কুসুম ও কামিনী

মঈনুল হাসান
গল্প
Bengali
কুসুম ও কামিনী

দখিনা কনডোমিনিয়াম। তুঙ্গস্পর্শী ইমারতগুচ্ছ। পাঁচটি সুউচ্চ দালান কঠিন গিরিশিখরের মতো দাঁড়ানো। চারধারে মাঝারি উচ্চতার সীমানা দেয়াল; ফাঁকে ফাঁকে জলের প্রপাত, সবুজ অরণ্যানী। সবই পরিকল্পিত। উন্নত বসত কল্পনার শীর্ষ সুখানুভূতি। ইমারতের নামগুলো গাছের নামে। কমপ্লেক্সের গেট দিয়ে ঢুকে প্রথমটি পবনঝাউ। বাকিগুলো গগনশিরীষ, রাজঅশোক আর অন্য কী নাম যেন!

শহর ছাড়িয়ে গ্রামের বিশুদ্ধ জল-হাওয়ায় অবস্থান দখিনাকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সবুজের কোলে দাঁড়িয়ে এর ব্যতিক্রমী নির্মাণ কিংবা জমকালো শৈলী একে দিয়েছে আলাদা বিশিষ্টতা। গগনশিরীষের একটি ফ্ল্যাটে থাকে কুসুম কলি। ফ্ল্যাট নং বি টু সি টেন। দু নম্বর ভবনের দশতলায়। দখিনমুখী না হলেও সেখানে হাওয়া চলাচল অবাধ। আলোর উপস্থিতিও নেহাত কম নয়। দশ তলার ওপরে আলো-হাওয়ার এমন অবাধ অনুপ্রবেশের কারণে বেঁচে থাকাটা স্বস্তিদায়ক।

দখিনার পাশেই গড়ে উঠছে বিশাল এক আবাসন। আকাশগঙ্গা মডেল টাউন। কুসুমের বেশ অদ্ভুত লাগে নামটা দেখে। আকাশগঙ্গা মানে মিল্কিওয়ের মতো কি কংক্রিটের নক্ষত্রমণ্ডল বসবে এখানে? আকাশের অনন্ত ছায়াপথের মতো? প্যানাফ্লেক্সের বিশাল ক্যানভাসে নাগরিকের ভবিতব্য স্বপ্নের কল্পকুসুম প্রকাশিত। আবাসনের গোটা মানচিত্র দেয়া আছে তাতে। শহর কিংবা শহরতলীর আবাসনগুলো এমন নানা সুযোগ-সুবিধার জুজু দেখিয়ে টেনে আনছে মানুষকে। সন্তানের শৈশবস্মৃতির সুখবাগানের আশ্বাস দিয়ে সাজিয়ে তুলছে চটকদার বিজ্ঞাপন। আকাশগঙ্গাও পিছিয়ে নেই। অবশ্য এর দুটি ব্লক এ আর বি আগে থেকেই আছে। এখন নতুন করে বালি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন আরও কয়েকটি ব্লক।

চল্লিশোর্ধ্ব কুসুম। সকাল ছটার মধ্যে বেরিয়ে পড়ে ঘড়ি দেখে। পায়ে পাতলা নীল স্নিকার, জিন্স রঙ ট্রাউজার, পরনে শাদা ঢিলা কুর্তা, গলায় পেঁচানো স্কার্ফ। ওটা সাথে রাখতে হয় বলে নেয়া। চিকন স্ট্রাইপের একটা সুতি ঝোলানো ব্যাগে থাকে টুকিটাকি ওষুধ, ফ্ল্যাটের চাবি, মুঠোফোন, প্রয়োজনমতো খুচরো টাকা। আর হ্যাঁ, পাতলা একটা থলেও থাকে পাটের। বড়, হালকা। প্রায় একঘণ্টা আবাসনের মধ্যে হেঁটে বাজার সেরে সাতটায় ফিরে সে। হাতের কাজ গুছিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করার মাঝে দুলারী এসে যায়। কুসুমের নাশতা রেডি করা, দুপুরে অফিসের খাবার গুছিয়ে দেয়াসহ হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দেয় সে। ফ্ল্যাট সি টেন এর সারাদিনের কর্ত্রী সে।

অফিস যাবার আগ পর্যন্ত কুসুমের সকালের রুটিন মোটামুটি এমন। আবাসনের ওদিকটায় রোজ হাঁটতে তার ভালো লাগে। নীল স্নিকারের নরম সোলের নিচে ইট-কংক্রীট আর পাথরের খোয়া বাঁধানো পথ। হাঁটতে গেলে পায়ের তলায় খোঁচা লাগে। তবু সবাই শরীরের অযাচিত মেদ-শর্করার কথা ভেবে রোজ ঘূর্ণায়মান। আবাসনের চক্রাকার কালো পিচঢালা পথে মানুষগুলো কক্ষচ্যুতহীন হয়ে ঘুরছে প্রতিদিন। ওদিকে কালো চামড়ার নিচে অনুদঘাটিত কত ইতিহাস, অদেখা-অজানা কত গল্প!

