চশমাওয়ালা

এস, এম মনির
কবিতা
Bengali
চশমাওয়ালা

চশমাওয়ালা

কত দেশে জন্মি আমি,কত দেশ যে ভ্রমি
কত দেশের মানুষ চিনি,চশমার ব্যাপারি।
আজব দেশের মানুষ ওরা অন্ধ দু’চোখ
মনশ্চক্ষু বিক্রি যায়,পেয়ে টাকার লোভ
চোখ হারিয়ে মনের,হারিয়ে বিবেক-বোধ
ফটিকছড়ি মেলায় খোঁজে হারানো দু’চোখ
কামার হয়ে করে যখন কুমারের কাজ
এদেশে মন্ত্রী হতে শিক্ষার কি দরকার।
সংসদে মাছি ওড়ে,বিড়াল তাঁদের রাজ
সিংহের শাষন মানতে,সদয় জাগে ক্রাস।
আগুন জ্বলে মানুষ পুঁড়ে,রাজকোষ লুট
এক পদ্মায় গিললো,আমার তিনপুরুষ।
জ্ঞনী-গুনি পালিয়েছে হিরক রাজার দেশে
জনগনের করের টাকা ভরছে মন্ত্রী ব্যঙ্কে
যে দেশেতে অন্ধ সবাই বন্ধ তাঁদের মুখ
বউয়ের পাশ শুয়ে বলে শুনো আমার দুখ
রাজপথ ভেসে যায় মুক্তি কামির রক্তে
মন্ত্রী আসনে না পড়ে হাই শকুনের চোক্ষে
ক্ষমতায় এসেছি যখন করে কম্মে খাই
শেষের পুরুষ দেখুক খাওয়ার কিছু নাই
উন্নয়নের বয়ছে জোয়ার ভাসছে গোটা
দেশ,আমি মন্ত্রী দাদা ছাচ্চা আছি বেশ।
ভুলে গেছি মাসিমা বাবার নাম কি?মাথার
ভেতর করছে প্যরেট সাতশো মেলেটারি।
সবাই যদি মানতে পারে আমার কিসে
জ্বালা,অন্ধের দেশে আমি চশমার ফেরীওয়ালা

 

অপেক্ষা

তুমি আসবে বলে হৃদয় রাঙিয়েছি আবিরের রঙে।
স্বপ্নের জাল বুনেছে বুনো হাঁসের দলগুলো
বাসন্তি শাড়ি পরে প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে পল্লী বালা,
কচি হৃদয়ের অবাধ আহাজারি শোনাবে বলে

কানাকানি চলছে উলঙ্গ কৃষকের মাঝে
জননী পথ চেয়ে বসে আছে অশ্রু ছলছল আঁখি।
তুমি আসবে বলে হলুদখামে চিঠি লিখেছে কোনো এক কুমারী।
বুক ভরা আশা নিয়ে বসে আছে কবি
শোনাবে তোমায় তাঁর কালজয়ী কবিতার বানি।

তুমি আসবে বলে সিকাগো শহরে সভ্যতার উন্মদনা।

গোর্কির স্মৃতি মিনারে বসে বলেছে তোমার কথা।
ঝগড়া থামিয়েছে বাবুই আর চড়াই
তুমি এসে মিমাংসা করবে,বিচারের ভার তোমার।
রংধনুর রঙে সেঁজেছে নীল আকাশ
প্রজাপতি উড়ে গেছে সে পথে আনিবে সাত রঙ।
আপন মনে জালবুনে যাই মাকড়সা
টিকটিকি শুনিয়ে যাই তোমার আসবার খবর।
আপন মনে গান গেয়ে যায় বাউল
দুরন্ত বালক ছুটে চলে সুঁতো কাঁটা ঘুড়ির পিছে।
পাঠক তপবনে ধ্যান মগ্ন ”অন্য চোখে,,
নৈবেদ্যর থালাই অশ্রুর অঞ্জলি বাঙালি একাত্তরের।

সকালের শিশিরসিক্ত ফুলে মৌমাছির ভিড়।
তোমার পথ চেয়ে আমি কাঁদি,আঁখি কাঁদে ভূবন কাঁদে

 

বিষের বাঁশি

সখী কে বাঁশি বাঁজায় যমুনার তীরে
তাঁর বাঁসির সুরটা বাজে মোর কানে
বিষের মত বাঁজিছে বুঝায় কেমনে
সকল কাজ করেছি ওলট-পালট
চল সখী যায় ওই যমুনার তীরে
হৃদয়ে বাঁশির সুর বাঁজে ক্ষণেক্ষণে
তারে দেখিবো আমি দু’নয়ন ভরে
কে বাঁসি বাঁজাও পদ্ম পাতার পরে

সে’কি বুঝিবে বিষের বেদন যারে না
দংশিছে সে’ই বিষে,সে কি বুঝিবে গো
তোমার লাগিয়া পাগল আমি সে’ই রাধে
জাতি,কূল,মান ভূলে লয়েছি কলসি
কৃষ্ণ হয়ে এসো প্রিয়ে করো আলিঙ্গন
আমি রাধা হয়ে রয় তোমা চরণতলে

হায়নাসুর

রক্ত চোষা হায়নাসুরের রাজ্যে বলি
রহস্যময় হাসির সেই ছলে পড়ে
বলি হচ্ছি মোরা নিরীহ অবুঝ জনতা
দরিদ্র নির্যাতিত শোষনের স্বিকার
এই কর ব্যবস্থা রাজ্যের ক্যান্সার
উন্নয়নের স্রতে স্বাধীনতা যায় ভেসে
দেখি দাড়িয়ে নির্বাক নাট্র চ্যাপলিন
আইনের চোখে কালো কাপড় বাঁধা
তাই যা দেখে সবই যেন এক ধাঁধাঁ
নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি
দমনমূলক শাসন,আইন লুটপাট
দুর্নীতি,দখলদারিত্ব ও দলীয়করণ
সংশয় যেমন নেতাও তার কর্মী
আর সংশয় সাধারণ জনগন
স্বাধীনতা আজ ধ্বংসের কিনারে
শঙ্কাময় রুদ্ধশ্বাস জনগনের।

যাযাবর…

আমি নিরান্তন ভ্রমণশীল যাযাবর
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বসতি গড়ি
খুঁজি মনুষ্যজাতির ফেলে আসা অস্তিত্ব
আমি বসতি গড়েছি সিন্ধুর তীরে
মেসোপটেমিয়ায়,ইউফ্রেটিস তীরে
টাইগ্রীস,নীল নদের উপকূলে
পারিপাশ্বিকের সঙ্গে সমঞ্জস্য রেখে
আমরা বিভক্ত হয়েছি গোত্রে গোত্রে
জাতি,গোত্রে,ভাষায় বিভক্ত হয়েছি
বৃহৎ পরিবারের অন্তর্ভূক্ত করতে
খুঁজি মনুষ্যজাতির অভ্যুস্থানের কথা
আমি যাযাবর এসেছি একত্রিত করতে
আমি কালক্রমে ফিরে এসেছি পৃথিবীতে
দীর্ঘশ্বাস-ঝরা কাহিনী শোনাবো বলে

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..