কোনদিকে যাব বল

অপরাজিতা ভট্টাচার্য
গল্প
কোনদিকে যাব বল

বহ্নির পরিবার বিগত বেশ কয়েক বছরে শীতের কামড় খায় নি । ছেড়ে আসা শহরে শীত ছিল না । বহ্নির মেয়ে বারিধির সে জন্যই বোধ হয় শীত বস্ত্রে বিরক্তি । কিন্তু এই শহরে শীত পড়ে ভালই। স্কুল ইউনিফর্মের ওপর দিয়ে গলানো জ্যাকেটের জিপ টানা নিয়ে রোজ ঝামেলা মায়ের সঙ্গে ক্লাস এইটের বারিধির । অথচ আজ বিনা বাক্যব্যয়ে জ্যাকেটের জিপ টেনে মাথার হুডেও ফুল বেঁধে ফেলল । গতকাল রাত থেকেই মায়ের বাধ্য বারিধি । আসলে আজ স্কুল থেকে ফেরার সময় বারিধির সঙ্গে আরও পাঁচজন বন্ধু আসবে । দু তিন দিন থেকেই মায়ের কাছে বন্ধুদের জন্য কিছু খাবার বানানোর আবদার করে যাচ্ছে বারিধি । আজ স্কুল হয়ে দিন দশেকের ছুটি । কাল বড়দিন ।

আলসেমিতেই তো আদর্শ শীত উদযাপন । বহ্নির আলসেমির শুরু ক্রিসমাস ইভেই ।বারিধির বাবাও আজ রাতে ডিনার করেই ফিরবে । আজ তাই রান্নাবান্না , গাছে জল বা নিজের কনটেন্ট রাইটিঙের কাজ কোন কিছুই করবে না বহ্নি। জ্যাকেটটা খুলে মায়ের দেওয়া শালটা মুড়ি দিয়ে বসে গল্পের বই পড়বে । স্নানও করবে না কুঁড়েমিতে। মনোগত ইচ্ছে তেমনই ।কিন্তু তা হবার নয়। বারিধি বেরোনোর আগে কিছু খাবারের পদের কথা বলে গেছে । বানাতে হবে মন না লাগলেও।

আটটা মাত্র বাজে । বারিধি ফিরতে তিনটে বাজবেই । আয়োজন শুরু করল বহ্নি গড়িমসি করে । বারিধির বন্ধুরা শাকাহারী । তাদের জন্য ভেজ মানচাও স্যুপ , ভেজ মোমো আর এগলেস কেক বানাতে বলেছে বারিধি । বাঁধাকপি কুচোতে কুচোতেই রান্নাঘরের জানলা খুলে দিয়ে বাইরে তাকায় বহ্নি । এক বিন্দু মেঘ নেই। ভোর সকালে কুয়াশাও তেমন গাঢ় ছিল না । এখন তো লেশমাত্র নেই । আকাশ আর সহ্যাদ্রি পর্বতের মাঝে নিঃসীম নীল ফাঁক। এই ফাঁক বা ফারাকই বোধ হয় সৌন্দর্যের আকর। নরম ওমের কমজোরি রোদ চলকে পড়ছে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে । পাহাড়ের অমসৃণ ত্বককেও পিচ্ছিল দেখাচ্ছে । রাতের তাপমাত্রা আরও কমবে । এই পাহাড়ের ওপরের দিকটা সমতল দেখায় । ঐ পারেই কি বহ্নির আগের শহর ! দূরত্ব খুব বেশি নয় । অথচ আবহাওয়ায় বিপরীত ।কিচেনের জানলা দিয়ে উত্তরে হাওয়া ঢুকছে । কিন্তু কাঁপন ধরানোর দাপট নেই ।

