জ্বরনামা

পার্থ রায়
কবিতা
Bengali
জ্বরনামা

জ্বরনামা

কি ভীষণ বিস্বাদ মুখ
আমার ভীষণ জ্বর
মারণ ভাইরাস বেঁধেছে শরীরে শরীরে ঘর,
কাছে আমার কেউ এস না আর
কোরোনা স্পর্শ চেয়োনা আর ওমন করে প্রিয়
অফিসের ব্যাস্ততা নাই
পথ খানি ধীরে ধীরে যেতে দিয়ো
লোহা কাটা কলের শ্রমিকরা জানে পকেটে আমার পয়সা থাকে
ওগুলো ওদের বিলিয়ে দিও
ভরিও না ও দিয়ে ওদের পেট
ওদের বাচ্চাদের দিও কটা পেন্সিল আর স্লেট
জলছবির রংমশালে যদি হই আবার বছর তিরিশ পার
কাগজের নৌকো একমনে ভাসাব বানিয়ে আবার
ভালোবাসা এলোমেলো ধ্যাবড়ানো তেলরং
হেঁটে হেঁটে শুধু খুঁজে ফেরা আমি এবং…
এবার মলে কবি হোস, অভিশাপ দিলাম তোকে,
সাদা বুকে কালো তিল পড়ে জীবন কাটে না-
যদি না জন্ম দিস তাকে।

ভালোবাসা হোক

আমার মনের যে বিষন্নতা তা যেন কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পরছে ভেসে ভেসে আমার শরীরে,
আর তারপর ছড়াবে শহর জুড়ে
ভয় করে, বড় ভয়ে ভারী হয়ে আসে বুক, বন্ধ হয়ে আসে ফুসফুসের দরজা
এ শহরের কোনেই তোমার বাস, এ সংক্রমণ ছড়িয়ে যদি করে তোমায়  আদিমতম বিষণ্ন
বুকে আঘাত সয়ে কলজে পোড়া ভালোবাসা যদি হারিয়ে যায় বিপন্ন মানবজাতির নগ্ন লোভের মাঝে
ভালোবাসা হেঁটে আসে দৌড়ে যায় ফেরার আগে একবার পিছন ফিরে চায়
যদি ফেরার পথে আঁক কষা যেত দিয়ে অগুনতি পলাশের চুমো
থামতো বুঝি বা করতো সেলাই উপড়ানো শিকড় নিয়ে দিনযাপনের সোনামুখো সুঁচ
আমার হলো না ভালোই হলো তবে না হোক,
আমার হবার মতো নয়, নই এমন কোনো লোক
অভিশাপ দিচ্ছি মনের গহীন কোন থেকে আসুক ভাইরাস ঘরে ঘরে
তোমাদের সবার খুব ভালোবাসা হোক হাঁড়ি পাতিলের মাঝে।

স্বাধীনতা

এটা কলম নয় যে
এতো খোলা তরবারি
দেখেছে অনেক নাচ

নিয়ে পঁচাত্তরের বুড়ি ঝাড় বেলোয়ারী
পড়ে আছে স্বাধীনতার ছেঁড়া কন্ডোম সারি সারি
দুরন্ত ফসল যে তার অপামর নর আর নারী
দিয়াছে মাথায় যে ঘোমটা পোঁদ খোলা তারি
ম-মহারাজ! হেঁচকি ওঠা প্রজায় জয় তব তোমারি
রাজতন্ত্রে বেঁচে থাকুক স্বাধীনতার খোয়ারী।
প্রজা করে ঘেউ ঘেউ খবর দেয় রাজার ফেউ
মহামন্ত্রী তবে কি বিদ্রোহী হল কেউ?
আজ্ঞে মহামতি জঁহাপনা
এ কেবল রুটির জন্য বেহায়াপনা
মরবে কতক ছারপোকার দল নিয়ে ছানাপোনা
মহামতি মহারাজের ওতে মাথা ঘামালে রাজ চলে না।
এলো যে তবে মহামারী
কেন দেখি না লাশ তবে গাড়ি গাড়ি
কঠিন প্রাণ পড়ছে সবে
খানিক কটা মরছে তবে
মহারাজ তিষ্ঠ ক্ষণকাল
জেগে আছেন মহাকাল
করবে তবে আপন কার্য্য
অতঃপর আপনার বিচার্য
যেথা দেশপ্রেমের আত্মনির্ভরশীলতা হবে ধার্য্য
মহারাজ কি ভাবেন হেথা হুথা যা তা
সর্বোপরি আছেন গো মাতা
আপনি এখন নিদ্রা যান সুখে
কাজ কি আপনার দেয়া কান প্রজার দুখে?

পার্থ রায়। জন্ম ও বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের বর্ধমানে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