চাণক্যের চিতা

সুদীপ ঘোষাল
প্রবন্ধ
Bengali
চাণক্যের চিতা

প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছেন ধুতি পরিহিত এক লম্বা বলিষ্ঠ লোক। তার মাথায় টিকি বা শিখাবন্ধনী। তিনি ব্রাহ্মণ এবং সদর্পে হেঁটে চলেছেন। হঠাৎ তার পায়ের আঘাত লাগলো কুশের। তিনি মনে মনে করলেন এগুলোকে বিনষ্ট করতে হবে। তাই তিনি সেইদিনই দুপুর বেলায় এসে কুশের গোড়ায় গোড়ায় সব চিনি ছিটিয়ে দিলেন। দেখা গেল এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো পিঁপড়ে লেগে সমস্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন আমাদের প্রিয় দার্শনিক চাণক্য বা কৌটিল্য। তাঁর লেখা গ্রন্থের নাম অর্থশাস্ত্র। এমনই দৃঢ় প্রত্যয় এবং ক্রোধের সংমিশ্রণ ছিল তার অন্তরে।

তার নাম কি চাণক্য, কৌটিল্য, বিষ্ণুগুপ্ত? তার প্রকৃত নাম নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাবে। তবে অধিকাংশের মতে, এই তিনটিই তার ভিন্ন নাম। এগুলোর মধ্যে কৌটিল্য হচ্ছে তার গোত্রের নাম। মূলত ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র’ বইটির জন্যই তার কৌটিল্য নামটি চলে আসছে। আবার সে বইয়ের এক জায়গায় লেখককে বিষ্ণুগুপ্তও সম্বোধন করা হয়। তাছাড়া, চাণক্যই যে বিষ্ণুগুপ্ত, সে প্রমাণ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩য় অব্দের বিষ্ণু শর্মা নামক কোনো এক লেখকের ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক একটি সংস্কৃত লেখায়। খুব কমসংখ্যক ইতিহাসবিদই মনে করেন যে চাণক্য এবং কৌটিল্য আলাদা ব্যক্তি। আবার কেউ কেউ বলেন যে চাণক্য ও কৌটিল্য একই ব্যক্তি হলেও বিষ্ণুগুপ্ত আলাদা মানুষ। বিষ্ণুগুপ্তকে অর্থশাস্ত্রের সম্পাদক বলে অভিহিত করা হয়।
ভারতবর্ষের অন্যতম দার্শনিক আনুমানিক ৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন ভারতের গোল্লা নামক অঞ্চলের চানাকা নামক এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন চাণক্য। তার পিতা চানিন এবং মাতা চানেশ্বরী ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাই চাণক্যও জন্মসূত্রেই ব্রাহ্মণ ছিলেন। তবে জৈন ইতিহাসবিদ হেমাচন্দ্রের মতে চাণক্যের পিতার নাম ছিল চাণক। যা-ই হোক, চাণক্যের বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তাই শৈশব থেকেই তিনি নিজের সন্তানের শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। সে সময় বেদকে মনে করা হতো শিক্ষাক্ষেত্রে কঠিনতম বিদ্যা। বালক চাণক্য সম্পূর্ণ বেদ অর্থসহ মুখস্থ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। প্রাচীন ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমে (বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তর্গত) অবস্থিত তক্ষশীলা ছিল তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানচর্চার স্থান। সেখানেই শুরু হয় চাণক্যের পড়ালেখা। চাণক্যের সবচেয়ে কাছের শিষ্য ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। দীর্ঘদিন একসাথে জ্ঞানচর্চা করে দুজনের মধ্যে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাণক্য চন্দ্রগুপ্তকে নীতিশাস্ত্র শেখানোর পাশাপাশি একজন দক্ষ যোদ্ধারূপে গড়ে তোলেন। মহাবীর আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ আক্রমণ করে বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করার সময় চাণক্য আলেকজান্ডারের সৈন্যবাহিনীর রণকৌশল গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেন। গ্রিকদের হাত থেকে সমগ্র উত্তর ভারত যখন মুক্ত করে নিচ্ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত, তখন আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়ছিলেন আদতে চাণক্য। চন্দ্রগুপ্ত ও তার বাহিনীকে যদি ধরা হয় একটি মানবদেহ, চাণক্য ছিলেন তার মস্তিস্ক! সরাসরি গ্রিকদের বিতাড়ন করা সম্ভব নয় জেনে চাণক্য একজন একজন করে আলেকজান্ডারের নিয়োগ করা ‘সার্ত্রাপ’ বা প্রাদেশিক শাসক হত্যা করার পরামর্শ দেন। ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পূর্বেই উত্তর গান্ধারা তথা বর্তমান আফগানিস্তানে গ্রিকদের দাপট কমে আসে। আর আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ২ বছরের মধ্যেতো গ্রিকরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসনের আশাই ছেড়ে দেয়।