বহ্নিদের ফ্ল্যাটের বিশাল টেরাসটা উত্তরমুখী । শীতকালে বসার উপযুক্ত নয় । কোলকাতায় শীতকালের দুপুরগুলোতে স্কুলে ছুটি থাকলে বারান্দায় বসত বহ্নি । পশ্চিমের রোদে পিঠ দিয়ে মাদুর পেতে বহ্নি আর তার ঠাকুমা । মকর সংক্রান্তির দিন চালতা ,নারকেল আর নতুন গুড় দিয়ে মুলোর অম্বল বানাত ঠাকুমা । আগের দিন রোদে পিঠ দিয়ে বসে ঠাকুমা চালতার পাপড়ি ছাড়িয়ে রাখত । কিভাবে অম্বল বানাত সে জানে না বহ্নিও । কিন্তু খেতে বড় ভালবাসত । গুড় থাকার কারণে অম্বলটা দেখতে খয়েরী হত । গোল গোল করে কাটা মুলো , নারকেল , চালতার টুকরো ভাসত । ভাত খেয়ে উঠে মুখ ধুয়ে এলে ঠাণ্ডা অম্বল বহ্নিকে দিত ঠাকুমা । এই মানচাও স্যুপটার রঙও হবে খয়েরী । বারিধিরা খাবে গরম গরম এবং খাওয়ার আগে । বারিধিকে মনে মনে থ্যাংকস বলে বহ্নি ।

ভাগ্যিস স্যুপটা বানাতে বলে গেলি সোনা । তাই তো মনে পড়ল পৌষ সংক্রান্তির এমন সুস্বাদু এই অম্বলের কথা । রান্নাঘরের জানলা দিয়ে উত্তরে হাওয়ার বেগ বাড়ছে । জানলাটা বন্ধ করে দিয়ে স্যুপের জল ফুটতে বসিয়ে দেয় বহ্নি । আজকালকার ছেলে মেয়েরা মিষ্টির পদ পছন্দই করে না । বহ্নিও যে খুব পছন্দ করে তা নয় । তবে তার ঠাকুমার হাতের পিঠে পুলির জন্য সে সব সময় মুখিয়ে থাকত । ভেজ মোমোর পুরের জন্য বাঁধাকপি কুচোচ্ছিল বহ্নি। দুধ পুলির কথা মনে পড়ল । বহ্নি ভাবল আজকে মোমো গুলো পুলির আকারে গড়বে । গুড় নারকেলের পুর ভরা পুলি গুলো দুধে ছাড়লেও ভাঙত না ঠাকুমার নিপুণ বাঁধন । পারবে কি বহ্নি অমন !

পুরনো কথার এই এক বিশেষত্ব । একটা বিদুচ্চমক ।তারপর অবিরল বৃষ্টি । সব নিয়ে ঝরতে থাকে । বহ্নিদের ভাড়া বাড়ির বাগানের শিউলি গাছটায় বাঁধা দোলনাটা । এমনই এক শীতের সকাল ছিল সেদিন । বহ্নিদের স্কুলে তখন ডিজাইন দিয়ে সোয়েটার বোনা শেখাচ্ছে । মা শিখিয়েছে এক সহজ ডিজাইন । কিন্তু করতে গিয়ে ঘর গুণতে ভুল হচ্ছে বহ্নির বারবার । ডিজাইন উঠছে না , খুলে ফেলতে হচ্ছে । বকা খাচ্ছে মায়ের কাছে।