আকাশগঙ্গা নাম ধারণ করে হারিয়ে গেছে পুরানো মৌজা, দাগ-খতিয়ানের হিসাব। সেসবের কল্পিত সীমারেখা শিরা-উপশিরা-স্নায়ুর বিস্তৃতি ঢাকা পড়েছে ইটের দেয়ালের নিচে। এখানে বিলুপ্ত হয়েছে অনেকগুলো গ্রামের মানুষের পিতৃপুরুষের নাম-বংশ-পরিচয় নতুন পরিচয়ের আড়ালে। প্রাচীন কৃত্যপেশা মুখ থুবড়ে গেছে সেই কবে! তাদের টিকি আছে ছড়ানো। জায়গায় জায়গায় পুরানো পুকুরগুলো এখনও আছে। আদি গ্রামের মৌজা-খানার চিহ্ন এখনও বিলুপ্ত হয়নি। মসজিদ আছে, নদীঘেঁষে আছে কত কবরস্থান! পুরানো ভাঙা মঠমন্দিরের ধ্বংসাবশেষও আছে, আছে বুড়ো বটতলার নিচে শিবস্থান। মাটির তলায় হয়তো মিশে আছে গৃহস্থ ঘরের গোয়াল, গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগির খোয়াড়, কুকুর, বিড়াল, কবুতর, পূর্বপুরুষের হাড়গোড়, শ্মশানের ছাই; তবু কুসুমের এখানে হাঁটতে ভালো লাগে। পুরানো গ্রাম হারিয়ে গড়ে উঠছে গোছানো নাগরিক গ্রাম। পরিকল্পনামাফিক মনোরম মেট্রোপলিস।

দুই

সবজি দোকানের ছেলেটা কুসুমের পরিচিত। আগে একসময় সবজি ফেরি করে বেড়াতো। পরে তিন চাকার একটা ভ্যানে হলো বাজার। নদীর ওপাশের গ্রাম থেকে কাঁচা সবজি পাইকারি এনে দখিনার নিচে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো। ফ্ল্যাটের সকলে ওর কাছ থেকে আনাজপাতি সব নিয়ে রাখতো। ওদিকের কোনো গ্রামের হয়তো হবে। দূরের নদীঘেঁষে আবাসন। তখনও ভেতরে বাজার বসেনি। মাঝখানে দীর্ঘদিন ছেলেটির আর দেখা নেই। একদিন সন্ধ্যায় কুসুমের কাছে কিছু টাকা চাইতে এসেছিল। কামাল তখন বেঁচে ছিল। কুসুমের স্বামী। কদিন পর আবার ভ্যান সাজিয়ে এসে বসতে শুরু করলো কিন্তু ততদিনে তার একটা পা খোঁড়া।

কুসুমকে দেখে একগাল হাসি বিতরণ করে মালেক বলল, আইজ আপা সব টাটকা। আমি তো আপনেরে টাটকা ছাড়া বাসি মাল দেই না।

হুম বুঝলাম। শসা তো শুকিয়ে আছে। দুদিন আগের মনে হয়।

দুদিন না আপা। অহনতরি পানি ছিটাই নাই। আইজ শসা নিয়েন না।

কুসুম হাতে লেখা ফর্দ এগিয়ে দিয়ে বলে, লিস্ট দেখে সব গুছিয়ে দাও মালেক।

আইজ কত বছর ধইরা আপনে আমার দোকান ছাড়া আনাজপাতি নেন না। আপা আর কিছু নেওনের আছে? মুদিখানার মাল?

