জ্যোৎস্নালোকিত ফেসবুক

শাহনাজ পারভীন
গল্প
Bengali
জ্যোৎস্নালোকিত ফেসবুক

 

আকাশ জুড়ে থইথই জ্যোৎস্নার ফুল সাদা সাদা খইয়ের মতো অনবরত ফুটছিলো। তার পদশব্দে ঝরনার জলের ছলাৎছলাৎ কলহাস্যে নেবুবনের মৌমাছিরা গুনগুন করছিলো। আর সে উড়ছিলো ভ্রমরের গুঞ্জনে, তালে তালে। পেখমে তারার বাঁশি বাজছিলো, খোলামনে কি দারুণ সাজছিলো, গানে গানে সুরে সুরে বাজছিলো। জ্যোস্নার প্লাবনে অবাক আকাশখানি কি এক মায়াময় মোহনীয় ছায়া হয়ে আবেগে বারবার কাছে কাছে আসছিলো। শায়লা ভাবছিলো তার অতীত সত্যের কথা, কিংবদন্তির মতো আজ যা হঠাৎ করে তার সামনে চলে এলো! ভাবছিলো শাওনের কথা। শাওন তার পরম বন্ধু। শুধু বন্ধু নয়,তার অনাদিকালের আপনজন। শুধু তার জন্যই আজকের জার্নিটা হঠাৎই অন্য রকম হয়ে গেলো। সে ফিরে পেতে যাচ্ছে তার হারানো সবকিছু। পৃথিবীর সব চেয়ে আকাঙ্ক্ষার অনিবার্যতায় সে ভেসে যাচ্ছে প্রবল জ্যোৎস্নার স্রোতে।

কথা ছিলো ক্লাস শেষেই ওরা ছয়জন বের হবে। স্বপ্নের পদ্মাসেতু স্বচক্ষে দেখে আসবে। বিয়াল্লিশটা দৃশ্যমান স্প্যানসহ সড়কের সান্নিধ্যের পাশাপাশি ছলাৎছলাৎ জোয়ারে ট্রলারেও থাকবে ওদের আনন্দ আয়োজন। খাবারের ব্যাগ, পানীয়, ফ্লাস্ক ভর্তি গরম পানি, চা, কফির সরঞ্জাম সবই থাকবে গাড়িতে। শাওনের চাওয়া ছিলো অন্যরকম। প্রথমবার তারা বের হবে, এত জনকে ইনক্লুড করা ঠিক হবে কিনা? কিন্তু শায়লার প্লান অন্যরকম। সবাইকে নিয়েই সে যেতে চায়। সবাই মানে মিলি, কাকলী, লিপন, সোহান আর সে। খরচের ব্যাপারে ঠিক ওভাবে কথা হয় নি ওদের। তবে সবাই খুব সচেতন। প্রত্যেকের কমিটমেন্ট জোড়ালো। সে ব্যাপারে শায়লার কোন মাথাব্যাথা নেই। সে নির্ভার। কারণ ও রকম ছয়জনের খরচের টাকা সব সময় তার ওয়ালেটে থাকে। এক বাবার এক মেয়ে। আদরের। ছোট দুটো ভাই। বাবার বেহিসেবী ব্যবসা। মায়ের আলাদা জগত। সোনার চামচ মুখে দিয়েই তার জন্ম।

জন্ম! জন্ম কথাটা মুখে কিংবা মনে আসলেই সে হুঁচোট খায়। তার জন্ম আসলে এখানে নয়। তার সত্যিকারের বাবা, মা এতদিন কোথায় ছিলো তা সে জানতো না। এ বাড়িতে সেটল হওয়া অবধি সোলাইামান সাহেব এবং লাবণি সোলাইমানকে তার বাবা, মা হিসাবে মানে। তবে সে একথাও জানে, তার অরিজিনাল বাবা, মাকে সে হারিয়ে ফেলেছে তার পাঁচ বছর বয়সে। এমনি এক থই থই জ্যোৎস্নার প্লাবনে। বানিজ্য মেলার অগুণতি লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, জ্বলা–নেভা আলোর কুণ্ডলিতে।