দোলনায় দুলতে দুলতে বিড়বিড় করে বলতে থাকে বহ্নি । সোজা কাঁটায় সাতটা সোজা , একটা উল্টো , একটা তোলা , একটা উল্টো , তারপর আবার সাতটা সোজা । উল্টো কাঁটায় সব উল্টো । তখনও গাছটায় ফুল হচ্ছে অল্প স্বল্প । গাছের চারপাশে ঝরা খয়েরী পাতা আর বাদামী ছোপের শুকনো শিউলির বিছানা । পিছনে গিয়ে সামনে আসার সময় দড়ি ছিঁড়ে গেল দোলনার । সজোরে ফুল পাতার বিছানায় চিত হয়ে পড়েছিল বহ্নি । দোলনার কাঠের আসন মাথার পিছনে লেগে অজ্ঞান । মা ঠাকুমা ধরে ঘরে এনেছিল বহ্নিকে । বারিধির বয়সীই হবে তখন বহ্নি । সোয়েটারে সেঁটে গেছে শুকনো পাতা , ফুল । অসহ্য যন্ত্রণায় , ভয়ে কাঁপছিল বহ্নি। দাঁতে দাঁত লেগে সে কাঁপুনি কিন্তু শীতের নয় । ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান তিন দিন বেড রেস্ট বলেছিলেন । লেপ মুড়ি দিয়ে বসে থাকত বহ্নি , ঘরে বারান্দায় ঘোরাফেরা। বারান্দা দাঁড়ালে শিউলি গাছ থেকে ছেঁড়া দোলনার দড়িটা দেখা যেত । বহ্নির গায়ে কাঁটা দিত ভয়ে । ঘরে ঢুকে পড়ত । মাথার পেছনে ব্যথা , পাশ ফিরে শুতে হত । বিছানায় বসে ঘরের অন্য জানলা দিয়ে টবের গাঁদা , চন্দ্র মল্লিকা দেখত । কমলা লেবু দিয়ে যেত মা । প্রতিটি কোয়ার সাদা শিরগুলো এমন ভাবে টেনে তুলত বহ্নি যাতে মাঝখানে ছিঁড়ে না যায় । বিছিয়ে রাখত নিজের ডায়রিতে ।

কেকের মিশ্রণ হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে খুব ভাল ভাবে মেশাতে থাকে বহ্নি । আজ যে শীত আর স্মৃতি পিছু ছাড়বে না বুঝে গেছে বহ্নি । বন্ধুরা খেলতে না এলে গুড়ের নাড়ু হাতে তিন তলার ছাদে উঠত বহ্নি । কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া দিত ছাদে। ছাদে উঠতে হলে কান গলা মাফলারে মুড়তেই হত বহ্নিকে । মাফলারে ভাল দেখায় না , জড়াতে ইচ্ছে করত না । ঠিক যেমন বারিধি এখন ।কিন্তু মায়ের কথা না মানলে ছাদে যাওয়া হবে না , অগত্যা । অনেক রকমের গাছপালাই ছিল সেই বাগানে । বিশেষ করে মনে আছে তিনটে নারকেল গাছের কথা । ছাদ থেকে দেখা যেত সহজেই । উত্তরের হাওয়ায় নারকেল পাতায় অদ্ভুত শিরশিরানি শব্দ হত । ভয় পেত বহ্নি বেশ , কিন্তু তবু যেত ছাদে । পৌষের স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিকেল । বেলা গড়িয়ে এলেই সেই শব্দ বাড়ত । মনে হত কেউ ডাকছে তাকে । এক শীতল ডাক , রোমাঞ্চের । তবু যেত বহ্নি ছাদে । এই সময় সন্ধ্যের নির্মেঘ আকাশে কাল পুরুষ আর সপ্তর্ষি মণ্ডল স্পষ্ট দেখা যেত । বহ্নির খুব ইচ্ছে করত সেসব দেখে নিচে নামে । কিছুতেই অনুমতি মিলত না । অনেক কাকুতি মিনতি করে একবার অনুমতি পেয়েছিল মায়ের ।

সেদিন আকাশের কালপুরুষ থেকে নিজেকে আলাদা করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল বহ্নি । দোতলা আর তিনতলার সিঁড়ির মধ্যে একটাই চল্লিশ পাওয়ারের ডুম । সিঁড়ি বুঝে নেমে আসা যায় , তবে তেমন আলোকিত নয় ।

দোতলায় থাকে বহ্নির মাম । মামেরই বাড়ি । নিঃসন্তান মামের কাছে থেকে পড়াশোনা করে নীলু দাদা । ফিজিক্সে এমএসসি করছে , ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট । নীলু দাদাই রাতে এসে ছাদের দরজা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দিয়ে যায় । বহ্নির সেদিন ছাদ থেকে নামতে ইচ্ছেই করছিল না । একপা একপা করেই নামছিল । হঠাৎই সিঁড়ির কংক্রিটের রেলিং ধরে ভয়ে কাঁপতে থাকে বহ্নি । যা দেখছে সে , তা দেখতে নেই বুঝতে পারছে ।কেউ বলে নি , কিন্তু জানে দেখতে নেই । অথচ চোখ সরাতে পারছে না । নামতেও পারবে না বোঝে ।