না ওসব ঝামেলা আজ নেই। আমি হেঁটে আসছি খানিক। তুমি সব গুছিয়ে ব্যাগে তুলে রাখো।

সকালে ঘণ্টাখানেক হেঁটে কুসুম বাজারের কাছটায় আসে। মালেকের দোকানসহ কয়েকটা দোকানে সবজির পসরা নিয়ে বসে ছিলো দোকানদাররা। মালেককে সেই কত বছর ধরে চেনে। কামাল বেঁচে থাকতে ছেলেটা মাথায় ঝাঁকা নিয়ে কাঁচা সবজি দিয়ে যেত গ্রাম থেকে। কীভাবে কোত্থেকে পরিচয় কিছুই জানে না কুসুম। কামালও মাঝেমধ্যে টুকটাক আর্থিক সাহায্য করত। আজ এত বছর পর চোখের সামনে ছেলেটা কেমন বুড়িয়ে গেল। থুতনির নিচে ফিনফিনে কিছু দাড়ি। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। লম্বাটে চেহারায় চোয়াল দেবে আরও বয়স্ক দেখায় মালেককে।

থলের ভেতর কচি ঢেঁড়স, গোল বেগুন, আলু, পটল, টমেটো কত কিছুর ছড়াছড়ি গড়াগড়ি। কলমির নরম ডগা আর লতির চিকন ডাঁটাগুলো ব্যাগ ছাপিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে বাইরে। কুসুমের দ্রুতলয়ে হাঁটার গতির সাথে সাথে পাটের থলে দুলছে। আজ কথায় কথায় দেরি হয়েছে। তাই তার ছুটে চলার গতিও অন্যদিনের চেয়ে বেশি। ব্যাগও দুলছে তেমন।

পিচরাস্তায় পেছনে দূর থেকে একটা মোটর বাইকের আওয়াজ ক্ষীণতর থেকে ক্ষীণ, তারপর ক্রমশ তীব্রতর হতে থাকে। কুসুম সাবধানে সরে আসে ফুটপাথের ওপর, একটা জারুলের ছায়ার নিচে। আর তখনই তার কাছ ঘেঁষে বেশ জোরে বাইকের ব্রেক কষে দাঁড়ায়। থেমে যায় লোকটি। বাইকের পেছনে ঝোলানো বাজারের থলে। সেটাও হোঁচট খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সামনে। লালশাকের আঁটি, বরবটি, পুঁইডাটা সব একসাথে হাসি দিল কুসুমকে দেখে।

প্রথমটায় বেশ হতভম্ব হয়ে যায় কুসুম। অনেকটা পথ হেঁটে আসায় কপালে বিনবিনে ঘাম, বুকটা ওঠানামা করছে জোর শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। লোকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব। ষাটের কাছাকাছিও হতে পারে। বাইকের সিটে বসেও শিরদাঁড়া টানটান। ফর্সা মুখের দু গাল বেয়ে জুলফি হতে টপটপ ঘাম ঝরছে। গায়ের ক্যান্টালোপ অরেঞ্জ আর শাদা স্ট্রাইপড টি শার্ট ঘামে ভিজে জবজবে। পরনে ছাইরঙা ট্র্যাকস্যুট। মাথায় এখনও ঝোপালো চুল। মাথাভর্তি কাঁচা-পাকা চুলের এ সৌম্যকান্তি আভিজাত্য বাড়িয়েছে অনেকখানি। ট্রাউজারের বাঁ পকেট উঁচু। মোবাইল বা চাবির ব্যাগ হবে হয়তো। পায়ে কুসুমের মতোই নীল কেডস। সব মিলিয়ে একটা মানানসই সম্ভ্রমের চেহারা।

কুসুম ভাবছে, শেভ করা গাল আর টি শার্টের রঙের কারণে বয়সটা তার ধারণার চাইতে কমও হতে পারে। আভিজাত্য আর রুচির দারুণ পরিপাট্যে এমন সিদ্ধান্ত নেয়াই যায়।

কুসুমের নিরীক্ষা শেষ হতেই সঙ্কোচহীন স্পষ্ট প্রশ্ন ছুঁড়ে বলে, ‘ম্যাডাম আপনি কি লেডি প্রতিমা গার্লস স্কুলের হেড মিস্ট্রেস?’

অবাক হয়ে চোখ সরু করে কুসুম, ‘কেন বলুন তো?’

মাঝে মাঝে দূর থেকে যখন দেখি লক্ষ্য করি আপনি একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকেই সবজি কেনেন। তাই আজ ভাবলাম জিজ্ঞেস করে জেনে দেখি।

সবজি কেনার সাথে স্কুলের কী সম্পর্ক?

না না, কোনো সম্পর্ক নেই। ধরে নিন ওটা কথা শুরু করার ছুতো। আপনি কি সত্যিই স্কুলের মিস্ট্রেস?

কোন স্কুল যেন বললেন?

