চিত্রিত আঁচল

তপনকান্তি মুখার্জি
কবিতা
Bengali
চিত্রিত আঁচল

ছায়া শরীর

মানুষের মুখ থেকে খসে বিবর্ণ মুখোশ।
দেহ থেকে খোলস খসে সাপেদেরও।
মৃত্যুর মতো, অথচ মৃত্যু নয়।

নতুন মুখোশ ওঠে মানুষের মুখে।
সাপেদের শরীরেও লাগে নতুন মোড়ক।
ধরনটা একই, ছায়া ছায়া।

মানুষ চোখ বোজে নিজের ছায়া দেখে।
সাপেরা ফেরে কদাচিৎ খোলস ছাড়ার জায়গায়।
ভয়টা থেকেই যায়, মনে মনে।

আগুপিছু

জানালাটা খোলা হয়নি অনেককাল,
জং ধরেছে আংটায়, কবজায়।
খুলতে যেতেই সম্মোহিত প্রৌঢ়বেলা সামনে এসে
দাঁড়াল। পোড়খাওয়া মুখে গভীর বলিরেখা,
কোটরে ঢুকে যাওয়া চোখে অতীত জীবন।
একটু জোরে হ্যাঁচকা টান দিতেই একটা আওয়াজ
তুলে খুলল জানালাটা। নাকে এলো শ্রীময়ীর
গায়ের গন্ধ, চোখে হলুদ ওড়না।
সময়ের খাঁচায় ঢুকে পড়ছি ক্রমশ।
বুকে জ্বলছে আগুন। চোখে এত নোনাজল নিয়ে
কি ভালো আগুন জ্বলে? ধোঁয়া হয়ে যাচ্ছে
চারদিক। একা হয়ে পড়ছি।
অথচ সময়ের পেন্ডুলাম ঘুরছে ক্রমাগত।
জানালাটা বন্ধই থাক।

চিত্রিত আঁচল

সাহস ছিল না তোমার ভেজা শরীর আঁকার।
অথচ পিপাসা বাড়িয়ে দিত রীতিমতো।
নানারঙের মন সাজাত বাঞ্ছারামের বাগান,
পৌঁছে যেতাম পাহাড়চুড়োয় ইচ্ছে হাতে নিয়ে।
জমানো সময় ফুরিয়ে গেলে, গোপন ইচ্ছেরা
পথ বদলায়। তোমাকে এখন নতুনভাবে আঁকতে
চাই। পায়েসের বাটি হাতে সুজাতা করে।

বাজনা

তোমাকে বলা হয়নি,
কালরাতেও পিয়ানোটা বেজেছিল টুংটাং করে।
কলঘরের পাশে বাবার লাগানো আমগাছটায়
আম ফলেছে।
কতো তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে উঠে গেল আকাশের
দিকে। আর আমি জীবনের মোড়ে মোড়ে বাঁক
নিতে নিতে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছি দিনদিন।
অসুখটা বোধহয় আবার দেখা দিল।
রাত বাড়ে, সময় কমে।
তবে ভরসা, পিয়ানোটা এখনও বাজছে টুংটাং সুরে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তৃষ্ণা

প্রাচীন সভ্যতা নিমগাছের ডালে বসে থাকা কাকের কন্ঠস্বর চিরে বেরিয়ে আসছে বুভুক্ষু পৃথিবীর আর্তনাদ মহেঞ্জোদাড়ো…..