জিরো কনফিউশন

আমিনুল ইসলাম
কবিতা
Bengali
জিরো কনফিউশন

একটি বিষ্ময়ের দিকে

কমিউন থেকে কমিউনিটি যতদুর হেঁটে যায়
হাঁটছে ঘোড়ার পিঠ
এখন আড়াই কদম ফসকে গেলে কদমতলা থেকে বেলতলায় অথবা তালতলা, যতো তলা, বহুতলা, অবশেষে ধর্মতলা অবধি সব মিলিয়ে সন্ধ্যার প্রায়ান্ধকার থেকে
খুলে পড়ছে কপাট-
কপাট মানে দরজা নয় ঠিক, সিংহদ্বার বলা চলে
সর্বপরি কমিউনিস্ট চলে গেলেও কমিউনিকেশন খুব প্রিয় থিম সবার
অথচ প্রতিটি লাল ইঁটের চাদরে ঢেলে দাও অন্য আতর।
আতর মানে সুগন্ধি, রুমাল মনে হয়!
রুমাল কেন হবে? ওড়না হতে পারে, পাগড়ি হতে পারে,
আবার যদি মশাল হয়?
কেউ কি অবজেক্ট করছেন?
তাহলে মাই লর্ড,
ঘোড়া ছেড়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কিছুক্ষণ
সবকিছুই প্রোগ্রামিং ওরিয়েন্টেড
আপনার বিচারের কলা-কৌশল
সব পুরোনো অবলম্বন থেকে আজকের কমিউনিকেশন ছাড়া অন্য কিচ্ছু না
মাই লর্ড…!

 

বৃষ্টি ও মোমের কাছে

ফোঁটা ফোঁটা মেঘ গলছে মালতীর সরস দেহ থেকে
পাতাদের বর্ষাতি নেই কোনো,
প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় রাগ লহরী বেজে উঠছে,
পাখির ডানায় লুকিয়ে যাচ্ছে মায়াবী বসন্ত।
আসলে, দুপুরে জানালার ফুটেজ থেকে রঙিন পালক তুলে রাখলে – চোখেও জল আসে তার!
ছোঁয়ার ছায়া ছুঁয়ে শরীর গলে মোম
বাতি জ্বলছে পত্ পত্ হলুদ রং
রূপালী লজ্জার বলয় ঘেঁষে গলছে,
গলতে গলতে বয়ে চলেছে সমুদ্রের দিকে…

 

জিরো কনসেপ্ট

পুড়তে পুড়তে মাটিও খাঁটি শরীর পুড়লে ছাই …
বায়োলজিক্যাল চাঁদে পূর্ণ গ্রহণ প্রসারিত হলে
ক্যামেরায় বাসা বাঁধে চড়ুই
অহরহ যাওয়া-আসা।
পুড়তে পুড়তে জিরো ওয়ার্টে ঢলে পড়ে অগ্নি বলয়, শরীরের খাজুরাহে অস্থির অন্তর্ধান ।
শান্তি, চারিদিকে শান্তি কামনার তন্ত্র বলে হাসি ফুটলে- আলোর উচ্ছ্বাসে ডুবে যায় দুই বৃত্ত মরুভূমি।
যেখানে জলের সমীকরণে মিশে থাকে লবণ হ্রদ,
সোনালী রেখার স্তনে সুনামি এলে –
শুকিয়ে যায় অভ্যন্তরীণ পাতালপুর।

 

জিরো কনফিউশন

যেটা শূন্য ফাঁপা মনে হয় সেখানেই বসত
যাকে চোখ রাখা যায় না, ছোঁয়া ছুয়ি অনুভবে
মেপে নিতে হয় অস্তিত্ব।
এখন- মৌনব্রত ছুঁয়ে বসে ফারেনহাইট
রোদে জ্বর জমছে প্রজন্মের পরজীবী স্রোত
বেহায়া কামনার উদগ্রীব থাবা তুলে ধরছে ঢেউ
ভালবাসা ছড়িয়েছে বালি
বাঁশি শুধুই কাঁদে তোমার ফুঁ’য়ে
রুপান্তরিত শূন্যতায় নিরেট মাথা শাসন এঁকে চলে
পাতায়..
কনফিউজড কার্বণ মেলে উড়ে যায় প্রজাপতির
প্রতিটি উড়ান

 

মেটালের ভেতর

অথবা অন্ধকার থেকে স্পার্ক জ্বালো
আসলে তো অন্ধকার, ঘুমিয়ে থাকা আলোর লাবণ্য।
তথাপি সংযুক্তা জ্বালতে অক্ষম একটিও –
সে প্রতিটি দীপান্বিতায় জ্বালে
জ্বলতে জ্বলতে জেগে থাকে
পারতপক্ষে ক্যালেন্ডারের পাখিটি উড়ে যাচ্ছে কমিউন ফেলে-
আসলে পক্ষীর সাথে সহচর অক্ষিকে বাদ দিলে
পাখিটি ডানাহীন হয়ে পরবে-
আর অক্ষি খুললেই দেখতে পাবে একটি লোহার খাঁচা…

 

স্পার্ক

অলক্ষ্যে গীটারটি জ্বলে উঠলো!
জ্যোতির্ময় অন্ধকার থেকে
লাবণ্য শোনা হলো।
এসো বন্ধনীর ভেতরে বসো,
তাসক্ষণ্ডের মীনার থেকে জ্যোতিষ্ক ছুড়ছে কেউ!
কান্নায় ভিজে যাচ্ছে ব্যাঙের প্রজনন।
স্বাস্থ্য দপ্তরে শাস্ত্রীয় সংগীত বাজাচ্ছেন যিনি-
তার ডান হাঁটু থেকে ঝরছে বিসমিল্লার সানাই
কারও ভ্রুক্ষেপ নেই, কারণ- কারও চোখ ছিলনা, কাজল লতায়!
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ ছুঁয়ে দুটি সমানুপাতিক ডানা ভিজছে
ভিজে ডানায় রোদ মেলে দিলাম-
জ্যোতির্ময় ভাবনাগুলো থেকে খুলে নিচ্ছে
বিদ্যুতের স্পার্কিং…
নিরবিচ্ছিন্ন আজ-কাল-পরশু!