লেডি প্রতিমা। উত্তরার আশুলিয়ার কাছে। ওদিকে একদিন আলাপ হয়েছিল বোধহয়।

কাঁধের সরু ফিতার ঝোলানো ব্যাগ পাশ থেকে বুকের সামনে রেখে বাজারের থলে হাতবদল করে কুসুম। গলায় পেঁচানো ওড়নার খুঁট দিয়ে বাঁ হাতে ঘাম মুছে নেয় হালকা। লোকটির চোখের দৃষ্টি বা বলার ভঙ্গিতে যতœ ও দৃঢ়তার ছাপ স্পষ্ট। বেশ মার্জিত ও পরিশীলিত। কুসুম তাই সকৌতুকে বলে, আমার সাথেই কথা হয়েছিল? বাহ, ভালো তো। ভালো করে খেয়াল করে বলুন তো, আমি সেই কি না?

কুসুমের কাছ থেকে অনুরোধপ্রাপ্ত হয়ে সরু চোখে নিরীক্ষণের মতো মুখ থেকে সমস্ত শরীরে নজর বুলাতে থাকে। চোখ বুলাতে গিয়ে সামান্য ইতস্তত, অস্বস্তি। তবু ফর্সা মুখে প্রায় আরক্ত মানুষটি এবার ফিক করে হেসে বলে, একবার মনে হচ্ছে আপনি, আবার মনে হচ্ছে আপনি নন।

মুখে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে কুসুম চেয়ে থাকে নিষ্পলক, নিরুত্তর।

আজ যখন দাম দিয়ে দোকান থেকে বের হচ্ছিলেন ভাবলাম জেনে নিই একবার…।

তাই! হঠাৎ আশুলিয়া? আপনার বাড়ি ওখানে নাকি?

না না, মোটেই না। আশুলিয়ার ওদিকে ফ্যাক্টরির কাজে আমাকে মাঝেমধ্যে যেতে হয়। তবে হেড অফিস বনানীতে। কামিনীর স্কুলের সামনে… বোধহয় একদিন…

দূর সাক্ষাতের আরও দূরতম একটা আভাস পেয়ে কুসুম শান্তস্বরে বলে, আমাকে বুঝি সেখানেই দেখেছেন? স্কুলের ভেতরে না বাইরে?

ঠিক স্কুলে নয়। একটা তাঁতের দোকানে… বেশ কিছু শাড়ি কিনছিলেন কোনো একটা অনুষ্ঠানের জন্যে। আপনারা কজন বেশ পছন্দ করছিলেন আর খুব হাসছিলেন সেদিন। কামিনীও সাথে ছিল আমার…

বাইক স্টার্ট করার আগে যুবকটি জিজ্ঞেস করে, আপনি তো দখিনায় থাকেন? কোন বিল্ডিং? ফ্ল্যাট নম্বর?

কুসুম এবার সত্যিই ধাক্কা খেলো। হাতের ব্যাগ দুলছে। ভেতরে মৃদু শিরশির অনুভব। কুসুমকে চুপ দেখে নিজেই বলে, আমি বি ওয়ান ডি ফিফটিন।

কুসুমের বুকের ভেতর তিরতির কাঁপন। ঠিক করে শুনলো কিনা বোঝা গেলো না। ও একা থাকে। দ্বিধান্বিত মনে তাই সন্দিগ্ধ চোখ। একটু ভাবে কুসুম, হঠাৎ এমন আলাপে অপরিচিত বা দূর পরিচিত কাউকে হুট করে ঠিকানা বলা কি ঠিক হবে?

একই কমপ্লেক্স যেহেতু আমাদের বারবার দেখা হবে, বলে হুস করে মোটর বাইক ছোটায় যুবকটি।

একটা অচেনা ঘোর লেগে ছিল বাতাসের গায়ে। নাকি কুসুমের মনে? রাস্তার প্রান্ত থেকে সরে মাঝরাস্তায় পা দিতেই ঝনঝন ধাতব শব্দের আর্তচিৎকার। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে একটা ট্রাকলরির জোরে ব্রেক কষার শব্দ। এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে বোঝাই। আরেকটু বেখেয়াল হলে কোনো একটা বিপদ…। ওদিকে কুসুমকে আনমনা দেখে কিছুক্ষণ দাঁড়ায় লরিটি। গরগর করে কাঁপছে। পেছনের দোকানে ডেলিভারি দিয়ে খালি বোতল নিয়ে যাচ্ছে কোথাও। ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গেছে মোটর বাইক। সে আওয়াজ বাতাস বেয়ে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর। তবু সে দূরের আওয়াজ হৃৎকম্পনের মতো দপদপ করছে বুকের কাছে, কানের কাছে।

