কালচিত্র

সুদীপ্ত বিশ্বাস
কবিতা
Bengali
কালচিত্র

কালচিত্র

জীবনটা তো গেল প্রতীক্ষায়
অঢেল সময় নেই কারও, ঘণ্টা বাজে
কারা যেন ডাকে, আয় আয়…
পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছি গাছ
সহস্র স্রোতের টানে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে
তুমি কী নদী হবে না আজ?
নদী হও, হও নদী, বয়ে যাও
অজস্র ধারায়। দুকূল ভাসিয়ে নদী
আমাকে পাগল করে দাও।
ভেসে যাওয়া ? সেটাও সার্থক।
শ্মশান যাত্রীরা চলে গেলে, পাখি ডাকে-
গৃহস্থের খোকা হোক…

 

দহন 

ধুলোর ঝড় উঠেছে মরু রাত্রিতে
চাপচাপ অন্ধকার
বিষাদ নদীর শীতল স্রোতের আবর্ত
ঘুটঘুটে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে
পেঁচারা ওড়াউড়ি করছে
আমার দু’হাতে শুধু সূর্য পোড়া ছাই
তুমি নেই
তোমার আমার মধ্যে অনন্ত গ্যালাক্সির ব্যবধান
আরও দূরে সরে যাচ্ছি আমরা
আমার চারিদিকে দাবানল
আমার বুকের ভেতরে জ্বলন্ত ভিসুভিয়াস
আমার চারিদিকে পাথর ভাঙার শব্দ
আমার হৃদয়ের স্ফটিকটা ভেঙে
কাচের টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মেঝের ধুলোয়
কান্নারা বোবা হয়ে গেছে, অশ্রুরা স্তম্ভিত
ভাঙা মাস্তুল হাতে নিয়ে আমি একলা দাঁড়িয়ে আছি।

ফেরা

অতি যান্ত্রিকতায় যারা ভেসে গিয়েছিল
তারা আকাশ থেকে ফিরে আসছে
তাদের প্রত্যেকের হাতেই এখন লাল গোলাপ
প্রাচীন গুহামানব এখন তাদের নায়ক
তারা ভেবেছিল আকাশ থেকে পেড়ে আনবে আলো
ভেবেছিল নক্ষত্র থেকে নিয়ে আসবে
এক সমুদ্র সুখ
ভেবেছিল পাখির চেয়েও দ্রুত উড়ে গিয়ে
জয় করবে ব্রহ্মাণ্ড
অথচ নিঃস্ব হয়ে তারা ফিরে এসেছে
প্রাচীন বাংলার লালমাটির গ্রামে
নিকানো উঠোন, ধানের গোলা,
বিদ্যুৎহীন রাতে জ্যোৎস্না মেখে
তারা উঠোনে গড়াগড়ি খায়
তাদের স্বপ্নে হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে বেড়ায়
গ্রামের আধান্যাংটো শিশুরা।

সুদীপ্ত বিশ্বাস। কবি। জন্ম ১৯৭৮, ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের নদিয়া জেলার রানাঘাট। পেশাগতজীবনে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। কবিতা লিখছেন ১৯৯২ সাল থেকে। প্রকাশিত বই: ঝিনুক জীবন, মেঘের মেয়ে, ছড়ার দেশে, পানকৌড়ির ডুব, হৃদি ছুঁয়ে যায়, Oyster Life ইত্যাদি। লেখালিখি ও সরকারি চাকরির...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