মামের দিদির মেয়ে রুমকি দিদি এসেছে স্কুল ফেরত । শীত ফুরোলেই তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা । রুমকি দিদিকে নীলু দাদা অঙ্ক করায় । সেদিন মাম বাড়িতে নেই । রুমকি দিদির সোয়েটার সিঁড়িতে পড়ে আছে । স্কুলের শাড়ির আঁচল সিঁড়িতে লুটোচ্ছে । পিছন থেকে নীলু দাদাকে দেখতে পাচ্ছে বহ্নি ওপরের বাঁক থেকে । নীলু দাদার মাথা ঘোরাফেরা করছে রুমকি দিদির ঠোঁটে , গলায় , কাঁধে । রুমকি দিদির হাত দুটো শুধু দেখতে পাচ্ছে বহ্নি , জড়িয়ে আছে নীলু দাদার পিঠ । একবার করে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার দেখতে থাকে বহ্নি । কান থেকে গরম হাওয়া বেরোচ্ছে , অল্প অল্প ঘাম হচ্ছে । মাফলার , সোয়েটার খুলে ফেলে বহ্নি । কংক্রিটের রেলিং ঘেঁষে সিঁড়িতেই বসে পড়ে । মুখ বাড়িয়ে দেখে , আবার বসে পড়ে ।

নীলু দাদা নিশ্চয়ই জানে না আমি ছাদে আছি । কারণ আমার নেমে আসার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে । নীলু দাদাই কি তাহলে রুমকি দিদির কাল পুরুষ ! ভাবছিল বহ্নি সিঁড়িতে বসে । আর ঠিক তখনই বহ্নির মায়ের ডাক একতলা থেকে তিন তলায় পৌঁছয় । বহ্নি সাড়া দেয় না । এবারেও ভয় পায় বহ্নি । এই ভয় রুমকি দিদির জন্য , নীলু দাদার জন্য । মায়ের ডাকের প্রাবল্য বাড়ে । বহ্নি উঁকি দেয় । কিচ্ছু দেখা যায় না সিঁড়ি ছাড়া । তঠস্থ বহ্নি নেমে যায় সন্তর্পণে । ঐ বিশেষ সিঁড়ি দুটো ঐ শীতেও কি উষ্ণ তখনও । সিঁড়ি দুটোতে তখনও হালকা তুহিনা লোশনের গন্ধ , রুমকি দিদি মাখে । গলা ঘামছে বহ্নির । তবু সোয়েটার পরে মাফলারটা জড়িয়ে নামে । সেদিন সারারাত ঘুমোতে পারে নি বহ্নি । গায়ের লেপ সরিয়ে দিচ্ছিল বারবার । জমাট শীতেও কি গরম লাগছিল সেই পৌষের রাতে । নিজের মনেই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে সে কাউকে বলবে না রুমকি দিদির কালপুরুষ নীলু দাদা ।

সব মনে পড়ছে আজ । পরের দিন নাচের ক্লাসে চন্দ্রকোষ রাগের সঙ্গতে ত্রিতালের চারগুণের সঙ্গে পা মেলাচ্ছিল বহ্নি । যথেষ্ট প্র্যাকটিস থাকা সত্বেও অন্য মনস্ক হয়ে ভুল হচ্ছিল বহ্নির । বকা খায় নাচের দিদিমণির কাছে । কি করবে সে ! যেই অবরোহের সানিধানি শুনছে , মন চলে যাচ্ছিল সিঁড়িতে । নয় মাত্রার ফাঁকে বাঁ পা পড়ছিল অন্যমনস্ক ।

এইবার বেকিং পর্ব । কাজ গুছিয়ে এনেছে বহ্নি । বারিধির ফেরার সময় হয়ে এল । টেবল সাজানো হয়ে যাবে তার আগেই । বেশ কয়েকটা কমলা লেবু ছাড়াতে বসল , ওরা খাবে । সাদা শিরগুলো অয়েল পেপারে পেতে রাখছিল বহ্নি। এই পেপার থেকে তুলে নেওয়া সহজ ।