আবাসনের সড়কচক্র থেকে ফিরতে ফিরতে কুসুম ভাবে, লোকটির সাথে সত্যিই কি তার সাক্ষাৎ বা কথা হয়েছিলো কোনোদিন। স্পষ্ট করে মনে করতে পারে না কিছুতেই। আজ তো পরিচয়ের প্রথম পর্ব ছিল। কিংবা তার ভাষ্যমতে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হবার কথা। কিন্তু কিছুই তো মনে পড়ছে না কুসুমের। একটি বিষয়ে সে খুব হতচকিত হয়ে পড়েছিল।

কামাল প্রায় বছর দেড়েক আশুলিয়ার ওদিকে ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ছিল। তখন কুসুম সময় কাটানোর জন্য একটা কিন্ডার গার্টেনে কিছুদিন কাজ করেছিল। একদম অনিয়মিত, খণ্ডকালীন চাকরি। যুবকের কথামতো একদিন তারা স্কুলের বার্ষিক প্রোগ্রামের জন্য দলবেঁধে শাড়ি কিনতে গিয়েছিলো। কিন্তু কী আশ্চর্য! সেসব বিষয় বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো সে। চার পাঁচ বছর আগেকার কথা। ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু, সে অচেনা যুবক? কেন তার মনে রাখার এমন দায় হলো? কুসুমকে ধরে ধরে লক্ষ্য করে সব জিজ্ঞেস করল। আর কামিনীইবা কে? সে কি কুসুমের পূর্ব পরিচিত কেউ?

তিন

ছুটির দিনে কুসুম খানিকটা বেলা করে ওঠে। দুলারীকেও সেভাবে বলা আছে। বাইরে রোদ উঠে গেলে যদিও বেশিক্ষণ শুয়ে থাকা ধাতে নেই তার। রাজ্যের কাজের ফিরিস্তি ধরা থাকে। তাই আয়েশি গড়াগড়ি বা আলসেমি করার সুযোগ কোথায়? শোবার ঘর লাগোয়া ব্যালকনিতে বসে আশ্বিনের সকালের ফুরফুরে হাওয়া গায়ে মেখে নিচ্ছিল সে। নটার পরে সে নাস্তা করবে। তাই হাতে শুধু গ্রিন টির মগ…

একটা দীর্ঘদেহী গাছ সামনে। ঊর্ধ্বমুখী উদ্বাহু। পাঁচিল আর কংক্রিটের ইটপাথর গলে শাখাপ্রশাখাহীন। কুসুম একবার ভাবলো কী গাছ এটা? প্রতিদিন দেখে আর মনে মনে এ কথাই ভাবে। গাছের মতো ওর জীবনটা সম্পর্কের শেকড়বাকড়হীন, রুক্ষ। মনে মনে শাখা-প্রশাখায় আহ্বান করে সতেজ সবুজ পাতার। মনের ডালপালাতেও কি কিছু উঁকি দিলো?

সেদিনের সে আগন্তুকের চেহারা, কথাবার্তা কিংবা ঔৎসুক্য কোনোটাই মন থেকে মুছে ফেলতে পারছে না সে। আবার যদি দেখা হয় কখনও তবে সেও তার নাম, ঠিকানা সব জেনে নেবে। সেদিনের হঠাৎ দেখায় কুসুম এতটাই হতচকিত হয়ে গিয়েছিলো আর মনে মনে পরিচয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছিলো যে শেষে তেমন কিছুই তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি।

দখিনার সামনে-ডানে-বাঁয়ে সবকিছু আছে। লন্ড্রি, চেইন শপ, ফুড কোর্ট, ফিটনেস সেন্টার আরও অনেক ফ্যাসিলিটিজ। ওখানেও টুকটাক কাঁচা সবজি পাওয়া যায়। একান্ত বাধ্য না হলে বা ঠেকে না গেলে কাঁচা সবজি বাদে অন্যসব বাজার ওখান থেকেই মাঝে মাঝে সেরে নেয় কুসুম। তবে বেশিরভাগ সময়ে অফিস থেকে ফেরার পথে, সন্ধ্যার পর।

কমপ্লেক্সের নারী কমিউনিটির জন্য একটা ক্লাবমতো আছে। সন্ধ্যার পর সেখানে গাল-গল্প, আড্ডা, কিছু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের আলোচনা ও পরিকল্পনা হয়ে থাকে। তাও সবদিন নয়। সময় পেলে আজকাল সেখানেও ঢুঁ মারে কুসুম। ছুটির দিনে অন্য কোনো ব্যস্ততা না থাকলে সকাল এগারোটায় বিশেষ কোনো এজেন্ডা নিয়ে বসে সকলে।

