গ্রুপ সেপ্টেম্বর (তৃতীয় কলি)

স্বপন রায়
ধারাবাহিক, ভ্রমণ
Bengali
গ্রুপ সেপ্টেম্বর (তৃতীয় কলি)

যা হয়েছিল

এই যে আমরা কালকা, শিমলা, সারাহান, সাংলা ,কল্পা, নাকো, টাবো, পিন ভ্যালি, কাজা হয়ে কুনজুম লা (পাস) পেরিয়ে মানালি হয়ে আবার কালকায় ফিরবো এই অভিযাত্রাটি কিন্তু সর্বার্থেই কবিতার জন্য! প্রণব দে, দ্য গ্রেট পাহাড়ু এবার ক্যামেরা হাতে সারাক্ষণ! “নতুন কবিতা” নিয়ে তথ্য চিত্র’র কাজে ব্যস্ত প্রণবদা একই সঙ্গে আমাদের দেখাতে চলেছে কিন্নৌরের বিখ্যাত “ফুলেইছ” উৎসব! আমরা কিংবদন্তি পাহাড়প্রেমিক এবং দু বারের এভারেস্ট জয়ী বিদ্যাকরণ নেগি’র সাংলার বাড়িতে থেকে এই উৎসব দেখবো, বোঝার চেষ্টা করবো কিন্নৌরিদের সমাজ ও সংস্কৃতি!

কাল সাংলা, আজ সারাহানের শেষ দিন! আমাদের কথা বার্তা কবিতার উত্তরাধিকার কি এবং কি ভাবে এ নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছিলো!

বারীনদা বললো, দ্যাখ সাধারণ ভাবে একজন কবি কি এভারেস্টে চড়তে পারে? এটম বোমা বানাতে পারে? তার কাছে এটা দুরূহ, কবিতা লেখা ব্যতিক্রম হবে কেনো? এর জন্য দায়ী স্কুল কলেজে কবিতার স্কুলিং… ছড়া আর পয়ারের প’ড়ে পাওয়া মশলা দিয়ে সহজে কবিতা লেখার এই যে চাহিদা এর পেছনেও ওই বাঁধাধরা স্কুলিং-এর দায় আছে… উত্তরাধিকার এই বাস্তবতা বাদ দিয়ে নয় কিন্তু… সবাই কবিতার উত্তরাধিকারি হতে পারেনা!

ধীমান বললো, সবাই নয় তবে যারা হবে তারাও তো কবি.. আই মিন.. কবিতা যে লেখেনা তার কি দায় আছে কবিতা নিয়ে ভাবার?

-না নেই, কিন্তু যারা লেখে তারাও নানাভাবে ভাগ হয়ে আছে। কেউ ছড়া লেখে, কেউ দারুণ সব ছন্দের কবিতা লেখে, কেউ রাজনৈতিক বিষয়কে প্রাধান্য দেয়, কেউ নারীসুলভ লেখে… পুরুষ কবিদের কথা বলছি.. কোন কোন পুরুষের কবিতায় আবার আদৌ মেয়েলি টাচ থাকেনা, বহু মহিলা কবি পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লেখেন, কেউ বা সমাজ, অস্তিত্ব ইত্যাদি নিয়ে লেখেন, আবার অনেক পুরুষ বা নারী কবি আছেন যাঁরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন, কবিতার ভাবনাকে প্রশ্রয় দেন… দেখ কতগুলো ভাগ..এবং প্রত্যেকের কম বেশি পাঠক আছে… ভাগের পাঠক…. কিন্তু যে ছড়া ভালোবাসে সে যদি দাবী করে তাকে নতুন কবিতাও বুঝতে হবে এবং দাবীটাকে অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে যায় তখন বিতর্ক তৈরি হয়…. অনাবশ্যক যদিও কিন্তু হয়!

সৌমিত্র বললো, তার মানে তুমি বলতে চাইছো পাঠককেও কবিতার ভাগ অনুযায়ী ভাবতে হবে?

-হ্যাঁ, দীক্ষিত হতে হবে…. সহজ করে পেতে হলে কঠিন পথটা পেরোতে হবে!

রঞ্জন হাসছিল!

বললাম, কিরে হাসছিস যে?

