গায়ের রং এখনো মানুষ হয় নি

অভিজিৎ দাসকর্মকার
কবিতা
Bengali
গায়ের রং এখনো মানুষ হয় নি

ট্যালট্যালে একাকিত্বের অনুশাসন

বিচলিত পরিস্থিতি, অথচ জানালার পাশ দিয়ে পরিচয়হীন ছায়া হেঁটে যায়।

মহাজাতি মোড়ের ২-ধার দিয়ে ২টি পর্যায় পিঠ-কেলিয়ে শান্ত হেঁটে চলেছে
পিঠে কোনো ব্যঙ্গমা নেই
কোনো উপপাদ্য নেই
কোনো চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে না কেউ, অথচ
রকে বোসে ধুমপানের পিছনে আগুন লাগিয়ে পাছার দোলনগতি মাপছে

সামনে অসফল শব্দরূপ আর বাংলা ভাষায় ইনিয়েবিনিয়ে লেখাগুলো ছিটকে পড়েছে, আসলে
ছিটকিনিটা দেয়া ছিলোনা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে

এগুলো সবই ১টি কবিতার মধ্যে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস-দের লীনতাপ হওয়া দুপুরের খোলা জানালার ওপাশে ঘাড় গুঁজে ট্যালট্যালে একাকিত্বের অনুশাসন আর হঠাৎই
পায়ের ছায়া দেখে কলড্রপ

গায়ের রং এখনো মানুষ হয় নি

তোমার বেফাঁস সভ্যতার নিচে যে লিরিক কুলুকুলু বয়ে চলেছে, তাকে ১টা গাছের বুদ্ধিমত্তার গোঁড়ায় ঢেলে দেয়া হোলো।

মন্দাক্রান্তায় অবশ চশমার দৃষ্টি সরিয়ে গ্যালো অস্পষ্ট ভ্যাপসা গরম, তবুও
গায়ের রং এখনো মানুষ হয় নি-

চারিদিকে ছন্নছাড়া গন্ধ ক্রমশ জ্যা খুলছে, ভার্জিন অথচ স্বেচ্ছাচারিতার পিছনে লুকিয়ে লুকিয়ে গণিত কষছে, ভুল করছে, তবুও পাশপকেটের কোণায় ত্রিকোণমিতি করতে গিয়ে বিচ্ছিরি রকমের ল্যাং খাচ্ছে

সভ্যতাও ছেনালপনা পরিছন্ন করে চলেছে ডাসা বাথটবের যৌবনে।
আসলে বিষুবরেখার বাইরে সেনসেশনাল দুপুর ঘাম ঝরাচ্ছে, আর

নিরাময়ভাবে চোখ বুজেই অসংখ্য জনপদের বিন্দু থেকে বিসর্গে রয়েছে ১টি দাঁত ক্যালানো একাকিত্ব, কিন্তু জ্যামিতিটা অন্যজায়গায়—— শরীর সংহীতার গোটা হাতটা ধরে চৌহদ্দির ভিতর ঢুকে পড়েছে তাসের আড্ডা

ওটা আসলেই অ্যাসাইলামের ১৪৩-নং বেড। কখনো কাব্যকে এঁদো এবং চটচটে আশ্রয় দিচ্ছে আবার অনেকটা ঘুমিয়ে পড়া থেকে সজোরে উঠে পড়ছে

ভয় লাগছে গিরেবাঁর ভিতর

হাতের সামনে গভীররাতে স্মৃতি খোবলানো মাংস। ভাবতে ভাবতে রাউন্ড দ্য উইকেট হাঁটা চলেছে আর গলা ভেজানো দুপুরে ঘুমিয়ে পড়া কবিতাগুলো তখনও ঠকঠক করছে।

২৬।৭।২০২০, সময় ১টা ৪৩ মিনিট, ঝাঁপিয়ে উঠলো রক্তদানাগুলো অথচ ঝিমুনিগুলো ফুরফুরে মেজাজে সিলিং থেকে মেঝেতে গ্যালপ করছে-

সবকিছুর পর অসুখের শিশিতেই বাঁচার সাধ রয়েছে ঘাম আর শ্বাসকষ্টের। সু-লতানো শরীরে চুৃঁইয়ে পড়েছে কিশোরী মেঘ।

কৈফিয়তগুলো আলাপের ঠিক পিছনেই আঙুল মেলাচ্ছে অন্ধ-ধ্রুপদ সন্ধ্যায়।
থুতনিতে তাকিয়ে হেঁটে চলেছে বিষ্ণুপুরি পথ।পথের বাঁকে কৃতাজ্ঞতাসহ বিকেল ৫:৪৫ মিনিট, শুনশান শব্দরা ইতিউতি উঁকি দিচ্ছে। অতঃপর
আপাদমস্তক ভয় লাগছে গিরেবাঁর ভিতর-

একটু প্রত্যয়ী দৃষ্টি এড়িয়ে কার্নিশ থেকে গুঁড়োগুঁড়ো তাকালেই
তৎক্ষণাৎ দুশ্চিন্তাগুলো ধুলোতে মিশে যাচ্ছে বলে দ্যাখা যায়।

পড়ে থাকা গালে ঠেঁশ দিয়েছে তিলছাপ এবং পাথরকুচি ছায়া।গুনে গুনে কুড়িয়ে তোলা চশমার ফাঁকের চিনচিনে ব্যথা নিয়ে এযাবৎ আমি বদল হচ্ছি প্রতিটি মন থেকে মনে বহুব্রীহি সমাস হয়ে…

অভিজিৎ দাসকর্মকার। কবি। জন্ম ও বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের বাঁকুড়ায়।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..