভান নিজেই যথেষ্ট ছিল আজ সেই অন্যের মুখাপেক্ষী। সে এখন সেনাদলের সম্মুখে অবস্থান করে না, তার অবস্থান হয় গ্রিনরুম আর বিলবোর্ডে। তার বলিষ্ঠ সুঠাম দেহের পদাঘাতে কেঁপে উঠে না শত্রুদল কারণ সে এখন রপ্ত করেছে বিড়ালিনীর চলন, বলনৃত্যের শংসিত পুতুল হয়ে নিজের সৌন্দর্যকে বিক্রি করতে শিখেছে, হারিয়ে ফেলেছে নিজের স্বতন্ত্র। কবি সোনাভানের পূর্বরূপের প্রত্যাশি। হৃত ঐতিহ্য কবি ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতি যেখানে সোনাভানেরা ছিল নিজ মহিমায় সমুজ্জ্বল আর পুরুষজাতির প্রকৃত সমকক্ষ। আধুনিক কথিত নারীদের প্রতি কবির তাই প্রশ্ন-

‘এভাবে আর কতদিন তুমি অন্যের দিন যাপন করবে?
এভাবে আর কতদিন তুমি যাপন করবে অন্যের রাত।’ (সোনাভান)

তিনি চেয়েছেন এযুগে নারীরা নিজেকে পণ্য না করে হয়ে উঠুক ‘দৃপ্তনয়না বলিষ্ঠবাহু সোনাভান’। তারা নিজেদের পঙ্গু দশা থেকে বেরিয়ে আসুক, উঠে আসুক ব্যায়ামাগার থেকে, খোলা মাঠ থেকে, ফসলের ক্ষেত থেকে, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে, আর পুরুষতন্ত্রের জাল ভেদ করে জ্বলে উঠুক আপন তেজে।

যুগ যুগ ধরে কাব্যে নারীরা সমাদৃত। চর্যাপদ থেকে শুরু করে ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ কিংবা মঙ্গলকাব্য, সবখানে নারীর মহিমা এবং তার রূপের জয়জয়কার। কিন্তু তখন আর যাই হোক আজকের মত নারী সত্তাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বাজারের পণ্য হিসেবে নারীকে উপস্থাপন করা হত না। নারী তখনো ছিল আপন লালিত্যে জাজ্জ্বল্যমান। নারীর বর্তমান রূপান্তরের পেছনে সবথেকে ক্রিয়াশীল শক্তি হল পুরুষতন্ত্র। যারা নারীকে মানুষরূপে গণ্য করে না, করে ভোগ্যপণ্য হিসেবে। তাকে মাপা হয় শরীরের গঠন অনুসারে। পুরুষের তৈরি করা কাঠামোর মধ্যে নির্ভর করে নারীর সৌন্দর্য। তাদের বিশ্বাস পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্যই কেবল এ জাতির সৃষ্টি। নিজস্বতা বলতে তার কিছু নেই। মাছির মতই তাই লোলুপ দৃষ্টিতে তারা নারীকে অবলোকন করে। কবি আমিনুল ইসলাম সমাজের এই আচরণকে তুলে ধরতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি। তিনি ক্ষয়িত নারীহৃদয়কে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। চাকচিক্যের ভেতর থেকে উদ্ধার করতে চেয়েছেন তার ধ্বংসপ্রাপ্ত মনকে। নারীমাংস লোলুপ পুরুষদের সামাজিক কর্মকাণ্ডকে তিনি নাম দিয়েছেন ‘মাছিতন্ত্র’। মাছির মতই এরা সারাক্ষণ মেতে থাকে নারীরূপী মিষ্টান্নের আশায়। সমাজে পুরুষদের বিভিন্ন দল আবার এদের নিয়ে তৈরি করছে অনুশাসনের জাল। একদল পুরুষ মাছি, নারী নামক ফুলটিকে ঢেকে রাখতে চাইছে কালো পর্দায় আবৃত করে। তাদের শাসন করা হচ্ছে কড়াভাবে আর তর্জন গর্জনে তাড়ানো হচ্ছে অন্য মাছিদের। অপরদল আবার চাইছে এই ফুলগুলো বেরিয়ে আসুক ঢাকনার বাইরে। উন্মুক্ত হোক সমাজে। ভোগ্যপণ্যের সৌন্দর্যে অর্জিত হোক আরো কিছু অর্জন। তাদের মতে ‘আমাদের পুরুষচন্দ্র রাজা তো আধুনিক মানুষ; খোলামেলাই পছন্দ করেন!’ এভাবে কেউ নারীকে রাখতে চায় আবরণের শেকলে আবদ্ধ আর কেউ চায় তাকে উন্মুক্ত করে, নগ্নতার সৌন্দর্য দেখিয়ে তৃপ্তি পেতে। ‘মাছিতন্ত্র’ কবিতাটিতে কবি এই দুই দলের মাধ্যমে সমাজের মৌলবাদী ও প্রগতিশীলদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন চাতুর্যের সঙ্গে। কবি দেখেছেন সমাজের এই দুই দলের মত-অমতের নাগপাশে বন্দী হয়ে আর তাদের নিয়ম শৃঙ্খলার জালে জড়িয়ে ধ্বংস হচ্ছে নারীর প্রকৃত অস্তিত্ব, হারিয়ে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব স্বর। কবির ভাষায়- “হাতাহাতির শব্দের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে যুবতীদের গলা”। (মাছিতন্ত্র)