– বারীনদার কথা শুনতে শুনতে মনে পড়লো আমাদের অফিসের এক কবির কথা, সে ওই নানারকমের ছন্দে কবিতা লিখতো…বচপনে যা শিখি আমরা সেরকম.. তার লেখা এতে ওতে ছাপা হতো খুব… তো একবার “গর্ব সে বোল হম হিন্দু হ্যায়” টাইপের হসিতে উচ্চকিত হয়ে জানালো, এই রঞ্জন এটা কি বলোতো?

আমি হাসি চেপে বললাম, কী?

দারুণ গর্বে ও একটা খবরের কাগজ তুলে আমায় মাথা টাথা নেড়ে দেখাতে থাকলো! আমিও দেখলাম ওর ছবি, ওর সম্পর্কে লেখা এইসব…
ও ভ্রূ নাচিয়ে বললো, কি কেমন দেখলে?

আমি হাসি চেপে বললাম, দারুণ!হাসতে হাসতে এবার বললো সেই গর্ববান কবি, হবে হবে তোমারো একদিন হবে…. লেগে থাকো রঞ্জন! … তো বারীন দা এই হওয়াকবিদেরও কিন্তু একটা ভাগ আছে…

এবার হাসি ঢুকে গেলো আমাদের কথামোয়, চুলবুলে মদের হাসি , মোদের হাসি , চাঁদ উঁকি দিয়ে দেখলো বাঁধ ভাঙার কেস হবে কি না… হ’লে ফিট হয়ে যাবে!

যা হতে পারতো

আমি কবিদের ছেড়ে সন্ধ্যার সারাহানে ঘুরে বেড়াচ্ছি! সন্ধ্যার সারাহানে চা আর মোমো.. কবিদের তুমুল আড্ডার মায়া কাটিয়ে মন্দ নয়! ভিনীতা চলে যাওয়াতে আমি একটা মেয়েলি লচিলাপন মিস করছিলাম, ভিনীতা ছিলো হাসিতে পারঙ্গমা এক কিন্নৌরিনী…আর হাসিও ছিলো প্রায় দিক ফেল করানো নির্বিচার!যাকে বলে চারচাঁদ লাগানো! দু দিনের বান্ধবী, হাসিতে রয়ে গেলো কতক্ষণ!

আমি চায়ে চুমুক দিয়ে এ সব ভাবতে ভাবতে একটা মুখের প্রোফাইল দেখে চমকে উঠলাম! বিজনদা! কিন্তু হাউ কাম হি? বিজনদাকে শেষ দেখি চালসায়। স্বঘোষিত নির্জনতম পুরুষ। নারী বা পুরুষ এই দ্বিখন্ডিত ভাবনার বাইরে থাকা একক যোদ্ধা! আমায় বলতো, ভীড় ভালো লাগেনা বুঝলি… তাই সম্পর্ক রাখিনা… আমায় পাগল বলে অনেকে, বলুক… নিজেকে একা না পেলে প্রকৃতি একা হবে না!

আমি বিজনদাকে প্রথমে ভেবেছিলাম কবি! তারপর দেখলাম ব্যায়াম করে ,কবিদের ব্যায়াম তো কবিতা লেখা! তো বিজনদা সদ্য যুবক, ‘গে’ নয় অথচ মেয়ে বন্ধুও নেই! আমি একটু ছিনে টাইপের আছি, তো লেগে গেলাম! বিজনদা কিন্তু আমায় প্রশ্রয় দিলো, মনে আছে বলেছিল, তুই বেশ শাদা মনের আছিস, ছবি আঁকিস? বললাম, ছবি নয় কবিতা! মানে ভালো লাগে আর কি!

বিজন দা বোধহয় খুশি হলো!

-কবি? আরে বা!… তুই আমায় কিছুটা ধরতে পারবি!