সকাল থেকে আজ একটিমাত্র চিন্তা তার অন্য সকল ভাবনাকে অতিক্রম করেছে। অবশ করে রেখেছে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততাকে। কুসুমের ফ্ল্যাটটি যতটা না মাটির কাছাকাছি তার চেয়ে আকাশের বেশি কাছাকাছি মনে হয়। বারান্দায় বসেছিল শরতের আকাশ দেখবে বলে। কিন্তু, আবহাওয়া বলছে অন্য কথা। আকাশের মেজাজে রোদহাসির খামতি। আজ দুলারী এমন দেরি করছে কেন? সকালে বিনা কারণে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল। সে কারণেই কি? একটা ছোপ ছোপ অস্থিরতা অকারণে তাকে গ্রাস করে নেয়।

ছুটির দিনের সকালটা খুব পরিকল্পনামাফিক হয় না কুসুমের। কনডোমিনিয়ামের গেট দিয়ে বেরোতেই অনেকের সাথে দেখা হয়ে যায়। কেউ মুখ চেনা স্বল্প পরিচিত, কেউবা একেবারে অচেনা। রাস্তার ওপারের চেইন শপ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় টুকিটাকি কিনতে হবে। তাই কুসুমের তাড়া। কিন্তু যে মুখটা দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিল না সে-ই সামনে দাঁড়িয়ে। শরতের আকাশ দেখা হয়নি তবে মানুষটির মাথায় এলোমেলো কাশের গুচ্ছ।

কুসুমই মুখ খোলে প্রথমে।

এ কী, আপনি? একেবারে এখানে।

খুব অবাক হলেন ম্যাডাম? ভাবছেন আপনাকে খুঁজতে খুঁজতে এখান পর্যন্ত চলে এসেছি কিনা? আপনার পেছন পেছন?

না, আসলে হঠাৎ দেখে ভড়কেই গিয়েছিলাম খানিকটা। ঠিক এ মুহূর্তে এভাবে প্রত্যাশা করিনি।

যাক, শুনে ভালো লাগল অন্তত। অন্য মুহূর্তে হয়তো প্রত্যাশা করছিলেন বা ভবিষ্যতে করবেন।

কুসুম লজ্জা পেল। ঠিক যতখানি লজ্জিত হলে নিজেকে অপ্রস্তুত হবার হাত থেকে বাঁচানো যায় তেমন।

আমি আসলে কথাটা অমনভাবে বলিনি। সেদিন আপনার সাথে দেখা হলো অথচ নাম, পরিচয়, ঠিকানা কিছু শোনা হলো না। সংকোচ ঝেড়ে কুসুম বলে।

আপনি যে এখানে বি টু সি টেন ফ্ল্যাটে থাকেন আমি জানি। যাই হোক, আমি কল্লোল। কল্লোল সরকার। কী কাজ করি সেদিন বলেছিলাম। ফ্ল্যাটের ঠিকানাও। তবে আপনি কিন্তু বলেননি আপনি লেডি প্রতিমার মিস্ট্রেস কিনা?

আমি একটু অন্যমনস্ক ছিলাম সেদিন। সেভাবে হয়তো খেয়াল করিনি। ওই যে বললেন লেডি প্রতিমার মিস্ট্রেস, আমি কিন্তু তা নই। তবে আজ স্বীকার করছি আপনার স্মরণশক্তি ঈর্ষণীয়।

কামিনীর সাথে আপনার অনেক মিল। আপনি তার হারিয়ে যাওয়া বোন-টোন নয় তো? আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবি এতটা মিল হয় কী করে মানুষের?

কে কামিনী? সেদিনও কয়েকবার উচ্চারণ করেছিলেন। কুসুমের চোখ-মুখ একসাথে শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করে।

কথাটা শুনেও যেন না শুনতে পেয়ে কল্লোল ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেলেন। একটু যেন আনমনা। গেটের ধার ঘেঁষে সোনাঝুরিলতা ঝুলে নেমেছে। চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বলতা। অন্য ধারে গোলাপি-শাদা মধুমঞ্জরী। হঠাৎই এক ফালি রোদ হেসে ওঠে সোনাঝুরির কমলা আভার সাথে পাল্লা দিয়ে। যার একটু চুইয়ে পড়ে কল্লোলের গাল বেয়ে। সে মুখ তখন কিছু লুকানোর চেষ্টায়।

