চিরঞ্জীব হালদারের স্বকণ্ঠে কবিতাপাঠ

চিরঞ্জীব হালদার
কবিতা, পডকাস্ট
Bengali
চিরঞ্জীব হালদারের স্বকণ্ঠে কবিতাপাঠ

ঘুমন্ত ধীরেন স্যারের হৃদপকেটে তখন ও অ্যাংলো সুইস ঘড়ির টিকটিকানি। তিনি যখন মধ্য পাঠশালে ধুতির কষি আলগা করে ঘুমোতেন তখন সেই অস্থাবর ঘড়ি আমাদের দ্বিতীয় পণ্ডিত। ব্যাক বেঞ্চার গোপাল একদিন জিজ্ঞেস করল-
ঘড়ি স্যার রতিবাজারের শব্দরূপ কী?

মার্ক্স সাহেব তখন ও আমাদের মধ্যে নিদ্রিত। যৌথ খামারে কোন যৌনদাসী ছিল কীনা জানা হয়ে ওঠেনি। জানা হয়ে ওঠেনি গোঁফ ওঠার পর কেন বাংলা প্যান্টের পকেটে চ্যাট চ্যাটে শিহরণ।

মেঘদূতের ষষ্ঠ সর্গে প্যাঁচাদের কোলাহল ছিল কিনা জাগ্রত ঘড়ি কে জিজ্ঞেস করি।ঘড়ি টি চৌষট্টি উপপাদ্যের পৃষ্ঠা নম্বর বলার আগেই ধীরেন স্যারের নাকে মাছি ঢুকে গেল। জানা হয়নি তিন’শ ষাট ডিগ্রিতে ফিরতে গেলে কতবার নিমের পাঁচন গিলতে হবে।
আমাদের পুতুল পুতুল ঠোঁট মুখস্থ করতে পারিনি কবে থেকে শকুন্তলা মন্টেসরি পাঠশালের রাস্তা গুলিয়ে ফেলেছে।

ধীরেন স্যার আপনার স্বর্গত ঘড়িটি কি এ উত্তর কোথাও হস্তান্তর করেনি?

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

দুই.

অল্প বিশ্বাসী মেয়েদের ধর্ম বিশ্বাসের ওপর
গ্রন্থ নির্মাণ জরুরী।
ঈশ্বর কি ইহাদের বেশি পচ্ছন্দ করেন?

দুধেল অন্ধকারে যৌন শলা পরামর্শ ভালো হয়।
এই ভেবে শহরের প্রতিটি পীঠস্থানে
এক একটি দেবী গর্ভস্থাপন করা হবে।
যে মানুষের কোন ধর্ম নেই
সেই একমাত্র পাহারাদার,
তাকে বলা হয়েছে জাহানারার কাছে
খোজা ধর্মের পাঠ নিতে।

তরোয়ালের যেমন ধর্ম হয়না
তেমনি অল্প বয়সীদের কোন ধর্ম নেই।
ব্রহ্মাণ্ড পাখির ডানায় বসে ইহাদের সম্পর্কিত
গ্রন্থ নির্মাণ করছেন ঈশ্বর প্রেরিত কালপুরুষ।
নাভিবিন্দু থেকে সেই সব অক্ষরবীজ
জনপদে জনপদে ধর্ম রচনা করিবে।

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

 

তিন.

অনুভব সরণীর পাশ দিয়ে যে রাস্তা সোজা চলে গেছে।
পালঙ্কদেশে এর পাশ দিয়ে যে রাস্তা সোজা দক্ষিণে।
বনমালী যে রাস্তায় খরগোসের জন্য
অনন্ত সবুজ।

কোন সরাইখানায় ছাড়া এ রাস্তায় অন্ধগায়কের গান।
পাখিদের ঠোঁট থেকে নেমে আসা সাংসারিক উদ্ভিদ।
জঞ্জাল ভাটিতে ফেলে যাওয়া হৃদয় কারিগরের আলো
ক্যালেন্ডারের সমস্ত পাতা উল্টানোর পর এক সাদা রাস্তায় কে বা কারা
তোমার জন্য রেখে যায় নিরবিচ্ছিন্ন ডানার সাংকেতিক লিপি।

তুমি কি আখতারুজ্জামানের বন্ধু।
তুমি কি ইসমাইল মাঞ্চেন্টের প্রথম
প্রেমিকার বিলাসদ্রব্যের সরবরাহকারী।
হে অদ্ভুতসরণী তুমি কি আমাকে দিয়ে মিথ্যে লিখিয়ে নেব।
তোমরা কি জানো কোন ঘরে
স্বর্নগোধিকা এসেছিলেন।

সব বকল্মাজনিত আত্মজ্ঞান
রামকৃষ্ণঘাট পেরিয়ে চৌহদ্দি মর্মের আন্তস্থলে নিরুদ্দেশ।
তুমি কি এক আশ্চর্য পেঁয়াজের
শেষ স্তরে জেগে থাকা
দহনকর্মের অবিনশ্বর ছায়া।

হে অদ্ভুদ স রণী তুমি কি আমাকে দিয়ে মিথ্যে লেখাবে।

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

 

চার.