ধরলামও কিছুটা। বিজন দা, বি.কম.,বিজন দার সিক্স প্যাক, বিজন দা খিস্তি এক্সপার্ট, বিজন দা প্রজাপতি নিয়ে থাকতে চায়, বিজন দা রূপান্তরের রহস্য নিয়ে ভাবে.. মানে শুঁয়ো টু প্রজা কি ভাবে… এ ছাড়া গাছের তরঙ্গ কি ভাবে মানুষের কাছে সৌন্দর্য হয়ে ওঠে… কি ভাবে নির্জনতা বাঙময় হয়… এই হলো কিছুটা বিজন দা! স্বাভাবিক যে বিজন দা পোষ্ট অফিসের চাকরি নিয়ে চলে গেলো ডুয়ার্সে… আমার সাথে ফোনাফুনি চলতো… তো একবার কবিদের পাল্লায় পড়ে চালসায় এসেছি…. আমার এ ক্ষেত্রে কোন চয়েস নেই.. আমার আকা বা প্রভু স্বপন রায় যেখানে, আমিও সেখানে! চালসার বাংলোয় কবিদের আড্ডা ছেড়ে আজকের মতই এদিক ওদিক ঘুরছিলাম.. সন্ধ্যাপারের আলোয় বেশ মায়াবী সবকিছু… চারদিকে তুমুল নৈস্তব্ধ… আমি বিজনদাকে ফোন করার কথাও ভাবছিলাম… হঠাৎ একটা গোলামাল কানে এলো… চেঁচামেচি… আমি এগোতেই আমার পাশ দিয়ে দুজন দৌড়ে চলে গেলো… মহিলা কন্ঠও কানে আসছে..

আমি কাছে যেতে কানে এলো একজন মহিলা বলছেন, অনেক ধন্যবাদ !আপনি না থাকলে কি যে হতো!

আমি আরো কাছে যাওয়ার আগে মহিলারা চলে গেছে আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিজনদা!

-আরে পিকলু, আমি তোর কাছেই তো যাচ্ছিলাম…. তো এই শালা উটকো ঝামেলা!

– ঝামেলাটা কিসের?

-আর বলিস না…. ওই যে পালিয়ে গেলো … মালগুলো কলকাতার.. সকালে মালবাজারে আমার সাথে দেখা… তো আমায় মালের দোকানের কথা জিজ্ঞেস করলো.. বলে দিলাম..ওদের মধ্যে একজন বললো, এখানে মেয়েছেলে পাওয়া যায়না? আমার মটকা গরম হয়ে গেলো, বললাম বাড়িতে কোন মেয়েছেলে আছেরে বাঞ্চোত …মা না বৌ?

ওরা কেটে পড়েছিলো! কিন্তু স্বভাব যাবে কোথায়? তোর সঙ্গে দেখা করবো বলে আসছি… দেখি ওরা মেয়েগুলোকে বিরক্ত করছে… গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করছে.. তো দিলাম হারামিদের… আমার পাঞ্চ আর খিস্তি…

– পেটালে?

– আরে দূর এগুলো কাপুরুষ হয়.. একটা দিতেই কাৎ হয়ে গেলো… আর আমার খিস্তি তো জানিস.. বললাম, বাঞ্চোত আবার যদি দেখি এমন লাথি মারবো যে বিচি দুটো কপালে উঠে হেডলাইট হয়ে যাবে!

এরপর যা হয় হাসতে হাসতে…. তো সেই বিজন দা…. রহস্যময়.. একা এখানে কি করছে? সঙ্গে একজন মহিলা না?

আমি এগিয়ে গিয়েছিলাম। বিজন দা আমায় দেখে ঘাবড়ালো না, বললো,বিয়েটা করে ফেললাম রে…. সেই যে চালসার কেস… মনে আছে তো… অঙ্কিতা ওখানেই ছিলো.. মানে..

আমি হাসতে হাসতে প্রায় বলেই ফেলেছিলাম , সেই বিচি কেস… সাম্লে নিলাম… দেখলাম বিজন দা নির্জনতা ভেঙে দিয়ে বেশ হৃষ্ট হয়েছে… ভালো লাগলো.. শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হলে এ রকমই তো হয়!

আমি এই রূপান্তরের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কবি ও কবিতার দিকে এগিয়ে গেলাম… সারাহানের রাত দ্রুত নেমে আসছে পায়ের ঠোক্করে..

যা হয়েছিল 

যখন হিমালয়ে হাঁটি, বিনিময়ও হাঁটে! চারটে-দশ, ভোর যতদূরে, কবিতা ততটা নয়! ভোর হওয়ার মোডাস অপারেন্ডি কি সব সময়েই এক? চ্যুত হয় না? প্রজাপতির জন্য শুঁয়োপোকার যে সব গমনকালীন বিভিন্নতা, রাতেও কি সে সব থাকে, ভোরের জন্য কি ভাবে তার পরিমার্জনা চলে? লোলেগাঁও আর দেখা যাচ্ছে না। পা ফেলছি, শিউরে উঠছে পাতা পাতা নির্জনতা….আলো এলে এই বনশিহর বনপুলক হয়ে উঠবে! আলো আসছে কিন্তু! মাখনের বুকে নিস্তেজ ছুরির দাগ হয়ে, কুয়াশাভেদক হয়ে…একটা গন্ধও পেলাম, ফেরারী উলের?