আমি সত্যিই অনেকদিন আপনাকে খুঁজেছি; বলে কুসুমের দিকে চোখ বুলিয়ে বেশ সমীহের দৃষ্টিতে সমস্ত মুখমণ্ডল পরখ করে নেয়। এ দৃষ্টি বিনিময় খুব সহজপাঠ নয়। কুসুমের বেশ অস্বস্তি লাগে এভাবে তাকিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে। দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই কল্লোল বলে, কাল সকালে একসাথে হাঁটতে যেতে পারি আমরা? আমিও কিন্তু মোটামুটি সকালে বের হয়ে পড়ি।

কুসুম কিছু না বলে গেট ধরে বাইরের রাস্তায় পা বাড়ায়। ভেতর থেকে নিজেকে পালানোর তাড়াহুড়া অনুভব করে সে।

চার

বেশ কয়েকদিন বাদে আজ সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিল কুসুম। দখিনার গেট ছাড়িয়ে পাশের আকাশগঙ্গার পিচরাস্তায় উঠতেই চলন্ত মোটর হর্নের শব্দ। ভেতরের আবাসিক থেকে রাস্তাটা বাইপাসের মতো কিছুদূর গিয়ে শহরের বড় সড়কে উঠেছে। তাই ব্যস্ততা বেড়েছে ইদানীং। তাছাড়া দিন দিন ব্লক এ-বিতে লোক সমাগম বাড়ছে। গড়ে উঠছে উঁচু উঁচু ইমারত। রাস্তা মেরামতের কাজও শেষের দিকে। খুব শিঘ্রি নাগরিক ব্যস্ততা আরও নাকাল করবে সবাইকে।

শহরের যান্ত্রিক স্রোতে মিলে যাচ্ছে মানুষ, একটু একটু করে মিশে যাচ্ছে প্রতিদিন। ভোরের আলো ফুটে উঠতে না উঠতে দলবেঁধে বেরিয়ে পড়ছে তারা। কুসুমদের মতো। শরীরের কলকব্জা ঠিক রাখা চাই। অযাচিত মেদ-শর্করার লাগাম টেনে ধরা চাই। স্নিকার, কেডস, ট্রাউজার, টি শার্ট পরে ছোটো। কনডোমিনিয়ামের গেট দিয়ে ঢোকার বাঁয়ে একটা ইউনিসেক্স ফিটনেস সেন্টার হয়েছে। ওদিকে আবাসনের পুরানো দুটি বøকের মাঝে আছে বাচ্চাদের ক্যারাতে প্রাকটিসের মাঠ, সাথে বড়দের ইয়োগা। ওগুলো আবাসনের কমিটি দ্বারা পরিচালিত। চাইলে বাইরে থেকে কুসুমদের মতো কেউ জয়েন করতে পারে।

আবাসন চত্বরের ভেতর বৃত্তাকারে পাকা পথ, অনেকের জন্য উপযুক্ত জগিং ট্র্যাক। এক পাক ঘুরে আসলে মোটামুটি এক-দেড় কিলো রাস্তা হাঁটার শামিল। দখিনার ওপর-নিচ পড়শী ফ্ল্যাটের মুখচেনা মেয়ে-বউরা, স্বাস্থ্য সচেতন তরুণ-তরুণী, এমনকি অপরিচিত ভারী অল্পবয়সী মেয়েরাও ঢোলা কুর্তি-লেগিংস-শাড়ির সঙ্গে জিন্স-বারমুডা, টি-শার্ট গায়ে চেপে হাঁটছিলো। অবসর যাপনকারী বৃদ্ধ প্রৌঢ়রা তো সে ¯্রােতে আছেনই। ফুটপাতের প্রান্ত ধরে জারুল-শিরীষ-অমলতাস গাছের শাখা-প্রশাখা মাথার ওপর মৃদু হাওয়ায় দুলছে।

কুসুমের চোখ যায় শাদা টি শার্ট পড়া কল্লোলের ওপর। একটু দূর থেকে দেখতে পেয়ে হাঁটার গতি বাড়ায়। কাছাকাছি দূরত্বে গিয়ে ডাকে, শুনুন। একটু দাঁড়াবেন!

ঘাড় ঘুরিয়ে কুসুমকে দেখতে পেয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

কী ব্যাপার? কদিন যে দেখতে পেলাম না।

অসুস্থতা ছিল। তাই বের হইনি। আপনি কেমন আছেন?

ভালো। তবে হাঁটতে গিয়ে আবাসনের লোকের ভিড়ে আপনার মুখটা খুঁজেছি প্রতিদিন।

বলেন কী? এতখানি? আপনার স্ত্রী কেমন আছে? মানে কামিনী…

কামিনী আমার স্ত্রী বলেছি নাকি?