নন্দবংশের শেষ রাজা ধননন্দ চাণক্যকে অপমান করে রাজসভা থেকে বিতাড়িত করেন। চাণক্য বলেন, একজন শিক্ষককে অপমান করার ফল আপনাকে ভোগ করতেই হবে। এই আজ আমও শিখাবন্ধন করলাম। তারপর তিনি টিকিতে গিঁট দিয়ে রাজসভা ত্যাগ করেন। তারপর ধদনন্দের সাম্রাজ্য পতনের পরে শিখা উন্মোচন করেন। জৈন প্রবাদানুসারে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা চাণক্য শত্রু দ্বারা বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিষেধক তৈরী করার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে তার অজান্তে অল্প মাত্রায় বিষ পান করাতেন।একদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য তার বিষযুক্ত খাবার অন্তঃসত্ত্বা দুর্ধরার সঙ্গে ভাগ করে খেলে, দুর্ধরার মৃত্যু হয়। তার সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য সদ্যমৃত দুর্ধরার পেট কেটে তাকে বের করে আনলে বিন্দুসারের জন্ম হয়।পরবর্তীকালে বিন্দুসার মৌর্য্য সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করলে চাণক্য তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হেমচন্দ্রের পরিশিষ্টপর্ব অনুসারে, বিন্দুসারের একজন মন্ত্রী সুবন্ধু চাণক্যকে অপছন্দ করতেন। তিনি বিন্দুসারকে জানান যে তার মাতা দুর্ধরার মৃত্যুর জন্য চাণক্য দায়ী ছিলেন। এই ঘটনার কথা জানতে পেরে বিন্দুসার প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলে বৃদ্ধ চাণক্য জৈন আচার সল্লেখনা বা স্বেচ্ছা-উপবাস করে দেহত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই সময় চাণক্য যে তার মাতার মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন না, তা অনুসন্ধান করে বিন্দুসার জানতে পেরে নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং সুবন্ধুকে চাণক্যের নিকট পাঠান যাতে, চাণক্য তার মৃত্যু সঙ্কল্প ত্যাগ করেন। কিন্তু সুযোগসন্ধানী সুবন্ধু এই সময় চাণক্যকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। একটি সাপকে শত্রুরা ততক্ষণ ভয় পাবে, যতক্ষণ এর দাঁতে বিষ থাকবে। বিষহীন সাপকে যে কেউ ঘায়েল করে ফেলবে। তাই নিজেকে রক্ষার জন্য হলেও সাপকে বিষধর হবার অভিনয় করতে হবে। অন্যকথায়, শত্রুর নিকট নিজের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করা যাবে না।এই বিখ্যাত নীতিবাক্যটি শৈশব থেকে কতবার শুনেছেন, তার হিসাব আছে? মাধ্যমিকে ভাব সম্প্রসারণে এই বাক্যটির কাটছাঁট করেননি, এমন মানুষ পাওয়া ভার। এই বাক্যটি এসেছিল দার্শনিক চাণক্যের মাথা থেকেই। অবশ্য তিনি ভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একথা লিখে গেছেন। সে সময় রাজতন্ত্র চালু ছিল এবং রাজ দরবারেও কেবল সম্ভ্রান্ত বংশীয় লোকেরাই কাজ পেত। চাণক্য মনে করতেন রাজতন্ত্র চলতে পারে, কিন্তু রাজ দরবারে রাজার মন্ত্রী উপদেষ্টা হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, বংশের পরিচয়ে নয়, সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা” নয়! অন্তত সবসময় নয়, এমনটিই ছিল চাণক্যের বিশ্বাস। বেশিমাত্রায় সৎ এবং সরল হলে মানুষ আপনাকে ব্যবহার করবে, আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেবে। আবার ঠোঁটকাটা সততাও কিন্তু মানুষ পছন্দ করে না। আপনার আত্মীয়ের বিয়ে, যেখানে উপস্থিত না হলে তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অফিসে বিয়ের কথা বললে ছুটি পাবার সম্ভাবনা নেই। তখন কি আপনার গুরুতর কোনো মিথ্যা বলা উচিত? চাণক্যের উত্তর, “হ্যাঁ”। তার কাছে সততা নয়, বরং লৌকিকতাই সর্বোৎকৃষ্ট।আমি কেন এ কাজটি করবো? এর সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে? আমি কি আদতে সফল হবো? যেকোনো কাজের পূর্বে নিজেকে এই ৩টি প্রশ্ন করার উপদেশ দিয়েছেন চাণক্য। চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য পরিচালনায়ও তিনি সর্বদা এই নীতি অনুসরণ করেছেন। যে কারণে প্রতিটি কাজের পূর্বে তা নিয়ে হয়েছে বিশদ গবেষণা এবং আলোচনা। ফলে কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে নিপুণভাবে।চাণক্যের একটি চমৎকার ভাবনা হচ্ছে ভীতি এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান। যখন আপনি নিশ্চিত যে শীঘ্রই কোনো সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন, তখন সেটি শুরু হবার আগেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যে ব্যাপারটি আপনাকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন, নিজে ভীত হবার পূর্বেই সে ব্যাপারটি মিটিয়ে ফেলুন। এটাই চাণক্যর উপদেশ। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ভয়ে উল্টো দৌড় শুরু করলেই কুকুর সমান আগ্রহে আপনার পিছু নেবে। কিন্তু ভয় না পেয়ে আপনি নিজেই বরং কুকুরটিকে ভয় পাইয়ে দিন, নির্বিঘ্নে হেঁটে চলে যান!চাণক্যের রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক দর্শনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ভাবনা এটি। তিনি একটি সরকারকে একটি দ্বিচক্রযানের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে রাজা একটি চাকা এবং তার উপদেষ্টা ও মন্ত্রীরা অপর চাকা। যোগ্য ও বুদ্ধিমান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীপরিষদ ছাড়া রাজা অচল। আবার যথার্থ নেতৃত্বগুণ বিশিষ্ট রাজা ছাড়া মন্ত্রীপরিষদও কোনো কাজ করতে পারবে না। চাণক্য মনে করতেন, রাজার চেয়ে রাজার মন্ত্রীদের অধিকতর জ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ হতে হবে যেন তারা রাজাকে ভুল পথে পা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে পারে।রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য চাণক্য যেসব নীতি অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো মোটেও নৈতিকতার ধার ধারে না। কূটনীতি কোন অপরাধ নয় বরং কার্যকর ফলাফল আনয়নের জন্য যত প্রকার ছল-চাতুরী প্রয়োজন, সবই করতে হবে বলে মনে করতেন চাণক্য। যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষ শিবিরে গুপ্তচর পাঠানো, ঘুষ দিয়ে উচ্চপদস্থ সেনাসদস্যদের হাত করে নেয়া, মধ্যস্থতার কথা বলে ঝোপ বুঝে কোপ দেয়া, শত্রুর শত্রুদের সাথে জোট বাঁধা সহ যা করা প্রয়োজন সবকিছুর পক্ষেই মত দিতেন চাণক্য। এসবের বিনিময়ে ফলাফল নিজের প্রজাদের পক্ষে রাখা চাই, এটিই তার মত। যুদ্ধের ক্ষেত্রে কূট নীতি গ্রহণ করা কৌশল মাত্র।চাণক্যের আরো একটি চমৎকার দর্শন হচ্ছে অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার উপদেশ। তার মতে প্রতিটি মানুষ তার জীবনে কিছু নির্দিষ্ট ভুল করবেই। তবে কেবল নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শুধরে যাবার আশা করলে, তা হবে দুরাশা। কারণ মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকবে না। বরং নিজের ভুলের সাথে সাথে অন্যদের ভুলগুলোতে নজর রাখতে হবে, সেখান থেকে শিখে নিতে হবে করণীয়।

