কায়া

অক্ষর অনীক
কবিতা
Bengali
কায়া

নেশা

সারারাত বসে মগজ থেকে শব্দ এনে শাদা কাগজে আত্মহারা প্রেমিকার নাম লিখে দেই। তার শিয়রে রাখা মোমবাতি আর খোলা সোনালি চুলের দিকে তাকিয়ে দু’মুঠো বৃষ্টির প্রার্থনা করি।আমার বিচ্ছেদ নিয়ে সে যখন ঘুমোয় পৃথিবীর বুক জরিয়ে, আমি তখন নিথর নিরবে ভাঙা কলমে অক্ষরের দস্তখত করি।

অগ্যতা ঠাস করে এঁকে দিয়েছিলাম তার গোলাপি ঠোঁটে আমার বিষাক্ত চুমু। ক্লান্ত মাথার ব্যামো নিয়ে আমার কাঁধে এসে পড়েছিলো সেদিন। নীলচে শাদা মেঘেরা সব দু’চোখ খুলে দেখেছিলো তোমায় তখন।

মরে যাবার পরে স্বর্গ কিংবা নরকের লোভ ত্যাগ করে আমি তোমায় খুঁজতে গিয়ে অন্ধ হয়ে হেঁটেছি তোমার উঠোনে। হঠাৎ পা আটকে পরি কোন এক অদেখা বন্ধনে। ছুঁয়ে দেখি সেতো তোমার পুরনো সেই ভেজা চুলের স্পর্শী নেশা।

কায়া

আকাশ দেখো মেয়ে; সকালের উজ্জ্বল আকাশ। তোমার বাবা কিছুক্ষণের মাঝে ব্যস্ত হয়ে উঠবে অফিসে যাওয়ার জন্য। তোমার মা আর কিছুক্ষণ বাদে সূরেলা কণ্ঠে আওড়ে যাবে ধর্মীয় বাণী। আকাশ দেখো মেয়ে; সকালের উজ্জ্বল আকাশ।

বরাবরের মতো রবীন্দ্রনাথের বই নিয়ে বসবে তুমি বারান্দায়। আমি জানালার ওপাশে ভিক্ষুকের মতো দাঁড়িয়ে দেখবো নিচু স্তর থেকে উপরের চর্বির ঢেউ। ভাবতে পারো আমাকে ছোটলোক। দু’বেলা যার খাবারের পয়সা নেই সে তাকিয়ে উপরের গ্রহ মন্ডলে দিকে।

আকাশ দেখো মেয়ে, উপরে তাকিয়ে দেখো চুমু খায় পাশের বারান্দায় এক বুড়ো লোকে। রাত বিরাতে পুরুষেরা কতো গল্প লিখতে বসে কবিতার আদলে, নোংরা মস্তিষ্ককে বিলিয়ে যায় কতো চেনা অচেনা নারীর সাথে।

দু’হাত দিয়ে চেপে ধরো গলা। কোন সেই শুয়োরের বাচ্চা? স্তন ধরে মৃদু চিৎকার দেয়, মুখে ঠোঁটে গাঁজার গন্ধ নিয়ে বলতে আসে ভালোবাসার কথা। মেয়ে দু’হাত দিয়ে চেপে ধরো গলা। শুনেছি নারী ও মদ পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাদক। কেমনটা মাতাল তারা, গোঙাতে গোঙাতে এ’ঘর ও’ঘর ছেড়ে করে উন্মাদনা৷ ভাবছো, এই বুঝি ঝড় শুরু হয়ে গেলো। তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে স্বর্গের পথে। শনিবারের বিছানার চাদর বদলে যাবে যেমনটা বদলে যায় দিনের আলোয় রাতের তারা।

ধীর থেকে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছি মেয়ে। বলতে পারিনা তাদের মতো তোমার বেগুনী রঙের ব্লাউজের নকশার কথা। আকাশ দেখো মেয়ে, হারিয়ে যাচ্ছি রাতের তারাদের সাথে ওই আকাশের মাঝে। তবে যদি সূর্যের আলো চাও, চাও যদি ওই শুকতারা; এসো তুমি শুক্র গ্রহের পথে। যেখানটায় দাঁড়িয়ে থাকবো কবিতাহীন তোমাকে নিয়ে অনন্তকাল হাঁটবো বলে…

আমিন

প্রিয়তম রমণী,
তোমার নাম হতে পারতো ইবাদত
আজানের করুণতম সুরের সাথে
আমি তোমাকে খুঁজে নিতাম

আল লতীফ, আস্ – সামিই
আল-মুদ্বি’ল্লু – তুমি অবিশ্বাসীদের বেজ্জতকারী
যারা বিশ্বাস করে না; নূরে নজর মেহজাবিনে

আল হাকাম, তুমি আল গাফুর;
আমাকে ক্ষমা করো মাবুদ
আমাকে ক্ষমা করো প্রতি সূর্য ডোবার আগে
দিও মৃত্যুর পেয়ালা প্রিয়তম রমণীর দরোজায়

ইয়ে ইলাহী, ইয়ে ইলাহী
প্রতিটি ভোরের পবিত্র আলো হাতে
প্রিয়তম রমণীকে চাই
জিকিরে জিকিরে বলবো আমি
আমিন – আমিন…

 

ক্লান্তি

ডানা ঝাপটানো পাখির মতো মানুষ কেনো মৃত্যুর দিন গোনে কিংবা মুক্তির।

ঘুমাও তুমি অক্ষর অনীক। ছুটি চাও যাবতীয় মসজিদ মন্দির কিংবা গির্জায়। বৃথা তোমার আত্মহনন; যেনো এক দক্ষ দর্জি সেলাই করছে চোখ। তুমি কি সমুদ্রে যেতে চাও অন্ধ নাবিকের মতো?

প্রচণ্ড নিঃশব্দে রোদ্দুর ঝলমলে আকাশ নাকি জ্যোৎস্নার রাতে অন্ধকার সমুদ্রে খুড়বে কবর। মুখ গুঁজে লজ্জায় কাঁদো তুমি; যেনো আচমকা বিষণ্ণ হোমাপাখি চিৎকার করে।

ঘুমাও তুমি অক্ষর অনীক৷ গাও তুমি মুক্তির গান, কিংবা মৃত্যুর ফুটপাতে দেখা হোক প্রিয়তম রমণীর সাথে। কিংবা সেই কবরে শুয়ে থাকো, যেখানে হলদে রজনীগন্ধা মুখ ফুটে কয়; কতো অপমান গ্লানি নিয়ে ঘুমায় দেখো অক্ষর অনীক…

অক্ষর অনীক। কবি। শূন্য থেকে অসীম শূন্যতায় হেঁটে যায় মুসাফির। পরিচয় পরিচিতি; অজানা পথে ছায়া ছেপে কায়ান্তরে...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..