সেই ভোরের আগে যে অসমাপতন ছিল অন্ধকার আর আলোর মোহনাসিক্ত সাড়ে চারটেয়, আমরা তার শব্দ পেয়েছিলাম, এ সেই জগতহারা ছেলের ছাপ ছেড়ে যাওয়ার অপ্রতিমা যা মনে হয় তারাই জানে যারা আমাদের মত বাউন্ডুলে হয়ে চেঞ্জওভার দেখতে এসেছিল এক শতাব্দী থেকে আরেক শতাব্দীর!

 

যা হতে পারতো

-আমি জানতাম, তুমি ফিরবে না!

-আমি জানতাম না, নাকি জানতাম…কে জানে!

-ইনডিসিশন তোমার বরাবরের রোগ…

-তা ঠিক, ইনডিসিসিভ হলে কবি হওয়া যায়, কবি হ’লে..

রিয়া থামিয়ে দিল আমায়, কারণ একটা অন্ধকারের সুতো সুতলি হয়ে জড়িয়ে দিচ্ছিল ওর চুলের অহঙ্কার, সাম্লে নিয়ে বললো, কবি হলে কথা রাখার দায় থাকেনা!

আমি বলতেই যাচ্ছিলাম,কোন বোকা…বলে এ কথা…কি ভেবে সংযত হলাম…এই ভোরে ওই বোকা…একটু অপেক্ষা করুক,দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় যখন শতাব্দী শেষ হয়ে আসে, তখন ওই সঙ্গমকালীন সময়ে বোকা..রা কেন এক রোঁয়া ওঠা ভোরের ইলাজ বুঝবে না?

সেদিন ২০০০ সালের প্রথম জানুয়ারিতে রিয়া খুনের সঙ্গে সময়ের একক জড়িয়ে দেয়! ভালবাসা আর অচেতনবিলাসী হয়ে নেই, তাই রিয়া আমায় বলে, শতাব্দীটা সরলই ছিল,সোজা সাপ্টা,তুমি সেখানে দাড়ি, কমা, সেমিকোলন দিতে গেলে কেন? আজ সাংলা যাওয়ার পথে এভাবেই মনে পড়লো, আমি তো কবিতায় দিতেই চাইনা কোন ছেদ,বিচ্ছেদ চাইনা আমি…. আজ রিয়া হিসেব চাইছে,খুন করার হিসেব!

যা হয়েছিল

সারাহান থেকে সাংলা যাওয়ার রাস্তায় ডানদিকে শতদ্রু কেবলম! আঁকাবাঁকা,বেশ ফস্টিমূলক আবার বিনোদিনীও! আমরা করছম হয়ে সাংলা পৌঁছব! করছমে শতদ্রুতে পড়েছে বাসপা নদি,ওই বাসপা আমাদের সঙ্গী হবে করছম থেকে সাংলা পর্যন্ত!আর আমার সঙ্গী রিয়া, মনে হছে অনিরুদ্ধ আর ঊষার এপিসোডটা শেষ হয়েছে, সম্ভবত ওটা একটা জিওপোয়েটিক্যাল অ্যাফেয়ার ছিল,ছিল তো?কে জানে এই কিন্নৌরে এসে তক বিস্ময় আমায় বিস্মিত করেই চলেছে!আর আমিই কিনা কতদিন আগে বিষয়কে বাদ দিতে দিতে কবিতায় কেবল তার সূত্রশিহর রেখে চলেছি!

যা হতে পারতো

রিয়া এক বর্ধিষ্ণু বর্ষায় চলে গিয়েছিল রিনচেনপং, আমি তখন ঝপসা ঝিমুনিতে আচ্ছন্ন হয়ে তিলমায়াকে বোঝাচ্ছি যে কিভাবে শরীর বেমালুম গায়েব হয়ে যায় রোম্যান্টিক কবিতার পরিসরে.. তিলমায়া ক্লাস টুয়েলভ, আমি তরুণ শিক্ষক, কত হবে আমার তেইশ চব্বিশ… তিলমায়া একটু অবাক হয়েই বললো, গায়েব মতলব?