সপ্তাহ দেড়েক আগেই তার মানে অগ্রহায়ণ মাস শেষ হয়েছে । রুমকি দিদি ফেসবুকে আপডেট দিয়েছিল … টোয়েন্টি ফাইভ ইয়ার্স অফ টুগেদারনেস … কানাডার বরফ আর শীতের আবহে রুমকি দিদি আর তার বরের সুখী অন্তরঙ্গ অ্যানিভারসারির ছবি । মনে পড়ছে মা বলেছিল “ অঘ্রাণের শেষ বিয়ের তারিখে রুমকির বিয়ে হচ্ছে । ঘরবর সব খুব ভাল । “ রুমকি দিদি কলেজে পড়তেই বিয়ে হয়ে কানাডা চলে গেল । নীলু দাদাও দিল্লি চলে গেল । উদগ্রীব হলেও বহ্নির জানার উপায় ছিল না সেই শীত সন্ধ্যের মানুষ কেন কাল পুরুষ হল না ।

বারিধিরা ছয়জন বসেছে । ডাইনিং হলটা গমগম করছে আমোদে । বহ্নি টেবল রেডি করে দিয়ে কমলা লেবুর সাজানো শিরগুলো নিয়ে ঘরে ঢুকেছে । নীলু দাদার ফেস বুক প্রোফাইলটায় ঢুকল বহ্নি । সেই কবেকার পুরনো কভার ফটো । বহ্নির চার বছরের ফেসবুক বন্ধু নীলু দাদা । অথচ কভার ফটোটা সেভাবে তাকিয়েই দেখে নি বহ্নি । বেশ কয়েকটা সিঁড়ির ধাপ , আবছায়া ।

“ কোনদিকে যাব বল “ ধাপের ওপর দিয়ে লেখা । নীলু দাদার কি বা করার ছিল ! পিছিয়ে কার্তিকের হিমে হলুদ হয়ে যাওয়া ! নাকি এগিয়ে ফাল্গুন ছুঁয়ে ঐহিক শীত বহন করা ।

বহ্নি ওর পুরনো ডাইরিটা বের করল , যেখানে জমিয়ে রেখেছিল আকাশ আর মাটির কালপুরুষের কথা , কমলা লেবুর সাদা শির । ডাইরির বিবর্ণ পাতায় পুরনো শিরগুলো কেমন যেন ক্ষয়াটে আয়ুরেখার মত দেখতে লাগছে । জল ঘাঁটার কাজ শেষে তখন আঙ্গুলের ডগার চামড়া কুঁচকে গেছে । সেই ঠাণ্ডা আঙুল বোলায় বহ্নি শিরগুলোর ওপর । সিঁড়ির সেই উষ্ণতায় ওদের সঙ্গে পৌষেও ঘেমেছিল বহ্নি । আজ বারিধি একটা টু দিল । ওমনি সারেসারে এসে হাজির হল স্তিমিত স্মৃতিরা । রুমকিদিদির বিয়ের দিন নীলু দাদার জন্য খুব কষ্ট হয়েছিল বহ্নির ।আজও হঠাৎ নীলু দাদার জন্য মনটা হুহু করে উঠল । নীলু দাদা তো আজও জানে না যে সেই শীত সন্ধ্যের , ওমের , অপেক্ষার অক্ষয় সাক্ষী বহ্নি …

বাড়িতে আজ চাঁদের হাট , খলবল। তবু একটা আলতো মন খারাপ জড়িয়ে ধরল বহ্নিকে ।

কত বছর পর পুরনো ডাইরিটায় একটা নতুন লাইন লিখল আজ ।

শীত অক্ষয় হোক

তার ওপর দিয়ে নতুন সাদা শিরগুলো বিছিয়ে দেয় বহ্নি ।

অপরাজিতা ভট্টাচার্য। লেখক ও গল্পকার। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণীবিদ্যা ও ইংরেজিতে স্নাতক এবং বিএড। স্কুলজীবন থেকেই লেখালিখির অভ্যাস। 'দেশ'সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কবিতা, গল্প প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গল্প সঙ্কলনের নাম 'কলাপ'।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..