 

কনস্ট্রাকশন

ঝরছে টুপটাপ, জল নয়, রক্ত
ক্ষত থেকে অবিরাম।
বৈকালিক মেঘের রং ছড়িয়ে পড়ছে
ক্যাম্পাস ডেস্ক থেকে ক্যান্টনমেন্ট।
ইউটিউবে গলে যাচ্ছে শিউলির পাপড়ি সহ
গুলিবিদ্ধ জোৎস্নার মৃদু ঘুম!
হিমেল আইসক্রিমের ঠোঁট
ফ্লেভার চাঁখছে চোখের নমনীয়তা
গোপন সম্ভোগ থেকে অন্তর্বাসে উন্মুখ স্তন
বিন্দু বিন্দু ঘামে স্যাঁতসেঁতে বর্ষাকাল ছুটছে
সম্পৃক্ত আইটেম থেকে অবিস্মরণীয় চিৎকার
আর্তনাদে রূপান্তরিত হয়-

কালা, অন্ধ, বোবা গাছ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে ছায়ার মর্মান্তিক আত্মহত্যা,
আর ছড়িয়ে পড়ছে ঘোমটার আড়ালে সরিসৃপের
আত্ম মৈথুন।

 

ভারসাম্য

ঘুমের ভেতর অন্ধকার জেগে থাকে
জাগে কিছু অন্য আলোর ছায়া
ছায়া গাছে পাতা ফুটলে, ফুল ও ফলের সম্ভার
জেগে থাকা স্রোত পদার্থের ভেতর লুকানো চোখ
কাজলের দিনরাত্রি আলোছায়া শান্ত বরফে
জানালায় মোমবাতি জ্বালিয়ে আয়নার আয়োজন
স্বজন কাম খুলে ছড়িয়ে পড়ছে রোদরং
তালু ঘষে গরম আগুন সঞ্চারিত, গলছে-
কালো থেকে অপেক্ষাকৃত কৃত্রিম আলো মেলে উড়ে
যেতে যেতে নক্ষত্র সেজে উঠছো ধীরে ধীরে..

খোলা আকাশে পায়রা উড়তে দেখছে
ভারসাম্যহীন একটি মোমবাতি-

 

আলোর খোঁজে

তার অন্তর্বাসে উন্মুখ ছিল সমবেত চোখ
সেখান থেকেই সামনের সোজাপথ
যতদুর দেখা যায় নীল চোখের সমীকরণ!
সবুজ ঘাসে পা রেখে ফুটছে উত্তরের চিহ্ন
পাখির ডানায় লুকিয়ে আছে জৈব দিকনির্দেশিকা
অথচ ইন্সট্রুমেন্ট সাজানো ধাতুর ডানায়
একটিও পালক নেই।
প্রতিটি পলক, পালকে সাজালে উড়তে থাকে ভাসমান-
জল ছুঁয়ে মাছরাঙা তুলে নিচ্ছে শরীরের উষ্ণতা
তাপমাত্রার নির্ভরযোগ্যতায় পোশাকের সঙ্গোপন
সঙ্গদোষে স্বভাব ও চরিত্র মলিন
চরিত্র খুঁজতে নক্ষত্রের আলো-
ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছিল
অন্তর্বাসের আবহাওয়া মণ্ডলীর দিকে-

 

ভিজুয়্যাল

যৌবনাত্তীর্ণ ধান বিন্দু বিন্দু শীত নিয়ে দাঁড়িয়ে
সবুজে হলুদ মেশানো, বেঁচে থাকার আফিম সোনালী রং
চকচকে চোখ থেকে নিউরোনে অবাধ।
পার্বতীর পায়ের আলতা মুছে নিচ্ছে কিশোর ঘাস!
ব্রাউজারে নগ্ন জীভ নিঃশব্দ শিশির হয়ে জমজমাট-
মেঘ, ক্রমশঃ মেঘালয় পেরিয়ে অদৃশ্য হলে
ব্যস্ততা খুলে ফেলে উশৃঙ্খল বুকের অবগাহন
তুমি নারী থেকে মহীরূহ হয়ে উঠছো ধীরে
হটস্টারের হলুদ পাপড়ি স্ক্রিনে মেঘ আনলে
শরীরে শ্রাবণ ঘণায়, বেহিসাব ঝরে পড়ো
ভিজে শাড়িতে আরও সুন্দর খেলা করে
ক্রমশঃ ঢেউ থেকে ঢেউয়ের উচ্ছাস।

এখন-
ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে খুলে ফেলছে স্নিগ্ধ সেতার
ঘুমন্ত স্ট্রিং-এ আঙুল ছোঁয়ালেই
পার্বতীর চোখে আজও জোয়ার আসে!

আমিনুল ইসলাম। কবি। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে। প্রকাশিত বই: 'রক্তক্ষয়ী চুম্বন' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৩)।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..