শোভন দ্বীপ থেকে উড়ে আসা পাখিরা।
শোভন দ্বীপ থেকে উড়ে আসা
পালকেরা।

কারও বর্ণ কালো।
কারও বর্ণ নীল বা সবুজ।

কোলাহল বর্ণের পালকেরা সব কী শ্রমণবালিকা।
ইহারা কি একদিন বয়সজনিত কারণে
চুলের ভবিতব্য সাদা হইবে।

তুমিই তো সেই সাদা বর্ণের পালক।
তোমার বসত-বাটি ঘর সংসার সব সাদা কীনা জানিনা।
তোমরা আমার মৃত্তিকা পাত্রের
মাধুকরী আতিথ্য।

এই সব জ্যা -মুক্ত কাহিনীকে সংসার ভাবিলে
সব উদ্ভিদ বটের সমারোহ ডেকে আনিবে।

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

 

পাঁচ.

যদিও আমার কোন হলফনামা নেই।
পাখিদের পালকের ভেতর কোন গুপ্তচুম্বন আছে কীনা।
বা মৃত পাখিদের শবদেহে কোন রাজবংশের অভিশাপ,
বা ডিম প্রসবের আগে অনৈতিক কারুকাজ করা হ্যামলেটীয় কল্পসহবাস করার গোপন পাত্রে দোঁহে শায়িত ছিল কিনা।

হলফনামা নিজেই নিজের সম্পর্কে
কোন ধর্মগ্রন্থ ছাড়াই স্পষ্ট বলে ফেলুন আমি অধার্মিক কিন্তু অসৎ নই।
তিন তিনটে পাখি আমার বান্ধব।
যার ঠোঁট সদ্য প্রসব করা শাবকের মত।
যার ঠোঁট ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে যাওয়া
মাল্কিনের অর্ন্তবাসের সাবলিল ঋণ বয়ে বেড়ায়।
যার ঠোঁট সারসের মত কানাহীন থালার পাশে পরমান্ন সুখ দর্শনের একমাত্র দাবীদার।
এসব কোন যুক্তি নয়।
আমি তাই সবুজ ক্ষেতের পাশে
ভূগোল শিক্ষক কে আমন্ত্রন জানিয়েছি কারাকোরামে হারিয়ে যাওয়া মেয়ে পাখিটার অযড়যন্ত্রের
ঠিকানা আঁকবো বলে।

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

 

ছয়.

ও আমার লিপস্টিকওয়ালি ঝুমকো দুল।
ফিরে এসো।
ফিরে এসো মাখন ওমলেট ইলিশ রাধুনী।
দেখো বালগোপালের তিন দিনের বাসি ভোগে
অনাহুত হৃদয়ের মৃদুকথন।
দেখো প্রেসার কুকারে এক ফোঁটা
পরচর্চার মেঘ ও নেই।
নিস্পাপ ধুলোর কাছে লক্ষ্মীপাঁচালী
একা একা এঁকে চলে সৌভাগ্য সরণী।
এসো পঞ্চানন স্বর্ণকার-
তোমার নিক্তিজুড়ে ভরে আছে
গোলাপের কারুকাজ,
বিনোদবেণী থেকে চারিত হও ইথার কথনে।

আমড়া বান্ধবীও এসো
দেখো তোমার প্রজাপ্রতিমার্কা আঁচল কেমন
সামিয়ানার মত আলো করে
লিপস্টিকওয়ালীর গানে গলা মেলাবে।
কথা দিয়েছে আজ গহরজান আসিবেন।

[ কবির কণ্ঠে আবৃত্তি শুনুন এখানে: ]

 

 

 

 

চিরঞ্জীব হালদার। কবি। মূলত ক্ষুদ্র পত্র -পত্রিকার লেখক। জন্ম- ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬১, গাববেড়িয়া; দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। পড়ালেখা করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা। লেখালেখির শুরু গত শতাব্দীর আশির দশক। শুধু কবিতা আর ভালো কবিতাই তাঁর আরাধ্য। এপর্যন্ত নির্মিত কাব্যগ্রন্থ ষোলটি। প্রকাশিত সাতটি। যৌথ সংকলন একটি। সম্পাদিত কবিতা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তর্জমা

তর্জমা

তর্জমা স্নানে শুচি হবার পর বেকসুর সন্ধ্যাগুলো শুধুমাত্র নিজস্ব অন্ধকারের নিচে দোলনাচেয়ারে ছড়িয়ে বসা কিছুটা…..