কবি আমিনুল ইসলাম নারীকে দেখেছেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব থেকে নিজেকে সরিয়ে মানুষ হিসেবে কল্পনা করেছেন তাকে। নারী সবার চোখে যা কবির চোখে তাই ভিন্ন চিত্রে চিত্রিত। সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে কবির চিন্তাধারা কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক। সমাজ নারীকে বানিয়ে রেখেছে নির্বাক সহনশীল বৃক্ষ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মমনের দিক থেকে করে রেখেছে বনসাই। যার নিজের কিছু করার বা বলার ক্ষমতা নেই। কবি বলতে বাধ্য হয়েছেন ‘আমাদের উঠোনের গাছটি চতুস্পদ নয় / প্রথমত গৃহপালিত / এবং উপকারী তো বটেই’। তাকে পুরুষতন্ত্র সাজায় তাবিজ কবজে, ছাগলের উপদ্রব কাটাতে দেয় অনুশাসনের বেড়া, ধর্মের বেড়ি পরিয়ে গৃহকোণে করে সজ্জিত। মানুষরূপী এই বৃক্ষটি ফুল, ফল, ছায়া দেয় আবার বিনোদনেরও হয় উৎকৃষ্ট উপায়। কালেভদ্রে সুযোগ বুঝে বনসাই এই বৃক্ষটিকে নিয়ে যায় সুপারমার্কেটে অথবা জমজমাট আড্ডায়। আবার বৃক্ষের যৌবন ফুরিয়ে গেলে সমাজ তাকে ফেলে দেয় অবহেলায়, ‘সে শোনে করাতকলের শব্দ।’ এই বৃক্ষের নাম কবি দিয়েছেন ‘নারীবৃক্ষ’। তবে এই নামের যথার্থতা নিয়েও পুরুষতন্ত্র শোরগোল তুলবে কীনা তাতে কবি সন্দিহান। আধুনিক নারীকে পণ্য করার কৌশল কবিকে আহত করে। নিজ সৌন্দর্য পণ্য করে পুরুষতন্ত্রের কাছে নত হয় নারী। বিক্রিত হয় তার রূপ সেই সঙ্গে স্বাতন্ত্র্য। কবি ইঙ্গিতে তুলে ধরেন এই সামাজের চাকচিক্যের পেছনের গল্প যেখানে গ্রাম্য চঞ্চল বালিকা ধুলোমাখা দেহ থেকে বেরিয়ে নিজ সত্তা হারিয়ে পরিণত হয় পণ্যে। এখন সখিনারা কাস্তে হাতে মাঠে ছোটে না, তারা কাস্তে বেচে কেনে ‘নখররঞ্জনী, উত্তাল বক্ষবন্ধনী’।  আধুনিক সমাজ গ্রাম্য সখিনার সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে তাকে করে তোলে কর্পোরেট যৌনদাসী, আর তার রূপ দেখে মুগ্ধ, বিস্মিত হয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। সখিনার মত নারীসমাজ পরিণত হয় পণ্যে। রূপকে পণ্য করে হয়ে উঠে পণ্যের মডেল। গ্রাম্য বালকের নিষ্পাপ চোখের আয়না থেকে সরে এসে সখিনারা হয়ে ওঠে সর্বজনভোগ্য। নারীর এমন অবক্ষয় কবির হৃদয়কে নাড়া দেয় আর সখিনাদের অন্তরালের কথা ভাষা পায় কবির কবিতায়। গ্রামীণ ললনার রূপান্তর চিত্রিত হয় কবিতার পংক্তিতে। কবি বলে উঠেন – ‘পাড়া থেকে পাড়ায় ছুটে চলে সখিনার ঘোড়া; আর জমে ওঠে সুতনুকা সুনন্দাবিপনী।’ (সখিনার সুন্দরী হওয়ার গল্প)

কবিদের দৃষ্টিভঙ্গি আট দশটা সাধারণ মানুষ থেকে ভিন্ন বলেই তাঁরা কবি। আবার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আছে বলেই কবি থেকে কবি পৃথক হয়ে যান। নারী অনুষঙ্গ প্রত্যেক খ্যাতিমান কবির অন্যতম কাব্যবিষয় হলেও প্রত্যেকের চিন্তার গভীরতা ও নারীকে পর্যবেক্ষণের দৃষ্টি ভিন্ন। কবিরা কখনো নারী হৃদয়কে বিশ্লেষণ করে তার অন্তরানুসন্ধনে নিয়োজিত হন, কখনোবা রহস্যময়ী নারী নামক অনুসঙ্গটির মনগত রহস্যভেদের প্রচেষ্টা চালান। তবে বেশিরভাগ কবিই নারীর বাহ্যিক রূপ সৌন্দর্যের পূজারী। কবি জীবনানন্দ দাসও নারীর বাহ্যিক রূপ অবলোকন করেছিলেন গভীর বিস্ময়ে। বলেছিলেন-