বিয়ের তের বছরের দীর্ঘ সময় পর তার মা, বাবা তাদের প্রথম সন্তান শায়লার জন্ম দিয়েছিলো। তারা ছিল আহ্লাদিত। শায়লা ছিল তাদের চোখের মনি। শায়লার চার বছর বয়স পর্যন্ত আর কোনো ভাইবোন জন্ম নেয় নি। তার পাঁচ বছর বয়সে আর একটি বোনের জন্ম হয়। দুটি মেয়ে নিয়ে ছিলো তার বাবা মায়ের সুখের সংসার। দীর্ঘ নিরানন্দ জীবনে শায়লা তাদের সংসারে সুখের ফুলকি ছুটিয়েছে। তাদের আর কোনো দুঃখ নেই। এই পৃথিবীতে নতুন করে আর কিছু চাইবার নেই। কিন্তু সেই সুখের পরিবারে একদিন ঝড় ওঠে। সে ঝড়ে তাদের নিয়তি বদলে যায়। সেবার তার বাবা মা তাদের দু’বোনকে নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে যায়। নিকটাত্বীয় সেভাবে না থাকায় তারা গুলিস্থানের একটি হোটেলে ওঠে। বেড়াতে গেলে অবশ্য আত্মীয় স্বজনের বাসার চেয়ে হোটেলে ওঠাই ভালো। নিজেদের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো যায়। কোন নিয়ম শৃঙ্খলা, বাঁধা নিষেধের বালাই থাকে না সেখানে। সেটা মনে রেখেই তার বাবা সামসুদ্দিন দূর সম্পর্কের নানান আত্মীয় ঢাকাতে থাকা সত্ত্বেও একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে।

সপ্তাহব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখা শেষ করে তারা বাড়িতে ফেরার আগের রাতে যায় বাণিজ্য মেলায়। সেখানে বেশ কিছু জামা কাপড়, কম্বল, প্রয়োজনীয়, অপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র কেনা কাটা শেষ করে খুশিমনে হোটেলে ফেরার পথে এমনি এক জ্যোস্না রাতে বানিজ্য মেলার গেট থেকে বের হবার পর পরই ভিড়ের মধ্যে শায়লা হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরও তার বাবা মা তাদের কলিজার টুকরা শায়লাকে আর ফিরে পায় না। এদিকে শায়লা মানুষের চাপে, ভিড়ে কোথায় যেন ছিটকে পড়ে নানান আলোর চমকানিতে কেমন যেন বেভুলা হয়ে যায়। জ্যোৎস্নার আলোর প্লাবন এবং নানা বর্ণিল ঝাড়বাতির আকাশ সমান গম্বুজ দেখতে থাকে তন্ময় হয়ে। কতক্ষণ সে এভাবে ছিলো আজ আর তা মনে পড়ে না। ঘোর লাগা সময়ে কারো আলতো হাতের ছোঁয়ায় সে বাস্তবে ফিরে আসে।

