চিরঞ্জীব হালদারের একটি দীর্ঘ কবিতা

চিরঞ্জীব হালদার
কবিতা
Bengali
চিরঞ্জীব হালদারের একটি দীর্ঘ কবিতা

ক্রমাগত হারিয়ে যাওয়া তালগোল পাকানো
নাভি থেকে উঠে আসা নগ্ন আবশ্যিকতা।
হয়তো বা ফুলদানীর মধ্যে লুকিয়ে রাখা
কুহক জন্মের ঐশি পাকদন্ডী পথ,
দেখা হয়ে যায় শোধরানো ভুলে।
হঠাৎ সাঁওতালী নৃত্যের ভঙ্গীতে জেগে ওঠা
ভারী আর ডৌল নিতম্বের মরমীয়া টান।

যদি ধরে নাও নাভিতে কি নিশিডাক
এক একটি বকল্মা
যদি ধরে নাও অলস বীর্য থেকে
কাঙখিত আকাশ দেখা দেয় তোমার নিলিমায়।
তাহলে ওই যে ঘুরে যাওয়া জুয়ার প্রেতচক্র থেমে যাবে তোমার আনত দারিদ্রে নারিকেল বদ্বীপে
সুগঠিত কামনার ইলেক্ট্রোপ্লাজমা।
থরে থরে সাজানো দিন।
থরে থরে সাজানো দ্রাবীড় কোহল
মধুবনী কাঁথা কাজ
রমনীর অঢেল পারানী।
যে কলস প্রশ্ন করেনা
এক একটি মনকাড়া অগ্নীশ্রাবী
বিশ্রামরত কাজলের ধ্যাবড়ানো অ্যালিগরাদিম।

প্রতিটি বোতল থেকে এক একটি
দৌত্য বেরিয়ে এসে ধারনার প্রকরণ বদলে দিয়ে
বলে উঠবে —বলুন কি করতে হবে মহারাজ।
এই দিন দ্বীপভূমি প্রসারিত রেনু
প্রতি অবলুপ্তির পথ থেকে বাঁক নিয়ে জেগে উঠবে
টোল পড়া গালের অলৌকিক তিলের
অস্ফুট উচ্চারণে।
ভেবে নাও এসব জারজ জন্মের অগ্রথিত শ্লোক
নিভাঁজ সাদা পাতার কাছে
অবিনশ্বর শব্দের ঘুম কথনে।
এ কবিতায় ছবি থাকেনা
এ কবিতায় হৃদয়ের অভ্যন্তরে এক ডাইনোসোর হাসি।
একবিতা নায়িকার ফেলে যাওয়া টিপের পাশে
লেখা থাকে তোমাকে চাই যৌন অপ্রেমে।

তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো পাঠক।
তুমি কি অসহিষ্ণু দর্শক আসনে
অপেক্ষায় পাশের কোন অনাহুত যুবতীর
চিকন তমন্নায় ভেসে যাবে
তুমি তার আঁচলে ঝুলে থাক ভীল নাগর।
তুমি কি অসহিষ্ণু শিক্ষকের কালি ফুরানো
পরিত্যক্ত শিশ্ন।
না এখানে মেধার কোন অবসর নেই
এখানে ঝাউদহ থেকে রণপায় হেঁটে আসা
গ্রামীন মৌল মিহি সুরে ভরে দেবে দেবে
নগরবসন্ত।
তারপর নিজস্ব দেওয়ালে ভাইরাল ক্রিমিকীট।
ছড়িয়ে দেবে বমন তরলের সঙ্গে
তালগোল পাকানো নাভি।

আহা ঘুমিয়ে পড়োনা
এখানে এপিসোড বলে কিছু নেই
প্লীজ কোথাও যাবেন না
ফিরে আসছি মোহ ভঙ্গের পর
মুখ শুদ্ধির ধাঁধানো যৌন তত্ত্বে।
এই নিন দু পাত্তর কারনসুধা।
শুরু হোক গান্ডিব শোধন।
বলা ভালো শোধন কি ফাউ পরিশ্রমের ফসল
প্রফিডেন্ট ফান্ড ছাড়া পঁয়ত্রিশ বছর
কেটে গেছে হ্যান্ড টু মাউথ।
দোকানে দোকানে ভারতবর্ষ কেঁপে ওঠে বিরিঞ্চিকথনে।
এই টোটো তোর কি মা-বোন নেই
পচা খালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
প্রাগৌতিহাসিক ডাইনোসোর নগরী হাই তোলে।
আমি তো এলেবেলে বাঁশি বাদক।
ভুলভাল সঙ্গতে ভীড়ে যাই দিনের রচনায়।
যেখানে সেখানে মুত্র ত্যাগ না করে
হস্পিটালের আউট ডোরে অথবা
ঠাকুরদাসের অ্যান্টিচেম্বারে অনাবিল পোশাক হননে।
রুমাল বলে যে ধবধবে বস্ত্র খন্ড আমরা তো অর্জন করিনি।
অগত্যা সারা পোষাক ভিজিয়ে
হ্যাটা করি নিজেই নিজেকে।
গেহু বর্নের মেয়ে থুতু ছিটোতে পারে।
হাঁটুর উপর বেলবটম থাই দাঁত খিঁচিয়ে সভ্যতা শোনায়।
মা জননী আমরা গোঁয়ার মগুজে কবি
ঠিক মত টানলেই দেখবেন পঁয়ত্রিশ বছর
খিদমদগার।
আমাদের জাহানারা নেই
আলমগীর নেই
মধুমন্তী নেই
ভ্যাংচানো নেই
শুধু উপুড় সরীসৃপ
আপনার কাপচানো বুলি দিয়ে
জামা আর জুতোর অর্ন্তবাস হয়ে
অস্ফুট হাহা হিহি তে কেটে যাচ্ছে দু’হাজার উনিশ।
আমরা তো সারি সারি রিফিল সিলিন্ডার
লাইনে দাঁড়িয়ে
বাবু এলেই ভরে দেবেন
ফুটো হৃদে লোহিত মগ্নতা
জয় শ্রীরাম
জয় মা সন্তোষী
জ য় বাবা শ্রীরামলাগু
রেখো মা দাসেরে মনে
গাছে তুলে মই কাড়ার আগে
ছ য় মারার আগে ঝালিয়ে নিই ভারত কথন।

চিরঞ্জীব হালদার। কবি। মূলত ক্ষুদ্র পত্র -পত্রিকার লেখক। জন্ম- ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬১, গাববেড়িয়া; দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। পড়ালেখা করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা। লেখালেখির শুরু গত শতাব্দীর আশির দশক। শুধু কবিতা আর ভালো কবিতাই তাঁর আরাধ্য। এপর্যন্ত নির্মিত কাব্যগ্রন্থ ষোলটি। প্রকাশিত সাতটি। যৌথ সংকলন একটি। সম্পাদিত কবিতা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