বলে না দিলেও আমি ধরে নিয়েছি। সেদিন বললেন না…

দুজনে মৃদু পায়চারি করতে করতে একটা ঝাঁকড়া বাদাম গাছের নিচে গিয়ে বসে। কুসুম বেশিক্ষণ হাঁটেনি। তবে কল্লোলের সারা শরীর ভেজা- দরদর করে ঘামছে। একবার বড় করে ক্লান্তির শ্বাস ছেড়ে চারপাশের সবটুকু বাতাস টেনে নেয় হাঁপিয়েওঠা বুক। অনেককিছু বলার আগাম প্রস্তুতি।

কুসুমের মুখের দিকে না তাকিয়েই বলে, সে কত বছর আগের কথা। আপনাকে প্রথম দেখে আমি প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছিলাম। সেদিন অবশ্য কামিনী আমার সাথে ছিল। আমার স্ত্রী। আপনাদের দুজনের আশ্চর্য মিল। উচ্চতা, গড়ন, রঙ, ব্যক্তিত্ব এমনকি কথা বলার ভঙ্গিও! অনেকদিন পর্যন্ত আমাদের দুজনের মধ্যে আপনি থেকে গিয়েছিলেন। চিনি না জানি না একজন অনুপস্থিত মানুষ আমাদেও দৈনন্দিন উপস্থিতিতে থেকে যাচ্ছিলেন বারবার। আমাদের মধ্যে খুনসুটি হতো। আমি যখন কামিনীর মুখ কল্পনা করতে চাইতাম তখন যে মুখের আদল আমার মনের আয়নায় ভেসে উঠতো তা যে আসলে কার আমি জানতাম না। দ্বিধান্বিত হয়ে পড়তাম শেষে।

কুসুম নির্বাক চেয়ে কথাগুলো শোনে। চোখের দৃষ্টিতে বিস্ময়ের ঘোর।

একদিন কী হলো জানেন, জানলাম কামিনী আর বেশিদিন নেই। ওর ডাক্তার দিন-ক্ষণ বলে দিয়েছিলো। আমাদের দুজনের মধ্যে যখন সময় গণনা শুরু হলো তখন কামিনীই নাম না জানা অদৃশ্য এই আপনাকে বারবার টেনে আনতো। আপনি মানুষটা ভূখণ্ডের কোথাও সত্যি বেঁচে আছেন তবু আমাদের মধ্যে নেই। শেষ পর্যন্ত ঘটনা সত্যি হলো। সে চলে যাবার পর আপনার অভাব আরও গভীর করে অনুভূত হতে লাগলো। ভাবতাম কামিনীর মতো কেউ একজন অন্যত্র অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে আছে। আমার অদ্ভূত ভালো লাগা কাজ করতো। সেই আপনাকে এমন করে পেয়ে যাব কখনও ভাবতে পারিনি।

অনেকক্ষণ পর মুখ খোলে কুসুম। চোখ দুটো গভীর রহস্যময়। আমাকে সত্যিই পেয়ে গেলেন?

কল্লোল অনেকক্ষণ ধরে চেয়ে থাকে কুসুমের দিকে। সে চোখ গভীরভাবে কামিনীকে দেখছে না কুসুমকে তা খুব স্পষ্ট নয়।

কথাগুলো বলে কল্লোল যেন একটু হালকা হলেন। আভিজাত্যভরা আধফোটা সেই কুসুমকলির দিকে চেয়ে উজ্জ্বল ফর্সা কামিনীর নত মুখটা দেখে। আবার সে মুখ মুছে গিয়ে কুসুমের বিব্রত মুখ চোখের নির্ভরতার আওতায়। কল্লোলের দিনের প্রশান্তির শুরু এখান থেকে যেন! মুখের মধ্য দিয়ে অন্য মুখ, সে মুখের সাথে মিলিয়ে অন্য মানুষ, নাকি মানুষের মধ্যে মুখ…একটা পরিচিত বিভ্রম, ভালোলাগার ঘোর, নির্ভরতা কোনটা মেলাতে চায় কল্লোল?

মঈনুল হাসান। কথাসাহিত্যিক ও ছড়াকার। ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট (বাংলা ২০ শ্রাবণ, ১৩৮৪ বঙ্গাব্দ), ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার তেজগাঁওয়ে শৈশব কাটলেও পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলায়। বাবা মরহুম মোঃ আব্দুল আউয়াল এবং মা বেগম শামসুন নাহার। বটমলী হোম বালিকা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মায়াবাড়ি

মায়াবাড়ি

‘বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে…’ স্পষ্ট, চাবুকের হিসহিস শব্দের মতো কণ্ঠ! বাবুই চমকে তাকাল।…..