কোথায় তার মা? কোথায় তার বাবা? আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়। অনেক খোঁজাখুজির পরও খুঁজে পায় না কারো। অঝোরে কাঁদতে থাকে। নিঃশব্দ। গ্রামের ঠিকানা জানেনা সে। হোটেলের নাম জানা নেই। অগত্যা ওই রাতটা সেই ভদ্রলোকের বাড়িতেই তার জায়গা হয়। ভদ্রলোক ছিলেন অমুসলিম। তিনি খুব চেষ্টা করেন মেয়েটির বাবা মাকে খুঁজে পেতে। কিন্তু নিরাশ হয়ে তুলে দেয় তারই অফিসের নিঃসন্তান বদিউজ্জামান দম্পতির হাতে। সেই থেকে শায়লা এ বাড়িতেই মেয়ের আদরে আছে। মহান আল্লাহর কি লীলা খেলা! বউিজ্জামান দম্পতি দীঘ চৌদ্দ বছর নিঃসন্তান কাটিয়েছেন, কিন্তু কোনদিন কোনো সন্তান দত্তক নিতে চান নি। আসলে বিষয়টা তাদের ভালো লাগতো না। একজনের কোলের সন্তান, বুকের মানিক তারা কখনো নিজের করে নিয়ে নিতে চায় নি, পেতে চায় নি। কিন্তু কোনো বাবা মায়ের বুকের গভীর থেকে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে তারা বাবা মায়ের আদরে বুকের গভীরে জায়গা দিয়েছে পরম মমতায়। যেন বা তাদের দায়িত্ব এটা! শায়লা এ বাড়িতে স্থায়ী বসবাস করবার পর পরই বদিউজ্জামান দম্পতির ঘরেও নতুন সন্তান আসে। পর পর দুটি ছেলে। একটি মেয়ে দুটি ছেলে নিয়ে তারা খুব সুখেই কাটাচ্ছে দিন। কখনো তারা কোনো আচরণেই শায়লাকে বুঝতে দেয় না যে, সে তাদের আশ্রিত সন্তান। বরং প্রয়োজনের চেয়ে তাকে বেশি বিলাসিতায় মানুষ করছে।

শহরের একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শায়লা ও লেবেলে পড়ে। মেধাবী ছাত্রী। ভালো ব্যবহার। ভদ্র, চৌকস। কখনো ভুলে যায় না সে তার অরিজিন অন্য কোথাও। এই বিত্ত বিলাস তার নিজের করে নয়। তবে পরও নয় সে। সে যে তাদের বুকের মানিক। চোখের চেরাগ। শায়লাও ফূলদানির তাজা ফুল হয়ে থাকতে চায়। তবে কোথায় যেন তাঁর বুকের মাঝখানে ফোটা ফোটা রক্ত গড়ায়। চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে। আহা। কতদিন দেখি না বাবা মাকে । কোলের ছোট বোন লায়লা কত বড় হয়েছে? সে কোথায় পড়াশোনা করে , সেও কি তার মতো ইংলিস মিডিয়াম স্কুলে পড়ে? সেও কি ঠিক শায়লার মতো করেই শায়লাকে ভাবে। ঠিক ঠাক মতো সে কি আছে বাবা মায়ের আদরে! আজ কত বছর হলো? দেখা নেই! আহা! পৃথিবীর কোনো শক্তিই কি নেই তাদেরকে এক করে দেয়। পরিচিত করে দেয়। শায়লা কিন্ত সুযোগ পেলেই বন্ধুদেরকে বলে, অন্যদেরকে বলে। কিন্তু বললে কি হবে, সে তো জানে না কোন শহরে তাদের বাস ছিলো। এই বাংলাদেশে আটষট্টি হাজার গ্রামের ভেতর থেকে সে কিভাবে কোন গ্রামে তার বাবা মা আছেন, খুঁজে বের করবেন? তার মাঝে মাঝেই মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রামে অর্থাৎ ইনস্টাগ্রামে সে তার বাবা মাকে খুঁজতে স্ট্যাটাস দেয়। পর মুহূর্তে আবার নানান প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে নিজেই বোঝায়। কে ব্যবহার করবে ইনস্টাগ্রাম? তার বাবা, তার মা, তার বোন লায়লা! নাহ, তা হয়তো নয়। শুধু শুধু অকারণ বন্ধুদের চোখে…