‘আমি সেই সুন্দরীরে দেখে লই,
নুয়ে আছে নদীর ওপারে
বিয়োবার দেরী নাই রূপ ঝরে পরে তার,
শীত এসে নষ্ট করে দিয়ে যাবে তারে।’

এভাবে যুগে যুগে নারীর সৌন্দর্যের গুণগান গেয়ে গেছেন কবিরা। কিন্তু নারীর মনোগত সত্য প্রকাশ, অধিকাংশ কবির কবিতাতেই থেকে গেছে অন্তরালে। নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য্যরে অর্চনার স্থানে তাই ভাষা পায়নি ক্ষয়িত নারীহৃদয়। কবি আমিনুল ইসলাম হাঁটেন তাঁদের থেকে একটু ভিন্ন পথে। তিনি বর্তমান সমাজে ক্ষয়িত নারী হৃদয়ের সত্য উদ্ভাসনে সচেষ্ট। বাহিরের চাকচিক্য আর মেকি সৌন্দর্যের আবরণে অবগুণ্ঠিত নারীর প্রকৃত পরিচয় উন্মোচনে তিনি আগ্রহী। নারীর লুপ্তপ্রায় স্বনির্ভর সত্তার প্রকৃত পরিচয় তিনি পেয়েছেন। তাই তিনি মেকআপের বাইরে, শারীরিক সৌন্দর্যের বাইরে নারী হৃদয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। বুঝেছেন পুরুষতন্ত্রের জালে আটকা পড়া নারীর মনোবেদনা যেখানে সে কেবলি রূপবতী পুতুল, পুরুষের হাতের খেলনা আর উপভোগ্য পণ্য। কবি নারীকে তার প্রকৃত সত্তায় প্রকাশ করতে আগ্রহী যেখানে সে কোন পণ্য নয়, কোন ব্যক্তির লালসার পাত্রী নয়, নয় কোন কর্পোরেট বাজারের বিনোদনকর্মী। সেখানে নারী কেবল তার নিজের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত। কবির ভাষায় – ‘যখন তুমি নওকো মোটে ব্যক্তিলোভে কিংবা জোটে / ক্রেতা কিংবা পণ্যে কারও নগ্নঊরুর বাজার / তখন তুমি তোমার এবং তখন তুমি আমার।’ (যে তুমি) কবি প্রত্যাশা করেন এমন একজন নারী যেখানে সে নিজের সত্তায় বিকশিত। যেখানে পথ চলতে পুরুষ তাকে লালসার দৃষ্টিতে নয়, শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখবে। নারী হবে দেবীস্থানীয়। ‘শ্রদ্ধাহীন-ভক্তিহীন এই নাস্তিক সময়ে’ তার হাতে থাকবে অসুর বধের মন্ত্র। তার সামনে নত হবে যত নষ্টামি, পুরুষতন্ত্রের বানানো জাল যার পদতলে লুটিয়ে পড়বে। অন্তরের সবটুকু মাধুর্য দিয়ে নোংরামির সীমানা সে অতিক্রম করে ফিরিয়ে আনবে পবিত্রহৃদয়। ‘কেন্দ্রচ্যুত ভ্রান্তলক্ষ্য শতাব্দীর’ সংসারে কবির মত ঠায় বসে থাকবে সারা বিশ্ব; অপরিসীম মমত্বে সংসারত্যাগী পুরুষও হয়ে উঠবে গৃহী। সমাজ তাকে পণ্য হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে গণ্য করবে। শ্রদ্ধা আর সম্মান হবে তার ভূষণ। কবির প্রিয়তমা এমনই একজন নারী। কবির ভাষায়- ‘পাড়ার বখাটে, লোকে বলে উর্দির ভাসুর, / পথে বা আড্ডায় দেখা হলে, / নষ্টামির সার্বভৌমত্ব ফেলে নত হয় তোমার মিনারে।‘  (মুকুটহীনা) কবির চিন্তার জগতে নারীর সৌন্দর্য কোন ভোগ্যপণ্য বা লালসার বস্তু নয় বরং শ্রদ্ধার পাত্র। নারীকে তিনি তাই সম্মানের আসনে আসীন দেখতে চান।

কবি আমিনুল ইসলাম নারীকে দেখেছেন প্রেম ও সৌন্দর্যের উর্দ্ধে। তিনি নারীকে ভেবেছেন শ্রদ্ধা আর সম্মানের স্থানে রেখে। নারী সত্তার ধ্বংস তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। পুরুষতন্ত্রের মক্ষিকা স্বভাব থেকে তিনি মুক্ত করতে চেয়েছেন নারীকে। কবিতায় করেছেন প্রকৃত নারী সত্তার অন্বেষণ।

নাজিয়া ফেরদৌস। শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