চাণক্য এবার চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কে শিষ্য রূপে গড়ে তোলেন এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিতে থাকেন। রাজনীতি বিষয়ক শিক্ষা তিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কে দিনের-পর-দিন দিতে থাকেন এবং কূটনৈতিক বুদ্ধির মধ্যে দিয়ে কি ভাবে রাজ্য বিস্তার করা যায় সে বিষয়ে তাকে জ্ঞান দিতে থাকেন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে শারীরিকভাবে সমর্থ করে তোলেন এবং কেউ যদি তাকে হত্যা করতে চায়, তাই তিনি তাকে খাবারের সঙ্গে অল্প অল্প করে বিষ পানে অভ্যস্ত করাতেন।
চাণক্যের তত্ত্বাবধানে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য অস্ত্রচালনা শেখেন, শারীরিকভাবে শক্ত সমর্থ হয়ে ওঠেন এবং তিনি একজন বীরযোদ্ধা হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন চন্দ্রগুপ্তের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা আরো কয়েকজন আঞ্চলিক শাসকদের সাথে মিলে জোট গড়ে তোলেন। একে তো ধনানন্দকে তার প্রজারা পছন্দ করতো না, তার উপর চাণক্যের চতুর রণকৌশলের সামনে টিকতেই পারলো না নন্দ বাহিনী। আর এরই সাথে নন্দ বংশের পতন ঘটিয়ে চন্দ্রগুপ্তকে সম্রাট করে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। চাণক্যের প্রখর বুদ্ধিতে এই সাম্রাজ্য বিস্তৃতি লাভ করতে করতে পশ্চিমে সিন্ধু নদী থেকে পূর্বে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।