শায়লা নামটা বড্ড সেকেলে। মেয়ের নামটা পাল্টাতে হবে। প্রথম প্রথম আদরের স্ত্রী শেলীর মুখে এমন কথায় সে বলতো,
–কেন? নামটা খারাপ কি? ভালোই তো! তাছাড়া মেয়েটির আসল নাম পাল্টে দিলে তার বাবা মাকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। নামের পরিচয়ে ভবিষ্যতে তার বাবা মাকে খুঁজেও পেতে পারে!
–সে আর কি করে সম্ভব? শায়লা তো আমাদেরই। আমাদের ইচ্ছেমতোই তাকে একটা আধুনিক নাম দিতে পারি আমরা!
–ও আমাদেরই, সেকথা ঠিক আছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য তো আমরা সকলেই জানি। বিশেষ করে শায়লা, ও তো অন্তত ওর নামটা জানে। সেখান থেকে… তাছাড়া ওর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাকি নাম তো আছেই।
–দেখো, সব কথায় তোমার যুক্তি আমার ভালো লাগে না।
–শুধু যুক্তি নয়, এটা একটা মানবিকতার প্রশ্ন। তুমি এমনটি করো না শেলী। বলা তো যায় না, আমরা যদি তার প্রতি মানবিক হই, তো মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি মানবিক হবেন। আমাদেরকেও নিজেদের মতো করে নাম রাখবার সখ পূরণ করবেন!
–কি যে বলো না তুমি? সে কি আর সম্ভব? আমাদের বয়সের হিসাব কষেছো কখনো?
–তিনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব। বলা তো যায় না। এমন নজির পৃথিবীতে ভুরি ভুরি আছে।
শেলী তার যুক্তির, মানবতার, স্বপ্নের মুখে চুপ থাকে। কি জানি! তিনি চাইলে সব কিছুই সম্ভব।
সত্যি সত্যি সময় যেতে না যেতেই তারা বাবা মা হয়। তাদের ঘরে ফুটফুটে দুটো সন্তান আসে। তারা তাদের নাম রাখে ইচ্ছে মতো।
সেই শায়লা! তারা যাবে ঘুরতে। প্রথমবারের মতো বন্ধু বান্ধবী মিলে। পদ্মাসেতু দেখতে। প্রথমে বাবা মা না করেছিলো, কিন্তু বাঁধ সাধে নি একবারও। যেহেতু শাওন যাচ্ছে সাথে। শাওন শায়লার খুব কাছের বন্ধু। শুধু বন্ধু বললে ভুল হবে। তার চেয়েও আরও বেশি কিছু। সেটা শায়লার বাবা মা জানতে পারলেও মুখে কিছু বলেনা, বরং মনে মনে খুশিই হয়।

শাওনের বাবা এ শহরের বড় ব্যবসায়ী। খানদানী ফ্যামিলি। শাওন একাই। তার আর কোনো ভাই বোন নেই। বিশেষ করে শাওন শায়লার আসল বিষয়টা জানে যে, সে তাদের বাবা মায়ের পালিত কন্যা। নিজের সন্তান নয়। তারপরও। সব কিছু জেনে শুনে… বদিউজ্জামাল দম্পতি খুশি। বেশ খুশি।
শাওনও খুশি। খুব খুশি। শায়লার যে কোনো ব্যাপারে সে আন্তরিক। সেও সব সময় চায়, শায়লা তার নিজের বাবা মাকে খুঁজে পাক। মাঝে মাঝেই ফেসবুকে শায়লার বর্তমান ছবি দেয়। তার হারিয়ে যাবার গল্প লেখে। নিখোঁজ হবার কাহিনীটা বার বার শেয়ার করে ফেসবুকের সামনে আনে। কিন্তু এই কয়েক বছরে কেউই কোনো সন্ধান দিতে পারে না। হারানো সন্তানের দাবিতে এগিয়ে আসে না। শাওন মনে মনে কষ্ট পায়, কিন্তু আশা ছাড়ে না। নিরাশার চাদরে প্রতিনিয়ত আশার সূর্য ওঠায়। এবার ও বিষয়টার সুরাহা করতে উঠে পড়ে লাগে। তার
আর্টিস্ট বন্ধু রাজনকে দিয়ে শায়লার পাঁচ বছরের একটি অবিকল পোর্টেট করিয়ে নেয়। সেই পোর্টেট এবং বর্তমানের একটি ছবি দিয়ে শাওন এবং তার অসংখ্য বন্ধু স্বজন
ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে ছড়িয়ে দেয়। মনে মনে অপেক্ষার প্রহর গোনে। বর্তমান
ডিজিটাল সময়ে বাংলাদেশে কোন কিছুই আজ আর মানুষের সাধ্যের অতীত নয়। এই তো কয়দিন আগেই ইংল্যান্ড থেকে জেমি এলো তার বাবাকে খুঁজতে। ঢাকার অলি গলিতে খুঁজে খুঁজে অতঃপর
সিলেট থেকে তাঁর বাবার পরিচয়, পরিবার, পরিজন, আত্মীয় স্বজন খুঁজে পেয়ে ফের হাসিমুখে ফিরে গেলো ইংল্যান্ডে। আর এতো শুধু বাংলাদেশের ব্যাপার। শাওন আশা ছাড়ে না। হতাশ হয় না শায়লাও।

