কিশোরবেলার রূপবান এবং

শ্রীতরুণ গিরি
কবিতা
Bengali
কিশোরবেলার রূপবান এবং

অমোঘ, তোকে

কে বলে জন্মকেই শুধু গ্রহণ করা হয়
আর মৃত্যুকে মেনে নেওয়া?
খাদের কিনারে থেকে
আমি তো স্বেচ্ছায় বেছেছিলাম তোকে
যখন তোর মানে ছিল অমোঘ গড়িয়ে যাওয়া।

পাহাড় চুড়ায় উঠে দেখেছিলাম নীচে
আবার নীচ থেকে দেখেছি যা টুকু
তফাতটা আত্মকেন্দ্রিক অথবা অনুবাদের তারতম্য
শুধু বুঝতে চাওয়াটা বিরাট ফারাক গড়ে দেয়।

গল্প যেখানে শেষ সেখানে থেমে যাওয়াটা
বাধ্যতামূলক ছিল না কক্ষনো, কিন্তু
ধোঁয়াশা ছিল তোর পরিণতির আখ্যানে।
আমি যাব না যাব না ভেবেও
কখন পৌঁছে গেছি নিজের অবশেষে।

প্রেম তাহলে তীব্র সপ্তকে স্থির থাকা নয়
বরং অসময়ে ফুটে ঝরা শিউলি বিলাস।

আমরা যেখানে

আমরা হেঁটে হেঁটে হয়রান হয়ে একদিন চাইবো ফিরে যেতে
যারা আমাদের সাধনাকে অবজ্ঞাভরে দূরে রেখে
সরাইখানার মৌতাতে মজে আছে
তাঁদের সঙ্গে দেখা হবে
তারা জানতে চাইবে – দিন বদলের কি আশা উপার্জন করেছি
এত কষ্ট শেষে
পায়ের দগদগে ক্ষত ছাড়া আর কি দেখাবার আছে?

আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি তাই পথ পাশে।

কিশোরবেলার রূপবান এবং

আমার কিশোরবেলার যাত্রাপালার
রাত-জাগানি সুন্দরী রূপবানে’র মুখ
চাঁদের মুখের সাথে মিলিয়ে দিতে দিতে
ভরা পউষের নিঝুম বারোচৌকার তিন মাইল মেঠো পথ
ঘোর লাগা পায়ে কোন হাওয়ায় ভেসে ভেসে,
পেরিয়ে গিয়েছি
বুক নিংড়ে বেজেছে ক্লারিওনেট সুর
আমার হৃদয়ঝিলে তার কাঁচা মুখ রাংতার সরতাজে
গোলাপি পালক গুঁজে স্থিরছবি হয়ে আছে, আজও…

বারো দিনের স্বামী কোলে বারো বছরের নওলা সুন্দরী
কেঁদে কেঁদে ফিরেছে ষ্টেজে,
নীচে বিচালি বিছানো মাঠে বসে
মায়াকাজল চোখে মেখে
দেখেছি আর কত কষ্টে, কত ক্রোধে,
রাতের আকাশ লক্ষ তারার হাহাকারে
ভরিয়ে দিয়েছি।

আজ
কোথায় হারিয়ে এলাম সেই ছেলেটাকে
গোলাপ রাঙা রূপবানের মুখ টলমল চোখের ইশারায় যাকে
ভুলিয়ে নিয়ে চলে গেছে
তিরিশ বছর আগে…

 

মাঝে মাঝে মরে যেতে

মাঝে মাঝে মরে যেতে ভালো লাগে।
মাটির সাথে মাটি হয়ে মিশে যেতে,
আকাশে বাতাসে আলো হয়ে জ্বলে যেতে
ভালো লাগে।
পার্থিব সুখ ভোগ অনেক কঠিন,
জমিন ঝুরঝুরে ঘুন মৃত্যুভয়
অবিরাম বইতে থাকে শিলাবৃষ্টি ঝড়
হাতছানি – বার বার মনে পড়ে।

মাঝে মাঝে তোর বুকে
নদীর ঘোমটা খুলে ডুব দিতে দিতে
দমবন্ধ হয়ে যেতে ভালো লাগে
মাঝে মাঝে মরে যেতে ভালো লাগে।

শ্রীতরুণ গিরি। কবি।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..