চাণক্যের ব্যাপারে প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় উপকথাটি উল্লেখ আছে জৈন উপকথায়। সেখানে বলা হয় যে, চাণক্য মনে করতেন যেকোনো দিন চন্দ্রগুপ্তের খাবারে বিষ দিয়ে তাকে হত্যা করার প্রচেষ্টা চালাতে পারে শত্রুরা। তাই চন্দ্রগুপ্তের দেহে অনাক্রম্যতা তৈরি করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্তের খাবারে অল্প পরিমাণে বিষ মিশিয়ে দিতেন! চন্দ্রগুপ্ত অবশ্য এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। তিনি অজ্ঞাতসারে বিষ মিশ্রিত খাবার তার গর্ভবতী স্ত্রী দুর্ধরার সাথে ভাগাভাগি করেন, যিনি সন্তান প্রসব থেকে মাত্র কয়েকদিন দূরে ছিলেন। বিষের প্রতিক্রিয়ায় দুর্ধরা মৃত্যুশয্যায় উপনীত হলে তার গর্ভের সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য দুর্ধরার পেট কেটে শিশুটিকে রক্ষা করেন! এই শিশুটিই বিন্দুসার, যিনি চাণক্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং চন্দ্রগুপ্তের পরে সিংহাসনে বসে চাণক্যকেই নিজের উপদেষ্টা নিয়োগ করেন

বিন্দুসারের এক মন্ত্রী তার নাম ছিল সুবন্ধু তিনি চাণক্যকে অপছন্দ করতেন। তাই চাণক্যের নামে বিষ প্রয়োগ করতে শুরু করলেন সুবন্ধু। তিনি বললেন আপনার মাতা দুর্ধরার মৃত্যু ওই চাণক্যর জন্যই হয়েছে।চাণক্য বিষ প্রয়োগ করে তাঁকে মারেন। যার ফলে বিন্দুসার চাণক্যকে পুড়িয়ে মারার হুকুম দেন। এই সুযোগে সুবন্ধু চাণক্যকে ঘরে আক্রমণ করেন এবং সেই ঘরের মধ্যেই পুড়িয়ে মারেন।
চাণক্য উপবাস ব্রত পালন করছিলেন। তিনি ঘরের মধ্যে বিশ্রামরত অবস্থায় ছিলেন। সুবন্ধু লোকজন নিয়ে তার বাড়ির চারপাশে চিতার আকারে দাহ্য বস্তু দিয়ে ঘর ঘিরে ফেলেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন। চাণক্য জলজ্যান্ত অবস্থায় ভয়ানক আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়ে যান। তার সঙ্গে অস্তমিত হয় পৃথিবীর অন্যতম দার্শনিকের জীবনদীপ।
সুদীপ ঘোষাল নন্দনপাড়া খাজুরডিহি পূর্ববর্ধমান ৭১৩১৫০ মো ৮৩৯১৮৩৫৯০০.
বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি।

সুদীপ ঘোষাল। গল্পকার। জন্ম ভারতের পশ্চিমব্ঙ্গরাজ্যের কেতুগ্রামের পুরুলিয়া গ্রামে। প্রকাশিত বই: 'মিলনের পথে' (উপন্যাস)। এছাড়াও কয়েকটি গল্প ও কবিতার বই আছে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মধ্য যুগের বাঙালী কবি দৌলত কাজীর আখ্যান কাব্য আধুনিক সাহিত্যেও প্রবহমান

  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম ধর্মকে বাদ দিয়ে যিনি রক্ত মাংসের মানুষের আশা, আকাঙ্খা, সুখ,…..