ওদের পদ্মা সেতু ভ্রমণের সমস্ত আয়োজন সমাপ্ত। তারা সকাল সকালই রওনা দিবে শায়লার বাসা থেকে। সেভাবেই যার যার মতো গুছিয়ে নিতে বলা ছিলো। সকালটা শুরু হলো কাঙ্ক্ষিত আজ। গাড়ি চলছে হাল্কা মুডে। যে যার মতো দু’পাশের দৃশ্য, গল্প, আড্ডা, মোবাইলে আটকে রেখেছে তাদের। ফুরফুরে মেজাজে ভ্রমণটা ভালোই হবে আজ।
কিছু দূর যেতে না যেতেই শাওনের উল্লাস।
— শায়লা দেখো, দেখো, তোমার এক রিলেটিভ রেসপন্স করেছে। তোমার অরজিন, তোমার হারানো বাবা মায়ের খোঁজ মিলেছে। দেখো, দেখো, তোমার বাবা, মা এবং লায়লায় ছবিও দিয়েছে। লায়লার ছবিটা একেবারেই তোমার ডুপ্লিকেট। ঠিকানা দিয়েছে। বরিশাল জেলার কমলগঞ্জ গ্রাম।
–তাইতো! হা। তাইতো। শায়লা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ফোন নম্বর দিয়েছে?
–না।
–দিতে বলো।
–দাঁড়াও, আমি ঢাকায় মাকে ফোন দেই, বাবাকেও। কি বলে মা, বাবা শুনি।
বেশ কিছুটা সময়ের ব্যবধানে ওদের আনন্দ পরিবর্তিত হয়। আজ আর আকাক্সিক্ষত পদ্মাসেতু নয়, কাক্সক্ষার বাবা, মা, বোন, আত্মীয় স্বজন! সকলের সাথে দেখা হবে তার। কিছুক্ষন সময় যেন আটকে থাকে একটি নিশ্চুপ ফ্রেমে। বেলা গড়িয়ে যায়!
একটু পরই ঢাকা থেকে বাবা, মা, দুটো ভাইসহ আর একটি গাড়ি এসে যুক্ত হয় ওদের সাথে। সাঁ সাঁ এগিয়ে যায় গাড়ি দুটি। হঠাৎই সারা পথ থইথই জোৎস্নার আলোয় ছেয়ে গেলো যেন! সে জ্যোৎস্নায় বিশ বছরের শায়লা হঠাৎই পাঁচ বছরের ফ্রক পড়া ছোট্ট একটি শিশু হয়ে ঝিলমিল আলোর গম্বুজ দেখতে দেখতে তন্ময় হয়ে যায়। সেখানে কাউকে আর ওর চেনা মনে হয় না, অচেনায় হাবুডুবু খেতে খেতে জ্যোৎস্নার স্রোতে ভেসে যায় আবারও।

১৪/০১/ ২০২১

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..