দুটো শরীর এক হলে একজন গায়েব হয়ে যায়, ছিঁচকাঁদুনে পবিত্রতা যার নাম! সেই পবিত্রতা মেখে তিলমায়া রোজ আমায় শুটিং রেঞ্জে নিয়ে যায়, আমি ভাবি ওহ পিস্তলটা কেন বুলেটনিস্বঃ হতে চাইছে, তিলমায়া হাসলে সেই পিস্তলও দাঁত বের করে হাসে, তিলমায়া আজ পর্যন্ত কাঁদেনি, আমি কি এতটাই হাস্যকর? তো রিয়া আমার আস্তানায় বর্ষাভেজা নক করে, দরজা খুলে দেয় তিলমায়া…

রিয়া ঢোকে, তিলমায়া বেরিয়ে যায়! রিয়া বলে, ছিঃ!

আমি কিছু বলিনা, সবকিছু আমার হাতে ছিল না সেদিন, সেদিন বর্ষা ছিল আর তিলমায়ার বিরোধাভাসি শরীর, আই কুড নট রেসিস্ট মাইসেলফ… আমি কিছু বলতে পারিনা, এ কথাও বলতে পারিনা রিয়াকে যে, আই ডিডন্ট হ্যাভ সেক্স উইথ হার… রিয়া সেদিনই আমায় বলে, ইউ চিট… আই লেফট এভরিথিং ফর ইউ… আমার বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন… কাল আশীর্বাদ ছিল আমার… তুমি খুব ভাল মতই জানো যে আমার বাবা পলিটিক্স করে, নেতা… তোমায় পচ্ছন্দ করেনা…. আমার সঙ্গে যার বিয়ে হওয়ার কথা সে তোমার মত নয়…. অনেক অনেক বড়লোক… বাট দেন আই লভড ইউ… অ্যান্ড ইউ সিম্পলি মার্ডারড মি!

রিয়া চলে যায়, আমি নীরবতায় বসে থাকি, বৃষ্টি পড়তেই থাকে অবিরত রেলিং হয়ে! কোয়ালিস দাঁড়িয়ে পড়েছে,করছম! রিয়া তখন বললো, আমি জানি যে তুমি খুনি… তোমার বন্ধুরা জানে যে তুমি কবি…. আর ওই আলাদীনের দৈত্যটা জানে তোমায় একজন ভদ্র, নিষ্কলুষ মানুষ হিসেবে… পিকলু দা নিচে তাকাও…. দেখো কয়েক হাজার ফুট নেমে গেছে ওই ঢাল… কি গভীর খাদ না? এবার আমি তোমায় একটু ফেলে দেবো..সামান্য ধাক্কা দিয়ে…. দেখো খুব একটা লাগবে না… হি হি তুমি যা ভীতু, পড়তে পড়তেই হার্টফেল হয়ে যাবে তোমার… নাইস ডেথ, নো?

(চলবে…)

স্বপন রায়। কবি। জন্ম ১৯৫৬। ভারতের দুটো ইস্পাতনগরী জামশেদপুর এবং রাউরকেলা স্বপন রায়ের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রথমটি জন্মসূত্রে। দ্বিতীয়টি বড় হয়ে ওঠার সূত্রে। নব্বই দশকের শুরুতে 'নতুন কবিতা'র ভাবনায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পুরনো, প্রতিষ্ঠিত ধারাকবিতা ত্যাগ করে কবিতাকে নানাভাবে...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

রে এলাম সিঙ্গিগ্রাম, কবি কাশীরামদাসের জন্মস্থান।

রে এলাম সিঙ্গিগ্রাম, কবি কাশীরামদাসের জন্মস্থান।

কবি কাশীরামদাসের জন্মস্থান পূর্ববর্ধমান জেলার সিঙ্গিগ্রামে বেড়াতে গেলাম।তাঁর জন্মভিটের ভগ্নাবশেষ দেখলাম।আমি,মিহির,রিমি,সোমা,রজত সকলে গ্রাম ঘুুুুরলাম। চারদিকে…..

শিশিরবিন্দু

শিশিরবিন্দু

ভ্রমণবিলাসী চারজন বেরিয়ে পরলাম ভ্রমণে। আমিও গেলাম।প্রথমে ওরা গেল মুকুটমণিপুর। সপ্তাহান্তে পিকনিক বা একদিনে ছুটিতে…..